আপনাদের ব্র্যান্ডের এসি প্রথম বাজারে এসেছিল কবে?
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে শিল্পোন্নয়নের মাধ্যমে দেশ গঠনের জন্য যিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তিনি আমাদের সম্মানিত প্রয়াত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, যিনি একাধারে স্বপ্নদ্রষ্টা, কর্মবীর এবং বাংলাদেশের কিংবদন্তি শিল্পোদ্যোক্তা, যার কর্মপ্রেরণা আজও সবার কাছে অনুকরণীয়। দেশের মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে সর্বোৎকৃষ্ট পণ্যটি তুলে দেয়ার নিমিত্তে ১৯৭৮ সালে গাজীপুরে নিজস্ব কারখানায় যমুনা ফ্যানের উৎপাদনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক শিল্প খাতে যমুনার যাত্রা শুরু হয়। উৎপাদন শুরুর প্রথম দিক থেকেই উন্নত কাঁচামাল, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবলের মাধ্যমে যমুনার প্রতিটি পণ্য তৈরি হচ্ছে। তাই তো দীর্ঘ চার যুগেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে যমুনা আজও জনপ্রিয় নাম। যমুনা ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড অটোমোবাইলস লিমিটেড ২০১৪ সালে উৎপাদন ও বিপণন শুরু করে। অর্থাৎ যমুনা রেফ্রিজারেটর ও যমুনা ফ্যানসহ অন্যান্য কনজিউমার ইলেকট্রনিকস আমরা বাজারজাত শুরু করি ২০১৪ সালে।
গরমের দিন চলে এসেছে। এসির বাজারের পরিস্থিতি এখন কেমন?
এরই মধ্যে বেশ গরম অনুভূত হচ্ছে। মার্চ থেকে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। ফলে এপ্রিল, মে ও জুনে এসি বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। বছরের প্রায় ৮০-৮৫ শতাংশ বিক্রি হয় এ সময়। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশের বিরূপ আচরণের ফলে দিন দিন গরমের মাত্রা বাড়ছে। গত বছর তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত উঠেছে। ফলে মানুষ গরম থেকে বাঁচার জন্য তার সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে তাপপ্রবাহ থেকে প্রশান্তির জন্য এসি কেনেন। এরই মধ্যে আমরা বাজারে বেশ সাড়া পেয়েছি। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত কাঁচামাল আর প্রতিনিয়ত উদ্ভাবন উৎকর্ষ সাধনের জন্য যমুনা এসি আজ দেশের মানুষের প্রথম পছন্দের পণ্য।
দেশের এসির বাজারে আপনাদের অংশগ্রহণ কত শতাংশ?
দেশের বাজারে যমুনা এসির অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। হোম অ্যাপ্লায়েন্স ব্যবসায় আমাদের কোম্পানিগুলো আছে দুই দশকের বেশি সময় ধরে। কিন্তু ভালো মানের পণ্য সরবরাহে ঘাটতি থেকেই আমাদের প্রয়াত চেয়ারম্যান সাহেব কনজিউমার ইলেকট্রনিকস ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। আমাদের অত্যাধুনিক কারখানাটি বিশ্বমানের যমুনা এসি তৈরি করে, যা গ্লোবাল ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে। আধুনিক যন্ত্রপাতি, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত কাঁচামাল আর অবিরাম উদ্ভাবন ও উৎকর্ষ সাধনের ফলে যমুনা এসি আজ দেশসেরা ব্র্যান্ড। সুতরাং বাজারে আমাদের বড় একটা অবস্থান রয়েছে। সর্বদা আমরা আমাদের ভোক্তাদের তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে সেরা পণ্যটি পৌঁছে দিতেই বদ্ধপরিকর।
আপনাদের এসির প্রযুক্তি কতটা যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে?
আমাদের পে-অফ লাইন হচ্ছে ইনোভেশন ফর স্মার্টার লাইফ। স্মার্ট লাইফের জন্য ইনোভেশন খুবই দরকার। বিশ্বে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির যেসব পণ্য পৃথিবীতে রয়েছে, সব প্রডাক্টই বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে। যমুনা এসির কথা বলা যায়। দিন দিন এসির চাহিদা বাংলাদেশে বাড়ছে। বর্ধিত চাহিদার কথা মাথায় রেখেই যমুনা ইলেকট্রনিকস অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নানা সুবিধাসংবলিত এসি বাজারে এনেছে। এরই মধ্যে আমরা ফাইভ ডি এআই ইনভার্টার প্রযুক্তির যুগান্তকারী এসির বাজারজাত করেছি, যা বাজারে বেশ সাড়া ফেলেছে। যমুনা স্মার্টার ইনভার্টার এসিতে রয়েছে পিএম ২.৫ ফিল্টার, যা হাইপ্রেশার আয়োনাইজিং টেকনোলজি ও ন্যানো কোল্ড ক্যাটালিস্ট ইলেকট্রনিক ডাস্ট কালেকশন টেকনোলজি ব্যবহার করে ঘরের ভেতর থাকা ক্ষুদ্রতম ধূলিকণা পরিশুদ্ধ করতে পারে। যমুনা এসির টেকনোলজি এয়ার আয়োনাইজেশনের মাধ্যমে মানসিক অবসাদ দূর করে ঘরকে রাখে সংক্রমণমুক্ত। একই সঙ্গে যমুনা এসিতে ভিটামিন সি ফিল্টারের কারণে ত্বকের যে স্বাভাবিক আর্দ্রতা রয়েছে, সেটা বজায় থাকে। ফলে ত্বক থাকে সতেজ ও সুরক্ষিত। এছাড়া সিলভার আয়ন ফিল্টার, ডিজার্মিং ফিল্টার ও বাতাসে যেসব ব্যাক্টেরিয়া আছে, সেসব প্রতিরোধ করে। ঘরের ভেতর যদি এসি চালানোর পর কোনো দুর্গন্ধ থাকে, সেটা দূর করতে সাহায্য করে। যমুনা এসি নিশ্চিত করে ৯৯ শতাংশ বিশুদ্ধ বাতাস। রয়েছে সেল্ফ ক্লিনিং প্রযুক্তিও। রিমোটের মাধ্যমে এসির ইভাপোরেটরে জমে থাকা ধূলিকণা ও দুর্গন্ধ সহজেই দূর করা যায়। যমুনা এসিতে শক্তিশালী অ্যান্টি-ভাইরাস ফিল্টার রয়েছে ভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে। এতে থাকা বিল্ট ইন থার্ড ইউভিসি লাইট আছে, যেটা ৯৯ শতাংশ ভাইরাস ধ্বংস করবে এবং স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন বাতাস দেবে। এছাড়া যমুনা এসিতে সাধারণ এসির তুলনায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী করে।
বাসাবাড়িতে ব্যবহারে এখন কোন ধরনের এসির চাহিদা বেশি?
সাধারণ এসির তুলনায় ইনভার্টার এসিতে বিদ্যুৎ বিল কম হওয়ায় বাসাবাড়িতে সাধারণত ইনভার্টার এসির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। ক্রেতার কাছে ইনভার্টার এসি জনপ্রিয় হচ্ছে। মানুষ প্রয়োজন অনুসারে ১ টন ও ১.৫ টনের এসি বেশি ব্যবহার করছে।
এসি বিস্ফোরণ এড়াতে কী পরামর্শ দেবেন?
যেকোনো ইলেকট্রনিকস পণ্যসামগ্রীর ক্ষেত্রে তার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ বা আমরা যেটাকে সার্ভিসিং করে থাকি, সেটা অত্যন্ত জরুরি। কেউ যদি তার ব্যবহৃত ইলেকট্রনিকস পণ্যটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ বা পরিচর্যা না করেন, তাহলে এটা কিন্তু বিকল হতে পারে। এসি দুর্ঘটনা আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। আসলে এসি থেকেই যে দুর্ঘটনা ঘটে, এমনটা খুব বেশি খুঁজে পাওয়া যাবে না। দুর্ঘটনা আসলে ঘটে বৈদ্যুতিক সংযোগের সমস্যা, মানহীন পণ্য ব্যবহার করা হলে। পণ্যটি যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা করা হলে এসব দুর্ঘটনা ঘটে না। ক্রেতার কাছে পরামর্শ হলো অবশ্যই ভালো মানের পণ্য ব্যবহার করবেন।
এ ঈদে বা আসন্ন সময়ে এসি কিনতে ক্রেতাদের জন্য আপনারা কোনো বিশেষ অফার দিচ্ছেন কি?
ঈদে আমরা গ্রাহকের জন্য বিশেষ উপহার নিয়ে এসেছি, যেটাকে আমরা নাম দিয়েছে ঈদে ডাবল খুশি অফার। কেউ যমুনার ইলেকট্রনিকস পণ্যসামগ্রী কিনলেই একটি ঈদ উপহার পাবেন। পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে আমরা একের অধিক গ্রাহককে বিদেশ ট্যুর দিচ্ছি। আসলে এটা তিনটা উপহারও। কারণ গ্রাহক নিয়মিত ডিসকাউন্টও পাবেন। এছাড়া গ্রাহক যদি কিস্তিতে পণ্য কিনতে চায়, তার জন্য কিস্তি সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ তিন, ছয়, নয় ও বারো মাসের সহজ কিস্তি সুবিধা রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে জিরো পার্সেন্ট ইন্টারেস্টে ইএমআই সুবিধাও থাকছে।





