মুনতাসীর মামুন দেশের অগ্রগণ্য ইতিহাসবিদ ও লেখক। বিপুল রচনার মাধ্যমে তিনি ইতিহাসকে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে গেছেন। ঢাকা নগর ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গবেষণায় তিনি বড় ভূমিকা রেখেছেন। চার দশকের বেশি সময় অধ্যাপনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক। তিনি খুলনায় অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম গণহত্যা জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা। ঢাকা ও বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে রমনার এককালের রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শানজিদ অর্ণব 

ঢাকার রেসকোর্স ময়দান কীভাবে ও কখন গড়ে উঠেছিল?

এখনো মনে পড়ে ষাটের দশকের সেই ঢাকার কথা। তখনো রমনায় ছিল কৃষ্ণচূড়া। রমনার স্মৃতি কখনো ভুলবার নয়। ঢাকায় ফিরে আসা প্রবাসী বা যাদের ত্যাগ করতে হয়েছে সাধের ঢাকা শহর, ঢাকাবাসী মধ্যবয়সী বা বৃদ্ধ যখনই বোনেন পুরনো কথার জাল, তখনই ফিরে ফিরে আসে রমনা। বুড়িগঙ্গার কথা মনে পড়লে যেমন চলে আসে ঢাকার নাম, তেমনই ঢাকার কথা মনে হলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে রমনার বিস্তৃত মাঠ।

ঢাকা শহরে রমনা হচ্ছে এমন একটি জায়গা যার উৎপত্তির সময় থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকার একমাত্র মুক্ত জায়গা হিসেবে টিকে আছে। যদি ‘অভিজাত’ শব্দটাও ব্যবহার করি, তাহলে ঢাকার একমাত্র অভিজাত এলাকা বলা যায় রমনাকে। এর উৎপত্তি ধরা হয় মোগল আমল থেকে। রমনা নামকরণ মোগলদেরই। যখন ইসলাম খাঁ এলেন, এখানে রাজধানী ঢাকার পত্তন হলো, তখন এ রমনার পাশে মহল্লায় চিস্তিয়ান এবং মোগলদের জন্য দুটি আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছিল। ওই সময় এর পাশে বকশীবাজার ও অন্যান্য কিছু জায়গা রমনাকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল। মোগলরা যদিও বাবুবাজারে নেমেছিলেন এবং ওই এলাকাটা ছিল মূল ঢাকা কিন্তু তারা যেখানেই গেছে সেখানে উন্মুক্ত স্থান, বাগান এবং পানি—এ তিনটি ব্যবহার করেছে। আমার মনে হয় সে কারণেই মোগলদের মধ্যে যারা একটু অভিজাত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যেমন বকশীবাজারের বকশীরা থাকত, তারা উন্মুক্ত এত বড় স্থান দেখেই তার আশপাশে আবাসিক এলাকা গড়ে তুলেছিল। তারা এ এলাকাটাকে ও পুরো মাঠটাকে নাম দিয়েছিল রমনা, যা ফারসি শব্দ। ইংরেজিতে আমরা বলি লন মানে মাঠের মতো একটা জায়গা। আশপাশে খাল দিয়ে ভরা ছিল। পুরো এলাকাতেই খাল এবং বাগান ছিল। মোগল রইসরা সেখানে ঘুরে বেড়াতেন ও চিত্তবিনোদন করতেন। রমনা তখনই কিন্তু ঢাকার অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্থান হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। মোগলরা চলে যাওয়ার পর মিরপুর থেকে একেবারে রমনা পর্যন্ত পুরো এলাকাটাই জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে যায়। এরপর এল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ১৮২৫ সালের দিকে চার্লস ড’স নামের একজন কালেক্টর এসেছিলেন ঢাকায়। তিনি ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন এবং ঢাকা শহরের উন্নয়নের জন্য গঠিত ঢাকা কমিটিরও সদস্য ছিলেন। তিনি তখন ঠিক করলেন পুরো ঢাকা অস্বাস্থ্যকর হয়ে যাচ্ছে। জঙ্গল, ময়লা, নালায় ভর্তি। বিনোদনের জন্য রমনাটাকে বেছে নিলেন, এ জায়গাটা পরিষ্কার করা শুরু করলেন এবং মোটামুটি বড় আকারের জায়গা উদ্ধার করলেন। এখন যেখানে শাহবাগ থানা, সেখানে একটা উঁচু টিলার মতো ছিল, এখনো বোধ হয় আছে। তিনি সেখানে একটি বাড়ি করলেন। আর ঢোকার মুখটা ছিল ঢাকা গেট যেটা এখন আবার সিটি কর্পোরেশন নতুনভাবে সংস্কার করছে। ওখান থেকে সোজা এলে তার বাসায় ওঠা যাবে। গাছপালা লাগালেন, গেটের দুই পাশে ছিল ফারগাছ। ১৮৪০ সালে কোম্পানির কর্নেল ডেভিডসন ঢাকায় এসেছিলেন। নেপাল থেকে আনা দুষ্প্রাপ্য গাছ, যেমন ক্যাসুরিনা, মিমোসা দিয়ে সাজিয়েছিলেন রমনা। আশপাশে কতগুলো বাগান বাড়ি ছিল ইংরেজদের। 

মোগলদের পরে সে সময় বিনোদনের জন্য ইংরেজরা বেছে নিয়েছিল ঘোড়দৌড়। এ জায়গাটাকে ঘিরেই রেসকোর্স ময়দান হলো। ঘোড়দৌড় আমিও দেখেছি ১৯৬০-এর দিকে, তখন অল্প বয়স ছিল। এভাবেই রমনা এলাকাটা রক্ষা পেয়েছিল। এর পরে এখানে জিমখানা ক্লাব হয়েছে, যা ঘোড়দৌড়ের সঙ্গে যুক্ত। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ হলো, তখন এ রমনা এলাকাটাকে আবার গড়ে তোলা হলো। লাল ইট দিয়ে কার্জন হল, হাইকোর্ট, ভাইস চ্যান্সেলরের বাড়ি, বাংলা একাডেমিসহ এ সাইটটায় নানা দালান গড়ে তোলা হলো। কিন্তু রমনা রেসকোর্সটা অটুটই রাখা হলো। ঘোড়দৌড়ে ঢাকার নবাব পরিবারের অনেক সদস্য পৃষ্ঠপোষকতা দিতেন, যাদের মধ্যে আছেন নবাব আহসানউল্লাহ, আব্দুল গণি ও নবাব সলিমুল্লাহ। ঢাকায় বিনোদনের প্রধান ব্যাপারটাই ছিল ঘোড়দৌড়। শনিবারে অফিস-আদালতও বন্ধ হয়ে যেত এ ঘোড়দৌড়ের জন্য। বড় অনুষ্ঠানগুলোও হতো রমনায়। মার্চপাস্ট থেকে ঈদের সময়ের মেলাগুলো বসত এ রমনায়। পাঠান কাবুলিওয়ালাদের লাঠিনৃত্য হতো। এরকম চলে অনেক দিন, তারপর ক্যানেলগুলো আস্তে আস্তে ভরাট করে ফেলা হয়। ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্থাপিত হয়। রেসকোর্স ওই সময় রমনা রেসকোর্স হিসেবে পরিচিত হতে থাকে। রমনার একটা অংশ ছিল শাহবাগের বাগান, এখন যেটা চারুকলা। মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু করে জাতীয় জাদুঘর—এ পুরোটা ছিল শাহবাগ বাগান। মানে নবাব আহসানউল্লাহর বাগান। তার ধ্বংসাবশেষও আমরা দেখেছি। তারই নাচঘরটা হচ্ছে মধুর ক্যান্টিন। 

রমনার কালীবাড়িটাকে ঘিরে আলাদা একটা গল্পের সৃষ্টি হয়েছিল, কালীবাড়িটা পুরনো। সেখানে নবাবদের মালির স্ত্রী ছিলেন আনন্দময়ী। তিনি সেখানে একটা আশ্রম করেন। কালক্রমে আনন্দময়ী সামগ্র ভারতে ‘মা আনন্দময়ী’ নামে বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। আধ্যাত্মিকতায় এ ‘আনন্দময়ী মা’কে পুরো ভারত চিনত। তার আশ্রমটা ওইখানে ছিল। রমনা তারপর আস্তে আস্তে অবহেলিত হয়ে গেল। 

এদিকে ১৯০৫ সালে যখন বঙ্গভঙ্গ হয়েছিল, তখন প্রাউড লক যিনি লন্ডনে কাজ করছিলেন। কিউয়ি গার্ডেনে ছিলেন। তাকে নিয়ে আসা হয়, একটা পরিকল্পনা করার জন্য। তিনি এখনকার রমনা পার্ক এলাকাটাকে ধরে নিসর্গ পরিকল্পনা করেছিলেন। পুরনো বড় কড়ই গাছগুলো তারই পরিকল্পনার অংশ। ফলে রমনা বলতে কিন্তু একটা বড় অংশকে বোঝায়। এখনকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-রমনা গ্রিন যেটাকে এখন রমনা পার্ক বলা হয়, পুরো এলাকাটা এবং এটাকে বোটানিক্যাল পার্ক হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকার (আতাউর রহমান খান) শুরু করে। এটাই পরবর্তীকালে আমাদের কাছে রমনা গ্রিন হিসেবে, এখন রমনা পার্ক হিসেবে পরিচিতি পায়। 

রেসকোর্স ময়দানে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ শুরু হলো কখন থেকে? 

এখানে প্রথমে একটা জনসভা হয়, যা পাকিস্তান আমলের ঘটনা। সেটা হচ্ছে, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর জনসভা। রমনার এ মাঠ অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। এখানে ১৭৬০ সালের দিকে সন্ন্যাসীরা ইংরেজ কুঠি আক্রমণ করতে এল। তখন এ রমনাতে তারা মিলিত হয়ে ইংরেজ কুঠি আক্রমণ করল। এখন যেখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আছে, সেখানে ছিল ইংরেজ কুঠিটা। তারপর যখন ১৯০০ সালের পর এখানে বিপ্লবী সংস্থাগুলো গড়ে উঠল, তারাও শপথ নেয়ার জন্য রাতের বেলা এ রমনা পার্কে মিলিত হতো। এরপর দেখি আমরা ১৯৪৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এখানে প্রথম বক্তৃতা দিলেন, রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে কথা বললেন। তখনো রেসকোর্স আছে কিন্তু তারপর আমরা রমনাকে রাজনৈতিক কাজে যে খুব বেশি ব্যবহার হতে দেখেছি সেটা নয়। মাঝে মাঝে হয়তো দুএকটা জনসভা হয়েছে কিন্তু রমনাকে ওইভাবেই অটুট রাখা হয়েছে। এখানে প্রথমে একটা বড় সভা হয় ১৯৪৭-এর পর, সেটা হচ্ছে ১৯৬৯ সালে যখন শেখ মজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়া হয়। রমনার একটা অংশে সেটা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন কিন্তু রেসকোর্স মোটামুটি উঠে গেছে, কাঠের রেলিংগুলো হয়েছে, একটা বিস্তীর্ণ মাঠ ছিল। ছাত্রজীবনে আমরা রমনা মাঠের ভেতর দিয়ে কলাভবন থেকে হেঁটে ওইদিকে চলে যেতাম। ছাড়া মাঠের মতো ছিল রমনা। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে সেখানে বঙ্গবন্ধু বক্তৃতা দিলেন এবং আমরা তরুণ সেখানে গিয়েছি, দেখেছি, কাগজ বিক্রি করেছি। আমার মতে স্মরণাতীতকালে এত বড় স্বতঃস্ফূর্ত সভা বাংলাদেশে আর কখনো হয়নি। এখানে যেহেতু একটা স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। তাই ১৬ ডিসেম্বর বলা হয়েছিল ওই জায়গাটাতেই আত্মসমর্পণ হবে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ এই এলাকাতেই প্রথম আক্রমণ হয়েছিল। রমনার কালীবাড়ি, রোকেয়া হল, জগন্নাথ হল, ইকবাল হল, শিক্ষকদের বাসা, ঢাকা ক্লাব আক্রান্ত হয়। 

১৯৭২ সালে ইন্দিরা গান্ধী যখন এলেন এ রমনাতেই কিন্তু ভারতীয় সৈন্যরা মার্চপাস্ট করে চলে গেল এবং ইন্দিরা মঞ্চ করা হলো। ওই জায়গাটাতেই ইন্দিরা গান্ধী, বঙ্গবন্ধু বক্তৃতা দিলেন। 

ঢাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানটিতে স্মৃতি সংরক্ষণে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সে বিষয় আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন বিরোধী দলের নেত্রী, তখন ১৯৯৬ সালে তার নির্বাচনী বক্তৃতাটা আমার লেখা। তখন আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম যে কী কী লিখব, উনি বললেন আপনি বলেন কী কী চান, আমিও বললাম। তার সঙ্গে আলোচনার পরে সেখানে একটা লাইন দিয়ে দিয়েছিলাম যে তিনি জয়ী হলে রমনার মাঠে বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় স্তম্ভ করবেন। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু যখন ঢাকায় ফিরলেন তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন রমনাতেই বিজয়ের স্তম্ভ হবে। রেস খেলা তিনি বন্ধ করে দিলেন। রমনা মাঠকে বা রেসকোর্সকে তিনি ঘোষণা করলেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হিসেবে। ১৯৭১ সালে রমনার কালীবাড়িটা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। আমি, হাশেম খান আর রবিউল হুসাইন খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম। আমরা বললাম এখন তো এখানে একটা স্বাধীনতা স্তম্ভ তৈরি করতে হয়। আমাদের আইডিয়াটা ছিল এখানে মাঝখানে একটা বড় স্কয়ার থাকবে মস্কোর মতো। পুরো মাঠটা খোলা থাকবে এখানে কিছু স্থাপনা থাকবে এবং স্বাধীনতা স্তম্ভটা থাকবে। যেখানে লোকে আসবে, দেখবে, শ্রদ্ধা জানাবে। পুরোটাকে ঘিরে একটা মাস্টারপ্ল্যান ভাবা হল। মাজহারুল ইসলাম ছিলেন, জামিলুর রেজা চৌধুরী ছিলেন। জুরি কম্পিটিশনের মাধ্যমে কাশেফ মাহবুব চৌধুরী ও মেরিনা তাবাসসুম একটা নকশা করে। তাদের পরিকল্পনাটা অসম্পূর্ণ ছিল, আমরা তখন সাজেশন দিলাম। স্বাধীনতা স্তম্ভ যেমণটা এখন তৈরি হয়েছে আমরা তেমনটা চাইনি। আমরা অনেকে সরে গেলাম। এখন যে জায়গাতে অনুষ্ঠান হয়, ভূ-গর্ভস্থ জাদুঘর—এগুলো আমাদের করে দেয়া, আমি হাশেম খান ও রবিউল হুসাইন। ভূগর্ভস্থ জাদুঘরটা এখন পর্যন্ত শেষ করতে পারেনি। কনসেপচুয়ালি খুব ভালো ছিল জিনিসটা। 

আমি এবং জেনারেল শফিউল্লাহ একটা রিট করি। বিচারপতি খায়রুল হক রায় দেন যে রমনাকে রক্ষা করতে হবে। শুধু স্মৃতিফলক থাকবে। যেমণ এখানে জিন্নাহ বক্তৃতা দিয়েছিলেন, এখানে বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন—এমন। বাকিটা এখন যেটা আছে সেটা থাকবে, স্বাধীনতা স্তম্ভ থাকবে। কিন্তু সরকার এটা মানেনি। কথা ছিল এখানে থানা থাকবে না, ফুলের দোকান থাকবে না। এসব কিছু কিন্তু আছে। কালীবাড়ির জমি কতটুকু থাকবে সেটা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল কিন্তু সেটাও মানা হচ্ছে না। যেটা সবচেয়ে আপত্তিকর সেটা হচ্ছে এখানে জনসমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে। বইমেলা হচ্ছে, যা আপত্তিকর। কলকাতায় কিন্তু ময়দানে সেটা উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। সব অনুষ্ঠান বন্ধ সেখানে। ঢাকা শহরে একটা উম্মুক্ত জায়গাই আছে, এটাকেও কিন্তু রাজনীতিবিদ আর আমলারা মিলে নষ্ট করে ফেলছে। এখানে সিভিল সোসাইটির কোনো কথা শোনা হচ্ছে না। এখন তরুণরা যদি এগুলো নিয়ে আন্দোলন না করে তাহলে তো এগুলো দাঁড়াবে না। মোগল আমল থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা শহরে এই একটা জায়গাই টিকে আছে। রমনা নষ্ট করার অধিকার কোনো কাউকে দেয়া হয়নি। এটা আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অঙ্গ।