বিগত কয়েক বছরের মতো আসন্ন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটেও সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে। এবার উন্নয়ন বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। এর ২৬ দশমিক ৬ শতাংশই পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ৬ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করে প্রস্তাবিত বাজেটে যোগাযোগ খাতে মোট ৫৬ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বরাদ্দ মোট বাজেটের ১২ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরেও মোট বাজেটের ১২ দশমিক ২ শতাংশ বা ৫০ হাজার ৮০ কোটি টাকা পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ কমিয়ে করা হয় ৪৬ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা।

গতকাল জাতীয় সংসদে প্রদত্ত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বরাদ্দ প্রস্তাবনা পেশ করেন। অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন বরাদ্দ মিলিয়ে তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগে ২৪ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা, সেতু বিভাগে ৯ হাজার ১১৪ কোটি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ১৪ হাজার ৫৪২ কোটি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে ৩ হাজার ৫৩৭ কোটি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ১ হাজার ৫০৮ কোটি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে ৩ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন।

অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগে ১৯ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা, সেতু বিভাগে ৮ হাজার ৪৩০ কোটি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ১৬ হাজার ১৩ কোটি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে ২ হাজার ৭৩২ কোটি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ৬৮৭ কোটি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে ২ হাজার ৫২২ কোটি টাকা।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের কিছু পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১৪০ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ককে যথাযথ মানসম্পন্ন ও প্রশস্ত করতে ১০টি সড়ক জোনভিত্তিক ১০টি গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণ ও পর্যায়ক্রমে ৩ হাজার ৮১৩ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ককে চার বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীতকরণ। এছাড়া তিনি মহাসড়কের ক্ষতি রোধে ২০২১ সালের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ২৮টি স্থানে এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন স্থাপন করার ঘোষণা দেন।

রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরীর অভ্যন্তরীণ সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, প্রবেশ ও নির্গমন মহাসড়কের যানজট নিরসন এবং ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পাঁচটি ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (মেট্রোরেল), দুটি বাস র্যাপিড ট্রানজিট, তিন স্তরবিশিষ্ট রিং রোড, আটটি রেডিয়াল সড়ক, ছয়টি এক্সপ্রেসওয়ে, ২১টি ট্রান্সপোর্টেশন হাব এবং ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বাস পরিবহন সেক্টর পুনর্গঠনের সংস্থান রয়েছে।