ফাহমিদা খাতুন, নির্বাহী পরিচালক, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)
বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত বাজেটকে রক্ষণশীল বলা যায়। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মতো মোটাদাগের খাতগুলোয় কাটছাঁট করা হয়েছে। তবে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা কিন্তু কমানো হয়নি। বেশি না হলেও এটি বেড়েছে। বাজেট বাস্তবায়নের জন্য তো আমাদের অর্থায়ন লাগবে।
আমাদের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে, আবার দেখি ঘাটতি বাজেট কমানো হয়েছে। গত বছর বাজেট ঘাটতি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ থাকলেও সংশোধন করে তা আবার ৪ দশমিক ১ করা হয়েছে। এবার বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। সংকোচনমূলক বাজেটের এটা একটা বৈশিষ্ট্য। কারণ খরচ বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি উসকে উঠবে। আমাদের তো অর্থই কম।
খরচের জায়গায় দেশী-বিদেশী ঋণের সুদ পরিশোধের বাজেট সামান্য বেড়েছে। কিন্তু আশঙ্কা হচ্ছে, পরে এর পরিমাণ আরো বেড়ে যেতে পারে। তখন আবার পুরো বাজেটের অর্থায়নে আরেক সমস্যা হবে।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে কাটছাঁট করে আগের বছরের চেয়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা কম ধরা হয়েছে। আবার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষির মতো খাতে বরাদ্দ কিছুটা কমানো হয়েছে। এটা একটা চিন্তার বিষয়। কারণ শিক্ষা খাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নের দরকার। আর খাদ্যনিরাপত্তার জন্য কৃষি খাত তো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিকভাবে বলা যায়, শীর্ষ ১৫ খাতের প্রায় ১৪টিরই বরাদ্দ কমানো হয়েছে। বিপরীতে আগের মতোই যোগাযোগ, জ্বালানি ইত্যাদি প্রকল্পে বেশি বরাদ্দ আছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এটা যদি অর্জন করা যায়, তাহলে খুবই ভালো। কিন্তু পুরোপুরি অর্জন করা যাবে বলে মনে হয় না। কারণ প্রবৃদ্ধি অনেকটাই নির্ভর করে বিনিয়োগ পরিস্থিতির ওপর। আমাদের বিনিয়োগ পরিস্থিতি খুবই খারাপ।
খুব সহসাই নির্বাচনের কোনো আভাস দেখা যাচ্ছে না। এক বছরের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো রোডম্যাপের বিষয়ে জানি না। এমন পরিস্থিতিতে আমরা দেখছি যে রাস্তাঘাট সবসময় উত্তাল থাকে। রাস্তা বন্ধ, পণ্য পরিবহনে অনেক দেরি ও ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। বিনিয়োগে কেউ আস্থা পাচ্ছেন না।
আবার ব্যাংকে সুদহার ও বাড়তি শুল্কসহ সবদিকে অনিশ্চয়তা আছে। এ পরিস্থিতিতে তো বিনিয়োগ হবে না। আর বিনিয়োগ না হলে প্রবৃদ্ধি কোত্থেকে হবে? বাজেটে সংখ্যাগত বিষয়গুলো দেয়া হয়েছে বটে। কিন্তু এর সঙ্গে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটানো না গেলে বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে।










