৬ দশমিক ৫ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি ও ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ইতিবাচক হলেও বর্তমান বাস্তবতায় কিছুটা উচ্চাকাঙ্ক্ষী বলে মনে হয়। কঠোর নীতিমালা মুদ্রাস্ফীতি আরো বাড়তে বাধা দিচ্ছে বটে, তবে একই সঙ্গে সঞ্চয় হ্রাস ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। বাজেটের পরিমাণ জিডিপির অনুপাতে ১২ দশমিক ৬৫ শতাংশে নেমেছে। রিজার্ভ বৃদ্ধি ও রেকর্ড রেমিট্যান্স ইতিবাচক লক্ষণ, রাজস্ব আদায় কিছুটা বেড়েছে, তবে ট্যাক্স ব্যবস্থাকে সহজ করে ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো জরুরি। অগ্রিম কর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা ব্যবসা ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই শাস্তিমূলক হবে, অথচ ভ্যাট ফাঁকি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বর্তমানে ১৩-১৫ শতাংশ সুদের হার কমানো প্রয়োজন, যা প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
গতকাল বাজেট প্রতিক্রিয়া এসব মন্তব্য জানায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচ্যাম)।
প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটি বলছে, সম্পদের বৈধতা অর্জনে কড়াকড়ি বাড়ানোর প্রস্তাবকে স্বাগত জানানো হলেও, কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অ্যামচ্যামের অবস্থান স্পষ্ট—এটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ক্ষুণ্ণ করে। বাজেটের ৫৭ শতাংশ ব্যয় বেতন, ভর্তুকি ও ঋণের সুদে যাচ্ছে, যেখানে ২২ শতাংশ শুধুই সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে—যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর ভারী বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অতিরিক্ত এআইটি ও পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যাওয়ায় কর ব্যবস্থায় বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থার সংস্কার উদ্যোগকে অ্যামচ্যাম সাধুবাদ জানাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি শর্তে বৈদেশিক ঋণ নেয়া চাপ লাঘবে সহায়ক হবে, তবে স্থানীয় ঋণগ্রহণ বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে বিঘ্ন ঘটাবে।
মূলধন বাজারকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ বাজেটে অনুপস্থিত।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নীতিনির্ধারণ ও রাজস্ব সংগ্রহ বিভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়। তবে এসআরও জটিলতা দূর করা দরকার। প্রস্তাবিত কর ও শুল্ক সংস্কার, কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন ও ট্রেড লাইসেন্সের ডিজিটালাইজেশন ভালো উদ্যোগ।










