আমি মনে করি, তিনি যদি আমাকে চলচ্চিত্রে না আনতেন, তাহলে হয়তো আজ আমি ববিতা হয়ে উঠতে পারতাম না। একুশে পদক পাওয়ার মতো সম্মানও হয়তো পেতাম না। তাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা থেকে এ পুরস্কার তাকে উৎসর্গ করেছি। তার প্রতি আমার এ সম্মান চিরদিন থাকবে।
‘নয়নমণি’ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আপনার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে নিজের কাজকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ভালো গল্প আর শক্তিশালী চরিত্রের সিনেমার প্রতি আমার সবসময় আলাদা টান ছিল। আমি সবসময় চেয়েছি এমন চরিত্রে অভিনয় করতে, যা চ্যালেঞ্জিং এবং দর্শকের মনে দাগ কাটবে। ‘নয়নমণি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘লাঠিয়াল’, ‘আলোর মিছিল’ এ সিনেমাগুলোয় কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, যা আমার অভিনয় জীবনের বড় সম্পদ। এসব সিনেমার মাধ্যমে অসংখ্য স্বীকৃতি ও সম্মান পেয়েছি।
আমি যখন অভিনয় করতাম, পুরো মন-প্রাণ দিয়ে করতাম। মনে হতো আমিই যেন সেই নয়নমণির মণি, আমিই সেই আলোর মিছিলের আলো। চরিত্রের সঙ্গে একেবারে মিশে যেতাম। অভিনয় আমার কাছে শুধু পেশা ছিল না, ছিল ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা।
আপনার অভিনয় জীবনে এমন কোনো চরিত্র আছে কি, যেটা এখনো আপনাকে নাড়া দেয়?
আমি অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছি। তার মধ্যে ‘বাদী থেকে বেগম’ আমার খুব প্রিয় একটি কাজ। এ সিনেমায় আমাকে কখনো বাদী, কখনো বেগম, আবার কখনো নর্তকী তিন ধরনের চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে। গল্পটি আমার ভীষণ প্রিয়। এ সিনেমার জন্য পুরস্কারও পেয়েছিলাম।
এছাড়া প্রখ্যাত নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ছবিতে অনঙ্গ বউ চরিত্রে অভিনয় করেছি। সেই কাজের মাধ্যমে সারা বিশ্বে বাংলাদেশী মেয়ে ববিতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সে অভিজ্ঞতা আমার জীবনের অন্যতম বড় অর্জন।
দীর্ঘদিন ধরে আপনি অভিনয়ে নিয়মিত নন। এই দূরে থাকার কারণটা কী?
আমি প্রায় ৩০০-এর মতো সিনেমায় কাজ করেছি। তখনকার গল্পগুলো খুব শক্তিশালী ছিল। জহির রায়হান, সুভাষ দত্ত, খান আতাউর রহমান, আমজাদ হোসেন—এমন গুণী পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তাদের সিনেমায় অভিনয় করে যেমন পুরস্কার পেয়েছি, তেমনি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও অংশ নেয়ার সুযোগ হয়েছে। কিছু সিনেমা আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃতও হয়েছে।
এখনকার অনেক গল্পে সেই গভীরতা আমি খুঁজে পাই না। আগের মতো শক্তিশালী চরিত্রও খুব একটা আসে না। যেসব চরিত্রে আমি এতদিন কাজ করেছি, তার একটা মান ও ধারাবাহিকতা আছে। সে জায়গা ধরে রাখতে চাই বলেই একটু দূরে আছি। উপযুক্ত গল্প ও চরিত্র না পাওয়ায় নিয়মিত কাজ করা হচ্ছে না।
একজন শিল্পী দীর্ঘদিন টিকে থাকার সবচেয়ে বড় মন্ত্র কী বলে মনে করেন?
আমার মনে হয়, একজন শিল্পী যদি সত্যিকারের ভালো কাজ করেন, তাহলে যতদিন সিনেমা ও শিল্প থাকবে, ততদিন তিনিও থাকবেন। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে ইতিহাসের পাতায় তার নাম থেকে যাবে। ভালো কাজই শিল্পীকে বাঁচিয়ে রাখে।
আপনি অভিনয়ে নিজেকে আর কোথায় দেখতে চান?
আমি বলছি না যে আর কখনো অভিনয় করব না। শিল্পীর তো কোনো শেষ নেই। তবে চাই শক্তিশালী চরিত্র, যেটা আমাকে নতুনভাবে তুলে ধরবে। অনেক দেশে শিল্পীদের কথা ভেবে চরিত্র লেখা হয়। পাশের দেশেও বড় শিল্পীদের কেন্দ্র করে গল্প তৈরি হয়। আমাদের দেশে সেই চর্চা খুব কম। যদি তেমন কোনো গল্প বা চরিত্র আসে, আমি অবশ্যই অভিনয়ে ফিরতে প্রস্তুত আছি।










