টাকার পরিমাণ বাড়লেও আগামী অর্থবছর মোট বাজেটের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ কমছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে মোট বাজেটের ৫ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের (২০১৭-১৮) বাজেট প্রস্তাবনায় এ হার ছিল ৫ দশমিক ১৬ শতাংশ।
স্বাস্থ্য খাতের দুটি বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ কমেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে। চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ৪ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবনায় তা কমে ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ হয়েছে। টাকার পরিমাণে চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বরাদ্দ ছিল ১৬ হাজার ১৮২ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় ১৮ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
গতকাল অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য পরিচালন ও উন্নয়ন খাতে মোট ২৩ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব করছি, চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে যা ছিল ২০ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। এ খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৩ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা।
এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পরিচালন ব্যয় ৯ হাজার ১১৮ কোটি টাকা ও উন্নয়ন ব্যয় ৯ হাজার ৪১ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের পরিচালন ব্যয় ৩ হাজার ১২৮ কোটি টাকা ও উন্নয়ন ব্যয় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে আমাদের লক্ষ্য হলো সবার জন্য সুলভে মানসম্মত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সেবা নিশ্চিত করা। মোট ২৯টি অপারেশনাল প্ল্যানের আওতায় ২০১৭-২২ মেয়াদে সেক্টরওয়াইড কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে মা ও শিশুর জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা, সবার জন্য মানসম্মত সাধারণ ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নতুন রোগ নিয়ন্ত্রণ, উন্নত ও দক্ষ ওষুধ খাত এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন করা হবে।
তিনি আরো বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রামীণ জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য দুই পর্যায়ে মোট ৯ হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এছাড়া আরো চার হাজার নার্স ও ৬০০ মিডওয়াইফ নিয়োগের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, রোগীদের মানসম্মত সেবা ও চিকিৎসকদের পেশাগত সুরক্ষা— উভয় বিষয়ের যৌক্তিকতা অনুধাবন করে আইনি কাঠামোয় সংস্কার আনছি। ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ বাতিল করে ‘চিকিৎসা সেবা আইন’ প্রণয়ন করছি। এছাড়া দেশের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ‘মানসিক স্বাস্থ্য আইন’ প্রণয়ন করা হচ্ছে।






