ড. সেলিম রায়হান, অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নির্বাহী পরিচালক, সানেম
পুরনো বাজেট কাঠামোয় পুঞ্জীভূত অনেক সমস্যা আছে। সেই সমস্যা থেকে এ বাজেট বের হতে পারেনি। পুরনো কাঠামোতে খাতভিত্তিক যে বরাদ্দ ছিল, সে জায়গা থেকেও খুব বেশি বের হতে পারেনি। আমার কাছে মনে হয়েছে সরকারের আন্তরিকতা আছে। তবে সেই পুরনো কাঠামোয় নতুন কিছু বলার চেষ্টা করা হয়েছে।
জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বৈষম্যবিরোধী চেতনা ও কর্মসংস্থান—এ দুটি বিষয়কে সামনে আনার দাবি ছিল। কিন্তু কর্মসংস্থানের সঙ্গে তো বিনিয়োগ জড়িত। বড় ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে খুব বেশি বিনিয়োগ বাড়বে না। এ বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কিছু কথাবার্তা আছে। কিন্তু বিনিয়োগ পুরোটাই হচ্ছে একটা ইকোসিস্টেম। সেই ইকোসিস্টেম তো পরিবর্তন হয়নি।
এ কারণে আগামী অর্থবছরে সাড়ে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও সাড়ে ৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতির যে লক্ষ্যমাত্রার কথা বলা হয়েছে, সেটা আমার কাছে বেশ উচ্চাভিলাষী মনে হয়েছে। বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে যদি বড় ধরনের উন্নতি না হয়, তাহলে কীভাবে সাড়ে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে? আর মূল্যস্ফীতি ৯-১০ শতাংশ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশে নেমে আসাটা অনেক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য।
বৈষম্যবিরোধিতার জায়গা থেকে পুরনো কাঠামো ভেঙে তিনটি খাতকে অগ্রাধিকার দেয়ার দরকার ছিল। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা। কিন্তু সেখানেও খুব বড় ধরনের পরিবর্তন দেখিনি। এটা আমাদের আশাহত করেছে। ফলে বলতেই হয়, বাজেটটা পুরনো কাঠামোতেই আটকে আছে। সেখান থেকে বের হতে পারেনি।










