গরমের দিন চলে এসেছে। এসির বাজারের পরিস্থিতি এখন কেমন?

গরমের শুরুর দিকেই নরমালের তুলনায় এসির ক্রেতার উপস্থিতি বেড়ে যায়। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। মার্কেটে প্রতিদিনই নতুন নতুন ক্রেতার উপস্থিতি লক্ষ করছি। গত বছর প্রচণ্ড গরমে অনেকেই সময়মতো এসি ফিটিং না করতে পারায় এ বছরের শুরুর দিকেই ক্রেতারা ভিড় করছে। বাজারের অবস্থা আলহামদুলিল্লাহ বেশ ভালো।

বাংলাদেশে এসির ক্রেতা মূলত কোন শ্রেণীর মানুষ? গত কয়েক বছরে ক্রেতাগোষ্ঠীর কোনো পরিবর্তন দেখছেন কিনা? এ বিষয়ে আপনাদের অভিজ্ঞতা জানতে চাই।

একটা সময় এসি ছিল বিলাসিতার দ্রব্য, এখন সবারই এসি প্রয়োজন। যে কারণে দিন দিন এসির চাহিদা বাড়ছে। গ্লোবাল ওয়ার্মিং বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী গরমের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের দেশেও প্রতি বছরই গরমের তীব্রতা বাড়ছে। যার কারণে উচ্চবিত্ত ছাড়াও মধ্যবিত্ত এবং সব ধরনের অফিস আদালতে এসি ব্যবহার খুব দ্রুত বাড়ছে। দিনের বেলায় গরমের তীব্রতা এত বেশি হয় যে সারাদিন কষ্ট করে পার করার পর রাত্রিবেলায় একটু শান্তিময় ঘুমের জন্য সব শ্রেণীর মানুষই এখন এসির দিকে মনোনিবেশ করছে।

আপনাদের ব্র্যান্ডের এসি প্রথম বাজারে এসেছিল কবে? বিক্রিতে আপনাদের প্রবৃদ্ধি কেমন?

আমাদের গ্রী এসি ১৯৮৪ সালে চায়নায় প্রথম উৎপাদন হয়। ১৯৯৮ সালে আমরা বালাদেশে গ্রী এসি নিয়ে আসি। অর্থাৎ গ্রীর সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চারে আমরা মার্কেটিং শুরু করি। তারপর ২০০৪ সালে আমরা বাংলাদেশে অ্যাসেম্বলিং ফ্যাক্টরি করি। ২০১৫ সালে আমরা বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ জয়েন্ট ভেঞ্চারে ফ্যাক্টরি স্থাপন কার্যক্রম গ্রহণ করি, যেখানে বর্তমানে গ্রী এসি উৎপাদন হয়। এখন আমরা কমপ্লিট ম্যানুফ্যাকচারিং করি বাংলাদেশে। এর মধ্যে এসি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে। সেসব মোকাবেলা করেই আমরা আমাদের দেশের মানুষের চাহিদা পূরণে আমাদের উৎপাদনক্ষমতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই এসি তৈরি করছি। প্রতি বছরই যেহেতু নতুন নতুন ক্রেতা সৃষ্টি হচ্ছে, তাই প্রতি বছরই বিক্রির প্রবৃদ্ধি ২০-২৫ শতাংশ হারে হচ্ছে।

দেশের এসির বাজারে আপনাদের অংশগ্রহণ কত শতাংশ?

বাংলাদেশের এসি বাজারের সিংহভাগই আমাদের দখলে। গ্রাহকের চাহিদা পূরণে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।

বিদেশে কি বাংলাদেশে তৈরি এসির চাহিদা আছে? আপনারা কি এসি রফতানি করেন?

বাংলাদেশে আমরা এসি উৎপাদন করছি। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে দেশের চাহিদা মিটিয়ে সামনের দিনগুলোয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসি রফতানি করার। এসি রফতানিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অনেক বেশি। আমরা আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ এবং অন্যান্য প্রতিবশী রাষ্ট্রের কাছে পণ্যটি রফতানি করতে পারি। পাশাপাশি সরকার যদি দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে কর অব্যাহতির মতো কিছু সুযোগ সুবিধা দেয়, তাহলে দেশ থেকে এসি রফতানি করতে পারব। সুতরাং আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এসি রফতানি করতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন একটি শিল্প খাত সৃষ্টি হবে।

বিশ্বের সর্বশেষ প্রযুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশে তৈরি এসির পার্থক্য কতটা? আপনাদের এসির প্রযুক্তিগত দিকগুলো নিয়ে বলবেন?

দেশে তৈরি এসি ও বিদেশে তৈরি এসির মধ্যে কোনো ফারাক নেই। বরং দেশে তৈরি এসির ক্ষেত্রে দেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রাখা হয়। অন্যদিকে বিদেশে তৈরি এসি আমাদের দেশের আবহাওয়া নিয়ে চিন্তা করে না। তাই আমি মনে করি, পরিবেশ বিবেচনায় বিদেশে তৈরির এসি থেকে আমাদের দেশে উৎপাদিত এসিগুলো বেশি ভালো। আমাদের এসির কথাও যদি বলা হয়, যেহেতু আমরা গ্রীর সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চারে আছি, বিদেশের মতোই আমাদের দেশে উৎপাদিত এসিগুলো একই রকম যন্ত্রাংশ এবং প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি। বিশ্বের সাম্প্রতিক সব প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত আমরা নিজেদের পণ্যে সম্পৃক্ত করছি। অনেক গ্রাহক মনে করেন বিদেশ থেকে এসি নিয়ে এলে সেটা বেশি ভালো হবে কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বাংলাদেশে যে এসি উৎপাদন হচ্ছে সেগুলোও ভালো। তবে আমাদের গ্রী এসির প্রযুক্তি বিশ্বমানের এবং বিশ্বে একটানা ২০ বছর ধরে স্বীকৃত নাম্বার ওয়ান এসি। বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি, গ্রীর আরঅ্যান্ডডি এবং দক্ষ টেকনেশিয়ানের তত্ত্বাবধানে গ্রী এসি তৈরি করা হয়। ফলে গ্রী এসি বাংলাদেশে অন্যান্য এসির তুলনায় গুণে ও মানে সেরা।

আমাদের এসিগুলো বাংলাদেশের পরিবেশের সঙ্গে মানানসই। বাংলাদেশের ক্রেতারা এসি কেনার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব প্রদান করে থাকেন। ক্রেতাদের এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে গ্রী এসি উৎপাদন করা হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য যেমন আই ফিল টেকনোলজি। এ টেকনোলজির মাধ্যমে যেমন ইলেকট্রিসিটি সেভিং হবে, পাশাপাশি কমফোর্টেবল টেম্পারেচার পাওযার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার। যেমন বাইরে টেম্পারেচার ৪০ ডিগ্রি তাহলে আমার কমফোর্টেবল টেম্পারেচার আসলে কত এটি আমরা জানি না, যার কারণে কখনো ১৬, কখনো ১৮, কখনো ২০-এ আমরা টেম্পারেচার সেট করছি। তবে আই ফিল অপশনটি যদি চালু করা হয়, সেক্ষেত্রে এসি অটোমেটিক রুমে টেম্পারেচারকে কমফোর্ট করে দেবে। আমাদের রয়েছে বিশ্বের সর্বপ্রথম জি বুস্ট ইনভার্টার কম্প্রেসার, যার মাধ্যমে এসির স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করার সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ লেভেলের ইলেকট্রিসিটি সেভিং করে। আমাদের গ্রী এসিগুলো সিক্সটি এইট ডিগ্রি টেম্পারেচারেও নরমালভাবে চলবে। এছাড়া আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার যেটি কোল্ড প্লাজমা প্লাস এবং হিউমিডিটি কন্ট্রোলার। এর মাধ্যমে রুমের ভেতরের বাতাসে যে ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু থাকে, সেগুলোকে ডিঅ্যাক্টিভ করে এবং হিউমিডিটি ব্যালান্স করে। ফলে লং টাইম এসির মধ্যে থাকলেও হাঁচি-কাশিজনিত সমস্যা বা কোল্ড অ্যালার্জি জাতীয় সমস্যা হয় না। বর্তমান ঢাকা সিটির ওয়েদার মারাত্মকভাবে দূষিত হওয়ায় আমরা আমাদের এসিতে ছয় স্তরের ফিল্টার যোগ করেছি, যার মাধ্যমে রুমের বাতাস থাকবে সম্পূর্ণ পিউরিফাই। এ কারণেই প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমাদের এসি বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বেও বেশ সমাদৃত।

বাসাবাড়িতে ব্যবহারের জন্য এখন কোন ধরনের এসির চাহিদা বেশি?

আমাদের উৎপাদিত এসির চাহিদা বাণিজ্যিক ভবন এবং বাসাবাড়ি দুই জায়গায়ই অনেক বেশি। এক-পাঁচ টনের এসিও আমাদের রয়েছে। তবে বাসাবাড়িতে এক টন, দেড় টন বা দুই টনের স্প্লিট টাইপ এসির চাহিদাই বেশি। তবে যেহেতু সবাই এখন স্মার্ট প্রযুক্তি চায়, সেহেতু ইনভার্টার এসির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কারণ ইনভার্টার এসি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।

এসি বিস্ফোরণ নিয়ে এখন ক্রেতাদের একটা দুশ্চিন্তা দেখা যায়। এ রকম দুর্ঘটনা এড়াতে কী পরামর্শ দেবেন?

আসলে এসিতে কোনো বিস্ফোরণ ঘটে না। এটা একটা ভুল ধারণা যে এসি থেকে বিস্ফোরণ হয়। আমরা যখন গ্রাহকের এসি ইনস্টল করি তখন মানসম্পন্ন অ্যাকসেসরিজ ব্যবহার করি। তাই গ্রাহককে বলতে চাই আপনারা যখন এসি ইনস্টল করবেন, তখন উন্নত মানের ইলেকট্রিক কেবল, সার্কিট ব্রেকার ইত্যাদি অ্যাকসেসরিজ ব্যবহার করবেন। তাহলেই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। এছাড়া প্রতি বছর দুবার এসির সার্ভিসিং করা ভালো। সেই সঙ্গে এসির ফিল্টারটা মাসে অন্তত দুবার, তা নাহলে অন্তত একবার পরিষ্কার করা উচিত। এটা কেউ চাইলে নিজেই পরিষ্কার করতে পারে।

এ ঈদে বা আসন্ন সময়ে এসি কিনতে ক্রেতাদের জন্য আপনারা কোনো বিশেষ অফার দিচ্ছেন কি?

গ্রি বিশ্বসহ বাংলাদেশেও নাম্বার ওয়ান ব্র্যান্ড। ফলে আমাদের কাছে কাস্টমারের চাওয়া একটু বেশি। সেদিক থেকে বিবেচনা করে আমরা যে অফারটি চালু করেছি সেটি হচ্ছে সবার জন্য ভালো অফার। এ অফারে একজন ক্রেতা ১০ শতাংশ পর্যন্ত ফ্লাট ডিসকাউন্ট পাবে। আমাদের কোম্পানির পণ্য কেনার ক্ষেত্রে প্রায় ৩৫টি ব্যাংকের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডসহ নগদ এবং মাসিক ৩-১৮ মাসের কিস্তিতে আমাদের বিভিন্ন ধরনের শো-রুম, ডিসপ্লে সেন্টার, পার্টনার ও ডিলারদের মাধ্যমে পণ্য ক্রয়ের সুযোগ রয়েছে। আমাদের নিজেদের শো-রুম থেকেও কিস্তিতে পণ্য ক্রয়ের সুযোগ রয়েছে। আমাদের কাছ থেকে নিলে ১২ মাস পর্যন্ত কিস্তিতে ক্রয়ের সুবিধা দিয়ে থাকি। এছাড়া জিপি স্টারসহ, রবি, বাংলালিংক গ্রাহকের জন্য রয়েছে বিশেষ ছাড়।