গত কয়েক বছরে এসির ক্রেতাদের চাহিদায় কোনো পরিবর্তন এসেছে কি?
বাংলাদেশের এসি বাজারের প্রধান ক্রেতারা মূলত নগরকেন্দ্রিক উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ, করপোরেট অফিস, ব্যাংক, হাসপাতাল এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। তবে গত কয়েক বছরে এসির ক্রেতা গোষ্ঠীতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আগে এসি মূলত উচ্চবিত্তদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন মধ্যবিত্ত পরিবারেও এসির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সহজ কিস্তি সুবিধা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে গরমকাল দীর্ঘ হওয়ায় এসির প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। বর্তমান সময়ে ক্রেতারা শুধু ঠাণ্ডা করার জন্য নয়, বরং স্মার্ট এবং এনার্জি-এফিশিয়েন্ট এসি খুঁজছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের বিদ্যুৎ খরচ কমাবে।
ভিশন ব্র্যান্ডের এসি বাজারে কবে প্রথম এসেছে এবং বিক্রিতে কী ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখছেন?
ভিশন ব্র্যান্ড ২০১৪ সালে এসি বাজারে প্রবেশ করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রাহকের আস্থার জায়গা তৈরি করে। গত কয়েক বছরে আমাদের বিক্রিতে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে আমাদের নতুন ফোর ডি আলট্রা সিরিজের এসিগুলোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যা বাজারে আমাদের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করছে।
দেশের এসির বাজারে ভিশন এসির বর্তমান বাজার অংশীদারত্ব কত শতাংশ?
বর্তমানে বাংলাদেশের এসি বাজারে ভিশন ব্র্যান্ডের মার্কেট শেয়ার প্রায় ১১ শতাংশ। আমরা ধারাবাহিকভাবে বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছি এবং গ্রাহকের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ও সাশ্রয়ী মূল্যের এসি আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ভিশন এসি কি রফতানি হয়?
ভিশন এসি বর্তমানে কয়েকটি দেশে রফতানি হচ্ছে এবং আমরা ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী কুলিং ক্যাপাসিটি ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যের কারণে বিদেশী বাজারেও বাংলাদেশী এসির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।
আপনাদের এসির প্রযুক্তিগত দিকগুলো নিয়ে বলবেন।
এসি মূলত আবহাওয়া বা জলবায়ুর ধরন অনুযায়ী তৈরি করা হয়। বাংলাদেশের মতো উপমহাদেশীয় অঞ্চলের জন্য বিশেষভাবে T1 টাইপ কম্প্রেসর দরকার হয়, যা এ অঞ্চলের উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা ক্রেতাদের চাহিদা ও স্থানীয় জলবায়ুর কথা মাথায় রেখে উন্নত প্রযুক্তির এসি তৈরি করছি। বিশেষত, আমাদের এসিগুলোয় ফাজি কন্ট্রোল সিস্টেম, আল্ট্রা-লো ফ্রিকোয়েন্সি টর্ক কম্পেনসেশন, উন্নত বড় ক্রস ফ্লো-ফ্যান, নির্ভুল তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ তাপমাত্রায় শক্তিশালী কুলিং, ওয়াই-ফাই কন্ট্রোল ও ট্রিপল নয়েজ রিডাকশন প্রযুক্তি রয়েছে, যা এসির কার্যকারিতা আরো উন্নত করেছে।
বর্তমানে বাসাবাড়ির জন্য কোন ধরনের এসির চাহিদা সবচেয়ে বেশি?
বর্তমানে ১ টন এবং ১.৫ টনের ইনভার্টার এসি সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। কারণ এগুলো বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, স্মার্ট ও দ্রুত কুলিং করতে সক্ষম। এছাড়া ওয়াই-ফাই কন্ট্রোল ফিচার এবং এনার্জি এফিশিয়েন্সির কারণে ক্রেতারা এসব মডেলের প্রতি বেশি আগ্রহী।
এ ঈদ বা আসন্ন সময়ে এসি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের জন্য ভিশন কী ধরনের অফার দিচ্ছে?
এ ঈদে ভিশন এসি নিয়ে এসেছে দারুণ”বিল ব্যাক অফার, যেখানে এসি ক্রয়ে গ্রাহক দুই মাসের বিদ্যুৎ বিল পাবেন! এটি এসি ক্রয়ের খরচকে আরো সাশ্রয়ী করে তুলবে, যা গ্রাহকের জন্য নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার সুযোগ।
এছাড়া ওমরা কাফেলা অফার ও অনলাইন থেকে ক্রয়ে পণ্য ভেদে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট তো থাকছেই, যা এ ঈদ অফারকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ভিশন এসি দিচ্ছে সাশ্রয়ী মূল্য, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দারুণ সব অফার—সব মিলিয়ে ঈদ আনন্দ হবে আরো দ্বিগুণ!
ভিশন এসি নিয়ে ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া কেমন?
ক্রেতারা আমাদের শতভাগ কপার টিউব ব্যবহৃত এসির দ্রুত কুলিং, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, ওয়াই-ফাই ফিচার এবং বিক্রয়োত্তর সেবা নিয়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। আমরা ক্রেতাদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে প্রতিনিয়ত আমাদের প্রযুক্তি উন্নত করছি।
আগামী দিনে কোন ব্র্যান্ডের এসির চাহিদা বেশি থাকবে বলে মনে করেন?
ভবিষ্যতে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর, বিশেষ করে ভিশন এসির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। কারণ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রযুক্তি, শতভাগ কপার টিউব ব্যবহৃত এসি, ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ও উন্নত বিক্রয়োত্তর সেবা।
ভিশন এসির বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা
সাশ্রয়ী মূল্য: আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের তুলনায় দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো একই প্রযুক্তির এসি তুলনামূলক কম দামে সরবরাহ করছে।
স্থানীয় বাজারের জন্য উপযোগী ডিজাইন: বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর কথা মাথায় রেখে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো এসি তৈরি করছে, যা দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকরী।
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি: R32 গ্যাস ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ফিল্টার বাতাস বিশুদ্ধ করে, যা দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর সুরক্ষা দেয়।
উন্নত বিক্রয়োত্তর সেবা: দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো সার্ভিসিং ও ওয়ারেন্টির ক্ষেত্রে আরো দ্রুত ও সহজ সেবা দিচ্ছে, যা ক্রেতাদের সন্তুষ্টি বৃদ্ধি করছে।
এমন উদ্ভাবনী ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির সমন্বয়ের কারণে ভবিষ্যতে ভিশন এসি ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো বর্তমানে বাজার প্রতিযোগিতায় কতটা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে?
বাংলাদেশের স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো বর্তমানে বেশ প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে। আগে বিদেশী ব্র্যান্ডগুলোর একচেটিয়া বাজার ছিল, কিন্তু এখন দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর মান উন্নত হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে আস্থা বেড়েছে।
প্রযুক্তিগত অগ্রগতি: এখন দেশীয় এসি ব্র্যান্ডগুলো ডুয়াল ইনভার্টার, ওয়াই-ফাই কন্ট্রোল এবং এনার্জি-সেভিং প্রযুক্তি সংযুক্ত করছে, যা বিশ্বমানের ব্র্যান্ডগুলোর মতোই আধুনিক।
বিশ্বমানের উৎপাদন: বাংলাদেশে তৈরি এসিগুলো এখন আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎপাদন হচ্ছে এবং অনেক ব্র্যান্ড এরই মধ্যে রফতানি শুরু করেছে।
মূল্য প্রতিযোগিতা: তুলনামূলক কম মূল্যে বিশ্বমানের প্রযুক্তি সরবরাহের ফলে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রি দ্রুত বাড়ছে।
বিশেষ করে ভিশন এসি বর্তমানে বিশ্বমানের প্রযুক্তি, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য এবং উন্নত বিক্রয়োত্তর সেবার মাধ্যমে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে এটি বাংলাদেশের এসি বাজারে অন্যতম শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।





