দেশের ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি এখন কেমন?

দেশের ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের সার্বিক অবস্থা খুব যে ভালো এটা বলা যাবে না। কয়েকটি ব্যাংকে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন ও আস্থাহীনতা সৃষ্টি করেছে। তবে এ আস্থাহীনতা ইসলামিক ব্যাংক ব্যবস্থার প্রতি নয়, বরং সুশাসনের অনুপস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর প্রতিই বলে আমার অভিমত। আমি মনে করি এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সব ইসলামী ব্যাংক, গ্রাহক, শরিয়াহ স্কলার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি আর সৃষ্টি না হয় এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সম্ভাবনার তুলনায় দেশে ইসলামী ব্যাংকিং কতটুকু এগিয়েছে বলে মনে করছেন?

৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে ইসলামী ব্যাংকিং এখনো খুব বেশি এগিয়েছে বলে আমার মনে হয় না। ধর্মপ্রাণ এ জনগোষ্ঠীর অনেকেই এখনো এ যুগে ব্যাংকিং পরিষেবার বাইরে। আবার যারা ব্যাংকিং পরিষেবার মধ্যে আছেন তাদের কাছেও ইসলামী ব্যাংকিং এখনো মূলধারার ব্যাংকিং হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২০২৪ রিপোর্ট অনুযায়ী ৬২টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ১০টি ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ, এর পাশাপাশি ২৯টি প্রচলিত ব্যাংক ইসলামিক ব্যাংকিং সার্ভিস প্রদান করছে। টোটাল ব্যাংকিং ডিপোজিটের ২৩.৩৭ শতাংশ ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের, লোন বা বিনিয়োগের ২৪.৯৫ শতাংশ ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের। সুতরাং এ দেশের ইসলামিক ব্যাংকিং সম্ভাবনার পুরোপুরি এখনো কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের ব্যাপ্তি আরো বাড়বে বলে আমি মনে করি। এর জন্য শরিয়াহ পরিপালন নিশ্চিত করে সামগ্রিকভাবে দেশের জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

গত বছরের শেষের দিকে ইসলামী ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের আমানত তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। বর্তমানে এ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি?

বেশ কয়েকটি ইসলামিক ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের আমানত তুলে নেয়ার যে প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছিল তা রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে মনে হয়। গ্রাহকদের আস্থা আরো বাড়াতে পারলে আমানত তুলে নেয়ার প্রবণতা বহুলাংশে কমে যাবে বলে আমি মনে করি।

আপনার ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি কেমন?

বিগত বছরের শেষার্ধে ইবিএল ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং জগতে ইবিএলের যে ইমেজ ও খ্যাতি রয়েছে, তার ফলে এর ইসলামিক ব্যাংকিংয়েও ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের কোনো তারল্য সংকট নেই। বরং বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত ব্যবস্থার অধীনে আমরা অন্যান্য ইসলামী ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দিচ্ছি।

বর্তমানে কোন খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে?

করপোরেট ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে ইবিএল একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। পাশাপাশি এর রয়েছে শক্তিশালী ট্রেড, এসএমই, রিটেইল ব্যবসা। ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে আমরা সব সেক্টরকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। রিটেইল ব্যাংকিং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্স এবং ইসলামিক অটোফাইন্যান্সের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তবে করপোরেট ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনমুখী শিল্পকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

আপনার ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাই।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে ইস্টার্ন ব্যাংক যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে, ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা প্রদানের মাধ্যমেও আমরা সেই শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে চাই। কমপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রে আমাদের ব্যাংকের যে সুখ্যাতি রয়েছে শরিয়াহ কমপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রে সে সুখ্যাতি আমরা অর্জন করতে চাই। আমরা চাই ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলো ইন্ডাস্ট্রিতে দৃষ্টান্তমূলক হোক।