এক।। সংজ্ঞার সমস্যা: পোয়েটিকস বনাম পলিটিকস
সাফ কথা আগাম বলে নিয়েই শুরু করি। বাংলাদেশে ‘গ্রাম’ নিয়ে আলাপ করা অসম্ভবপ্রায় এক কাজ। এর রূপান্তর বা ইত্যাদি আলাপ তো দূর অস্ত! আলাপটা অসম্ভব মুখ্যত বর্গটার সঙ্গে আলাপকারীদের সম্পর্কের কারণে। গ্রামবিষয়ক আলাপসালাপ করতে শুরু করেন পণ্ডিতেরা, রাজনীতিকেরা। এর বাইরে হয়তো টেলিভিশনের আলাপকারীদের কথাও বলা কর্তব্যের মধ্যে পড়ে, যদিও তারা আসেন ওই দুই বর্গ থেকে; আর ইদানীং টেলিভিশনের সংখ্যা বৃদ্ধিতে এবং অপেক্ষাকৃত কম উৎপাদন-মূল্যে বানানো যায় বলে টক-শো খোদ একটা পরিচয়বর্গ তৈরি করেছে বলেই আমি মনে করি। আরো আছে। গ্রাম নিয়ে স্কুল-কলেজের শিশুদেরও কিছু আলাপসালাপ না করে পার পাওয়ার উপায় নেই। শিক্ষা কার্যক্রমের একটা লাগাতার প্রচেষ্টা আছে যাতে শিশুরা, শহরে ও গ্রামে, গ্রাম নিয়ে কিছু কথা মুখস্থ করে ফেলে। যেসব কথা তারা মুখস্থ করে, ও পরীক্ষায় লেখে, সেগুলো কমবেশি দশকের পর দশক ধরে এক রকমেরই হয়ে থাকে। এই লাগাতার অপরিবর্তনীয় গ্রামের বিবরণী পরিবেশনকে হয়তো লিগ্যাসি বলা যায়। শহরের শিশুদের একাংশ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় গ্রামের ছবিও এঁকে থাকে। মোটামুটি সেই ছবিখানি কেমন হবে তা শিশুরা আগে থেকে জানে, শিশুদের শহুরে মাতা-পিতারা আগে থেকে জানেন, তাদের ড্রইং শিক্ষকেরা আগে থেকে জানেন, প্রতিযোগিতাগুলোর আয়োজকেরা আগে থেকে জানেন, ছবিগুলোর দর্শকেরা আগে থেকে জানেন। আর জানেন একদম সেই দৃশ্যটাই যা কমবেশি শ’ খানেক বছর আগে থেকেই জেনে আসছেন। সব মিলে পুরা পরিস্থিতিটা কৌতুকপ্রদ আর ভীতিকর।
কিন্তু শিশুদের বাইরে পরিণত বয়স্ক মানুষের গ্রামদর্শন আকাট অটুট অপরিবর্তনীয় হওয়ার বিষয়টা আরো বেশি মনোযোগ দিয়ে ভাবার মতো। বলার সময় পণ্ডিত আর পলিটিশিয়ানদের কথা বললাম বটে, গড়ে কবি-সাহিত্যিকেরা তাহলে গ্রাম-নির্মাণে কোথায় থাকেন? পণ্ডিত, রাজনীতিকদের গ্রামদর্শনের সঙ্গে কবি-সাহিত্যিকদের গ্রামের উপলব্ধির সম্পর্কটা কীভাবে দেখতে পারি? আমার বিবেচনায় এ তিন বর্গের মানুষজনের গ্রামবিষয়ক দর্শন ও উপলব্ধির একটা কড়া পরিস্থিতি আছে। সহজবোধ্য, আবার পেঁচালো। তাছাড়া বর্তমান বাংলাদেশে উন্নয়ন সংস্থা তথা এনজিওর গ্রামবাজিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওদিকে এনজিও বলে বসলেই যে কিছু একটা অখণ্ড বুঝে ফেলা যাবে তা নয়। যেসব পদ বাংলাদেশে সবচেয়ে সামাজিক প্রতিষ্ঠান চেনার প্রশ্নে সবচেয়ে গুরুতর ঝামলা বাধিয়ে বসতে পারে, তার মধ্যে ‘এনজিও’ শীর্ষস্থানীয় অন্যতম। এ শব্দ দিয়ে কোনোক্রমে টিকে থাকা, অধিকারের প্রশ্নে জানবাজি রেখে কাজ করছে এমন প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে একদম হাসিমুখে মহত্ত্বধর্মী কথা বলতে বলতে সম্পদের পাহাড় বানিয়ে ফেলতে সমর্থ হয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানকেও বুঝতে হবে। তাহলে আমাদের আলোচ্য পরিস্থিতি ক্রমাগত জটিল হয়ে পড়ছে। অন্তত চারটি বর্গকে একত্রে রেখে বুঝতে হচ্ছে গ্রামের হালহকিকত নিয়ে: পণ্ডিত, রাজনীতিবিদ, কবি-সাহিত্যিক ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কর্মচারীরা। এ চার বর্গ যুগপৎ গ্রাম নিয়ে উপর্যুপরি জ্ঞান তৈরি ও বিলিবণ্টন করতে থাকে। এদের বোঝাবুঝির জগতে সদ্ভাব ও সংহতি যেমন রয়েছে, তেমনি সূক্ষ্ম ও লক্ষণযোগ্য ফারাকও রয়েছে। সেসবের চুলচেরা একটা খতিয়ান হাজির করতে পারলে আমার শান্তি হতো। কিন্তু সেই কাজটাতে হাত দিলে আজকের প্রতিপাদ্যে অন্য কিছু আর করা সম্ভব হবে না। তাই ওটা একটা মুলতবি আলাপ হিসেবে রেখে আমি বরং সতর্ক করে দিই যে গ্রামবিষয়ক মুখ্য একটা ধ্যানধারণা এখন অবধি কাব্যময়তা থেকেই উৎসারিত হয়ে আসছে; কাব্যময়তা দ্বারা নির্ধারিত। এটা ঠিকই যে ‘উন্নয়ন’ নামক বস্তুটা এনজিও ও রাজনীতিবিদরা (সরকারপক্ষীয় হলে তো অতি অবশ্যই) নিরন্তর গ্রামবিষয়ক আলাপে বলতে থাকেন, কিন্তু তথাপি তাদের অনুকল্পিত গ্রামখানি একদম কবিতা-গল্পে পড়া কোনো এক কালের অথবা কল্পনার গ্রামই থেকে যায়।
দুই।। রাস্তাঘাট নিয়ে অভাবনীয় বিজ্ঞাপন
গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে যত কথা সরকারগুলো খরচ করে থাকে তা চমকে যাওয়ার মতো। যদি বদল বা রূপান্তরের কথা বলেন তাহলে অবশ্যই রাস্তাঘাট তথা যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা বলতেই হবে। কেবল আপনি বা আমি বললেই হবে না, বরং মন্ত্রী, এনজিওকর্মী এবং অবশ্যই মানানসই একদল পণ্ডিত যোগাযোগ ব্যবস্থার ‘উন্নতি’র কথা বলতেই থাকবেন। বরং, আপনি-আমি না বললেও চলবে, ওরা বলবেনই। এখন সাধারণত এসব কথার উত্তরে কারো কিছু বলার সুযোগ থাকে না। সুযোগ থাকলেও সময়, শক্তি ও জানমালের নিরাপত্তা খরচ করে কেউ কিছু বলতেন কিনা তা সন্দেহ। তবে এটা না বলা অশান্তির যে রাস্তাঘাট গ্রামের হোক বা শহরের, কেনই বা ১৯২০ সালের অনুরূপ থেকে যাবে! স্থাপত্য প্রযুক্তির বদলের কিছুমাত্র ছাপ তো পড়ারই কথা! এঁটেল মাটির কাদাময় অমসৃণ রাস্তা যে গ্রামাঞ্চলে কমে আসছে এটা নিয়ে আলাদা করে বাহাদুরি করে যে মহত্ত্বটি রাস্তাঘাটের হুকুমদাতারা দাঁড় করাতে চাইছেন তার অন্তর্গত অর্থ কি এই যে তারা এখনো এঁটেল মাটির রাস্তাটাই সেখানে থাকা উচিত ছিল বলে মনে করতে থাকেন! আলোচ্য গ্রামাঞ্চলে আরো অনেক কিছুই হচ্ছে। সিংহভাগই সংকোচনমূলক। পানি শুকিয়ে আসছে, এজমালি ব্যবস্থাপনা শুকিয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন হয়ে আসছে, কৃষিজ পণ্যের দাম কমে আসছে, গ্রামীণ গরিব মানুষজনের মজুরিশ্রমে টিকে থাকতে পারা কমে আসছে, খাস জমি কমে আসছে আর অতি অবশ্যই অতিকায় করপোরেশনের জিম্মায় জমি চলে যাচ্ছে। আলাপের বিষয়ের শেষ নেই। রাজনীতিবিদেরা সেসব না করতেই পারেন, না করাই তাদের পেশার জন্য মঙ্গল আর কাঙ্ক্ষিত। বস্তুত তাদের চাকরিটা ‘উন্নয়ন’-এর প্রপাগান্ডা করতে থাকারই। সেদিক বিবেচনায় মন্ত্রীরা আর বৃহৎ এনজিও বান্ধবপ্রতিমই মানতে হবে। তার পরও রাস্তাঘাট নিয়ে এদের কথাবার্তার পরিমাণ অকথ্য রকমের বেশি। ইদানীং অবশ্যই তার সঙ্গে টেলিকমিউনিকেশন যুক্ত হয়েছে। এটাও শুরু করলে অল্পে নিবৃত্ত করার মতো প্রসঙ্গ নয়।
কিন্তু রাস্তাঘাটের এ বড়াই খতিয়ে দেখলে ‘গ্রামীণ’ মানুষজন নিশ্চয়ই হতভম্ব হয়ে যায়। গ্রামে কেবল গরিব মানুষ থাকে না তা সত্য। এমনকি গরিব মানুষ গ্রামে আর থাকতেই পারছে না লাগাতার, বছরব্যাপী। কিন্তু যদি সাধারণভাবে গ্রামীণ গরিবের কথা বিবেচনা করি, এ রাস্তাঘাট বেয়ে তিনি যদি কোনোদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতেও আসে, সেই চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহের সামর্থ্য তো তার নেই! তাহলে এ রাস্তাঘাটের আসল খাদক, মানে ব্যবহারকারী, কে? সেই পুরনো ছায়াছবির গান মনে হতে পারে যে গ্রামের লোকজনের হাউস হচ্ছে ঢাকা শহরে এসে লাল-নীল বাতি দেখার। কিন্তু বাস্তবে টিকে থাকার সংগ্রামে দিনমজুর গ্রামীণ মানুষজনের বাতির শখ ততটা তীব্র নয়, যতটা ক্ষুন্নিবৃত্তি নিবারণের। ফলে তারা আসে। প্রলেতারীয় বিপুল নগর-শ্রমিক হিসেবে আসে যাদের ঢাকা নগরে, কিংবা বৃহদায়তন নগরে দেখতে পাওয়া যায়। যাদের নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই, ভাসমান, উদ্বাস্তু। যারা আদমশুমারিতে পর্যন্ত বিবেচিত হয় কিনা নিশ্চিত নয়। আর আসে মৌসুমি ক্ষুদ্র কৃষিজ উৎপাদকেরা, কোরবানির গরু বিক্রেতারা। এখানেও একটা বিশদ তালিকা বানানো যাবে। কিন্তু সেসব গরু কিংবা পুঁইশাক বয়ে আনা ক্ষুদ্র কৃষক/গেরস্ত মহানগর থেকে পকেট ভরে টাকা নিয়ে গ্রামে গিয়ে পর্যাপ্ত ফূর্তি করতে থাকে এমন প্রমাণ পাওয়া অসম্ভব হবে। তাহলে ওই রাস্তাঘাটের প্রায়োগিকতার প্রশ্নটি অটুটভাবেই থেকে যায়। কার জন্য রাস্তাঘাট অধিক প্রয়োজনীয়। এখন যখন করপোরেশনের জমি, আর একটার পর একটা বিনোদন কেন্দ্র বা রিসোর্ট তথাকথিত গ্রামীণ এলাকায় নির্মিত হচ্ছে, তখন রাস্তাঘাটের জিজ্ঞাসাটা আরো সহজে মীমাংস্য।
তবে ঠিক বর্তমান এ কালটির আগেও রাস্তাঘাটের মুখ্য প্রয়োজনীয়তা বুঝতে অত দুর্বোধ্য কিছু ছিল না। সমস্যাটা হচ্ছে প্রচলিত রাজনীতিতে তো নয়ই, একাডেমিতেও স্পষ্ট কণ্ঠস্বর অত্যন্ত কম যেসব স্বর শিশু বা অশিশুদের শিখিয়ে দেবে যে এ রাস্তাঘাটগুলো গ্রাম থেকে কৃষিজ সম্পদ আত্মসাতের ও নগর-কনজাম্পশনের কলাকৌশল মাত্র। ‘কৃষক তার ফসল সহজে বেচতে পারছে’ এ কুিসত অসত্য বিজ্ঞাপনটি যথাক্রমে রাষ্ট্রীয় দপ্তরগুলো, উন্নয়ন সংস্থাগুলো এবং উত্তরকালে টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানিগুলো দিয়ে চলেছে। ওই মিথ্যাচারটিকে মোকাবেলা করার লোক ‘গ্রামে’ না থাকারই কথা। বিদ্যায়তনেও বিরল।
তিন।। তাহলে গ্রামের রূপান্তর কেবলই শোষণের বিষয়?
আসলে গ্রাম বনাম শহরের ভেদবিচারটি সাপেক্ষিক। ঢাকা মহানগরের বহু মানুষজনের অনুমানের মধ্যে জেলা শহর, থানা শহর, গ্রাম, গঞ্জ একাকার। যা কিছু অঢাকা, তা কিছুই ‘গ্রাম’। এ বিষয়টা বলে আমি কটাক্ষ করছি না। বরং আমার আগ্রহ ওই দিকটাতে মনোযোগ দেয়া যে মনুষ্য অনুধাবনে, সতর্ক না থাকলে অধিকাংশ বিষয়বস্তুই গাঢ়ভাবে সাপেক্ষিক থাকে, তুলনামূলকভাবে বিরাজ করে। কখনো কখনো সেটার চেহারা এত আকাট হয় যে কোনো সূক্ষ্ম বিচারবোধ সৃষ্টি করাই মুশকিল। গ্রাম আর মফস্বলের গূঢ় প্রভেদ যখন দৈনন্দিন মস্তিষ্কে কাজ করে না, এমনকি বিদ্যাজগতের কর্মীদেরও, তখন সেটা বিপজ্জনক পরিস্থিতিই বটে। গতকালই আমি পেঁপে ও পনির (চিজ) কিনতে গিয়ে ভাবছিলাম, কখনো গ্রামে না যাওয়া, মফস্বলে জন্মলাভ করা এবং ১৭ বছর বয়স থেকে ঢাকায় বসবাসকারী, আমি কি আদৌ এ দুই বস্তুর উত্পত্তিস্থল চিনি? এ জিজ্ঞাসাটা দেখা দেয়ার সাথে আজকের এই পত্রিকায় আমার রচনা জমা দেয়ার তাগিদের কোনো সম্পর্কই ছিল না। বস্তুত ওই ভাবনার সময় আমার মনেই ছিল না যে আমার রচনা জমা দেয়ার কথা। ওই জিজ্ঞাসা বা ভাবনা আমার জীবনযাপনের অংশ মাত্র। কিন্তু জিজ্ঞাসাটি যখন দেখা দিল, গাঢ় এক বিষাদসমেত আমার ভাবতে হলো স্পষ্টভাবে চিনি না এই পেঁপে বা পনিরের উত্পত্তিস্থল। সেটা কেবল আমি গ্রামে কখনো থাকিনি বলে নয়, নগরের সুপারশপের তাকে থাকা এই বস্তুগুলোর উত্পত্তিস্থলও ক্রমাগত ঘোলাটে হয়েছে বলে। কয়েক বছর আগে হলেও আমি নিশ্চিত করে ভাবতে পারতাম এ দুই বস্তুই এসেছে আমাদের আজকের আলোচ্য ‘গ্রাম’ থেকে। এমন এক গ্রাম, যেখানে পেঁপেচাষীর ভাগে পেঁপে থাকুক বা না থাকুক, তিনি নগরের বাজারে পেঁপে বেচে দিতে মরিয়া। বেচে দিতে এসেছেন সেই রাস্তা ধরে যার বিজ্ঞাপন তার ও আমার শুনতে হচ্ছে। পনিরের উৎপাদক নিজে পনির খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করুন বা না করুন, একই রাস্তা ধরে মহানগরের মধ্যবিত্ত ক্রেতার দরবারে হাজির করে দিয়েছেন সেই একই রাস্তায় এসে। তার উৎপাদন পরিশ্রম, উৎপাদন মূল্য, কেনাবেচার দাম, মধ্যস্বত্বভোগীর লাভ, এসব সুপারশপের মালিকদের মুনাফা এগুলো সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এক আলাপ। আর সেটা করতে হবে আবারো বিশদভাবে।
ঝামেলার হলো এই যে বছর কয়েক পর এসে এমনকি এই ফয়সালাতেও আর আসা যাচ্ছে না। কারণ ‘লাভজনক’ কৃষির অজুহাতে এসব ফলফলারিও এখন ‘লিজ’ নেয়া জমিতে হচ্ছে। সেই জমিটা ‘গ্রামে’ অবশ্যই অবস্থিত হতে পারে। এমনকি করপোরেট কৃষি উৎপাদকের বাইরে এ বিশেষ পেঁপেখানা ‘গ্রামের’ কোনো সমৃদ্ধ পরিবারও অপেক্ষাকৃত ছোট খামারে উৎপাদন করতে পারে, কিন্তু উৎপাদন ব্যবস্থাপনার আগাপাশতলা বদলে গেছে এই কয় বছরে। সেই বদল এমনকি ক্ষুদ্র চাষীকে নিঃস্বে পরিণত করেছে, কৃষিমজুরকে পরিণত করেছে কারখানার অল্প বেতনের মজুর, কিংবা অনিশ্চিত মজুরে।
বদলের এই কাহিনী কারোরই অজানা থাকার কথা নয়। কিন্তু জ্ঞাত কাহিনী মুখ শক্ত করে চেপে রাখা রাজনীতিবিদের কেবল কলাকৌশল নয়, পণ্ডিতেরও। বিদ্যাজগতের কর্মীরাও সেই কাজটাই মোটের ওপর করে চলেছেন। আর কবি-সাহিত্যিকেরা তেমন কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই পরিবেশন করে চলেছেন সেই গ্রামের চিত্র, যে গ্রাম কবে কোথায় যেন তারা কল্পনা করে ফেলেছিলেন একদা! নেই কোথাও!
মানস চৌধুরী: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের শিক্ষক, বিশ্লেষক ও গল্পকার





