উত্তরা থেকে
মতিঝিল। ঢাকা
মেট্রোরেলে স্টেশন
থাকবে ১৬টি।
কমলাপুর পর্যন্ত
বর্ধিত করা
হলে তখন
এর স্টেশন
সংখ্যা বেড়ে
১৭টি হবে।
স্টেশনগুলো তিন
তলাবিশিষ্ট। নিচ
থেকে দ্বিতীয়
তলায় ওঠার
মাধ্যম দুটি—সিঁড়ি
ও লিফট।
দ্বিতীয় তলাকে
বলা হয়
কনকর্স হল।
এ ফ্লোরে
আছে টিকিট
কাউন্টার, যাত্রীদের
বিশ্রামাগার ও
ওয়াশরুম। তৃতীয়
তলায় ট্রেনে
চড়ার প্লাটফর্ম।
যাত্রা শুরুর
প্রথমেই স্টেশনের
দ্বিতীয় তলায়
স্থাপিত স্বয়ংক্রিয়
মেশিন থেকে
টিকিট সংগ্রহ
করতে হবে।
টিকিট কাটার
জন্য ব্যবহার
করতে হবে
এমআরটি কার্ড।
এটি দুই
ধরনের—সিঙ্গেল
এন্ট্রি কার্ড
ও ১০
বছর মেয়াদি
কার্ড। এমআরটি
কার্ডে টাকা
রিচার্জ করে
স্বয়ংক্রিয় মেশিন
থেকে টিকিট
নেয়া যাবে।
স্টেশনের দ্বিতীয়
তলায় টিকিট
কাটার আগ
পর্যন্ত যাত্রীরা
নন-পেইড
জোনে অবস্থান
করবেন। টিকিট
কাটা হয়ে
গেলে নির্দিষ্ট
মেশিনে কার্ডটি
পাঞ্চ করে
পেইড জোনে
প্রবেশের সুযোগ
পাওয়া যাবে।
এরপর সিঁড়ি
বা লিফট
দিয়ে তৃতীয়
তলার প্লাটফর্মে
গিয়ে ট্রেনের
জন্য অপেক্ষা।
সেটাও দীর্ঘ
নয়, প্রতিটি
স্টেশনে ৪
মিনিট পরপর
ট্রেন এসে
থামবে। প্লাটফর্ম
ও ট্রেনের
মাঝখানে রয়েছে
স্বয়ংক্রিয় দরজা।
কেবল ট্রেন
এসে প্লাটফর্মে
থামলেই সেগুলো
খুলে যাবে,
একই সঙ্গে
খুলবে ট্রেনের
দরজাগুলোও। এর
পরই যাত্রীরা
ট্রেনে প্রবেশ
করবেন।
ঢাকা ম্যাস
ট্রানজিট কোম্পানি
লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)
সূত্রে জানা
গেছে, মেট্রোরেলের
কোচগুলো সম্পূর্ণ
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।
প্রতিটি ট্রেনের
দুই প্রান্তে
দুটি চালক
কোচসহ মোট
ছয়টি কোচ
থাকবে। চালক
কোচেও বসতে
পারবেন ৪৮
যাত্রী। বাকি
চার কোচের
প্রতিটিতে বসতে
পারবেন ৫৪
জন করে।
সব মিলিয়ে
একটি ট্রেনে
৩০৬ যাত্রী
বসতে পারবেন।
উদ্বোধনের পর
প্রথম দিকে
সর্বোচ্চ ২৫০
জন যাত্রী
নিয়ে ট্রেন
চলাচল করবে।
তবে ডিএমটিসিএলের
তথ্যমতে, প্রাথমিকভাবেই
এটি ১
হাজার ৭০০
যাত্রী বহন
করতে পারবে।
প্রতিটি কোচ
সাড়ে ৯
ফুট চওড়া।
মাঝখানের প্রশস্ত
জায়গায় যাত্রীরা
দাঁড়িয়েও ভ্রমণ
করতে পারবেন।
দাঁড়িয়ে থাকা
যাত্রীদের সুবিধার
জন্য উপরে
হাতল এবং
একটু পরপর
খুঁটি রয়েছে।
কোচের ভেতরে
দুই সারিতে
সবুজ রঙের
লম্বা আসন
রয়েছে। সব
মিলিয়ে একটি
ট্রেনে বসে
ও দাঁড়িয়ে
দুই হাজারের
বেশি যাত্রী
যাতায়াত করতে
পারবেন।
প্রাথমিকভাবে সীমিত
পরিসরে উত্তরা
উত্তর স্টেশন
থেকে আগারগাঁও
পর্যন্ত চলবে
এ উড়াল
ট্রেন। সকাল-বিকাল
মিলিয়ে প্রতিদিন
৪ ঘণ্টা
করে। উত্তরা-আগারগাঁও
অংশের দূরত্ব
১১ দশমিক
৭৩ কিলোমিটার।
উদ্বোধনের দিনই
এ দুটি
স্টেশন চালু
হবে। এ
অংশের বাকি
সাতটি স্টেশনও
পর্যায়ক্রমে খুলে
দেয়া হবে।
এ অংশে
যাত্রা করতে
একজন যাত্রীর
সর্বোচ্চ সময়
লাগবে ২৫
মিনিট। এমআরটি
লাইন ৬-এর
যেহেতু প্রথম
পর্যায় চালু
হয়েছে তাই
একজন যাত্রী
উত্তরা উত্তর
স্টেশন থেকে
যাত্রা শুরু
করে আগারগাঁও
পর্যন্ত পৌঁছার
পর সেখানে
অপেক্ষা করবে
বাস। যে
বাসে করে
যাত্রী তার
বাকি যাত্রা
সম্পূর্ণ করতে
পারবেন।
নির্দিষ্ট গন্তব্যে ভ্রমণ শেষে প্লাটফর্ম থেকে বের হওয়ার সময় পাঞ্চ মেশিনে যাত্রীর কাছে থাকা এমআরটি কার্ডটি পুনরায় পাঞ্চ করতে হবে। কোনো যাত্রী যদি নির্দিষ্ট গন্তব্যের অতিরিক্ত স্টেশন ভ্রমণ করেন বা কার্ড না থাকে, তবে বের হওয়ার দরজাটি খুলবে না। তখন নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বাড়তি অর্থ পরিশোধ করে বের হতে হবে। তবে এক্ষেত্রে টিকিট বা বৈধ পাসসংক্রান্ত মেট্রোরেল ভ্রমণ আইনের দণ্ডের কথা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। মেট্রোরেল আইন ২০১৫-এর ১ নং আইনে বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি টিকিট বা বৈধ পাস ব্যতিরেকে বা অনুমোদিত দূরত্বের অধিক মেট্রোরেলে ভ্রমণ করেন বা ভাড়া এড়ানোর উদ্দেশ্যে অন্য কোনো কৌশল অবলম্বন করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কর্মকাণ্ড হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি মেট্রোরেলের যাতায়াতের ভাড়ার ১০ (দশ) গুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ড দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনধিক ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ড দণ্ডনীয় হইবেন।’
সরকার মেট্রোরেলের সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করেছে ২০ টাকা। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ভাড়া হবে ১০০ টাকা। প্রথম পর্যায়ে মেট্রোরেল যে অংশে চলাচল শুরু করবে, সেই উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে আগারগাঁও স্টেশন পর্যন্ত যাত্রীপ্রতি ভাড়া হবে ৬০ টাকা। এছাড়া উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে উত্তরা সেন্টার (মধ্য) ও উত্তরা দক্ষিণ স্টেশনের ভাড়া হবে ২০ টাকা। উত্তরা উত্তর থেকে পল্লবী ও মিরপুর-১১ স্টেশনের ভাড়া ৩০ টাকা, মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশনের ভাড়া ৪০ টাকা এবং শেওড়াপাড়া স্টেশনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা।





