মাওয়া-জাজিরা নৌপথে ফেরিতে উঠে নদী পারাপার হতেই সময় লাগে এক-দেড় ঘণ্টা। ফেরিতে ওঠার অপেক্ষার কোনো ঠিকানা নেই। ভাগ্য ভালো থাকলে ফেরির দেখা মেলে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে। গাড়ির চাপ বাড়লে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় দীর্ঘায়িত হয় যাত্রাপথের দুর্ভোগ। পদ্মা সেতু চালুর মধ্য দিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের এ কষ্ট। টোলপ্লাজার আনুষ্ঠানিকতা মিটিয়ে পদ্মা পাড়ি দিতে সময় লাগবে মাত্র ৬ মিনিট।

টোল দিয়ে ব্যবহার করতে হবে পদ্মা সেতু। এজন্য যানবাহন ভেদে টোলহার নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। টোল আদায়ে ম্যানুয়াল ও অটোমেশন দুই পদ্ধতিই চলবে। প্রথমে একটি কাউন্টারে অটোমেশন হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যগুলোতে করা হবে। তবে সেতু চালুর পর পরই অটোমেশনে যাওয়া সম্ভব হবে। পদ্মা সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়ের কাজ পেয়েছে কোরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। যান চলাচল শুরুর পর অটোমেশন কাজ শুরু করতে প্রতিষ্ঠানটির ছয় মাসের মতো সময় লাগার কথা জানিয়েছেন সরকারের সেতু বিভাগের সচিব মঞ্জুর হোসেন। তিনি বলেন, শুরুতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টোলবুথে নগদ টাকা বা ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টোলের টাকা দেয়া যাবে। পরবর্তী সময়ে অটোমেশনের মাধ্যমে পৃথক টোলবুথ করা হবে। এসব বুথে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সম্পন্ন হবে টোল আদায় কার্যক্রম।

আজ সকাল ১০টায় মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর অংশ নেবেন সুধী সমাবেশে। বেলা ১১টার দিকে চলে যাবেন জাজিরায়। ফলক উন্মোচনের পর ভাষণ দেবেন জনসভায়। প্রধানমন্ত্রী আজ পদ্মা সেতু উদ্বোধন করলেও যানবাহন চলাচল শুরু হবে আগামীকাল।

মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-১-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, আগামীকাল সকাল ৬টায় পদ্মা সেতুতে যানবাহন

চলাচল শুরু হবে। পদ্মা সেতু চালুর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ সারা দেশের মানুষের দুর্ভোগের অবসান হতে যাচ্ছে। এতে দূর হবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে বসে থাকার দুর্ভোগ। ঈদে বাড়তি চাপের কারণে কখনো কখনো ঘাট এলাকাতেই কেটে যেত ২৪ ঘণ্টার বেশি। কেউ কেউ মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ, ফেরি কিংবা স্পিডবোটে উঠতেন।

সেতু চালুর পর এ পথ পাড়ি দেয়া যাবে মাত্র ৬ মিনিটে। পদ্মা সেতু এখন স্বপ্ন নয়, এটি দৃশ্যমান বাস্তবতা। এটি আমাদের সামর্থ্য ও সক্ষমতার সেতু। একদিকে সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক।

সেতুর নির্মাণ খরচ সরকারের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে করা হয়েছে। ৩৫ বছরে সেতু বিভাগ সরকারকে ৩৬ হাজার কোটি টাকা দেবে।