এটি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ৪৮ হাজার ২৯২ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। গতকাল জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় এসব তথ্য জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে ১০৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সেফটি সিস্টেম অ্যাপ্রোচ বাস্তবায়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ পেশাজীবী চালকের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাজধানীর যানজট কমাতে ছয়টি মেট্রোরেল লাইনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। এছাড়া পুরনো বাস পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করে বিদ্যুচ্চালিত বাস চালু, সমন্বিত টিকেটিং ব্যবস্থা (র্যাপিড পাস) ও নারীবান্ধব গণপরিবহন নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।’
বাজেট বক্তৃতায় সেতু ও এক্সপ্রেসওয়ে খাতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং পিপিপি-ভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান অর্থমন্ত্রী।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘রেল খাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম কর্ডলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। নারায়ণগঞ্জের শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত নতুন এ রেলপথ নির্মিত হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমবে এবং যাত্রাসময় ৫ ঘণ্টা থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টায় নেমে আসবে। এছাড়া ডুয়াল গেজ ডাবল লাইন, ইলেকট্রিক ট্রেন এবং উচ্চগতির রেল সংযোগের পরিকল্পনাও রয়েছে।’
নৌ ও বিমান পরিবহন খাত নিয়ে তিনি বলেন, ‘নৌ-পরিবহন খাতে চট্টগ্রাম, মোংলা ও মাতারবাড়ী বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বে-টার্মিনাল, পতেঙ্গা ও লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানের জন্য ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে।’
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে ১ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব : প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে ৯ হাজার ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের বরাদ্দের তুলনায় ১ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা কম। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয়ে ৮৭৪ কোটি ও উন্নয়ন ব্যয়ে ৮ হাজার ২০৭ কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব ছিল ১০ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নৌ-পরিবহন খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর নাব্য নিশ্চিত করতে ড্রেজিং ও খনন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগে অভ্যন্তরীণ নৌরুট সচল রাখতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জরুরি ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পায়রা ও মোংলা বন্দরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, স্থলবন্দর সম্প্রসারণ, নদীবন্দর ও লঞ্চঘাট আধুনিকায়ন এবং নৌপথে নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি আনা হবে।’
একই সঙ্গে নৌযান নিবন্ধন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, নাবিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে খাতটির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো হবে বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নৌ-পরিবহন খাতকে আধুনিক, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল, পতেঙ্গা ও লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেয়া হবে। পাশাপাশি বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ড্রেজিং কার্যক্রম জোরদার এবং ডিজিটাল ও অটোমেশন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমন্বিত নৌ-পরিবহন ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।‘
উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। এর আগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন।










