সিয়াম আহমেদ। টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেতা। পোড়ামন-২ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। অভিনয় করেছেন একাধিক নাটকে। বিশ্বসুন্দরী সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন সেরা অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। নিজের ঈদ ভাবনা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শর্মিলা সিনড্রেলা
কেমন আছেন?
ভালো আছি।
ঈদে আপনার
কী কী
কাজ দেখতে
পাবে দর্শকরা?
এবারের ঈদে
আমার সিনেমা
শান মুক্তি
পাচ্ছে। আর
ঈদের পরে
২০ মে
মুক্তি পেতে
যাচ্ছে আরেক
সিনেমা পাপ-পুণ্য। চেষ্টা
করা হবে
বিশ্বব্যাপী একদিনে
পাপ-পুণ্য মুক্তি দেয়ার।
যেন প্রবাসীরাও
একদিনে এ
সিনেমা দেখার
সুযোগ পায়।
ঈদে যখন
আমাদের সিনেমা
আসে তখন
প্রায় সব
পরিকল্পনাই সিনেমাকেন্দ্রিক
থাকে। এবারো
তার ব্যতিক্রম
হবে না।
নভেল করোনাভাইরাস
মহামারীকালে ঈদের
পুরোটা সময়
পরিবারের সঙ্গে
কাটানো হয়েছে।
এবারের ঈদ
হবে সিনেমাকেন্দ্রিক।
দর্শকদের সঙ্গে
দেখা করা,
তাদের সঙ্গে
শুভেচ্ছা বিনিময়
করাই হবে
ঈদ।
ঈদের দিনের
পরিকল্পনা কী
এবার?
ঈদের দিন
পরিবারের সঙ্গে
কাটানো সবচেয়ে
বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণত যদি
কোনো কাজ
না থাকে
বা সিনেমা
রিলিজ না
হয় তাহলে
আমি বাসা
থেকে বের
হতে চাই
না। হয়তো
সারা দিন
বাসায় থাকার
পরে রাতের
দিকে আমার
স্ত্রী অবন্তীর
মা-বাবার
সঙ্গে দেখা
করতে যাই
বা বন্ধুদের
সঙ্গে দেখা
করি। এবারের
ঈদটা আরো
বেশি বিশেষ
এজন্য যে,
আমাদের প্রথম
সন্তান জন্ম
নিয়েছে। তাই
যেখানেই থাকব,
উপভোগ করব।
আশা করি
এবার মনে
রাখার মতো
একটা ঈদ
হবে।
সাধারণত ঈদের
দিনে কী
ধরনের পোশাক
পছন্দ করেন?
এবার কী
পরবেন?
সাধারণত পাঞ্জাবি
পরতেই আমি
বেশি পছন্দ
করি। আর
ঈদের দিন
অবশ্যই পাঞ্জাবি
পরি। যে
ধরনের পাঞ্জাবি
আমি পরি,
সেগুলো আমার
কাছে খুবই
স্বস্তিদায়ক পোশাক
মনে হয়।
পাঞ্জাবি ছাড়া
ঈদ অপরিপূর্ণ
মনে হয়।
কিন্তু এবারের
ঈদের জন্য
এখনো কোনো
কেনাকাটাই করা
হয়নি। এবারের
ঈদের সময়ে
আরো অনেক
বিষয় নিয়ে
ভাবনা রয়েছে,
তাই কেনাকাটার
দিকে তেমন
নজর দিতে
পারিনি। দর্শক
যদি আমার
শান সিনেমা
গ্রহণ করে
তাহলে সেটাই
হবে ঈদের
সবচেয়ে বড়
উপহার।
ছোটবেলার ঈদ
কেমন ছিল?
ঈদের সবচেয়ে
স্মরণীয় মুহূর্তগুলো
আমরা পেয়েছি
আমাদের গ্রামের
বাড়ি পিরোজপুরে।
ওখানে যখন
দাদি বেঁচে
ছিলেন তখন
আমরা চাচা-ফুফু
মিলে সবাই
একসঙ্গে ঈদ
করতাম। সেই
সময়ের প্রত্যেকটা
স্মৃতিই আমি
সবসময় মনে
রাখব। এখন
আর গ্রামের
বাড়ি সেভাবে
যাওয়া হয়
না, খুব
খারাপ লাগে।
আগে যেসব
ভাইবোনদের নিয়ে
ঈদ করতাম,
এখন তারা
নিজেদের পরিবার
নিয়ে ব্যস্ত।
বাংলাদেশের বিভিন্ন
জায়গায় তারা
ছড়িয়ে গেছে,
আবার কেউ
কেউ দেশের
বাইরেও চলে
গেছে। তখনকার
কোনো রকম
দুশ্চিন্তা বা
দায়িত্ববোধ ছাড়া
ঈদ করার
দিনগুলো খুব
মিস করি।
ঈদের এমন
কোনো স্মৃতি আছে, যেটা
প্রায়ই মনে
পড়ে?
তখন আমি
সম্ভবত ক্লাস
থ্রি বা
ফোরে পড়ি।
আব্বুর সঙ্গে
ঈদের জামাত
পড়তে গিয়েছিলাম
বায়তুল মোকাররমে।
সেখানে অনেক
মানুষ ছিল,
আর কাতার
একটু একটু
করে সামনে
এগোচ্ছিল। জামাতটা
শেষ হওয়ার
পরে আমি
আর আব্বুকে
খুঁজে পেলাম
না। তখন
আমি অনেক
ছোট, তাই
সঙ্গে ফোনও
ছিল না,
দোকানও খোলা
ছিল না
যে বাসার
টিঅ্যান্ডটি নাম্বারে
ফোন করব।
অনেক খোঁজাখুঁজির
পরে হতাশ
হয়ে একটা
রিকশা ঠিক
করে বাসায়
চলে আসি।
পরে বাসায়
এসে আমি
রিকশার ভাড়া
দিয়েছিলাম। আব্বুও
প্রায় দুপুর
পর্যন্ত আমাকে
ওখানেই খোঁজাখুঁজি
করে তার
পরে ফিরেছেন।
প্রবাসজীবনের ঈদ
কেমন ছিল?
২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যের নিউ ক্যাসলে ছিলাম আমি। মা-বাবাকে ছাড়া দেশের বাইরে সেবার ছিল প্রথম ঈদ। আরো দুঃখের বিষয় তখন আমার পরীক্ষা চলছিল। ঈদ বলতে ছিল শুধু ঈদের নামাজটা পড়া। আমরা জানতাম যে আজ সেমাইও খেতে পারব না, কিছুই করতে পারব না। পড়াশোনার চাপে সেই সময়টাই আমাদের হবে না, সবাই ব্যস্ত। তখন আমাদের সঙ্গে মাহমুদুর রহমান হিমু ভাই ছিলেন। একই কোর্সে পড়তাম আমরা। মসজিদে নামাজ পড়ার পর সবাই পড়াশোনা করতে বাসায় যাচ্ছে। হিমু ভাই বললেন, এভাবে ঈদের দিনে খালিমুখে বাসায় যেতে ভালো লাগছে না, তোমরা চলো আমার সঙ্গে। ১২-১৩ জনের মতো ছিলাম। হিমু ভাই তার পড়াশোনা বাদ দিয়ে আমাদের জন্য সেমাই রান্না করলেন, আমাদের সবাইকে খাওয়ালেন। রাতে সবার জন্য পোলাও রান্না করলেন। সে সময় আমাদের মনে হয়েছিল, তিনি আমাদের মায়ের দায়িত্ব পালন করছেন। মন খারাপের ওই দিনে আমরা সবাই তার জন্য মন থেকে অনেক দোয়া করেছিলাম। আল্লাহর রহমতে তিনি এখন অনেক ভালো আছেন। সত্যি বলতে, দেশের বাইরে পরিবার ছাড়া ঈদ কখনো ঈদ মনে হয় না। সেই জায়গাটা তিনি পূরণ করার চেষ্টা করেছিলেন এবং তার জায়গা থেকে শতভাগ সফল হয়েছিলেন।
ঈদের দিনে
রান্নাবান্না করতে
পছন্দ করেন?
রান্নাবান্নার কথা
বলতে গেলে
আমার আগ্রহ
খাওয়ার দিকেই
বেশি। রান্নাঘরের
আশেপাশে প্রবেশ
করলে মা
মনে করেন
তার রাজত্বে
কেউ প্রবেশ
করে ফেলেছে।
তাই ওই
ডিপার্টমেন্ট আমি
মা আর
স্ত্রীর ওপরই
ছেড়ে দিয়েছি।
বিশেষ দিনগুলোয়
আমার দায়িত্ব
থাকে চা-কফি
বানানো। আমি
নিজে প্রচুর
চা পছন্দ
করি, সারা
দিন কমবেশি
চা খাই।
আমার কাছে
মনে হয়,
ঠিকমতো চা
বানানো একটা
শিল্পের মতো।
চেষ্টা করি
আমার যে
ইমোশন আছে,
যে ভালোবাসা
আছে, সেটা
চায়ের ভেতর
ঢেলে দিতে।
যেন যে
চা পান
করবে সে
উপলব্ধি করতে
পারে যে
সেটা যত্ন
নিয়ে বানানো
হয়েছে।
সাধারণত আমি মসলা চা বানাতে পছন্দ করি। আমার শাশুড়ি একবার চা খেয়ে বলেছিলেন, ‘এ পাত্রে চা বানানো হয়েছে নাকি পায়েস বানানো হয়েছে বুঝতে পারছি না।’ অনেক রকম মসলা দিয়ে আমি এক্সপেরিমেন্ট করি। যদি সবার প্রশংসা কুড়ায় তাহলে বুঝতে পারি যে এ চা পরেরবারও বানানো যেতে পারে।





