প্রথমেই
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমান
ও
আবুল
মনসুর
আহমদের
মধ্যে
সম্পর্ক
তৈরির
সূত্র
কী
ছিল
তা
খোলাসা
করা
দরকার।
জনপরিসরে
বঙ্গবন্ধুর
একমাত্র
পরিচয়
রাজনীতিবিদ
হলেও
আবুল
মনসুর
আহমদ
ছিলেন
একাধারে
সাহিত্যিক,
সাংবাদিক
ও
রাজনীতিবিদ।
বঙ্গবন্ধু
যেহেতু
সাহিত্যিক
বা
সাংবাদিক
হিসেবে
পরিচিত
ছিলেন
না,
সেহেতু
তার
সঙ্গে
আবুল
মনসুর
আহমদের
সম্পর্ক
তৈরি
হওয়ার
একমাত্র
সূত্র
ছিল
‘রাজনীতি’।
এ
সূত্র
ধরে
দুজনের
মধ্যে
তৈরি
হওয়া
সম্পর্ক
কতটা
গভীর
আর
ঘনিষ্ঠ
হয়েছিল
তার
খতিয়ান
মেলে
ধরছি।
সম্পর্কের যাত্রা
আবুল
মনসুর
আহমদের
জন্ম
১৮৯৮
আর
বঙ্গবন্ধুর
১৯২০।
দুজনের
মধ্যে
বয়সের
ব্যবধান
২২।
বলা
যায়
দুই
প্রজন্মের
মানুষ।
আবুল
মনসুর
আহমদ
বালক
বয়সে
বঙ্গভঙ্গ,
বঙ্গভঙ্গ
রদ,
প্রথম
বিশ্বযুদ্ধ
দেখার
পর
ঐতিহাসিক
খেলাফত-অসহযোগ
আন্দোলনে
যখন
কর্মী
হিসেবে
কাজ
করছেন
তখন
বঙ্গবন্ধুর
জন্ম।
গোপালগঞ্জ
মিশনারি
স্কুল
থেকে
১৯৪২
খ্রিস্টাব্দে
ম্যাট্রিক
পাস
করে
বঙ্গবন্ধু
যখন
কলকাতায়
আসেন
উচ্চশিক্ষার
উদ্দেশ্যে,
তখন
কলকাতায়
সাহিত্যিক
ও
সাংবাদিক
মহলে
জনপ্রিয়
নাম
আবুল
মনসুর
আহমদ।
তখন
মুসলমান
সাহিত্যিক
হাতেগোনা,
তন্মধ্যে
‘আয়না’র
মতো
স্যাটায়ারিস্টিক
কিতাব
লিখে
রীতিমতো
মশহুর
আবুল
মনসুর
আহমদের
নাম
শোনা
বঙ্গবন্ধুর
জন্য
বিচিত্র
ছিল
না।
চিনে
থাকতে
পারেন
মোহাম্মদী,
দি
মুসলমান-এর
মতো
বিখ্যাত
পত্রিকার
সম্পাদক
হিসেবেও।
‘অসমাপ্ত
আত্মজীবনী’তে
সর্বপ্রথম
আবুল
মনসুর
আহমদের
নাম
এসেছে
সাংবাদিকতা
প্রসঙ্গেই।
বঙ্গবন্ধু
লিখেছেন:
‘তিনি
(হোসেন শহীদ
সোহরাওয়ার্দী)
দৈনিক
ইত্তেহাদ
কাগজ
বের
করেছিলেন—নবাবজাদা
হাসান
আলী
সাহেবের
ব্যবস্থাপনা
এবং
আবুল
মনসুর
আহমদ
সাহেবের
সম্পাদনায়।’ (শেখ
মুজিবুর
রহমান:
২০১৯,
৭২)
চেনা
আর
পরিচয়
তো
এক
কথা
নয়।
কলকাতায়
ছাত্র
থাকা
অবস্থায়
বঙ্গবন্ধু
আবুল
মনসুর
আহমদকে
চিনতেন,
এতটুকু
নিশ্চিত।
কিন্তু
তাদের
মধ্যে
পরিচয়
হয়েছিল
কিনা
তা
জানা
যায়
না।
ততদিনে দেশভাগ হয়ে গেছে। পাকিস্তান আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু এবং আবুল মনসুর আহমদ উভয়েই শরিক ছিলেন, যে যার জায়গা থেকে। বঙ্গবন্ধু কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে এসেছিলেন সেপ্টেম্বরেই, কিন্তু আবুল মনসুর আহমদ ইত্তেহাদ পত্রিকার সম্পাদনার জন্য ১৯৫০-এর মার্চ পর্যন্ত কলকাতায় ছিলেন, ময়মনসিংহে আসেন এপ্রিলে। তিনি ময়মনসিংহে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই মওলানা ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ময়মনসিংহ গিয়ে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করলেন এবং সভাপতি করলেন আবুল মনসুর আহমদকে। অর্থাৎ তত্কালীন পূর্ব-পাকিস্তান—বর্তমান বাংলাদেশে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আবুল মনসুর আহমদ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সাংগঠনিকভাবে যুক্ত হয়েছিলেন। ওদিকে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং ১৯৫৩ সালে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে খুব সহজেই ধারণা করা যায় যে বঙ্গবন্ধু এবং আবুল মনসুর আহমদের আনুষ্ঠানিক পরিচয় পর্ব হয়েছিল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে। এ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন: ‘জনাব আবুল মনসুর আহমদ সাহেব কলকাতা থেকে ফিরে এসেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেন এবং হাশিমউদ্দিন সাহেবকে সেক্রেটারি করলেন।’ (প্রাগুক্ত, ২২০)
রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা
১৯৫৪
সালের
নির্বাচনে
বিভিন্ন
দলের
সমন্বয়ে
গঠিত
যুক্তফ্রন্ট
২৩৭টি
আসনের
মধ্যে
২২৩টিতে
বিজয়
অর্জন
করার
পর
শেরেবাংলা
এ
কে
ফজলুল
হকের
নেতৃত্বে
যুক্তফ্রন্ট
পূর্ব
বাংলা
প্রদেশে
সরকার
গঠন
করে।
এ
সরকারের
মন্ত্রিসভায়
আবুল
মনসুর
আহমদ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী
এবং
বঙ্গবন্ধু
কৃষি,
বন
ও
সমবায়
মন্ত্রণালয়ের
দায়িত্ব
পান।
এতে
তাদের
মধ্যে
পূর্বপরিচয়ের
সূত্র
ধরে
রাজনৈতিক
ঘনিষ্ঠতা
তৈরি
হয়।
পশ্চিম
পাকিস্তানে
অনুষ্ঠিত
ঐতিহাসিক
মারি-প্যাক্টের
জন্য
গণপরিষদের
যে
বৈঠক
অনুষ্ঠিত
হয়
তাতে
যোগদানের
জন্য
আবুল
মনসুর
আহমদ
ও
বঙ্গবন্ধু
একত্রে
গিয়েছিলেন।
১৯৫৫
সালে
চৌধুরী
মোহাম্মদ
আলীকে
প্রধানমন্ত্রী
নির্বাচিত
করার
জন্য
তারা
দুজন
একসঙ্গে
ক্যানভাস
করেছিলেন।
পশ্চিম
পাকিস্তানে
থাকা
অবস্থায়
বড়
লাট
ইসকান্দর
মির্জার
সঙ্গে
দেখা
করার
জন্য
হোসেন
শহীদ
সোহরাওয়ার্দীর
সফরসঙ্গী
হিসেবে
ছিলেন
উভয়েই।
আবুল
মনসুর
আহমদ,
শেখ
মুজিবুর
রহমান
ও
আতাউর
রহমান—এ
তিনজন
ছিলেন
হোসেন
শহীদ
সোহরাওয়ার্দীর
‘থ্রি
মাস্কিটিয়ার্স’।
১৯৫৫
সালের
ঐতিহাসিক
পাঁচ
দফা
ঘোষণার
যে
বিবৃতি
দেয়া
হয়েছিল
তা
এসেছিল
এই
‘থ্রি
মাস্কিটিয়ার্স’-এর
পক্ষ
থেকেই।
অর্থাৎ
আওয়ামী
লীগের
সাংগঠনিক
কার্যক্রম
পরিচালনা
করতে
গিয়ে
এ
দুজন
বয়সের
ব্যবধান
ভুলে
গিয়ে
পারস্পরিক
ঘনিষ্ঠতা
তৈরি
করতে
পেরেছিলেন।
১৯৫৬
সালে
হোসেন
শহীদ
সোহরাওয়ার্দীর
মন্ত্রিসভায়
আবুল
মনসুর
আহমদ
বাণিজ্য
ও
শিল্পমন্ত্রীর
দায়িত্ব
গ্রহণ
করেন।
মন্ত্রণালয়ের
বিভিন্ন
গুরুত্বপূর্ণ
সিদ্ধান্তের
পূর্বে
তিনি
বঙ্গবন্ধুর
সঙ্গে
পরামর্শ
করতেন।
আবুল
মনসুর
আহমদ
লিখেছেন:
‘সত্য
সত্যই
সরকার
যখন
হাতে
আসিল,
তখন
জনাব
আতাউর
রহমান
ও
জনাব
শেখ
মুজিবুর
রহমানের
সাথে
পরামর্শ
করিয়া
প্রদেশে
শিল্প
উন্নয়ন
কর্পোরেশন
স্থাপন
করা
ঠিক
হইল।’ (প্রাগুক্ত,
৩৪৯)
১৯৫৭
সালের
জানুয়ারিতে
আবুল
মনসুর
আহমদের
ভারত
সফরে
এবং
বিশেষত
পণ্ডিত
জওহরলাল
নেহরুর
সঙ্গে
বিশেষ
বৈঠকে
বঙ্গবন্ধুও
শামিল
ছিলেন।
আবুল
মনসুর
আহমদের
সাক্ষ্য:
‘দিল্লি
পৌঁছিয়াই
আমি
প্রথম
কাজ
করি
পণ্ডিত
নেহরুর
সঙ্গে
সাক্ষাত্কার।
জনাব
আতাউর
রহমান
ও
জনাব
মুজিবুর
রহমান
এ
সাক্ষাত্কারে
শামিল
ছিলেন।’ (প্রাগুক্ত,
৩৫৪)
আবুল
মনসুর
আহমদ
যখন
পুরো
পাকিস্তানের
বাণিজ্য
ও
শিল্পমন্ত্রী
তখন
পূর্ব
পাকিস্তানের
বাণিজ্য
ও
শিল্পমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমান।
’৫৮
সালের
অক্টোবরে
আইয়ুব
খান
সামরিক
শাসন
জারি
করার
পর
আওয়ামী
লীগের
মন্ত্রিসভা
থেকে
সর্বপ্রথম
গ্রেফতার
হলেন
বঙ্গবন্ধু।
আবুল
মনসুর
আহমদ
লিখেছেন:
‘৯২-ক
ধারা
জারি
করিবার
সঙ্গে
সঙ্গে
অন্যতম
মন্ত্রী
আওয়ামী
লীগের
সেক্রেটারি
শেখ
মুজিবুর
রহমানকে
সরকারি
মন্ত্রিভবন
হইতে
গেরেফতার
করা
হইল।’ (প্রাগুক্ত,
২৭৯)
বঙ্গবন্ধু
জেল
থেকে
মুক্তি
পেয়েছিলেন
’৬০
সালের
ডিসেম্বরে।
তিনি
লিখেছেন:
‘শেষ
পর্যন্ত
দুইটি
কারণে
আমার
মন
সান্ত্বনা
পাইল।
এক.
শেখ
মুজিবুর
রহমান
শহীদ
সাহেবের
উদ্যোগে
মুক্তি
পাইলেন।
দুই.
শীঘ্রই
মওলানা
ভাসানী
সাহেবকে
দেশে
ফিরিতে
দেওয়া
হইবে
বলিয়া
সংবাদ
প্রচারিত
হইল।’ (প্রাগুক্ত,
২৮৮)
অর্থাৎ,
ততদিনে
তাদের
সম্পর্ক
এত
ঘনিষ্ঠ
হয়েছিল
যে,
বঙ্গবন্ধুর
মুক্তি
পাওয়া
আবুল
মনসুর
আহমদের
জন্য
বহু
দুঃখের
সান্ত্বনা
হিসেবে
কাজ
করেছিল।
আবুল
মনসুর
আহমদকে
বঙ্গবন্ধু
ডাকতেন
‘লিডার’ বলে।
রাজনীতিতে
তার
অভিজ্ঞতা
ও
দূরদর্শিতা
বঙ্গবন্ধুর
ভালোই
জানা
ছিল,
ঘনিষ্ঠ
সম্পর্ক
থাকায়
জানার
সুযোগ
হয়েছিল
গভীরভাবে।
এ
কারণেই
১
মার্চ
প্রেসিডেন্ট
ইয়াহিয়া
যখন
৩
তারিখ
পরিষদের
বৈঠক
স্থগিত
ঘোষণা
করলেন
তখন
বঙ্গবন্ধু
ফোন
দিয়েছিলেন
আবুল
মনসুর
আহমদকে।
তার
লেখায়:
‘রাত্রি
সাড়ে
আটটার
দিকে
তিনি
নিজে
আমাকে
ফোন
করিয়া
যা
বলিলেন,
তাতেই
আমি
পূর্বোক্ত-মতো
মুগ্ধ
ও
গর্বিত
হইলাম।
তিনি
বলিলেন,
তিনি
সাতদিনব্যাপী
সাধারণ
হরতাল
ও
অসহযোগ
আন্দোলন
করা
ঠিক
করিয়াছেন।
আমি
সানন্দে
আমার
ঐকমত্য
জানাইলাম।
তবে
অসহযোগের
সঙ্গে
“অহিংস” কথাটা
যোগ
করিতে
অনুরোধ
করিলাম।
তিনি
হাসিয়া
জবাব
দিলেন,
সেটা
করাই
হইয়াছে।
আমি
তাকে
“কংগ্রেচুলেট” করিলাম।
তিনি
জবাবে
বলিলেন:
“শুধু
দোয়া
করিবেন।” আমি
সত্য
সত্যই
দোয়া
করিলাম।’ (প্রাগুক্ত,
৫৬৩)
এমন
উত্তপ্ত
ও
ক্রিটিক্যাল
মুহূর্তে
ফোন
দিয়ে
পরামর্শ
নেয়া
এবং
দোয়া
চাওয়ার
মাধ্যমে
বঙ্গবন্ধু
বুঝিয়ে
দিয়েছেন,
তার
কাছে
কতটা
ভরসার
জায়গা
ছিল
আবুল
মনসুর
আহমদ।
শুধু
তা-ই
নয়,
২৫
মার্চ
পরিষদ
বৈঠকে
আওয়ামী
লীগ
যোগ
দেবে
কিনা
তা
নিয়ে
পরামর্শ
করতেও
বঙ্গবন্ধু
তাকে
ফোন
দিয়েছিলেন।
আবুল
মনসুরের
ভাষ্য:
‘রাত
সাড়ে
আটটার
দিকে
আমি
মুজিবের
নিকট
হইতে
টেলিফোন
পাইলাম।
প্রথমে
তাজউদ্দীন
সাহেব
ও
পরে
শেখ
মুজিবের
সাথে
কথা
হইল।
আওয়ামী
লীগের
কর্তব্য
সম্বন্ধে
আমার
মত
জানাইলাম।’ (প্রাগুক্ত,
৫৬৫)
বঙ্গবন্ধুর
ওপর
আবুল
মনসুর
আহমদের
আস্থা
ছিল
আরো
বেশি।
নয়
মাস
সংগ্রামের
পর
দেশ
যখন
স্বাধীন
হয়েছে
তখন
সবার
মতো
আনন্দে
উদ্বেলিত
ছিলেন
না
তিনি।
কেন?
তার
কৈফিয়ত:
‘স্বাধীনতার
পদধ্বনিতে
লোকের
আনন্দিত
হইবার
কথা।
কিন্তু
আমি
উল্টা
ঘাবড়াইতে
ছিলাম।
মুজিববিহীন
আওয়ামী
নেতৃত্ব
কীভাবে
দেশ
চালাইবেন,
তা
আমি
ভাবিয়া
পাইতাম
না।
তাই
স্বাধীনতা
যতই
আগাইয়া
আসিতেছিল,
আমার
ভাবনা
ততই
বাড়িতেছিল।
মুজিবের
মুক্তি
ও
স্বদেশ
প্রত্যাবর্তনের
জন্য
আমি
ততই
সর্বান্তঃকরণে
প্রার্থনা
করিতেছিলাম।
...। কিন্তু
আমার
মোনাজাত
কবুল
হইল
না।
যদিও
আমার
মোনাজাত
ছিল
স্বাধীনতা
ও
মুজিব
একসঙ্গে
আসুক,
কিন্তু
মুজিবকে
পিছে
ফেলিয়া
স্বাধীনতা
আগেই
আসিয়া
পড়িল।
মুজিবের
অনুপস্থিতিতে
যেসব
অশুভ
ঘটনা
ঘটিতে
পারে
বলিয়া
আমার
আন্দাজ
ছিল,
আসলে
তার
চেয়ে
অনেক
বেশি
অশুভ
ঘটনা
ঘটিতে
লাগিল।’ (প্রাগুক্ত,
৬০৮)
উদ্ধৃতি
থেকে
স্পষ্ট
যে
আবুল
মনসুর
আহমদ
বাংলাদেশের
স্বাধীনতা
এবং
বঙ্গবন্ধুকে
আলাদা
করে
চিন্তা
করতে
পারতেন
না;
বস্তুত
আওয়ামী
লীগের
নেতৃত্ব
বলতে
তার
একমাত্র
আস্থার
জায়গা
ছিল
বঙ্গবন্ধু।
যে
কারণে
‘মুজিবহীন
বাংলাদেশ’ দেখে
তিনি
আনন্দিত
না
হয়ে
শঙ্কিত
হয়েছিলেন।
স্বাধীনতার
পর
তাদের
মধ্যে
রাজনৈতিক
সম্পর্ক
আর
বিকশিত
হয়েছিল
কিনা
তা
জানা
যায়
না।
কিন্তু
পারস্পরিক
সৌহার্দপূর্ণ
সম্পর্ক
বজায়
ছিল।
এর
কারণ
আবুল
মনসুর
আহমদ
ততদিনে
শেষ
বয়সের
অসুস্থতায়
ভুগছেন;
ফলে
সরাসরি
রাজনীতিতে
আসা
তার
পক্ষে
ছিল
অসম্ভব।
তবুও
সংবিধানের
ভাষাগত
ও
বিধানগত
ত্রুটি
নিয়ে
ইত্তেফাক
পত্রিকায়
সমালোচনা
লিখেছিলেন
তিনি।
তা
দেখে
বঙ্গবন্ধু
কয়েকজন
লোক
মারফত
সংবিধানের
একটি
কপি
পাঠিয়ে
বলেছিলেন,
‘আপনি
যা
সংশোধনী
দিবেন,
সবই
তিনি
মানিয়া
লইবেন।’ দেখা
যাচ্ছে,
স্বাধীনতার
পর
সংবিধান
প্রণয়নেও
আবুল
মনসুর
আহমদের
ওপর
বঙ্গবন্ধুর
ভরসা
ছিল
বহাল
তবিয়তে।
আবুল
মনসুর
আহমদ
‘শেরে
বাংলা
হইতে
বঙ্গবন্ধু’ বইটি
পুত্র
মাহবুব
আনাম
মারফত
পাঠিয়েছিলেন
বঙ্গবন্ধুর
নিকট।
বই
পাওয়ার
পর
বঙ্গবন্ধু
বলেছিলেন,
‘দেখি
দেখি
আরে
মনসুর
ভাইয়ের
লেখা
বই।
আমি
তো
তারই
শিষ্য।
এ
বইয়ে
দেখছি
তিনি
আমাকে
“বঙ্গবন্ধু” লিখেছেন।
এ
যে
আমার
জন্য
কত
বড়
সম্মান
সেটা
তাকে
বলিস।
সকলের
বলা
এক
কথা
আর
মনসুর
ভাইয়ের
কলমে
বের
হওয়ার
আলাদা
সম্মান।’ (আবুল
মনসুর
আহমদ:
২০১৬,
‘দ্বিতীয়
সংস্করণের
ব্যাপারে
দুটি
কথা’)
শ্রদ্ধা
আর
আন্তরিকতার
খাতিরে
বঙ্গবন্ধু
নিজেকে
আবুল
মনসুর
আহমদের
‘শিষ্য’ বলে
পরিচয়
দিলেও
আবুল
মনসুর
আহমদ
বঙ্গবন্ধুর
নামের
আগে
লিখেছিলেন
‘আমাদের
প্রিয়
সহকর্মী
তরুণ
বন্ধু’।
তাদের
মধ্যকার
সম্পর্কের
গভীরতা
বোঝাতে
আর
কোনো
শব্দ
খরচের
প্রয়োজন
নেই।
তথ্যসূত্র
১.
অসমাপ্ত আত্মজীবনী, শেখ
মুজিবুর
রহমান,
ইউনিভার্সিটি
প্রেস
লিমিটেড,
২০১৯
২.
আমার দেখা
রাজনীতির পঞ্চাশ
বছর,
আবুল
মনসুর
আহমদ,
প্রথমা
প্রকাশন,
২০১৯
৩.
শেরে বাংলা
হইতে বঙ্গবন্ধু, আবুল
মনসুর
আহমদ,
আহমদ
পাবলিশিং
হাউস,
২০১৬
মোহাম্মদ আবু সাঈদ: লেখক





