আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় অংকের বরাদ্দ পেতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়। বাজেটে ইসির জন্য মোট ১ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে।

আগের বাজেটে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ইসি সচিবালয়ের জন্য মোট ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় আগামী অর্থবছরেরটিতে বরাদ্দ বেড়েছে ৮২৫ কোটি টাকা।

বাজেট উত্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ইসি সচিবালয়ের জন্য পরিচালন ব্যয় বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের প্রস্তাবনায় এটি ৩০৮ কোটি টাকা রাখার কথা বলা হয়েছিল। সে হিসাবে এবারের বাজেট প্রস্তাবনায় ইসি কমিশনের জন্য বরাদ্দ বেড়েছে ১ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরের জন্য ইসি সচিবালয়ের অধীনে উন্নয়ন ব্যয় বাবদ প্রস্তাবিত বরাদ্দের পরিমাণ কমেছে অনেকখানি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ বাবদ ৭৬২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবনা রেখেছিলেন অর্থমন্ত্রী। অন্যদিকে গতকাল উত্থাপিত প্রস্তাবনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য তা ২১০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। সে হিসাবে আগামী অর্থবছরের জন্য ইসি সচিবালয়ের অধীনে উন্নয়ন ব্যয় বাবদ প্রস্তাবিত বরাদ্দের পরিমাণ কমেছে ৫৫২ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী চলতি অর্থবছরের বাজেটে ইসি সচিবালয়ের অধীনে মোট ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় বাবদ সংশোধিত বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৪৮ কোটি টাকায়। উন্নয়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংশোধিত বরাদ্দ ধরা হয় ৬০৫ কোটি টাকা।

প্রসঙ্গত, এর আগে দশম সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ইসি সচিবালয়ের অধীনে মোট ১ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। আগামী অর্থবছরেও নির্বাচনকে সামনে রেখে অতিরিক্ত বরাদ্দ পাচ্ছে ইসি।

ইসি সচিবালয় জানায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ। ভোটকেন্দ্র থাকতে পারে মোট ৪০ হাজার। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও রিটার্নিং অফিসার মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখের মতো লোক এবার ভোটগ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকতে পারেন। এছাড়া ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, নির্বাচনী সামগ্রী, পরিবহন, জ্বালানিসহ নির্বাচন পরিচালনার জন্য ব্যয়ের অন্তত ৬০-৭০টি খাত রয়েছে।