ঢাকা-খুলনা জাতীয় মহাসড়কের (এন-৮) ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে পদ্মা সেতুতে সংযোগ দিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত তৈরি করা হয়েছে ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেনসহ চার লেনের মহাসড়ক। মূল মহাসড়কটিতে যানবাহনের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত, তাই এটিকে এক্সপ্রেসওয়ে হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ এক্সপ্রেসওয়েতে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত যেতে সময় লাগবে মাত্র ৪৫ মিনিট। ২০২০ সালের ১২ মার্চ এ মহাসড়ক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে ২০১৯ সালে মহাসড়কটির নাম ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়ক’ হিসেবে গেজেটভুক্ত করে সরকার।
এক্সপ্রেসওয়েটি ৫৫
কিলোমিটার দীর্ঘ।
শুরু হয়েছে
ঢাকার যাত্রাবাড়ী
ইন্টারসেকশনে। ঢাকা-খুলনা
মহাসড়ক (এন-৮)
দিয়ে গিয়ে
মিশেছে মাওয়ায়,
পদ্মা সেতুর
সংযোগ সড়কে।
পদ্মা সেতু
পার হয়ে
এটি চলে
গেছে ফরিদপুরের
ভাঙ্গা পর্যন্ত।
চার লেনের
এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি
ধীরগতির গাড়ি
চলার জন্য
দুই পাশে
রাখা হয়েছে
দুটি করে
আরো চারটি
লেন। সব
মিলিয়ে খরচ
পড়ছে প্রায়
১১ হাজার
কোটি টাকা।
এরই মধ্যে
এটি পরিচিতি
পেয়েছে বিশ্বের
সবচেয়ে ব্যয়বহুল
সড়ক হিসেবে।
ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা
এক্সপ্রেসওয়ের নকশাও
করা হয়েছে
ঘণ্টায় ৮০
কিলোমিটার গতিতে
গাড়ি চালানোর
জন্য। এক্সপ্রেসওয়েটিতে
গাড়ি প্রবেশ
ও বের
হওয়ার জন্য
রাখা হয়েছে
আটটি পথ।
ঢাকার বাবুবাজার,
যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা,
কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ,
আব্দুলাপুর, আব্দুল্লাপুরসংলগ্ন
টোলপ্লাজা, শ্রীনগর
ফ্লাইওভার ও
মুন্সীগঞ্জের মাওয়া
মোড়ে রয়েছে
এসব প্রবেশ-নির্গমন
পথ। আর
এক্সপ্রেসওয়ের ভেতরে
কিছুদূর পর
পর নির্মাণ
করা হয়েছে
যাত্রী ছাউনিসংবলিত
বাস-বে।
ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা
এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প
বাস্তবায়ন করেছে
সড়ক ও
জনপথ অধিদপ্তর।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে
সড়ক ও
জনপথ অধিদপ্তরকে
সহায়তা করছে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর
২৪ ইঞ্জিনিয়ার
কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।
পদ্মা সেতুর
দুই প্রান্তের
সঙ্গে সড়ক
ও জনপথ
অধিদপ্তরের আওতাধীন
৫৫ কিলোমিটার
দীর্ঘ ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা
এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে
সেতুটি দেশের
মহাসড়ক নেটওয়ার্কের
সঙ্গে সংযুক্ত।
এক্সপ্রেসওয়ের কাজ
সমাপ্তির পর
যানচলাচল শুরু
হলেও পদ্মা
সেতুর কাজ
শেষ না
হওয়ায় এতদিন
খণ্ডিত এক্সপ্রেসওয়ে
পূর্ণ সেবা
লাভ করা
সম্ভব হচ্ছিল
না। পদ্মা
সেতু চালুর
মধ্য দিয়ে
পূর্ণতা পেতে
যাচ্ছে দেশের
সবচেয়ে নান্দনিক
এ মহাসড়ক।
পদ্মা নদীর
দুই পাশে
এ এক্সপ্রেসওয়ের
নির্মাণকাজ শুরু
হয়েছিল ২০১৬
সালের মে
মাসে। শুরুতে
প্রকল্প ব্যয়
ধরা হয়েছিল
৬ হাজার
কোটি টাকা।
তবে শেষ
পর্যন্ত এ
সড়ক নির্মাণ
করতে খরচ
হয়েছে প্রায়
১১ হাজার
কোটি টাকা।
ধীরগতির যানবাহন
যাতে এক্সপ্রেসওয়ে
ব্যবহার না
করে, সেজন্য
চার লেনের
এ সড়কের
দুই পাশে
দুটো সার্ভিস
লেন করা
হয়েছে।
যানবাহন ইচ্ছেমতো
যেকোনো জায়গা
দিয়ে এ
এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠানামা
করতে পারবে
না। এখানে
ওঠানামার জন্য
কিছু নির্দিষ্ট
পয়েন্ট রাখা
হয়েছে। এছাড়া
এ সড়ক
ব্যবহার করতে
হলে টোল
দিতে হবে।
তিন চাকার
যানবাহন এ
এক্সেপ্রেসওয়ে ব্যবহার
করতে পারবে
না। কম
সময়ে এক
জায়গা থেকে
অন্য জায়গায়
পৌঁছানো সম্ভব
হলে গাড়ির
জ্বালানি খরচ
কমবে। ফলে
একদিকে যেমন
সময় সাশ্রয়
হবে, অন্যদিকে
জ্বালানি সাশ্রয়ের
ফলে তা
দেশের অর্থনীতিতেও
ভূমিকা রাখবে।
এক্সপ্রেসওয়েটি তৈরি
করেছে সড়ক
ও জনপথ
অধিদপ্তর। আগামী
১ জুলাই
থেকে এ
এক্সপ্রেসওয়েতে টোল
আদায় শুরুর
পরিকল্পনা করছে
সংস্থাটি। এজন্য
একটি অন্তর্বর্তীকালীন
টোলহার চূড়ান্ত
করেছে। আর
স্থায়ী টোলহার
চূড়ান্ত করার
প্রক্রিয়া চলমান।
অন্তর্বর্তীকালীন নির্ধারিত
টোল প্রতি
কিলোমিটারে ১০
টাকা হিসাবে
একটি মাঝারি
আকারের ট্রাককে
পুরো ৫৫
কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে
ব্যবহারের জন্য
৫৫০ টাকা
দিতে হবে।
একটি বাসের
টোল হবে
৪৯৫ টাকা
(ভিত্তি টোলের
৯০ শতাংশ),
একটি সেডান
গাড়ির টোল
১৩৮ টাকা
(২৫ শতাংশ)
এবং একটি
মোটরসাইকেলের টোল
২৮ টাকা
(৫ শতাংশ)।
পদ্মা সেতু
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ
পুরো বাংলাদেশের
জন্য নতুন
দিগন্তের সূচনা
করতে যাচ্ছে
বলে মন্তব্য
করেছেন যশোর
বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের
উপাচার্য অধ্যাপক
ড. আনোয়ার
হোসেন। তিনি
বণিক
বার্তাকে
বলেন, আমি
যদি শুধু
আমার নিজের
কথা বলি...পদ্মা
সেতু চালু
হলে যশোর
থেকে আমি
৩ থেকে
সাড়ে ৩
ঘণ্টায় ঢাকায়
চলে যেতে
পারব। বিমানে
যদি যাই,
তাহলেও কম-বেশি
একই সময়
লাগবে। এ
তথ্য থেকেই
বোঝা যায়
মানুষের যোগাযোগ
কতটা সহজ
হতে চলেছে।
এ সহজ
যোগাযোগের ইতিবাচক
প্রভাব পড়তে
যাচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য,
কৃষি, পর্যটনসহ
দেশের সামগ্রিক
অর্থনীতিতে। সবকিছু
মিলিয়ে এমন
একটা পর্যায়
আসবে যেটা
‘উইন-উইন
সিচুয়েশন’ তৈরি
করবে এবং
অবশ্যই দেশের
জিডিপি একটা
বড় অংশে
বাড়বে। পদ্মা
সেতু বাংলাদেশের
জন্য একটি
মাইলফলক। এ
সেতু আমাদের
মধ্যে নতুন
আত্মবিশ্বাস তৈরি
করেছে।
দীর্ঘ প্রত্যাশিত
পদ্মা সেতুর
সঙ্গে সংযোগে
গড়ে তোলা
এক্সপ্রেসওয়ের এক
প্রান্ত এসে
মিশেছে ফরিদপুরের
ভাঙ্গা উপজেলায়।
পদ্মা সেতু
থেকে প্রায়
২০ কিলোমিটারের
মতো এ
নয়নাভিরাম চার
লেনের সুপ্রশস্ত
সড়ক এসে
সংযুক্ত হয়েছে
এখানে। প্রকল্পের
অংশ হিসেবে
ভাঙ্গার গোলচত্বরে
গড়ে তোলা
হয়েছে একটি
চমত্কার ফ্লাইওভার।
এ ফ্লাইওভার
কেবল সড়ক
চলাচলকে সহজ
করছে তাই
নয়; বরং
এটি এ
এলাকার মানুষের
কাছে একটি
দর্শনীয় স্থান
হিসেবেও গড়ে
উঠেছে। প্রতিদিন
বিকালে মানুষ
সেখানে ভিড়
করে মনোমুগ্ধকর
সময় কাটানোর
আশায়।
দেশের প্রথম
এ এশিয়ান
এক্সপ্রেসওয়ের অংশ
হিসেবে ভাঙ্গার
গোলচত্বরে গড়ে
তোলা হয়েছে
এ নান্দনিক
ফ্লাইওভার। এর
মাধ্যমে বহুল
প্রতীক্ষিত পদ্মা
সেতু উদ্বোধনের
পর ফরিদপুরের
ভাঙ্গা উপজেলা
সদর হয়ে
উঠবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের
২১ জেলার
প্রবেশদ্বার।
পদ্মা সেতু চালু হলে ভাঙ্গা থেকে মাত্র ১ ঘণ্টারও কম সময়ে রাজধানীতে পৌঁছানো যাবে। ফলে পর্যটনে ঘটে যাবে যুগান্তকারী বিপ্লব। দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন জোরদার করতে পদ্মা সেতুর পাশাপাশি অগ্রণী ভূমিকায় থাকবে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে।





