এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬৪৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ৭৫৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

গতকাল জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব তুলে ধরেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে ইসির জন্য এ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হলো।

বাজেট নথি অনুযায়ী, ইসির মোট বরাদ্দের বড় অংশ পরিচালন খাতে রাখা হয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, জনবল, প্রশাসনিক কার্যক্রম, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট লজিস্টিক সহায়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ব্যয় এ খাত থেকে মেটানো হবে। অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয় ব্যবহৃত হবে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং চলমান ও নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে।

গত অর্থবছরে ইসির প্রাক্কলিত বাজেট ছিল ২ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ছিল ২ হাজার ৭২৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ২২৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে ইসির মোট বরাদ্দ বেড়ে ৪ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৭৮৭ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ৫৫৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আগের বছরের মূল বাজেটের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা বেশি। তবে সংশোধিত বাজেটের তুলনায় বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত, প্রায় ৫৫ কোটি টাকা।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনকে সামনে রেখেই বাজেটে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন পর্যায়ক্রমে আয়োজনের জন্য উল্লেখযোগ্য ব্যয়ের প্রয়োজন হবে।

বাজেট প্রণয়নের আগে কমিশন সরকারের কাছে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়েছিল। ওই প্রস্তাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ৩৩০ কোটি টাকা এবং পৌরসভা নির্বাচনের জন্য ৩০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।

ইসি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বড় সিটি করপোরেশনের একটি নির্বাচন আয়োজনেই ৩০-৩৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। ছোট সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে এ ব্যয় ২০-২২ কোটি টাকার মধ্যে থাকে। বর্তমানে দেশে ১৩টি সিটি করপোরেশন, প্রায় ৫০০ উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন ইসির জন্য বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।