প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মোট ২৪ হাজার ৯২১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বরাদ্দের এ অর্থ বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ, পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্র সংস্কার ও জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গ্যাস অনুসন্ধানে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের বরাদ্দের মধ্যে সিংহভাগ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য। নতুন অর্থবছরে শুধু বিদ্যুৎ খাতের জন্য ২২ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৪ হাজার ৪২ কোটি টাকা বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ খাতের বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা।
বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ বাড়লেও কমেছে জ্বালানি বিভাগের। চলতি অর্থবছরের জন্য এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২ হাজার ২২৫ কোটি টাকা। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে সেখান থেকে ২৪০ কোটি টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য মোট ২১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। গতকাল উত্থাপিত বাজেটে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য তা আরো ৩ হাজার ৮০২ কোটি টাকা বাড়িয়ে ২৪ হাজার ৯২১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবনা দিয়েছেন তিনি।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার খাত। গত নয় বছরের বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ২৭ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৮। বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা তিন গুণ বেড়ে বর্তমানে ১৮ হাজার ৩৫৩ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমানে ১৫ হাজার মেগাওয়াটক্ষমতার আরো ৫৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের এসব প্রকল্প প্রস্তাবিত বাজেটে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে বনায়নসহ ঠাণ্ডা পানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের দূষিত বর্জ্য নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট উত্তরণে মহেশখালী ও পটুয়াখালীতে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে বর্তমানে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছি। এর বাইরে নেপাল, মিয়ানমার ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি ও ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।






