জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহত ও তাদের পরিবারের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ৪০৫ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
গতকাল বিকালে জাতির উদ্দেশে দেয়া বাজেট বক্তৃতায় এ তথ্য তুলে ধরেন তিনি। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘১ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণ, গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং আহত ছাত্র-জনতার পুনর্বাসনসহ গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শ ও চেতনা রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশে এরই মধ্যে “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর” প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। গণভবনকে “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর” হিসেবে প্রতিষ্ঠার কাজও চলমান। শিগগিরই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহতদের ভাতা দেয়ার নীতিমালা করা হবে। এছাড়া তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহতদের জন্য ৪০৫ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করছি।’
সামাজিক নিরাপত্তা খাতের ব্যাপ্তি ও গুরুত্ব বিবেচনায় আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব তুলে ধরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘এক্ষেত্রে পেনশন ব্যতীত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াবে ৯১ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা।’
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত জুলাই শহীদ পরিবার ৮৩৪টি। আর ১০ বিভাগে গেজেটভুক্ত আহত ১২ হাজার ৪৩ জন। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের এককালীন আর্থিক সহায়তা দিতে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৩২ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগ মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৪০৫ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের ভিন্ন বাস্তবতায় এবার সংসদের বাইরে বাজেট উপস্থাপন করা হয় ভিন্ন আঙ্গিকে। বাজেট প্রস্তাব পাস হবে ৩০ জুন। ১ জুলাই শুরু হবে নতুন অর্থবছর।










