দেশ
বিভাগের
পূর্ব
থেকেই
হাজার
বছরের
শ্রেষ্ঠ
বাঙালি
জাতির
জনক
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমান
এবং
সাংবাদিক
ও
রাজনৈতিক
ভাষ্যকার
তফাজ্জল
হোসেন
মানিক
মিয়ার
সম্পর্ক।
বঙ্গবন্ধুর
সঙ্গে
মানিক
মিয়ার
ব্যক্তিগত
ও
রাজনৈতিক
সম্পর্ক,
বাঙালি
জাতীয়তাবাদের
বিকাশ,
ভাষা
আন্দোলন,
যুক্তফ্রন্ট
নির্বাচন,
সামরিক
শাসনবিরোধী
আন্দোলন,
ছয়
দফা
এবং
ঊনসত্তরের
গণঅভ্যুত্থান
প্রভৃতি
রাজনৈতিক
আন্দোলন,
বাংলাদেশের
স্বাধীনতা
আন্দোলনের
পটভূমি
ও
প্রেক্ষাপট
সৃষ্টিতে
বঙ্গবন্ধুর
সঙ্গে
মানিক
মিয়ার
প্রত্যক্ষভাবে
যুক্ত
থাকাসহ
নানা
কর্মকাণ্ড
এখনো
অনালোচিত।
আলোচ্য
নিবন্ধে
পঞ্চাশের
দশকে
বঙ্গবন্ধুর
সঙ্গে
মানিক
মিয়ার
সম্পর্ক
নিয়ে
আলোচনা
করা
হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে মানিক মিয়ার প্রথম পরিচয়, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বলছেন, ‘১৯৪৩ সন। মরহুম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর বাস ভবনে কলকাতায় তাঁর সাথে আমার পরিচয়। একই নেতার দুই শিষ্য, যেন একটি পিতার দুই সন্তান। বিগত পঁচিশ বছরের মধ্যে কোনদিনই আমরা বিছিন্ন হয়নি, কোন ঘটনা আমাদের মধ্যে বিভেদ টানতে পারেনি। নেতা মারা যাবার পরেও আমরা এক ও অভিন্ন ছিলাম। বর্ষার মেঘরাজির ন্যায় তাঁর অপার স্নেহ সর্বক্ষণ আমাকে ঘিরে থাকত। বিশাল বারিধির ন্যায় তার প্রশান্ত বিপুল বক্ষে আমার ঠাঁই হয়েছিল। কোন ষড়যন্ত্র, কানকথা, নিন্দাবাক্য সেখান থেকে আমাকে দূরে ঠেলে দিতে পারেনি। আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল আবেগ মিশ্রিত, হূদয়ের গভীরতম অনুভূতির রসে সিক্ত। মানিক ভাইয়ের কথা আমি কোন দিনই ভুলতে পারব না।’
বাংলাদেশের
স্বাধীনতা
সংগ্রামে
মানিক
মিয়ার
অবদান
মূল্যায়ন
করে
বঙ্গবন্ধু
বলেছেন,
‘স্বাধীনতা
সংগ্রামে
মানিক
ভাইর
অবদানের
কাহিনী
অনেকেরই
অজানা।
পক্ষান্তরে
আমার
ব্যক্তিগত
জীবনে
মানিক
ভাইর
প্রভাব
যে
কত
গভীর
তা
ভাষায়
ব্যক্ত
করার
মত
নয়।
সেই
পরিচয়ের
পর
থেকে
সারাটা
জীবন
আমরা
দুভাই
একসাথে
জনগণের
অধিকার
অর্জনের
সংগ্রাম
করেছি।
সে
সংগ্রাম
সাধনার
পথের
বাঁকে
বাঁকে
একে
যে
অন্যের
প্রতি
কোনদিন
মান-অভিমান
করেনি,
তা
নয়।
তবে
তা
ছিল
ক্ষণিকের
বিভ্রমের
মত।
একটা
বিষয়ে
আমরা
উভয়
একমত
ছিলাম
এবং
তা
হল,
বাংলার
স্বাধীনতা
ভিন্ন
বাঙালির
মুক্তি
নেই,
এ
বিষয়ে
আমাদের
মাঝে
কোন
দ্বিধাদ্বন্দ্বের
অবকাশ
ছিল
না।
আর
ছিল
না
বলেই
নানা
প্রতিঘাতের
মধ্যেও
দুজন
দুই
ফ্রন্টে
কাজ
করেছি।
আমি
কাজ
করেছি
মাঠে-ময়দানে
আর
মানিক
ভাই
তাঁর
ক্ষুরধার
লেখনীর
সাহায্যে।
রাজনীতি
সম্পর্কে
মানিক
ভাইর
ধারণা
ছিল
অত্যন্ত
স্পষ্ট
ও
স্বচ্ছ।’ যে
কারণে
অবিভক্ত
বাংলার
মুখ্যমন্ত্রী
(১৯৪৬-৪৭)
পরে
একসময়ে
পাকিস্তানের
স্বল্পকালীন
প্রধানমন্ত্রী
হোসেন
শহীদ
সোহরাওয়ার্দী
যথার্থই
তফাজ্জল
হোসেন
মানিক
মিয়াকে
পূর্ব
বাংলার
অন্যতম
Political
Thinker হিসেবে
আখ্যায়িত
করেছেন।
আগে
উল্লেখ
করেছি,
বঙ্গবন্ধুর
সঙ্গে
মানিক
মিয়ার
সম্পর্ক
বিভাগপূর্ব
কলকাতায়।
তখন
মানিক
মিয়া
শহীদ
সোহরাওয়ার্দীর
পৃষ্ঠপোষকতায়
কলকাতা
থেকে
প্রকাশিত
এবং
আবুল
মনসুর
আহমদ
সম্পাদিত
দৈনিক
ইত্তেহাদ
(প্রথম প্রকাশ
১৭
জানুয়ারি/মার্চ
১৯৪৭)
পত্রিকার
পরিচালনা
বোর্ডের
সেক্রেটারির
দায়িত্বে
ছিলেন।
আর
ভারত
বিভক্তির
পর
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিব
ছিলেন
মাসিক
৩০০
টাকার
বেতনে
ওই
পত্রিকার
পূর্ব
বাংলার
প্রতিনিধি।
তারও
আগে
বঙ্গবন্ধু
কলকাতার
ইসলামিয়া
কলেজের
ছাত্র
এবং
কলকাতায়
নিখিল
বঙ্গ
মুসলিম
ছাত্রলীগের
ছাত্ররাজনীতির
সঙ্গে
সক্রিয়ভাবে
জড়িত।
সে
সময়ে
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিব
ছিলেন
হোসেন
শহীদ
সোহরাওয়ার্দীর
ভাবশিষ্য,
একনিষ্ঠ
একজন
কর্মী
ও
প্রাদেশিক
মুসলিম
লীগের
কাউন্সিল
সদস্য
(১৯৪৩)।
পাকিস্তান
সৃষ্টির
পর
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিব
ঢাকায়
ফিরে
এসে
পূর্ব
পাকিস্তান
ছাত্রলীগ
গঠন
করে
১৫০
নং
মোগলটুলীতে
অফিস
খোলেন।
দৈনিক
ইত্তেহাদের
পূর্ব
বাংলার
প্রতিনিধি
হিসেবে
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবের
দায়িত্ব
ছিল
পত্রিকার
এজেন্সিগুলোর
কাছ
থেকে
টাকা-পয়সা
আদায়
করা
এবং
বিভিন্ন
জায়গায়
নতুন
এজেন্ট
নিয়োগ
করা।
যেহেতু
দৈনিক
ইত্তেহাদ
পত্রিকার
এসব
কাজের
দায়িত্ব
ছিল
সেহেতু
ঢাকায়
চলে
আসার
পরও
মানিক
মিয়ার
সঙ্গে
এসব
কাজের
মধ্য
দিয়ে
বঙ্গবন্ধুর
যোগাযোগ
ও
সম্পর্ক
আগের
মতোই
ছিল।
তবে
আর্থিক
অনটনের
কারণে
এবং
পূর্ববঙ্গে
দৈনিক
ইত্তেহাদ
পত্রিকা
আসা
পাকিস্তান
সরকার
বন্ধ
করে
দিলে
এবং
কলকাতায়
দৈনিক
ইত্তেহাদ
পত্রিকা
প্রকাশ
বন্ধ
হয়ে
যাওয়ার
উপক্রম
হলে
মানিক
মিয়া
এক
প্রকার
নিঃস্ব
অবস্থায়
ঢাকায়
ফিরে
আসেন
এবং
১৫০
নং
মোগলটুলীতে
এসে
ওঠেন।
এরই
মধ্যে
আওয়ামী
মুসলিম
লীগের
মুখপাত্র
হিসেবে
সাপ্তাহিক
ইত্তেফাক
১৫
আগস্ট
১৯৪৯,
৭৭
নং
মালিটোলা,
ঢাকা
থেকে
মওলানা
আবদুল
হামিদ
খান
ভাসানীর
সম্পাদনায়
প্রকাশিত
হয়।
তখন
মুসলিম
লীগ
সরকারের
গণবিরোধী
কার্যক্রমের
বিরুদ্ধে
আন্দোলন
করায়
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবকে
৩১
ডিসেম্বর
১৯৪৯
সালে
গ্রেফতার
করে
আড়াই
বছর
অর্থাৎ
২৬
ফেব্রুয়ারি
১৯৫২
সাল
পর্যন্ত
জেলে
নিয়ে
নিরাপত্তা
বন্দি
হিসেবে
আটকে
রাখে।
এর
আগেই
আরো
দুবার
তাকে
জেলে
যেতে
হয়েছে।
প্রথমবার
১৯৪৮
সালে
বাংলা
ভাষার
মর্যাদা
দানের
আন্দোলনের
জন্য
এবং
দ্বিতীয়বার
ফরিদপুরে
কর্ডন
প্রথার
বিরুদ্ধে
আন্দোলন
করার
অপরাধে।
প্রথমে
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবকে
ঢাকা
জেলে,
সেখান
থেকে
ফরিদপুর,
ফরিদপুর
থেকে
খুলনা
জেলে,
খুলনা
জেল
থেকে
বরিশাল
জেলে,
বরিশাল
থেকে
আবার
ফরিদপুর,
ফরিদপুর
থেকে
৩০
আগস্ট
১৯৫১-তে
ঢাকা
কেন্দ্রীয়
কারাগারে
আনা
হয়।
এ
সময়ে
ঢাকা
জেলে
থাকা
অবস্থায়
বিচারের
জন্য
আদালতে
নিয়ে
এলে
একদিন
মানিক
মিয়া
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবের
সঙ্গে
দেখা
করতে
আসেন
এবং
বললেন,
একটা
সাপ্তাহিক
কাগজ
বের
করার
ইচ্ছা।
কিন্তু
সাধ্যে
কুলাচ্ছে
না।
উল্লেখ্য,
এ
সময়ে
মানিক
মিয়া
পাকিস্তান
কেন্দ্রীয়
সরকারের
তথ্য
দপ্তরের
ডেপুটি
সেক্রেটারির
নিয়োগপত্র
পেয়েও
সরকারি
চাকরিতে
যোগদান
না
করে
পত্রিকা
বের
করার
চেষ্টায়
রইলেন।
এ
সুযোগ
আসে
সাপ্তাহিক
ইত্তেফাক
আর্থিক
কারণে
বন্ধ
হলে।
বঙ্গবন্ধুর
সহযোগিতা
ও
আগ্রহে
মানিক
মিয়া
সাপ্তাহিক
ইত্তেফাক
প্রকাশের
দায়িত্ব
গ্রহণের
মাধ্যমে
তার
সম্পাদনায়
ইত্তেফাক
প্রকাশিত
হতে
থাকে।
যুক্তফ্রন্ট
নির্বাচনের
প্রাক্কালে
সাপ্তাহিক
ইত্তেফাক
দৈনিক
পত্রিকায়
রূপান্তরিত
হয়
(২৩ ডিসেম্বর
১৯৫৩)।
মানিক
মিয়া
দৈনিক
ইত্তেফাক
পত্রিকার
সম্পাদনার
দায়িত্ব
গ্রহণ
করেন।
ফলে
এ
পত্রিকা
পরিচালনার
সঙ্গে
প্রতিষ্ঠাতা
মওলানা
আবদুল
হামিদ
খানের
আর
কোনো
সম্পর্ক
রইল
না।
মানিক
মিয়ার
দক্ষ
পরিচালনায়
প্রচার
সংখ্যা
বেড়ে
এক
লাখ
ছাড়িয়ে
যায়।
মানিক
মিয়া
‘মোসাফির’ ছদ্মনামে
দৈনিক
ইত্তেফাকে
নিয়মিত
কলাম
রাজনৈতিক
মঞ্চ
লিখে
যুক্তফ্রন্টের
পক্ষে
জনমত
গঠন
করেন।
বঙ্গবন্ধু
প্রায়
আড়াই
বছর
(৩১ ডিসেম্বর
১৯৪৯
থেকে
২৬
ফেব্রুয়ারি
১৯৫২)
জেলে
আটক
থাকাকালেও
যে
মানিক
মিয়া
বঙ্গবন্ধুর
সঙ্গে
যোগাযোগ
রক্ষা
করেছিলেন
তার
প্রমাণ
মেলে
ইন্টেলিজেন্স
ব্রাঞ্চের
রিপোর্ট
থেকে।
বঙ্গবন্ধু
জেল
থেকে
বেশ
কয়েকটা
পত্র
মানিক
মিয়াকে
লিখেছেন।
এর
বেশির
ভাগই
বাজেয়াপ্ত
করেছে
গোয়েন্দা
বিভাগ।
১২-০৯-৫১-তে
ঢাকা
কেন্দ্রীয়
কারাগার
থেকে
মানিক
মিয়াকে
বঙ্গবন্ধু
পত্র
লেখেন,
কিন্তু
চিঠিটি
গোয়েন্দা
বিভাগ
বাজেয়াপ্ত
করে।
ওই
পত্রে
শেখ
মুজিব
তার
অসুস্থতার
কথা,
তার
মামলার
ব্যাপারে
আতাউর
রহমান
খান
ও
হোসেন
শহীদ
সোহরাওয়ার্দীর
কাছে
আলাপ-আলোচনা
করে
সিদ্ধান্ত
গ্রহণ
এবং
মিথ্যার
কাছে
মাথানত
না
করা
এবং
কিছু
বইপত্র
পাঠানোর
কথা
ব্যক্ত
করেছেন।
একইভাবে
সবসময়ে
মানিক
মিয়া
বঙ্গবন্ধুর
সঙ্গে
যোগাযোগ
ও
পরামর্শ
গ্রহণে
সচেষ্ট
থাকতেন।
এমনকি
তিনি
জেলে
বন্দি
অবস্থায়
১৩-১১-৫১-তে
চিকিত্সার
জন্য
ঢাকা
কেন্দ্রীয়
কারাগার
থেকে
ঢাকা
মেডিকেল
কলেজে
আনা
হলে
মানিক
মিয়া
তার
চিকিত্সার
ও
স্বাস্থ্যের
খোঁজখবর
নিতে
মেডিকেল
কলেজে
দেখা
করেন।
এতেই
প্রতীয়মান
হয়ে
যে
বঙ্গবন্ধুর
সঙ্গে
মানিক
মিয়ার
ব্যক্তিগত
সম্পর্ক
আন্তরিক
ও
দায়িত্বপূর্ণ
ছিল।
২৭
ফেব্রুয়ারি
১৯৫২
সালে
সকালবেলায়
মুক্তি
পেয়ে
শেখ
মুজিব
তার
গ্রামের
বাড়ি
টুঙ্গীপাড়ায়
যান।
সেখানেও
তাকে
গোয়েন্দা
নজরদারিতে
রাখা
হয়।
তখনো
তিনি
বেশ
অসুস্থ।
টুঙ্গীপাড়া
অবস্থানকালীন
শেখ
মুজিবকে
মানিক
মিয়া
পত্র
লিখে
ঢাকায়
ফিরে
চিকিত্সা
নিতে
পরামর্শ
দেন।
উত্তরে
শেখ
মুজিব
২৮
মার্চ
১৯৫২
ও
৬
এপ্রিল
১৯৫২
টুঙ্গীপাড়া
থেকে
ইংরেজিতে
ইত্তেফাক,
৯
হাটখোলা
রোড
ঢাকার
ঠিকানায়
মানিক
মিয়ার
কাছে
পরপর
দুটি
চিঠি
লেখেন।
কিন্তু
চিঠি
দুটি
ঢাকা
জিপিও
থেকে
আটক
করে
এবং
গোয়েন্দা
কর্তৃপক্ষ
চিঠি
দুটি
গোয়েন্দা
নথিতে
অনুলিপি
করে
রাখে।
চিঠিতে
শেখ
মুজিব
তার
পত্র
পাওয়া,
শারীরিক
অবস্থার
উন্নতি
এবং
তার
স্নেহ
ও
ভালোবাসা
ভোলার
নয়
উল্লেখ
করে
১৬
এপ্রিল
১৯৫২
অথবা
তার
আগে
অবশ্যই
ঢাকা
ফেরার
কথা
জানান।
চিঠির
উত্তরে
মানিক
মিয়া
২৯-৩-১৯৫২-তে
ইত্তেফাক
অফিস
থেকে
টুঙ্গীপাড়া
ফরিদপুরের
ঠিকানায়
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবকে
একটি
পত্র
লেখেন।
চিঠিটি
একইভাবে
ওয়ারী
পোস্ট
অফিস
থেকে
আটক
করে
নথিতে
অনুলিপি
করে
রাখে।
চিঠিতে
তিনি
তার
চিঠির
জন্য
ধন্যবাদ
জানান
এবং
ঢাকায়
রাষ্ট্রভাষা
আন্দোলনকে
কেন্দ্র
করে
গণগ্রেফতার
এবং
আওয়ামী
লীগ
নেতা
শামসুল
হক,
ছাত্রনেতা
খালেক
নেওয়াজ
ও
আজিজ
আহমদের
গ্রেফতার
এবং
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবের
স্বাস্থ্যের
জন্য
উদ্বিগ্নতা
প্রকাশ,
চিকিত্সার
সব
ব্যবস্থা
গ্রহণের
কথা
জানিয়ে
এবং
টুঙ্গীপাড়া
থেকে
এসে
তার
কমলাপুর
বাজারের
বাসভবনে
ওঠার
আমন্ত্রণ
জানান।
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিব
১৬
এপ্রিল
ঢাকায়
আসার
কথা
থাকলেও
১৯
এপ্রিল
স্টিমারে
রওনা
হয়ে
ঢাকায়
২১
এপ্রিল
১৯৫২
রাতে
পৌঁছে
১৫০
নং
মোগলটুলীতে
ওঠেন।
তবে
পরদিন
২২
এপ্রিল
(১৯৫২) তফজ্জাল
হোসেন
মানিক
মিয়ার
১৩৩/২৯
কমলাপুরের
বাসভবনে
ওঠেন।
২২
এপ্রিল
১৯৫২
থেকে
২
মে
১৯৫২
পর্যন্ত
মানিক
মিয়ার
বাসভবনে
অবস্থান
করেছিলেন
এবং
৩
মে
(১৯৫২) তিনি
তার
সদ্য
ভাড়া
করা
৭১
নং
রাধামোহন
বসাক
লেনের
নিজ
বাসভবনে
ওঠেন।
পরে
সেখানে
অবস্থান
করে
এবং
১৫০
নং
মোগলটুলীর
মুসলিম
ছাত্রলীগ
অফিস
এবং
৯৪
নং
নওয়াবপুর
রোডে
অবস্থিত
আওয়ামী
মুসলীম
লীগ
অফিস
থেকে
তার
রাজনৈতিক
কার্যকলাপ
পরিচালনা
করেন।
তবে
তিনি
মানিক
মিয়ার
বাসভবন
থেকে
নিজ
বাসভবনে
চলে
এলেও
প্রায়
প্রতিদিনই
শেখ
মুজিব
মানিক
মিয়ার
সঙ্গে
ইত্তেফাক
অফিসে
অথবা
আওয়ামী
মুসলিম
লীগ
অফিসে
দেখাসাক্ষাৎ
ও
আলাপ-আলোচনা
হতো।
মে
মাসের
(১৯৫২) প্রথম
সপ্তাহে
পূর্ব
পাকিস্তান
আওয়ামী
মুসলিম
লীগের
কার্যকরী
কমিটির
এক
সভায়
সিদ্ধান্ত
নেয়া
হয়
যে
অবিলম্বে
অবাধ
নিরপেক্ষ
নির্বাচনের
নিশ্চয়তা
এবং
আওয়ামী
লীগসহ
সব
রাজবন্দির
মুক্তি
এবং
বাংলাকে
পাকিস্তানের
অন্যতম
রাষ্ট্রভাষার
মর্যাদার
দাবি
জানিয়ে
কেন্দ্রীয়
সরকারের
কাছে
স্মারকলিপি
প্রদানের
জন্য
একটি
প্রতিনিধি
প্রেরণ
করবে।
এ
সঙ্গে
কার্যকরী
কমিটির
ভারপ্রাপ্ত
সাধারণ
সম্পাদক
শেখ
মুজিবুর
রহমান
ও
সহসভাপতি
আতাউর
রহমান
খানকে
প্রতিনিধি
দলের
সদস্য
নির্বাচিত
করা
হয়।
কার্যকরী
কমিটির
সিদ্ধান্ত
অনুসারে
২১
মে
(১৯৫২) প্রতিনিধি
দল
করাচি
গমনের
তারিখ
নির্ধারণ
করা
হয়।
কিন্তু
আতাউর
রহমান
খান
হঠাৎ
অসুস্থ
হয়ে
পড়লে
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিব
একাই
২১
মে
(১৯৫২) করাচি
গমন
করেন।
৩১
মে
১৯৫২
তিনি
সেখানে
প্রধানমন্ত্রী
খাজা
নাজিমউদ্দীনের
সঙ্গে
আলাপ-আলোচনার
মাধ্যমে
তাদের
দাবি
পেশ
করেন।
প্রধানমন্ত্রী
আশ্বস্ত
করেন
যে
স্মারকলিপিতে
অন্তর্ভুক্ত
দাবিদাওয়া
গুরুত্বসহকারে
বিবেচনা
করা
হবে।
৩১
মে
১৯৫২-তে
শেখ
মুজিব
করাচি
থেকে
এসব
বিষয়
জানিয়ে
মানিক
মিয়াকে
এক
পত্র
লেখেন।
প্রধানমন্ত্রীর
সঙ্গে
সাক্ষাত্কারের
আগের
দিন
অর্থাৎ
৩০
মে
১৯৫২
করাচিতে
শেখ
মুজিব
এক
সংবাদ
সম্মেলন
করেন।
সংবাদ
সম্মেলনে
পশ্চিম
পাকিস্তানের
জনসাধারণের
মধ্যে
রাষ্ট্রভাষা
আন্দোলন
ও
বাংলা
ভাষার
উত্পত্তি
সম্পর্কে
অপপ্রচার
এবং
পূর্ব
বাংলার
তত্কালীন
মুখ্যমন্ত্রী
খাজা
নাজিমউদ্দীন
বাংলাকে
উর্দুর
সঙ্গে
পাকিস্তানের
অন্যতম
রাষ্ট্রভাষা
করার
চুক্তিভঙ্গ
করে
Urdu
shall be the only state language of Pakistan বক্তব্য
প্রদানে
পূর্ব
বাংলার
জনসাধারণের
মনে
অসন্তোষ
সৃষ্টি,
মুসলিম
লীগ
সরকারের
সময়োচিত
পদক্ষেপের
অভাবে
খুলনা,
বরিশালসহ
পূর্ব
বাংলার
অন্যান্য
জেলায়
দুর্ভিক্ষে
মৃত্যু,
পূর্ব
বাংলায়
মুসলীম
লীগ
সরকারের
গণবিরোধী
কার্যকলাপ,
নিরপেক্ষ
নির্বাচন
অনুষ্ঠান
এবং
কাশ্মীর
সমস্যা
প্রভৃতি
তুলে
ধরেন।
পশ্চিম
পাকিস্তানে
এসব
বিষয়
রাজনীতিবিদ
ও
জনগণকে
জানানোর
জন্য
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিব
২২
মে
থেকে
২৩
জুন
(১৯৫২) পর্যন্ত
পশ্চিম
পাকিস্তানে
অবস্থান
করেন।
২৪
জুন
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিব
ঢাকায়
প্রত্যাবর্তন
করেন।
লাহোর
থেকে
১৩-৬-৫২-তে
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিব
মানিক
মিয়ার
কাছে
একটি
পত্র
লেখেন।
চিঠিতে
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিব
উল্লেখ
করেন,
পশ্চিম
পাকিস্তানের
লোককে
পূর্ব
বাংলার
জনসাধারণ
এবং
বাংলা
ভাষাসম্পর্কিত
তাদের
মধ্যে
ভুল
বোঝাবুঝি
ভাঙতে
পেরেছেন
বলে
জানান।
গোয়েন্দা
রিপোর্ট
থেকে
জানা
যায়,
২৪
জুন
শেখ
মুজিব
(১৯৫২) করাচি
থেকে
ঢাকায়
ফিরে
পরদিন
সকালে
মানিক
মিয়ার
ইত্তেফাক
অফিসে
আসেন
এবং
সেখানে
২
ঘণ্টা
অবস্থান
করেন।
এতে
স্পষ্ট
প্রতীয়মান
হয়
যে
বঙ্গবন্ধু
পশ্চিম
পাকিস্তান
সফরের
বিষয়
নিয়ে
মানিক
মিয়াকে
সব
বিষয়
অবহিত
করেছেন।
পূর্ব
বাংলার
বিভিন্ন
জেলায়
দুর্ভিক্ষ,
রাষ্ট্রভাষা
আন্দোলন,
মুসলিম
লীগ
সরকারের
অগণতান্ত্রিক
কার্যক্রমের
ফলে
জনসাধারণের
মধ্যে
ব্যাপক
ক্ষোভের
সৃষ্টি
হয়।
এ
সঙ্গে
১৯৫৩
সালে
সারা
পূর্ব
বাংলায়
একুশে
ফেব্রুয়ারি
উদযাপনের
মধ্য
দিয়ে
বিরোধী
রাজনৈতিক
দলগুলো
নতুনভাবে
উজ্জীবিত
হয়
এবং
মুসলিম
লীগকে
রাজনৈতিকভাবে
মোকাবেলা
করার
লক্ষ্যে
বিরোধী
রাজনীতিকদের
মধ্যে
ঐক্যবদ্ধ
আন্দোলনের
প্রয়োজনীয়তা
অনুভূত
হয়।
এমন
পরিস্থিতিতে
জনমতের
প্রবল
চাপে
১৯৫৩
সালের
১
আগস্ট
পূর্ব
বাংলার
মুখ্যমন্ত্রী
নূরুল
আমীন
১৯৫৪
সালের
ফেব্রুয়ারিতে
সাধারণ
নির্বাচন
অনুষ্ঠানের
ঘোষণা
দেন।
ক্ষমতাসীন
মুসলিম
লীগ
সরকারকে
ক্ষমতাচ্যুত
করার
জন্য
কৃষক
প্রজা
পার্টির
নেতা
এ
কে
ফজলুল
হক,
আওয়ামী
মুসলিম
লীগ
নেতা
হোসেন
শহীদ
সোহরাওয়াদী
ও
আবদুল
হামিদ
খান
ভাসানীর
নেতৃত্বে
গঠিত
হয়
মুসলিম
লীগবিরোধী
ঐক্যজোট।
ঐতিহাসিক
‘যুক্তফ্রন্ট’-এর
পূর্ণ
সমর্থনে
এগিয়ে
আসেন
তফাজ্জল
হোসেন
মানিক
মিয়া
ও
তার
সাপ্তাহিক
ইত্তেফাক।
তিনি
সাপ্তাহিক
ইত্তেফাককে
১৯৫৩
সালের
২৩
ডিসেম্বর
দৈনিকে
রূপান্তর
করেন।
মানিক
মিয়ার
দৈনিক
ইত্তেফাক
অচিরেই
যুক্তফ্রন্টের
একমাত্র
মুখপত্র
হিসেবে
সারা
পূর্ব
বাংলায়
ব্যাপক
জনপ্রিয়
হয়ে
ওঠে।
এ
জনপ্রিয়তা
পরবর্তীকালেও
অব্যাহত
থাকে
এবং
মুসলিম
লীগের
অগণতান্ত্রিক
কর্মকাণ্ডের
মুখোশ
উন্মোচনে
অগ্রণী
ভূমিকা
পালন
করে।
মানিক
মিয়া
যুক্তফ্রন্টের
পক্ষে
জনমত
সৃষ্টি
করতে
মোসাফির
ছদ্মনামে
দৈনিক
ইত্তেফাকে
‘রাজনৈতিক
মঞ্চ’ কলামে
ক্ষমতাসীন
মুসলিম
লীগের
শাসনের
ব্যর্থতা
তুলে
ধরেন।
মানিক
মিয়া
অসাধারণ
লেখনীর
মাধ্যমে
ও
মুসলিম
লীগের
অপপ্রচারের
জবাব
দিয়ে
দৈনিক
ইত্তেফাককে
পরবর্তী
সময়ে
জনসাধারণের
মুখপত্রে
পরিণত
করেন।
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিব
মানিক
মিয়া
ও
ইত্তেফাকের
ভূমিকা
মূল্যায়ন
করে
যথার্থ
বলেছেন,
‘পাকিস্তানের
বিশেষ
করে
পূর্ব
বাংলার
জনসাধারণের
জন্য
ইত্তেফাক
যা
করেছে
তা
কোনো
খবরই
দাবি
করতে
পারে
না।
এদেশ
থেকে
বিরুদ্ধ
রাজনীতি
মুছে
যেত
যদি
মানিক
মিয়া
এবং
ইত্তেফাক
না
থাকতো।
একথা
স্বীকার
না
করলে
সত্যের
অপলাপ
করা
হবে।
১৯৫৮
সালে
মার্শাল
ল
জারি
হওয়ার
পর
থেকে
হাজার
রকমের
ঝুঁকি
লইয়াও
তিনি
এদেশের
মানুষের
মনের
কথা
তুলে
ধরেছেন।’
এখানে
উল্লেখ
করা
প্রয়োজন,
প্রথম
থেকে
মওলানা
আবদুল
হামিদ
খান
ভাসানী,
আতাউর
রহমান
খান,
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিব
মুসলিম
লীগের
বিরুদ্ধ
দলগুলো
নিয়ে
যুক্তফ্রন্ট
করার
বিপক্ষে
ছিলেন।
আর
যুক্তফ্রন্ট
গঠনের
পক্ষে
নেতৃত্বে
ছিলেন
অ্যাডভোকেট
আবদুস
সালাম
ও
ময়মনসিংহ
জেলা
আওয়ামী
লীগের
সেক্রেটারি
হাশিমউদ্দিন।
এদের
একমাত্র
উদ্দেশ্য
ছিল
মুসলিম
লীগকে
পরাজিত
করে
ক্ষমতা
লাভ
করা।
অন্যদিকে
বঙ্গবন্ধুর
স্পষ্ট
কথা,
‘যাদের
আদর্শ
নাই,
নীতি
নাই,
দলছুট
একদল
লোককে
নিয়ে
ঐক্যবদ্ধ
হয়ে
যুক্তফ্রন্ট
গঠন
করে
লাভ
নেই।
কেননা
ক্ষমতায়
যাওয়া
যেতে
পারে,
তবে
জনসাধারণের
জন্য
কিছুই
করা
সম্ভব
হবে
না,
আর
এ
ক্ষমতা
বেশী
দিন
থাকবেও
না।’
এর
মধ্যে
গণসংযোগের
জন্য
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমান
কুষ্টিয়া
থেকে
ফিরে
দেখেন
যে
যুক্তফ্রন্ট
গঠন
করা
হয়ে
গেছে।
এ
ব্যাপারে
মওলানা
আবদুল
হামিদ
খান
ভাসানীর
কাছে
জানতে
চাইলে
তিনি
শেষ
মুজিবকে
বলেন,
‘দেখ
মুজিব
আমি
যুক্তফ্রন্টে
দস্তখত
করতে
আপত্তি
করেছিলাম
তুমি
ফিরে
না
আসা
পর্যন্ত;
আতাউর
রহমান
ও
মানিককে
আমি
বললাম
যে
মুজিব
সাধারণ
সম্পাদক
আওয়ামী
লীগের,
তার
সাথে
পরামর্শ
না
করে
আমি
কোনো
সিদ্ধান্ত
নিতে
পারি
না।
আতাউর
রহমান
ও
মানিক
বলল
যে
তারা
দুইজনে
তোমার
দায়িত্ব
নিল।
আমরা
যা
করব
মুজিব
তা
মেনে
নেবে।
তাই
হক
সাহেব
যখন
আমার
কাছে
এসে
আমাকে
অনুরোধ
করলেন,
তখন
আমি
দস্তখত
করতে
বাধ্য
হলাম।’ তবে
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিব
হোসেন
শহীদ
সোহরাওয়ার্দীর
অনুপস্থিতিতে
এবং
ঐক্যফ্রন্ট
না
করার
ব্যাপারে
পূর্বের
সিদ্ধান্ত
থেকে
সরে
আসায়
অসন্তুষ্টি
প্রকাশ
করেন।
তবে
তিনি
বলেন,
‘যখন
আতাউর
রহমান
খান
ও
মানিক
ভাই
আমার
ভার
নিয়েছেন
দাবি
করে,
তখন
তাদের
কথা
আমি
ফেলি
বা
কেমন
করে।
এতে
দেশের
যদি
মঙ্গল
হয়
ভাল।
আর
যদি
ক্ষতি
হয়
আপনারাই
দায়ী
হবেন,
আমি
তো
পার্টির
সেক্রেটারি
ছাড়া
আর
কিছুই
না।
আপনারা
নেতা,
যখন
যুক্তফ্রন্ট
করেছেন,
এখন
যাতে
তা
ভালভাবে
চলে
তার
বন্দোবস্ত
করুন।’ এ
থেকে
প্রতীয়মান
হয়
যে
আতাউর
রহমান
খান
ও
আবদুল
হামিদ
খান
ভাসানীর
নেতৃত্বের
প্রতি
আস্থা
এবং
বড়
ভাই
মর্যাদায়
সিক্ত
মানিক
মিয়ার
প্রতি
শ্রদ্ধা
রেখে
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিব
যুক্তফ্রন্ট
গঠন
করার
সিদ্ধান্ত
মেনে
নিতে
দ্বিমত
করেননি।
এতে
রাজনীতিতে
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবের
ধৈর্য
ও
বিচক্ষণতার
পরিচয়
মেলে।
এক্ষেত্রে
তফাজ্জল
হোসেন
মানিক
মিয়া
সম্পর্কে
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবের
নিজের
মন্তব্য
প্রণিধানযোগ্য:
‘অনেক
সময়
আমার
সাথে
মতের
অমিল
হয়েছে।
গালাগালি
ও
রাগারাগি
করেছেন,
কিন্তু
অন্য
কেহ
আমাকে
কিছু
বললে
আর
রক্ষা
নাই,
ঝাঁপাইয়া
পড়েন।
আমাকে
তিনি
অত্যধিক
স্নেহ
করেন।
আমিও
তাকে
বড়
ভাইয়ের
মতো
শ্রদ্ধা
করি।
কোনো
কিছুতেই
আমি
সিদ্ধান্ত
নিতে
না
পারলে
তার
কাছে
ছুটে
যাই।
তিনিই
আমাকে
সঠিক
পথ
দেখাইয়া
দেন।’
আগের
ঘোষণা
অনুসারে
১৯৫৪
সালের
১১
মার্চ
পূর্ব
বাংলার
প্রাদেশিক
আইনসভার
নির্বাচন
অনুষ্ঠিত
হয়।
নির্বাচনে
যুক্তফ্রন্ট
নিরঙ্কুশ
সংখ্যাগরিষ্ঠতা
অর্জন
করে।
আর
ক্ষমতাসীন
মুসলিম
লীগ
শোচনীয়ভাবে
পরাজিত
হয়।
যুক্তফ্রন্ট
নেতা
শেরেবাংলা
এ
কে
ফজলুল
হক
মুখ্যমন্ত্রী
হিসেবে
শপথ
গ্রহণ
করেন।
প্রথমে
(৩ এপ্রিল
১৯৫৪)
মুখ্যমন্ত্রীসহ
মন্ত্রিসভার
চার
সদস্য
এবং
পরে
(১৫ মে
১৯৫৪)
আরো
১০
জনকে
যুক্ত
করে
১৪
সদস্যবিশিষ্ট
মন্ত্রিসভা
গঠন
করা
হয়।
সম্প্রসারিত
মন্ত্রিসভায়
শেখ
মুজিবুর
রহমান
কৃষি
ও
বন
মন্ত্রণালয়ের
দায়িত্বপ্রাপ্ত
হন।
সম্প্রসারণের
মাত্র
১৫
দিন
পর
অর্থাৎ
৩০
মে
(১৯৫৪) নারায়ণগঞ্জের
আদমজী
পাটকলে
বাঙালি-অবাঙালি
শ্রমিকের
রক্তক্ষয়ী
দাঙ্গার
(১৫ মে
১৯৫৪)
জন্য
যুক্তফ্রন্ট
সরকারকে
দায়ী
করে
কেন্দ্রীয়
সরকার
ষড়যন্ত্রের
মাধ্যমে
১৯৩৫
সালের
ভারত
শাসন
আইনের
৯২ক
ধারা
প্রয়োগ
করে
যুক্তফ্রন্ট
মন্ত্রিসভা
বাতিল
করে
গভর্নরের
শাসন
জারি
করে।
মাত্র
৫৬
দিন
আয়ুষ্কালের
যুক্তফ্রন্ট
মন্ত্রিসভা
বাতিলের
সঙ্গে
সঙ্গে
শেখ
মুজিবুর
রহমানসহ
কয়েক
হাজার
নেতাকর্মীকে
গ্রেফতার
করা
হয়।
১৯৫৪-৫৮
সালের
মধ্যে
পূর্ব
বাংলায়
কয়েক
দফায়
মন্ত্রিসভা
রদবদল
হয়।
এ
সময়
নানা
ষড়যন্ত্র,
শাসকশ্রেণীর
মধ্যকার
দ্বন্দ্ব
বিরোধ,
দুর্নীতি,
আমলাতন্ত্রের
দৌরাত্ম্য,
কেন্দ্র
ও
প্রদেশে
বারবার
সরকার
পরিবর্তন
রাজনীতিতে
ভয়ংকর
ও
অস্বস্তিকর
অবস্থার
সৃষ্টি
হয়।
এরূপ
পরিস্থিতিতে
২৪
জুন
১৯৫৮
পূর্ব
পাকিস্তানে
গভর্নরের
শাসন
জারি,
৭
অক্টোবর
১৯৫৮
প্রেসিডেন্ট
ইস্কান্দর
মীর্জা
কর্তৃক
সমগ্র
পাকিস্তানে
সামরিক
শাসন
জারি
করার
সঙ্গে
সঙ্গে
রাজনৈতিক
নেতাকর্মীদের
গণগ্রেফতার
শুরু
হয়।
১৯৫৮
সালের
১১
অক্টোবর
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবকে
গ্রেফতার
করে
ঢাকা
কেন্দ্রীয়
কারাগারে
বন্দি
করে
রাখে।
এ
সময়ে
মানিক
মিয়ার
দৈনিক
ইত্তেফাক
ব্যতীত
পূর্ব
পাকিস্তান
থেকে
প্রকাশিত
প্রায়
সব
পত্রিকা
দেশের
রাজনৈতিক
নেতাদের
ব্যর্থতার
কারণে
সামরিক
বাহিনী
ক্ষমতা
গ্রহণে
বাধ্য
হয়েছে
বলে
সামরিক
বাহিনীকে
‘ত্রাতা’ হিসেবে
অভিহিত
করে।
অন্যদিকে
দৈনিক
ইত্তেফাক
সম্পাদকীয়তে
আকারে
ইঙ্গিতে
সামরিক
বাহিনীর
সমালোচনা
করতে
থাকে।
দৈনিক
ইত্তেফাকের
এ
ব্যতিক্রমী
ভূমিকা
সামরিক
কর্তৃপক্ষের
দৃষ্টি
এড়ায়নি।
১৯৫৯
সালের
২৮
সেপ্টেম্বর
সামরিক
আইন
লঙ্ঘনের
অভিযোগ
এনে
দৈনিক
ইত্তেফাক
সম্পাদক
তফাজ্জল
হোসেন
মানিক
মিয়াকে
গ্রেফতার
করা
হয়।
পরদিন
কোর্টে
জামিনের
দরখাস্ত
নামঞ্জুর
করলে
মানিক
মিয়াকে
ঢাকা
কেন্দ্রীয়
কারাগারে
পুরনো
২০
নম্বর
সেলে
বন্দি
করে
রাখা
হয়।
২০
নম্বর
সেলের
পাশে
‘দেওয়ানী’ বলে
কথিত
সেলে
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিব
নিরাপত্তা
বন্দি
হিসেবে
একাই
অবস্থান
করছেন।
তিনি
রাতেই
তফাজ্জল
হোসেন
মানিক
মিয়ার
গ্রেফতারের
খবর
পেয়েছিলেন
এবং
এ
জানতে
পেরেছিলেন
যে
তাকে
পাশেই
২০
নম্বর
সেলে
রাখা
হয়েছে।
এ
বিষয়ে
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিব
সকালে
এক
‘ফালতু’র
দ্বারা
মানিক
মিয়ার
জন্য
এক
মগ
গরম
চা
পাঠান
এবং
গরমে
রাত্রে
ঘুম
হয়নি
জানতে
পেরে
মানিক
মিয়ার
জন্য
একখানা
হাতপাখাও
পাঠালেন।
এ
থেকে
অনুভব
করা
যায়
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিব
ও
মানিক
মিয়া
উভয়ের
সম্পর্ক
কত
আন্তরিক
ও
গভীর
ছিল।
সামরিক
আদালত
অনেক
চেষ্টা
করেও
মানিক
মিয়ার
বিরুদ্ধে
আনা
অভিযোগ
প্রমাণ
করতে
ব্যর্থ
হন।
ফলে
তিনি
জেল
থেকে
মুক্তি
পান।
মানিক
মিয়া
মুক্তি
পেয়ে
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবের
ওপর
নিরাপত্তা
আইনের
ব্যাপক
প্রয়োগসহ
দুর্নীতি,
স্বজনপ্রীতি
প্রভৃতি
মিথ্যা
অভিযোগে
আনা
নয়টি
মামলা
থেকে
তাকে
মুক্ত
করার
মানসে
সচেষ্ট
হন।
হাইকোর্টের
বিচারে
বঙ্গবন্ধু
বেকসুর
মুক্তি
লাভ
করেন।
ফলে
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিব
দুই
বছরের
অধিক
জেলে
অবস্থান
শেষে
১৯৬০
সালের
৭
ডিসেম্বর
মুক্তি
পান।
বঙ্গবন্ধু
১৯৬০
সালে
জেল
থেকে
মুক্তি
পাওয়ার
পর
থেকে
বাংলাদেশ
স্বাধীন
করার
লক্ষ্যে
ছাত্রনেতাদের
নিয়ে
গোপন
সংগঠন
গঠন
করা,
গোপনে
ভারতের
তত্কালীন
সরকারপ্রধান
জওহরলাল
নেহরুর
সঙ্গে
যোগাযোগের
পরিকল্পনা
ও
পূর্ব
বাংলার
স্বায়ত্তশাসন
আন্দোলনসহ
সব
গণআন্দোলনে
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবের
সঙ্গে
মানিক
মিয়া
প্রত্যক্ষভাবে
জড়িত
ছিলেন।
বাংলাদেশের
স্বাধীনতা
সংগ্রাম
তথা
জাতীয়
মুক্তি
সংগ্রামে
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমান
ও
তফাজ্জল
হোসেন
মানিক
মিয়া
ছিলেন
যেন
মানিকজোড়।
বঙ্গবন্ধু
যেমন
একদিকে
মাঠে-ময়দানে
সভা-সমিতি,
বক্তৃতা-বিবৃতির
মাধ্যমে
তত্কালীন
পূর্ববঙ্গের
সাধারণ
মানুষকে
তাদের
চাওয়া-পাওয়া,
অধিকার,
বঞ্চনা,
শোষণের
বিরুদ্ধে
সচেতন
করে
এক
কাতারে
দাঁড়
করিয়ে
অন্ন,
বস্ত্র,
শিক্ষা,
স্বাস্থ্য,
বাসস্থান
প্রভৃতি
মৌলিক
সমস্যা
সমাধান
এবং
সোনার
বাংলা
গড়ার
প্রত্যয়
নিয়ে
জাতিকে
ঐক্যবদ্ধ
হয়ে
আত্মনিয়োগের
জন্য
উদ্বুদ্ব
করে
বাংলাদেশের
মুক্তি
সংগ্রামের
পথ
নির্দেশ
করেছেন,
অন্যদিকে
মানিক
মিয়া
একজন
সফল
সাংবাদিক
হিসেবে
বঙ্গবন্ধুর
সঙ্গে
হাতে
হাত
মিলিয়ে
দৈনিক
ইত্তেফাকের
মাধ্যমে
ভাষা
আন্দোলন,
চুয়ান্নর
যুক্তফ্রন্ট
নির্বাচন,
বাষট্টির
জাগরণ,
পঁয়ষট্টিরর
গণতন্ত্র
প্রতিষ্ঠার
সংগ্রাম,
ছেষট্টির
ছয়
দফা
ও
স্বায়ত্তশাসন,
ঊনসত্তরের
গণঅভ্যুত্থানসহ
সব
গণতান্ত্রিক
আন্দোলনকে
এগিয়ে
নিতে
লেখনীর
মাধ্যমে
জাতিকে
উদ্বুদ্ধ
করেছেন।
ড. সুনীল কান্তি দে: সাবেক অধ্যাপক ও ডিন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়





