বাংলাদেশে ইউনাইটেড আইগ্যাসের যাত্রা শুরুর গল্পটা শুনতে চাই। এলপিজি খাতের ভবিষ্যৎকে কীভাবে দেখেন?

আমি আমাদের যাত্রা দিয়ে শুরু করি। আইগ্যাস তুরস্কে ৬৫ বছরের পুরনো একটি এলপিজি কোম্পানি এবং কোম্পানিটি তুরস্কে এ খাতের মার্কেট লিডার। আইগ্যাস ‘কোচ গ্রুপ’-এর একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এবং কোচ গ্রুপ এ বছর তার ১০০তম বার্ষিকী উদযাপন করছে। কোচ গ্রুপ একাধিক শিল্প খাতে ব্যবসা পরিচালনা করে এবং এটি ফরচুন ৫০০ তালিকাভুক্ত তুরস্কের একমাত্র কনগ্লোমারেট। ফোর্ডের সঙ্গে আমাদের যৌথ ব্যবসা রয়েছে। আমরা গাড়ি, ট্রাক এবং বাণিজ্যিক যানবাহন তৈরি করি। ফিয়াট স্টেলান্টিসের সঙ্গেও আমাদের যৌথ ব্যবসা রয়েছে, যার মাধ্যমে আমরা গাড়ি ও যানবাহন তৈরি করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করি। বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড কেইস আইএইচ ও নিউ হল্যান্ডের সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চারে তুরস্কে বড় ট্রাক্টর তৈরি করি। আবার দক্ষিণ কোরিয়ার এলজির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আমরা এয়ার কন্ডিশনার উৎপাদন করি। আমাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আর্চেলিক, সিঙ্গার বাংলাদেশ অধিগ্রহণের মাধ্যমে এখন বাংলাদেশের ভোক্তাদের কাছে সিঙ্গার-বেকো—দুটি ব্র্যান্ডই পৌঁছে দিচ্ছে। সুতরাং, কোচ গ্রুপ আন্তর্জাতিকভাবে একটি অত্যন্ত সুপরিচিত গ্রুপ, যাদের তুরস্ক এবং দেশটির বাইরে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে।

এলপিজি ব্যবসার জন্য আমরা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দিকে নজর দিয়েছিলাম—আফ্রিকা, ভারত এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশ। যেমন ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের এ প্রক্রিয়ায় অবশ্যই বাংলাদেশও ছিল। বাংলাদেশ হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এলপিজি দেশগুলোর একটি। এছাড়া এখানকার বাজারটি বেশ উদার, যার অর্থ হলো—বাংলাদেশের রেগুলেটরি অথরিটি বেসরকারি খাতের ওপর আস্থা রাখে এবং নিজে একজন নিয়ন্ত্রক হিসেবে ভূমিকা পালন করে, যা অত্যন্ত জরুরি।

সেই কারণেই আমরা আমাদের প্রথম বৈদেশিক বিনিয়োগের স্থান হিসেবে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নিই। তবে এখানে আসার আগে আমরা একজন স্থানীয় অংশীদার চেয়েছিলাম। স্থানীয় অংশীদার খোঁজার সময় আমরা প্রথমে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বা এইচএসবিসির মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং কনসালট্যান্সি কোম্পানিগুলোর কাছে যাই। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সিইও নাসের এজাজ বিজয় আমাদের ইউনাইটেড গ্রুপের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। উভয় গ্রুপের মূল্যবোধ, নীতি, আদর্শ এবং ব্যবসায়িক নৈতিকতা সম্পর্কে জানার পর দুটি গ্রুপ একে অন্যের সঙ্গে চমৎকারভাবে মিলে যায়। এটি একটি দারুণ কম্বিনেশন ছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে আমরা যৌথ উদ্যোগে ব্যবসা শুরু করি। বাংলাদেশে এলপিজি খাতের সম্ভাবনার ওপর আমরা বিশ্বাস রাখি। কারণ এর বার্ষিক চাহিদা ও প্রবৃদ্ধি এ খাতে সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে এ বাজারে এলপিজির বার্ষিক চাহিদা ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন টন। আমরা আশা করছি, আগামী বছরগুলোতে এ আকার আড়াই থেকে তিন মিলিয়ন টনে পৌঁছবে। কারণ এটি বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সমস্যার সমাধান। বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান যখন উন্নতি হচ্ছে, তখন চিরাচরিত রান্নার পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে এলপিজিতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকার ঘরে এলপিজি ব্যবহার এখন স্বাভাবিক ব্যাপার, সেই সঙ্গে নিরাপদ ও আরামদায়ক জীবনযাত্রার সহযোগী।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতের যে আকার, তাতে এ প্রাকৃতিক গ্যাস যথেষ্ট নয়। ফলে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজি অন্যান্য খাতে জায়গা তৈরি করে নিচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলপিজি একটি অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করবে বলে আমি মনে করি। এ কারণেই আমরা এখানে এসেছি। আমরা আমাদের ৬৫ বছরের অভিজ্ঞতা এখানকার শিল্প, ভোক্তা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিইআরসি) সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। এ কারণেই বাংলাদেশের এলপিজি খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা খুবই আশাবাদী। আমরা যে গতিধারা বা প্রবণতা দেখছি এ খাতে, তা বেশ সম্ভাবনাময়।

এলপিজি আমদানিতে বিদ্যমান কর কাঠামোকে আপনি কীভাবে দেখেন?

আসলে অনেক দেশেই এলপিজি নিম্নআয়ের মানুষ ব্যবহার করে যা তাদের জন্য সাশ্রয়ী জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। সেখানকার এলপিজি খাত একটি শক্ত কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে বেসরকারি উদ্যোক্তারা এলপিজি খাতের প্রসার করেছে, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারী ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং রেগুলেটরি অথরিটি তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটছে এবং আমি বিশ্বাস করি এটিই সবচেয়ে সফল মডেল। তুরস্কের পরিস্থিতিও একই রকম। অবশ্যই রেগুলেটরি অথরিটির জনগণকে সেবা দিতে হলে রাজস্বের প্রয়োজন হয়। স্বভাবতই এখানে কিছু রাজস্ব আয়ের জন্য শুল্ক-করের বিষয়গুলো থাকবে, তবে সমাজ ও জনগণের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ এ দাম সমন্বয় করবে। সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ আমদানি পর্যায়ে ভ্যাটের বিষয়ে কিছু পরিবর্তন এনেছে। এলপিজি আমদানি এরই মধ্যে কাস্টমস ডিউটি মুক্ত রাখা হয়েছে, যা একটি বড় সুবিধা। তাই আমি বিশ্বাস করি, কর কাঠামোর ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের জন্য যা প্রয়োজন সেটাই করছে।

যেহেতু এটি প্রায় ১ দশমিক ৭ বা দুই মিলিয়ন টনের একটি শিল্প, তাই জনগণকে সেবা দেয়ার সুবিধার্থে আমাদের রেগুলেটরি অথরিটিকে করের কাঠামোটি সেভাবেই সাজাতে হবে। অবশ্যই ট্যাক্স কম হলে এলপিজি পণ্যের দাম আরো কম হতে পারত। কিন্তু এ দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক গতিশীলতাও বুঝতে হবে এবং কর রাজস্বের প্রয়োজন রয়েছে।

এলপিজি মজুদ অবকাঠামোর বিষয়টি বারবার আলোচনায় আসছে। কারণ এটি ব্যয় কমাতে সহায়তা করে। বেসরকারি খাত এরই মধ্যে দেশে একটি শক্তিশালী বাজার গড়ে তুলেছে। অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে অপারেটররা কি আরো এগিয়ে আসতে পারে?

আসলে বাংলাদেশে এরই মধ্যে এলপিজি খাত সুষ্ঠুভাবে অপারেট করতে পর্যাপ্ত সক্ষমতা বা ধারণক্ষমতা তৈরি করে ফেলেছে। চট্টগ্রাম, ঢাকা ও মোংলা—এ তিন অঞ্চল একটি ত্রিভুজের মতো কাজ করছে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের কিছু স্যাটেলাইট প্লান্টসহ বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা অর্থনীতির জন্য এরই মধ্যে ভালো বিনিয়োগ করেছেন। এখন আমাদের কী প্রয়োজন? আমাদের আমদানিতে দক্ষতা বাড়াতে হবে। দক্ষতা বলতে আমি যেটা বোঝাতে চাইছি, তা হলো বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরের গভীরতা তুলনামূলকভাবে কম। এটি এলপিজি অপারেটরদের পণ্য আমদানি-খালাসে বাধা তৈরি করছে। বড় জাহাজে পণ্য আনলেও নদীর গভীরতা কম থাকায় বাধ্য করে ছোট ছোট জাহাজে পণ্য আনতে হচ্ছে, গভীর সমুদ্রে বড় জাহাজ থেকে ‘শিপ-টু-শিপ’ মাধ্যমে পণ্য খালাস করতে হচ্ছে, যা পণ্যের ল্যান্ডেড কস্ট (আমদানি খরচ) বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ খাতে দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পণ্য আমদানিতে ব্যয় কমাতে হবে।

আমরা চট্টগ্রাম বন্দরে যা করার চেষ্টা করছি তা হলো, সেখানে আমাদের ১৬ হাজার টন ধারণক্ষমতার স্টোরেজ ক্যাপাসিটি রয়েছে, যা দেশের একক কোনো টার্মিনাল বা সামগ্রিক দিক বিবেচনায় সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার স্টোরেজ। এছাড়া ঢাকায় আমাদের তিন হাজার টন স্টোরেজ সক্ষমতা রয়েছে, অর্থাৎ মোট ১৯ হাজার টনের স্টোরেজ ক্ষমতা। আমাদের লক্ষ্য হলো বড় জাহাজ নিয়ে আসা, যাতে আমদানিতে দক্ষতা তৈরি হয় এবং খরচ কমে আসে। খরচ কমানোর মাধ্যমে আমরা বর্তমানে যেভাবে কাজ করছি, ঠিক সেভাবেই গ্রাহকদের সেরা ও সাশ্রয়ী মূল্য দেয়ার চেষ্টা করছি।

01

স্টোরেজ ও অবকাঠামোগত সক্ষমতার দিক থেকে কি বলা যায় যে ইউনাইটেড আইগ্যাস এ খাতে দেশের মার্কেট লিডার?

হ্যাঁ, ইউনাইটেড আইগ্যাস বর্তমানে এ খাতে সর্বোচ্চ সক্ষমতার অধিকারী। বর্তমানে আমাদের ১৯ হাজার টন স্টোরেজ সক্ষমতা রয়েছে। আমরা চট্টগ্রাম ও রূপগঞ্জ প্লান্টে আরো আট হাজার টন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ করব। পাশাপাশি মোংলা প্লান্টেও বিনিয়োগ করব, সেখানে আরো পাঁচ হাজার থেকে সাত হাজার টন সক্ষমতা তৈরি হবে। এর ফলে আমাদের মোট সক্ষমতা ৩৪ হাজার টনে পৌঁছবে।

এলপিজির ব্যবহার ও এ খাতের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি বড় আকারে সামনে আসছে। মান ও নিরাপত্তার বিষয়ে ইউনাইটেড আইগ্যাস কী ধরনের কাজ করছে?

আমরা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করি, যা আইগ্যাস ৬৫ বছর ধরে মেনে চলছে। এটি ধারাবাহিক একটি প্রক্রিয়া, এ সংস্কৃতি গড়ে তোলা এত সহজ নয়। আমাদের কার্যক্রমের একেবারে শুরু থেকেই আমরা নিরাপত্তার বিষয়ে জোর দিয়েছি। সচেতনতা তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ করে আসছি। যখন নিরাপত্তা ও সচেতনতা সৃষ্টিতে কেউ অর্থ বিনিয়োগ করতে চাইছিল না, তখন আমরা টিভিতে তথ্য ও সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন প্রচার করেছি। কীভাবে এলপিজি সিলিন্ডার বহন করতে হয়, কীভাবে এলপিজি ব্যবহারের জায়গাগুলোতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হয়, কীভাবে নিরাপদ রেগুলেটর ও হোস পাইপ ব্যবহার করতে হয় এবং কত ঘন ঘন সেগুলো পরিবর্তন করা প্রয়োজন সেগুলো বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেখিয়েছি। এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ বাজারে আমরা যেসব দুর্ঘটনা দেখি, তার ৯৫ শতাংশেরও বেশি ঘটে নিম্নমানের সরঞ্জাম, নিম্নমানের রেগুলেটর বা হোস পাইপের কারণে, যা মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমরা গ্রাহকদের ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ডের রেগুলেটর এবং হোস পাইপ ব্যবহার করতে এবং সেগুলো নিয়মিত পরিবর্তন করতে উৎসাহিত করছি। পাইপের জন্য তিন বছর এবং রেগুলেটরের জন্য ১০ বছর, যাতে এলপিজি ব্যবহারে ঘরে আরো নিরাপদ থাকা যায় এবং এর জন্য আমরা বিনিয়োগ করছি। আমরা ক্যাম্পেইন করছি, মানুষকে জানাচ্ছি এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। নিরাপত্তা সবসময়ই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল এবং আমরা এভাবেই কাজ করে যাব।

ইউনাইটেড আইগ্যাস যেসব অটোগ্যাস স্টেশনের সঙ্গে কাজ করছে, সেগুলোতে নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করতে কী করছে?

তুরস্কে আমাদের তিন থেকে সাড়ে তিন মিলিয়ন টনের একটি অটোগ্যাসের বাজার রয়েছে এবং এটি দক্ষিণ কোরিয়া, ইউক্রেন, রাশিয়া ও জাপানের মতো বিশ্বের শীর্ষ তিনটি বড় অটোগ্যাস বাজারের একটি। তুরস্কে ১৭ মিলিয়ন গাড়ির মধ্যে ৫ দশমিক ২ মিলিয়ন গাড়ি এলপিজিতে চলে। এটি যেমন পরিচ্ছন্ন, তেমনি সস্তা ও কার্যকর।

সুতরাং, বাংলাদেশে এলপিজি ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, আমরা বিশ্বাস করি এ রূপান্তর এখানেও ঘটবে। অটোগ্যাস স্টেশনগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়ম ও নিরাপত্তা মান বজায় রেখে নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ করবে, কারণ এলপিজিকে ভালো ও নিরাপদ অবস্থায় রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। প্রতিটি এলপিজি বা অটোগ্যাস স্টেশনের এটি অনুসরণ করা উচিত এবং আমাদের নিজস্ব একটি ‘আফটার সেলস সার্ভিস’ ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ শুরু করার আগে আমাদের প্রতিনিধিরা সেখানে যান এবং অবকাঠামো পরীক্ষা করেন; যদি কোনো উন্নতির প্রয়োজন থাকে তবে তারা পরামর্শ দেন। সরঞ্জামগুলো যখন নিরাপদ হয় এবং আমাদের মানদণ্ড পূরণ করে, কেবল তখনই আমরা সরবরাহ শুরু করি এবং সেই স্টেশনটি আমাদের কাছ থেকে কী পরিমাণ গ্যাস কিনছে তা বিবেচনা না করেই, আমাদের কারিগরি দল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিয়মিত স্টেশনগুলো পরিদর্শন করে, তাদের সিস্টেম পরীক্ষা করে এবং প্রয়োজন হলে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ? কারণ এ স্টেশনগুলো রাস্তার পাশে বা জনবহুল এলাকায় অবস্থিত এবং তাদের অবশ্যই নিরাপত্তার মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে। যতদিন তারা নিরাপদ থাকবে, মানদণ্ড অনুসরণ করবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো তাদের নিয়মিত তদারকি করবে, ততদিন এটি বাংলাদেশের জন্য পরিচ্ছন্ন এবং দক্ষ পণ্য হিসেবে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ শিল্প হবে।

দেশে এলপিজি খাতে স্থানীয় এবং বিদেশী উভয় কোম্পানি কাজ করছে। এ প্রতিযোগিতাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? বাজারে কেমন প্রতিযোগিতা রয়েছে এবং কোনো চ্যালেঞ্জ আছে কিনা?

আমরা প্রতিযোগিতাকে ভালোবাসি। প্রতিযোগিতা প্রতিটি শিল্পের জন্যই স্বাস্থ্যকর। এটি পণ্যের মান বাড়ায়, সেবার উন্নতি করে এবং বাজারে একটি জবাবদিহিতা তৈরি করে। তবে প্রতিযোগিতামূলক হওয়ার পাশাপাশি এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য যৌক্তিক ও আস্থার জায়গা হওয়া উচিত। প্রতিযোগিতার খাতিরে আমরা যদি অযৌক্তিক কিছু করি, তবে বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা এবং এ শিল্পের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সুতরাং, শিল্পটিকে স্বাস্থ্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে, তবে শর্ত হলো—আমাদের সাপ্লাই সাইড বা আমদানির ক্ষেত্রে আরো স্মার্ট ও দক্ষ হতে হবে। আগামী দিনগুলোতে আসল চ্যালেঞ্জ হবে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা। কারণ সরবরাহ যদি নিরবচ্ছিন্ন না হয়, তবে এলপিজি খাত আলোচনার টেবিলে আটকে থাকবে। তখন আমরা বাজারে ফোকাস করতে পারি—কীভাবে আমরা আরো ভালো সেবা দেব, কীভাবে আরো ভালো মানের পণ্য দেব এবং কীভাবে আমাদের ব্যবসায়িক অংশীদারদের যত্ন নেব, যাতে সুস্থভাবে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে। সুতরাং এটি একটি দীর্ঘ চেইন। ইউনাইটেড আইগ্যাসের শক্তি এখানেই। আমি আগেই যেমনটা বলেছি, আইগ্যাসের ৬৫ বছরের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক সোর্সিং নেটওয়ার্ক। আমরা বিশ্বাস করি ইউনাইটেড আইগ্যাসের আগমনের ফলে বাজার আরো বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে। এ প্রতিযোগিতা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও ফিট রাখছে, আবার তাদের শক্তি আমাদেরও ফিট রাখছে। এটি স্বাস্থ্যকর—ভোক্তা, পরিবেশক এবং স্বয়ং কোম্পানিগুলোর জন্যও ভালো।

শেষ প্রশ্ন—কী ধরনের সুবিধা সংযোজন বা কোন বাধাগুলো দূর করা হলে কর রাজস্ব বৃদ্ধি এবং এ খাতের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি সহায়ক হবে বলে আপনি মনে করেন?

সম্প্রতি আমরা দেখেছি কিছু ব্যবহারকারী ইলেকট্রিক ইন্ডাকশন কুকারের দিকে ঝুঁকছেন এবং বিদ্যুৎ দিয়ে রান্না করছেন। আমরা যদি এলপিজি শিল্পের বিকাশ অব্যাহত রাখতে পারি এবং আরো বেশি ভোক্তা এলপিজিতে রান্নার সুবিধাগুলো বুঝতে পারেন, তাহলে দেশের কর রাজস্ব বাড়বে, পাশাপাশি রান্নায় বিদ্যুতের ব্যবহারের চাপও কমবে। এ দুটি বিষয় একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। একদিকে এটি অর্থনীতির ওপর ভর্তুকির বোঝা কমাবে, অন্যদিকে কর রাজস্ব বৃদ্ধি করবে এবং জনগণকে রান্না করা, গাড়ি চালানো কিংবা শিল্পের বয়লার চালানোর জন্য একটি দক্ষ সমাধান দেবে। তাই আমদানি পর্যায় থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত অপারেটরদের আরো দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আমদানি বাড়লে রাজস্বও স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। জনগণের মধ্যে এলপিজির ব্যাপক ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনার কথা ভাবা যেতে পারে। বেশকিছু দেশে এমন উদাহরণ রয়েছে।