ড. মুস্তফা কে মুজেরী, নির্বাহী পরিচালক, ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইএনএম)

বর্তমানে আমরা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এ রকম পরিস্থিতিতে সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত ও বৈষম্য দূর করতে অবশ্যই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। কিন্তু সে প্রবৃদ্ধি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক। দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষ যাতে উপকৃত হয় এমন ধরনের প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতি। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষ বেশি কষ্টের মধ্যে আছে। তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য মুদ্রানীতির মাধ্যমে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ করা হয়েছে। তবে এর সুফল সে অর্থে পাওয়া যায়নি। কারণ এখনো উচ্চ মূল্যস্ফীতি বজায় রয়েছে। ফলে মুদ্রানীতির পাশাপাশি রাজস্ব নীতি ও অন্যান্য নীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হবে।

বিনিয়োগ পরিস্থিতি বর্তমানে প্রায় স্থবির হয়ে আছে। এটি বাড়ানোর জন্য আমরা কতটুকু জোর দিয়েছি? প্রস্তাবিত বাজেটে এ বিষয়গুলোয় সুনির্দিষ্ট সুপারিশ বা নীতি কি চোখে পড়েছে?

বাজেটে সংস্কার কার্যক্রমকে সামনে আনা উচিত ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে কঠোর সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সুযোগ ছিল সংস্কারের মাধ্যমে কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব প্রশমিত করার। কিন্তু এবারের বাজেটে আমরা এ ধরনের কোনো মৌলিক বা কৌশলগত সংস্কার দেখছি না। সরকার যদি প্রস্তাবিত বাজেটে এসব সংস্কার শুরু করত তাহলে পরবর্তী সময়ে তা এগিয়ে নেয়াটা সহজ হতো। সেই সঙ্গে বৈষম্যহীন ও টেকসই উন্নয়নের পথে যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলাও সহজ হতো। সেদিক থেকে আমার কাছে মনে হয়েছে এ বিষয়গুলো বাজেটে কিছুটা উপেক্ষিত হয়েছে।