ফ্রান্স-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের জন্য নিবেদিত আমার দল এবং পুরো ‘একুইপে ফ্রান্চে’-কে আমি প্রশংসা করতে চাই। আপনারা জানেন, আপনারা একটি ফ্রাঙ্কো-জার্মান দূতাবাসে রয়েছেন। অর্থাৎ ফরাসি ও জার্মান কূটনীতিকরা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে এবং চমৎকার পরিবেশে একসঙ্গে কাজ করেন। দুই দূতাবাসের মধ্যে চমৎকার কর্মসম্পর্কের জন্য আমার সহকর্মী রুডিগার, আনজা এবং তাদের দলকেও আমি স্বীকৃতি দিতে চাই।
ঢাকায় আসার পর অনেক ঘটনা ঘটেছে।
মনে করুন, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আমরা তখনো একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ছিলাম। তখন আলোচনা আবর্তিত হচ্ছিল নির্বাচনের তারিখ এবং জুলাই সনদের বিষয়বস্তু নিয়ে।
এরপর শুরু হলো নির্বাচনী প্রচারণার সময়। তারপর ১৬ ডিসেম্বরের সেই নাটকীয় দিন, যেদিন সংবাদমাধ্যমের দুটি স্তম্ভ প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে আগুন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা এগিয়ে গেছে এবং মানসম্পন্ন তথ্য দেয়ার কাজ অব্যাহত রেখেছে। এখানে আমি তাদের নেতৃত্ব ও দলগুলোকে প্রশংসা করতে চাই। ফ্রান্স বিশ্বব্যাপী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সমর্থন ও এগিয়ে নেয়। এগুলো গণতন্ত্রের দুটি ভিত্তি।
এসবের পর এল নির্বাচন। আমাদের ইউরোপীয়দের জন্য বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরে আসাকে ঘনিষ্ঠভাবে সমর্থন করতে ইইউ ২০০ জনের বেশি পর্যবেক্ষক নিয়ে একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠিয়েছে, যার বেশির ভাগই ইউরোপ থেকে এসেছিলেন। এ দূতাবাসের কয়েকজনও সেই মিশনে অংশ নিয়েছিলেন।
অবশেষে এল কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন, নতুন সরকার ও বাজেট। কী অসাধারণ এক যাত্রা!
আমাকে স্বীকার করতেই হবে, বাংলাদেশের জনগণের গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারে আমি এবং প্যারিসে আমরা খুবই মুগ্ধ। নির্বাচন অত্যন্ত উল্লেখযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অংশগ্রহণের মাত্রা ছিল উচ্চ এবং ফলাফল নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দেয়নি। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত, কারণ আমাদের এমন একটি বাংলাদেশ প্রয়োজন ছিল, যা আবার গণতন্ত্রের সম্প্রদায়ের মধ্যে ফিরে এসেছে।
বাংলাদেশ ফ্রান্স ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে অনেক মূল্যবোধ ভাগ করে নেয়। এটি শুধু একটি গণতান্ত্রিক দেশ নয়, একটি শান্তিপূর্ণ দেশও। ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বাংলাদেশও নিশ্চিতভাবেই সংঘাতের চেয়ে সহযোগিতাকে পছন্দ করে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, ইউরোপ ও ফ্রান্সের একসঙ্গে অনেক কিছু অর্জনের সুযোগ রয়েছে। আমরা আশা করি, আগামী বছরগুলো বাংলাদেশ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উভয়কেই শক্তিশালী করবে।
প্রকৃতপক্ষে, ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল মাখোঁ আমাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সময় যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, সেটিই হলো এ কাজ। গণতন্ত্র ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করা, এটিকে আরো এগিয়ে নেয়া এবং আমাদের ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, শিল্পী এবং অন্যদের মধ্যে একাধিক সংযোগ তৈরি করা।
আমাদের অংশীদারত্ব দীর্ঘদিনের। এটি সরকারকে ছাড়িয়ে দুই দেশের জনগণের মধ্যকার বন্ধনের ওপর কেন্দ্রীভূত।
আপনারা জানেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়া বিশ্বের প্রথম দেশগুলোর একটি ছিল ফ্রান্স। এ বছর আমরা আন্দ্রে মালরোর মৃত্যুর ৫০তম বার্ষিকী পালন করছি। তিনি ছিলেন এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, একজন মহান ফরাসি, একজন খ্যাতিমান লেখক, প্রতিরোধ আন্দোলনের একজন সাহসী সদস্য এবং বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এমনকি এ দেশ সৃষ্টির আগেই তিনি বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেছিলেন।
এ অনন্য ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে আরো জানতে এখানে আপনারা একটি প্রদর্শনী দেখতে পাবেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তিনি ছিলেন বিশ্বের প্রথম সংস্কৃতিমন্ত্রী। ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সেই প্রথমবারের মতো একটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
ফ্রান্স এরই মধ্যে বিস্তৃত পরিসরের বিভিন্ন খাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আমাদের শক্তিশালী সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফরাসি শিল্পীরা আবাসিক কর্মসূচিতে বাংলাদেশে আসেন এবং বাংলাদেশী শিল্পীরাও ফ্রান্সে একই কাজ করেন। ঢাকায় ও চট্টগ্রামে আমাদের দুটি চমৎকার আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ রয়েছে। এখানে তাদের পরিচালক ও দলগুলোকে আমি স্বীকৃতি দিতে চাই। তারা প্রতি বছর ক্রমবর্ধমানসংখ্যক শিক্ষার্থীকে ফরাসি ভাষা শেখাচ্ছে এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ও এগিয়ে নিচ্ছে।
অন্য একটি ক্ষেত্রে, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি) ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে রয়েছে এবং এরই মধ্যে বাংলাদেশকে প্রায় ২ বিলিয়ন ইউরো ঋণ দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও সহনশীলতা তৈরির ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সক্রিয়। পাশাপাশি দারিদ্র্য হ্রাস ও নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও কাজ করছে।
আমাদের কোম্পানিগুলোর মাধ্যমেও আমরা উপস্থিত রয়েছি। তারা ফ্যাশন শিল্প, মহাকাশ খাত, বেসামরিক বিমান চলাচল অথবা পানি ও অবকাঠামো খাতে কাজ করছে। আমরা আরো বেশি উপস্থিতি চাই। আমরা সে বিষয়ে কাজ করছি।
ফ্রান্স বাংলাদেশের গুরুত্ব ও এর শক্তিগুলোকে স্বীকৃতি দেয়। এসব শক্তি ভৌগোলিক, মানবিক ও অর্থনৈতিক। আমরা সব খাতে আমাদের সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চাই এবং দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতি, শক্তিশালী কোম্পানি, দক্ষ কর্মী এবং এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতার একটি স্তম্ভ হওয়ার সম্ভাবনাসম্পন্ন দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে প্রস্তুত।
এটি স্পষ্ট। কিন্তু অর্থনীতি সবকিছু নয়। আমাদের একটি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। আমরা চাই এ অঞ্চল অবাধ চলাচল, শান্তি ও সহযোগিতার একটি অঞ্চল এবং স্থিতিশীলতার একটি স্তম্ভ হয়ে উঠুক। এসব লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার ওপর আমরা নির্ভর করছি।
বিশেষ করে এ কারণে যে আপনারা হয়তো জানেন না, ফ্রান্স ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের একটি পূর্ণাঙ্গ দেশ। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী ফরাসি নাগরিকের সংখ্যা ১৫ লাখের বেশি। এর মধ্যে রয়েছে রিইউনিয়ন দ্বীপ, নিউ ক্যালেডোনিয়া ও ফরাসি পলিনেশিয়ার মতো স্থান। এক অর্থে আমরা প্রতিবেশী এবং আমরা আরো বেশি সম্পৃক্ত হতে চাই।
আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো বাংলাদেশে ফ্রান্সকে এবং একইভাবে ফ্রান্সে বাংলাদেশকে আরো ভালোভাবে তুলে ধরা। আইফেল টাওয়ার বা ফরাসি রিভিয়েরার মতো প্রচলিত ধারণার বাইরে যেতে হবে।
আপনারা এরই মধ্যে ফুটবলের প্রতি আমাদের আবেগ সম্পর্কে জানেন। ফরাসি জাতীয় দল হোক বা প্যারিস সেন্ট জার্মেই অথবা এমবাপ্পে কিংবা জিদানের মতো আমাদের নায়করা। কিন্তু আবিষ্কার করার মতো আরো অনেক কিছু রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফ্রান্স একটি নেতৃত্বস্থানীয় দেশ। আর বাংলাদেশ এ চ্যালেঞ্জের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ। ২০১৫ সালে কপ২১ সম্মেলনের উদ্যোগ নেয়া দেশ হিসেবে ফ্রান্স বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অগ্রভাগে রয়েছে। এর পরিণতি বাংলাদেশে বিশেষভাবে দৃশ্যমান।
এ কারণেই প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইকে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অগ্রাধিকার করেছেন। এর ফলে ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশে প্রতি বছর তার প্রকল্পগুলোর ৮০ শতাংশের বেশি জলবায়ু প্রশমন, সহনশীলতা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ব্যয় করছে।
সমুদ্র সুরক্ষার ক্ষেত্রেও ফ্রান্স একটি নেতৃত্বস্থানীয় দেশ। ২০২৫ সালের নিস সম্মেলন এর প্রমাণ, যা অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি সমুদ্র সুরক্ষা চুক্তির অনুমোদন ও বাস্তবায়ন সহজতর করেছে। বাংলাদেশ এ চুক্তি অনুমোদনকারী প্রথম দেশগুলোর একটি ছিল, নিস সম্মেলনের অনেক আগেই। সম্প্রতি আমাদের প্রেসিডেন্ট এ অর্জনে বাংলাদেশের ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
ফ্রান্স নতুন প্রযুক্তিগত বিপ্লব, উদ্ভাবনের বিপ্লবকে গ্রহণ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে ফ্রান্স একটি বড় এবং সম্ভবত ইউরোপের নেতৃত্বস্থানীয় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি আমরা প্যারিসে ভিভাটেক উদ্ভাবন মেলার আয়োজন করেছি, যেখানে সর্বশেষ প্রযুক্তি তুলে ধরা হয়।
ফ্রান্স শান্তি ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতিও অঙ্গীকারবদ্ধ। এ ক্ষেত্রে আমরা বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার এ সময়ে এমন সমাধান এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি, যা একই সঙ্গে বুদ্ধিদীপ্ত এবং সবার জন্য উপকারী।
উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে, কয়েক সপ্তাহ আগে ইরানের ওপর চালানো হামলার কারণে হরমুজ প্রণালিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেখানে ফ্রান্স প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকেও স্বীকৃতি দিয়েছি।
রাশিয়ার চার বছরের বেশি সময় ধরে চালানো ঔপনিবেশিক যুদ্ধের ফলে প্রতিদিন শত শত মানুষ নিহত হচ্ছে। রাশিয়ার নৃশংস ও অযৌক্তিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সহায়তা করতে আমরা ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ গড়ে তুলতেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছি।
১৯৭১ সালে ফ্রান্স যেমন বাংলাদেশকে সমর্থন করেছিল, এখন আমরা ইউক্রেন, আন্তর্জাতিক আইন এবং বিশেষ করে জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রক্ষায় সেসব আগ্রাসীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছি, যারা তাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে চায়।
আজ সকালে শঁজেলিজেতে ইউক্রেনীয় সেনা এবং ৩৪টি দেশের ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর প্রতিনিধিরা তাদের ফরাসি সমকক্ষদের সঙ্গে কুচকাওয়াজে অংশ নিয়েছেন। তারা আন্তর্জাতিক আইন ও জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রক্ষায় প্রস্তুত।
আমি জানি, এ বিষয়টি এখানে বাংলাদেশে গভীরভাবে প্রতিধ্বনিত হয়। কারণ বাংলাদেশ সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, যদিও কেউ কেউ এর অস্তিত্বকেই অস্বীকার করার চেষ্টা করেছিল। ইউক্রেনেও একই ঘটনা ঘটছে। ইউক্রেনের যুদ্ধের মূল বিষয়টিই হলো এটি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আরো বেশি কিছু করতে চাই। আমরা নতুন করে আগ্রহ দেখতে পাচ্ছি।
জাতিসংঘের পরবর্তী সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমানের নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানাতে চাই। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন। একইভাবে প্যারিসে আমার সমকক্ষ খন্দকার তালহার নির্বাচনও একটি বড় অর্জন। তিনি ফ্রান্স ও ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং একই সঙ্গে ইউনেস্কো নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি।
আমরা নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে একসঙ্গে আরো বেশি কাজ করতে চাই।
এর একটি ভালো উদাহরণ হলো, ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২৫ বছর ধরে এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে সমর্থন করে আসছে, যা বাংলাদেশের রফতানিকে সুবিধা দিয়েছে এবং অসাধারণ ফলাফলের মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশের সুযোগ তৈরি করেছে।
নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে আমরা স্বাভাবিকভাবেই সমান সুযোগ পাওয়ার প্রত্যাশা করি, যাতে প্রকৃত পারস্পরিকতার ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ক অব্যাহত রাখা ও উন্নয়ন করা যায়। বাংলাদেশও বাস্তবভাবে অংশীদারত্বে আগ্রহী, এমনটি প্রদর্শন করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
সংক্ষেপে আমরা একসঙ্গে অনেক ইতিবাচক কিছু অর্জন করতে পারি। অনেক কাজ করতে হবে এবং বাংলাদেশ সরকার যে উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে চায়, সেগুলোর প্রতি ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মনোযোগী।
সবশেষে, আমাদের ফরাসি সম্প্রদায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো ছাড়া আমি শেষ করতে চাই না।
আপনাদের উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমরা সংখ্যায় খুব বেশি নই। কিন্তু আপনাদের প্রত্যেকের প্রতিভায় আমি মুগ্ধ। আপনারা ভিডিওগুলোও দেখেছেন। এগুলো কেবল শুরু।
আমি আমাদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করতে চাই এবং চাই আপনারা দূতাবাস ও রেসিডেন্সে নিজেদের ঘরের মতো অনুভব করুন। আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে কখনো দ্বিধা করবেন না।
ফরাসি হওয়ার জন্য গর্বিত থাকুন। একই সঙ্গে বিনয়ী থেকে আমাদের দেশের মানবতাবাদী ও উদার মূল্যবোধের জন্যও গর্বিত থাকুন।
আপনারা প্রত্যেকে নিজেদের পরিবেশে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত। এমবাপ্পের মতো, এই সুন্দর দায়িত্বের মর্যাদা ধরে রাখুন।
ফরাসি প্রজাতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক। ফ্রান্স দীর্ঘজীবী হোক।
সূত্র: ১৪ জুলাই ২০২৬-এ ফ্রান্সের জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য। ঢাকার ফরাসি দূতাবাস










