আমাদের এখানে আইভিএফ সেন্টার চালু হয়েছে ২০০৬ সালে। সিঙ্গাপুরের একটি দক্ষ টিম দিয়ে আইভিএফ ল্যাবটা তৈরি হয়েছে। আইভিএফের যাবতীয় সব সেবাই এখানে দেয়া হয়ে থাকে। আমরা এখানে সিমিন অ্যানালাইসিস করি। তারপর এজ স্পার্ম পেশেন্টের জন্য টেসা-পেসা করা হয়। ইনফার্টিলিটি পেশেন্টদের ওভুলেশন ইনডাকশন ড্রাগ দেয়া হয়। আইইউআই করা হয়। আইভিএফ যেটা টেস্ট বেবি বলে সবাই জানে সেটা করা হয়। তারপর ওভারিয়ান টিস্যু প্রিজার্ভ করা হয়। কিছু রোগী যারা সেলিব্রিটি যারা এখন সন্তান নিতে চাচ্ছেন না বা পরবর্তী সময়ে নেবেন অথবা ক্যামিওথেরাপি পাবেন সেসব রোগীর আমরা ডিম প্রিজার্ভ করে রাখি ফিউচারে ইউজ করার জন্য। আমাদের সাকসেস রেট সব সেন্টারের মতোই ৩০-৩৫ শতাংশ।
বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষই জানে না যে বাংলাদেশে টেস্টটিউব বেবি ও ইনফার্টিলিটির চিকিৎসা করা হয়। বেশির ভাগ রোগী সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, ইন্ডিয়ায় চলে যান চিকিৎসা করানোর জন্য। সেক্ষেত্রে আমাদের সরকার থেকে কিছু উদ্যোগ নেয়া দরকার যাতে মানুষ জানতে পারে আমাদের এখানে/আমাদের দেশেও আইভিএফ হয়। বাংলাদেশে এখন অনেক আইভিএফ সেন্টার তৈরি হয়েছে। মোটামুটি ২০-২৫টি সেন্টার আছে। ঢাকার মধ্যেও আছে আবার ঢাকার বাইরেও আছে। আগে যেমন রোগীদের ঢাকায় আসতে হতো, এখন আসতে হয় না। বাংলাদেশের বড় বড় শহর যেমন চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জায়গায় আইভিএফ সেন্টার গড়ে উঠেছে। সেক্ষেত্রে সরকারি কিছু উদ্যোগ আছে। সরকারি খাতেও কিছু আইভিএফ সেন্টার তৈরি করা দরকার। তাতে আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীরা উপকৃত হবেন। কারণ এখানে যে ইনজেকশনটা ব্যবহার করা হয় তা অনেক দামি এবং চিকিৎসায় যেসব জিনিসপত্র ব্যবহার করা হয় তাও খুব এক্সপেনসিভ। সরকার যদি উদ্যোগ নেয় তাহলে অসচ্ছল রোগীদের কিছু ফ্যাসিলিটি দিতে পারবে যেটা আমরা বেসরকারি খাতে পারছি না। সেক্ষেত্রে আমাদের রোগী বাড়বে এবং বাইরের দেশে রোগী যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারব। আর কিছু দালাল রয়েছে যারা বিভিন্ন সেন্টারে সেন্টারে ঘুরে রোগীদের খুঁজে বাইরের দেশে নিয়ে যায়। সেটা প্রতিরোধ করতে হবে সরকার থেকে। সরকার থেকে কিছু রুলস রেগুলশন তৈরি করতে হবে। আইভিএফের জন্য দেশের বাইরে চলে যাওয়াটা বন্ধ করতে হবে। তবে বন্ধ্যাত্বের কারণ অনুযায়ী ধাপে ধাপে আলাদা চিকিৎসা আছে। যখন ইয়ং পেশেন্ট আসবে তাদের ক্ষেত্রে এক রকম, এডাল্ট পেশেন্ট হলে এক রকম, স্টেপ বাই স্টেপ ট্রিটমেন্ট আলাদা আছে। শুরুর দিকে রোগীকে মুখে খাওয়ার ওষুধ দিয়ে ডিম বড় করার চেষ্টা করা হয়, সেক্ষেত্রে না হলে তাকে ইনজেকশন দেয়া হয়। হাজব্যান্ডের স্পার্ম টেস্ট করে দেখা হয়। তাদের কী কী ট্রিটমেন্ট লাগবে তা দেয়া হয়। কিছু রোগী আছে যাদের স্পার্মের সমস্যা, তৈরি হচ্ছে, বের হতে পারছে না বা প্রোডাকশনে সমস্যা সেক্ষেত্রে প্রসিডিউর আছে। সেটাকে টেসা-পেসা বলা হয়। অপারেশনের মাধ্যমে স্পার্ম বের করে নিয়ে আসা হয়। আবার তা পেশেন্টের ডিমের সঙ্গে প্রসেস করে তৈরি করে বুনে দেয়া হয়।
উন্নত বিশ্বে যে ধরনের সেবা দেয়া হয় এর সব ধরনের সেবা এখানে রয়েছে। শুধু হচ্ছে সেক্স সিলেকশন যেটা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ায় হয়, ওটা আমাদের এখানে হয় না, মুসলিম কান্ট্রি দেখে আমরা ইন্টারেস্টেড না আর কি।
ডা. সায়লা সিরাজ
এম্ব্রায়োলজিস্ট
স্কয়ার হাসপাতাল










