সুনেহরা বিনতে কামালের চলচ্চিত্রে অভিষেক ন ডরাই সিনেমা দিয়ে। আর সেটিই তাকে এনে দেয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। নৃত্যশিল্পী সুনেহরা এখন কাজ করছেন নাটক, বিজ্ঞাপন ও মিউজিক ভিডিওতে। কেমন কাটবে অনেকের চেনা ও প্রিয়মুখ সুনেহরার ঈদের দিন? ছোটবেলার ঈদগুলোই বা কেমন ছিল? সেসব নিয়েই তিনি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শর্মিলা কুণ্ডু
এবারের ঈদে
আপনার কী
কী কাজ
দেখতে পাবে
দর্শক?
ঈদকে কেন্দ্র
করে আমি
তেমন কোনো
কাজ করিনি
এবার। শুধু
একটি মিউজিক
ভিডিওর কাজ
করেছি, সেটাও
বেশ আগে
শুট করা।
তাই বলা
যায়, আমার
একটা মিউজিক
ভিডিও রিলিজ
হচ্ছে ঈদে।
২৮ এপ্রিল
রিলিজ হচ্ছে
সুস্মিতা আনিসের
গাওয়া এক
বিকেল শিরোনামের
গানটি। সেখানে
আমার সঙ্গে
আছেন শরীফুল
রাজ। ওই
একটা কাজ
করেছি আমি।
আর তেমন
কোনো কাজই
করিনি বলা
যায়।
ঈদের দিন
সাধারণত কীভাবে কাটাতে পছন্দ
করেন? এবারের ঈদের দিন
নিয়ে কী
কী পরিকল্পনা?
ঈদের দিন
নিয়ে আমি
সেভাবে কোনো
পরিকল্পনা করিনি।
আর পরিকল্পনা
করিনি একদম
ইচ্ছা করে।
ইদানীং কিছু
পরিকল্পনা করলেই
আমার দিনটা
খুব বাজে
যায়, তাই
এমন সিদ্ধান্ত।
আমার মনে
হয়, কোনো
পরিকল্পনা করে
ফেললে সেই
বিষয়ে প্রত্যাশা
বেশি হয়ে
যায়, সেসব
প্রত্যাশা পূরণ
না হলে
হতাশও হই
বেশি। সেজন্য
এবার কোনো
পরিকল্পনা করিনি।
শুধু আরাম
করার চিন্তাভাবনা
আছে। একটু
রিল্যাক্স করতে
চাই। এর
মধ্যে যদি
আত্মীয়স্বজনের বাসায়
যেতে পারি
তাহলে হয়তো
সেটা করা
হবে। দেখা
যাক। কেনাকাটা
করারও ইচ্ছে
নাই। তাই
খুব যে
পোশাক-আশাক
পরে তৈরি
হয়ে বাইরে
বের হব,
তা হয়তো
হবে না।
নিজের মতো
করেই হয়তো
ঈদের দিন
সময় কাটানো
হবে।
ঈদের পোশাক-আশাক কেনাকাটা কি তাহলে
একদমই হচ্ছে
না?
এবার ঈদ
ঘিরে কেনাকাটা
করার কোনোই
ইচ্ছা নেই।
এখনো কোনো
কিছুই কিনিনি,
কিচ্ছু না।
ঈদের আগের
দিন যদি
হুট করে
মনে হয়
নতুন কিছু
কিনব তাহলে
হয়তো খুব
আরামদায়ক, সাধারণ
কিছু কিনতেও
পারি। তবে
পরিকল্পনা আছে
শুধু আম্মুর
জন্য কিনব।
আব্বু যেহেতু
এরই মধ্যে
দাদাবাড়ি চলে
গেছেন, এবার
তাকে কিনে
দেয়ার সুযোগ
নেই। তাই
হয়তো শুধুই
আম্মুর জন্য
কিছু না
কিছু কিনব।
ঈদ কি
ঢাকাতেই করবেন?
হ্যাঁ, ঢাকাতেই
আছি। মাত্রই
দেশের বাইরে
থেকে এলাম।
কয়েকটি দিন
তাই ঢাকাতেই
থাকার চিন্তা।
ছোটবেলার ঈদগুলো কেমন ছিল?
ছোটবেলায় যখন
নানুবাড়িতে ঈদ
করতাম তখন
খুব মজা
হতো। সত্যি
বলতে, তখন
ঈদের আগে
থেকেই ঈদ
ঈদ মনে
হতো। সব
মামাতো-খালাতো
ভাইবোন মিলে
একসঙ্গে ঈদ
করতাম। নানা-নানি,
মামা-মামি
মিলে একসঙ্গে
থাকতাম। ওই
সময়ের ঈদের
দিনগুলো সবচেয়ে
ভালো লাগত।
এখন তো
একেকজন একেক
দেশে, একেকজন
একেক জায়গায়।
তাই সেভাবে
আর ঈদের
আনন্দ আয়োজন
হয়ে ওঠে
না।
তখনকার ঈদের
আরো একটি
বড় আকর্ষণ
ছিল, ঈদের
সালামি। সবাই
সালামি দিত।
অনেক সালামি
পেতাম। সেটা
অনেক মজার
ছিল। এখন
আর সবাই
সালামি দেয়
না। সেটা
কিন্তু একটা
খুব দুঃখজনক
বিষয়। এখন
আমাকেই সালামি
দিতে হয়।
আমার মায়েদের
যৌথ পরিবার
ছিল। তাই
আম্মুর চাচা,
ফুফু আমার
নানা-নানি
সবাই ছিলেন
সেখানে। সবাই
ছিলেন একদম
আমার নিজের
নানা-নানির
মতো। চার-পাঁচ
বছর বয়সের
দিকেই শুধু
না,
আরো বড়
হওয়ার পরও
একটা সালামেই
আমি নানুদের
কাছ থেকে
অনেক টাকা
পেতাম। মায়ের
চাচা ফুফুদের
একটা করে
সালাম দিতাম
আর অনেক
বড় বড়
অংকের টাকা
পেতাম নানুদের
কাছ থেকে।
তখন ওই
টাকাগুলো জমিয়ে
রাখতাম। সে
সময় সালামিতে
পাওয়া সব
টাকা আম্মুর
কাছে দেয়া
হতো। যদিও
পরে কখনই
সেই টাকার
কোনো হিসাব
আমি পাইনি।
তার পরও
বেশ মজা
হতো।
ঈদের কোনো
স্মরণীয় স্মৃতি জানাবেন পাঠকদের?
একটা স্মৃতির
কথা বলতে
পারি। এমন
ঘটনা আমাদের
সঙ্গে প্রায়ই
হতো। ওই
সময়ে যখন
আমরা সবাই
মিলে ঈদ
করতাম, তখন
দেখা যেত
ঈদের আগের
চাঁদরাতে একজনের
কাছে সবাই
মেহেদি দিয়ে
নিতাম। একজন
শুধু পারত
মেহেদি দিতে।
মেহেদি দেয়া
শেষ হলে
হাত খাটের
সঙ্গে বেঁধে
ঘুমাতাম যেন
রঙ ঠিকমতো
হয়। এখন
আর তেমন
কিছু হয়
না অবশ্য।
এমন ছোট
ছোট অনেক
কিছুই ছিল
আগের ঈদের
দিনগুলোকে ঘিরে।
এখন আর
সেসব নেই।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনাকেও ধন্যবাদ। দোয়া করবেন এবারের ঈদ যেন ভালো কাটে।





