এসি বিস্ফোরণ কেন হয়

বেশ কয়েকটি কারণে এসি বিস্ফোরণ হতে পারে। প্রাথমিক কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো রেফ্রিজারেন্ট লিক। বাতাসকে শীতল করার জন্য এসিতে উচ্চচাপে রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়। যদি রেফ্রিজারেন্টে লিক হয়, তবে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। কিছু কিছু রেফ্রিজারেন্ট স্ফুলিঙ্গের সংস্পর্শে এলে আগুন ধরে যেতে পারে। ফলে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করার কারণেও এসির বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এসির নিয়মিত যত্ন বা পরিষ্কার না করলে ময়লা জমে বিভিন্ন ত্রুটি দেখা দিতে পারে, যা এসি চলতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং সে কারণে এসি অতিরিক্ত গরম হয়ে বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এসির বিস্ফোরণ এড়াতে এসির পাওয়ার কেবল সঠিক স্পেকে ব্যবহার করতে হবে। কারণ কেবল সঠিক স্পেকের না হলেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এসির ভেতরের পাইপের কোথাও যদি ব্লকেজ থাকে তাহলেও প্রেসারের কারণে কম্প্রেসার ব্লাস্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এছাড়া কিছু এসি দীর্ঘ সময় চালালে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিগুলো অতিরিক্ত গরম হতে পারে, ফলে বিস্ফোরণও ঘটতে পারে। ভোল্টেজের ওঠানামার কারণে এসির বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে ত্রুটি দেখা দিতে পারে এবং এতে এসির সমস্যা হতে পারে।

এসি বিস্ফোরণ রোধে করণীয়

 এসি বিস্ফোরণ রোধে একে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। এসি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে এবং কোনো সমস্যা থাকলে তা শনাক্ত করতে পারেন এমন পেশাদার টেকনিশিয়ানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে।

 এসি বিস্ফোরণ রোধ করার আরেকটি উপায় হলো রেফ্রিজারেন্ট লিক ডিটেক্টর ইনস্টল করা। এ ডিভাইসগুলো রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে সতর্ক করতে পারে। অনেক বছরের পুরনো এসি পাল্টে নতুন মডেলে আপগ্রেড করা যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে সেটিতে যেন লিক ডিটেক্টর থাকে।

 এসির বিস্ফোরণ এড়াতে অবশ্যই সঠিক রেটিং সমৃদ্ধ সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করতে হবে।

 এসির ইভাপোরেটর ও কনডেন্সার কয়েল প্রতি বছর পরীক্ষা ও পরিষ্কার

 করা উচিত। ইভাপোরেটর ও কনডেন্সার কয়েলে থাকা অ্যালুমিনিয়াম ফিন বা পাখাগুলো খুব সহজেই বেঁকে গিয়ে বায়ুপ্রবাহ আটকে দিতে পারে। এসির পাইকারি বিক্রেতারা ‘‌ফিন কম্ব’ নামের একটি যন্ত্র বিক্রয় করেন, যেটি পাখনাগুলোকে পরিষ্কার করে প্রায় অরিজিনাল অবস্থা এনে দিতে সক্ষম।

 শীতকালে রুমের এসিটি ঢেকে রাখা অথবা খুলে স্টোরে রেখে দেয়া উচিত। এতে শীতকালীন আবহাওয়া ও ধুলোবালি থেকে এটি সুরক্ষিত থাকবে।

 এছাড়া পেশাদারদের মাধ্যমে নিয়মিত সার্ভিসিং করানো, রুমের আকার অনুযায়ী সঠিক মাত্রার এসি নির্ধারণ, নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের এসি কেনা, দীর্ঘ সময় একটানা এসি না চালিয়ে মাঝে মাঝে বিরতি দেয়া, বৈদ্যুতিক সংযোগ, সকেট নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করা।

 সেই সঙ্গে হাই ভোল্টেজ এড়াতে বাড়িতে সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় এসির ব্যবহার বন্ধ রাখার মতো বিষয়গুলো এসি বিস্ফোরণের ঝুঁকি প্রায় পুরোটাই কমিয়ে দেয়।