প্রতি বছর ডিসেম্বরে প্রজেক্ট সিন্ডিকেটের বিশ্লেষকরা আগামী বছরে কোন কোন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে তা চিহ্নিত করেন। ২০২৫ সালে বিশ্ব যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন অনেকেই সতর্ক করেছিলেন—বছরটি হবে বহুপক্ষীয়তা ও জলবায়ু কার্যক্রমের জন্য এক ‘হয়-না-হয়’ মুহূর্ত। ২০২৬ সালের দিকে তাকিয়ে বিশ্লেষকরা এমন এক বছরের পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যা চিহ্নিত হবে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও গভীরতর অর্থনৈতিক বিভাজনের মধ্য দিয়ে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তিগত ও সামরিক আধিপত্যের জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকবে। আর ইউরোপ হিমশিম খাবে একদিকে তাল মিলিয়ে চলতে, অন্যদিকে রাশিয়াকে ঠেকিয়ে রাখতে

মার্ক ব্লাইথ

২০২৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অবশেষে হয়তো এক নির্মম সত্যের মুখোমুখি হবে। তারা দেখবে যে যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে রাশিয়ার হাত থেকে আর রক্ষা করছে না। ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেন বিষয়ে শান্তি প্রচেষ্টা থেকে সরে দাঁড়াবে। ফলে রাশিয়া তার যুদ্ধের গতি আরো বাড়ানোর সুযোগ পাবে। ইউরোপ তার চিরাচরিত ভঙ্গিতে একটি সামরিক সমস্যার সমাধান খুঁজবে আর্থিক উপায়ে। যদিও এ সমস্যার সমাধান কেবল অর্থ দিয়ে সম্ভব নয়। অন্যদিকে ইউক্রেন এমন এক লড়াই চালিয়ে যাবে, যাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো নিজেদের যুদ্ধ হিসেবে স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

ক্রিস্টিনা কাফাররা

শুধু সফ্ট পাওয়ার, ভালো কথা, নৈতিকতা আর বক্তৃতা দিয়ে আর কাজ হচ্ছে না—বাস্তব শক্তি ছাড়া টিকে থাকা কঠিন। এমন বিশ্বে কঠোর শক্তিই মূল নিয়ামক। ‘কিছু একটা করো’ ইউরোপ এখন পর্যন্ত মারিও দ্রাঘির সেই হতাশ আর্তির জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের নির্লজ্জ কঠোর রাজনীতির প্রতিফলন ঘটেছে তাদের নতুন ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে (এনএসএস)। এ নীতি হয়তো শেষ পর্যন্ত হিসাবনিকাশ বদলে দিতে পারে।

বিলম্বে হলেও এ আত্মসমালোচনার প্রক্রিয়াকে আরো জোরালো করেছে। ইউরোপ এরই মধ্যে চীনের সঙ্গে এক প্রকার অঘোষিত বাণিজ্যযুদ্ধে আবদ্ধ হয়ে আছে, যা ধীরে ধীরে তার শিল্পভিত্তিকে ক্ষয় করে দিয়েছে। এসব চাপ ইউরোপকে ডিজিটাল অবকাঠামো, অগ্রগামী প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও উৎপাদনে নিজের সার্বভৌমত্ব পুনর্গঠনে বাধ্য করতে পারে।

ইইউর নতুন উদারনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে কাজ করছে, আমলাতন্ত্রও খুব গতিশীল নয়। প্রতিযোগিতাবিরোধী (অ্যান্টিট্রাস্ট) নিয়মও কঠোরভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে না। ফলে ইউরোপীয় ব্যবসায়িক মহলের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকে মনে করছেন, তারা আর ব্রাসেলসের জটিল প্রক্রিয়ার অপেক্ষা করবে না। তার বদলে ইউরোস্টাকের (ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের প্লাটফর্ম, যাতে তারা ব্রাসেলসের ধীরগতির নীতিনির্ধারণের অপেক্ষা না করে সরাসরি পদক্ষেপ নিতে পারে) মতো উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেরাই দায়িত্ব নেবে। এতে মনোযোগ ব্রাসেলস থেকে সরতে শুরু করবে। এবার লক্ষ্য থাকবে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর দিকে, বিশেষ করে জার্মানির দিকে। জার্মানি যদি অগ্রসর হয়, ইউরোপও এগোবে। জার্মানি যদি না এগোয়, ইউরোপ স্থবির থেকে যাবে।

কোরি ক্রাইডার

ক্লাউড সেবায় (ইন্টারনেটে দূরবর্তী ডাটা সেন্টারে থাকা কম্পিউটার ব্যবহারের ব্যবস্থা) বারবার বিভ্রাট (ব্ল্যাকআউট) এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও তার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর নতুন করে চাপ—এ দুইয়ের ফলে বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্লাউড একচেটিয়াদের ওপর নির্ভরতা কমাতে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমানে ইউরোপের ক্লাউড বাজারের ৭০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস), মাইক্রোসফট আজুর ও গুগল ক্লাউড। স্থানীয় কোম্পানি ও সরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে তারা ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা তুলে নিচ্ছে।

ক্লাউডের এ নিয়ন্ত্রণ কোম্পানিগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) একটি সংকীর্ণ ধারণা এগিয়ে নিতে সুযোগ দিচ্ছে। যেখানে লক্ষ্যভিত্তিক ও টেকসই মেশিন লার্নিংয়ের (কম্পিউটারকে ডাটা থেকে শেখানোর প্রযুক্তি) বদলে বড় ভাষা মডেলকেই কেন্দ্র করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মনোযোগ ও বিনিয়োগের অসম অংশও তারা নিজেদের দখলে নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সরবরাহকারীদের থেকে সরে আসার প্রক্রিয়াটি এ বছর জার্মানির শ্লেসভিগ-হলস্টেইন রাজ্য ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত থেকে ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে। এটি ২০২৬ সালে আরো গতি পেতে পাবে, বিশেষ করে সরকারি ক্রয়বিধি ও ক্লাউড লাইসেন্সিং ব্যবস্থায় পরিবর্তনের মাধ্যমে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, কম্পিউটিং শক্তি এখন একটি সাধারণ পণ্যে পরিণত হয়েছে এবং সে অনুযায়ী এটিকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিনির্ধারকরা যদি দৃঢ় পদক্ষেপ নেন, তাহলে ২০২৬ সালের শেষে ইউরোপের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাউড একচেটিয়াদের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

ডালিয়া ঘানেম

উত্তর আফ্রিকার শাসকরা ২০২৬ সালেও আধা-স্বৈরতান্ত্রিক শাসন টিকিয়ে রাখার এক ধরনের ‘মাস্টার ক্লাস’ দেখাতে থাকবে। তবে অনেকের ওপর গভীর কাঠামোগত চাপগুলো ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ইউরোপে গ্যাস রফতানির সুবাদে আলজেরিয়া এখন বেশ আত্মবিশ্বাসী ও শক্ত অবস্থানে আছে। কিন্তু তিউনিসিয়া ও মিসর ধীরে ধীরে আর্থিক সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তবে বিদ্যমান ব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যকার ভেঙে পড়তে থাকা সামাজিক চুক্তি। গত এক বছরে আরব বিশ্বের রাজপথ দেখিয়ে দিয়েছে যে সাধারণ মানুষের ভূমিকা বা সক্রিয়তাকে অবহেলা করা যাবে না। তিউনিসিয়া থেকে মরক্কো পর্যন্ত—যেখানে ‘জেন জেড’ বিক্ষোভে তরুণদের শক্তি প্রাধান্য পেয়েছে। তারা আর নীরব থাকতে রাজি নয়। ফলে জনঅসন্তোষ ক্রমেই আরো দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে লিবিয়া আঞ্চলিক অস্থিরতার কেন্দ্র হিসেবেই থেকে যাবে। যেন এটি একটি বিভক্ত রাষ্ট্র, যেখানে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। একই সঙ্গে সাহেল অঞ্চলে জিহাদি সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে। এটি যদি নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তবে এর প্রভাব উন্নত ও উন্নয়নশীল— উভয় ধরনের দেশেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

মার্তিন গুজমান

বিশ্ব অর্থনীতি এমন একপর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে ভূ-অর্থনৈতিক বিভাজন আর ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়, বরং এটি একটি সাংগঠনিক নীতি। জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকারকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিকীকরণ নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে; বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে উঠছে ভূরাজনৈতিক ব্লকগুলোর পারস্পরিক প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা ও রফতানি নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে উন্নয়নশীল দেশগুলো জটিল প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মাঝখানে কীভাবে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করবে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসন আর্থিক ব্যবস্থা ও বাণিজ্য চুক্তিকে রাষ্ট্রীয় কৌশলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

সাইমন জনসন

বড় বড় ব্যাংক মূলধন সংরক্ষণের শর্ত শিথিল করার জন্য লবিং চালিয়েই যাবে। ফলে ক্ষতি সামাল দেয়ার সক্ষমতা আরো কমে যাবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব আর্থিক খাতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে, যা উত্থান-পতনের চক্রকে আরো ত্বরান্বিত করবে; এমন গতিতে অর্থ চলাচল করবে যা মানুষের পক্ষে কল্পনাও করা কঠিন। ফলে একই ধরনের বিনিয়োগে অতিরিক্ত ভিড় (ক্রাউডেড ট্রেড) তৈরি হবে এবং বাজার পরিস্থিতি বদলালেই হঠাৎ উল্টো ঝুঁকি বাড়বে।

বড় ব্যাংকগুলোর রাজনীতিতে প্রভাব খুব শক্তিশালী। এ প্রভাবের কারণে তাদের ওপর কঠোর নজরদারি করা হয় না। নজরদারি না থাকলে ব্যাংকগুলো বেশি ঝুঁকি নেয়। ঝুঁকি নিলে হঠাৎ বড় আর্থিক ধাক্কার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ব্যাংক কর্মকর্তাদের বেতন ও বোনাস মুনাফার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু সেই বেতনে ঝুঁকির হিসাব ধরা হয় না। তাই তারা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত হয়। ফলাফল হিসেবে সংকট বা বিপর্যয় হওয়া প্রায় অনিবার্য হয়ে ওঠে।

শেবনেম কালেমলি-ওজকান

২০২৬-এ এবং তার পরও বৈশ্বিকীকরণ আরো খণ্ডিত, জটিল ও বৈষম্যমূলক হয়ে উঠবে। সরবরাহ শৃঙ্খল দীর্ঘতর ও ঝুঁকিপূর্ণ হবে। আর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত অস্ত্র প্রতিযোগিতা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। আশ্চর্যজনকভাবে, ডলারের আধিপত্য বজায় থাকলেও ডলারের শক্তি দুর্বল হতে পারে।

সারা বিশ্বেই সামাজিক কল্যাণ কমতে পারে, যদিও এআই-চালিত উৎপাদনশীলতার উল্লম্ফন সীমিত কিছু প্রতিষ্ঠান, খাত ও দেশকে লাভবান করবে। বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হবে। কিন্তু রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণ ধীরে ধীরে সহযোগিতামূলক অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে দূরে সরে যেতে থাকবে।

ডেসমন্ড ল্যাচম্যান

সব লক্ষণই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আর্থিক বাজারের জন্য সামনে একটি কঠিন বছর অপেক্ষা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থ ব্যবস্থার নাজুক অবস্থা এবং ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতার ওপর লাগাতার চাপ আবারো ‘বন্ড-মার্কেট ভিজিল্যান্টি’র (সরকারের অর্থনৈতিক নীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করা বন্ড বিনিয়োগকারী) ফিরে আসা ও মার্কিন ট্রেজারি বাজারে সম্ভাব্য সংকট ডেকে আনতে পারে। এমন একটি ধাক্কা এআই ঘিরে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত জল্পনার বুদ্বুদকে ব্যর্থ করে দিতে পারে এবং মার্কিন শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে। এটি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

অন্যদিকে চীন এখনো প্রবৃদ্ধির জন্য রফতানি ও বিনিয়োগের ওপর ভরসা করছে। এতে ইউরোপে সুরক্ষাবাদী প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থা যা আগেই দুর্বল, সেটি আরো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জাপানে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বাজেটনীতি ঝুঁকিপূর্ণ। এ নীতি যুক্তরাজ্যের লিজ ট্রাস সরকারের সময়কার ঘটনার মতো সংকট তৈরি করতে পারে। সেক্ষেত্রে সরকারি বন্ডের সুদের হার হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে জাপানের মুদ্রার মানও কমে যেতে পারে। ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকর অর্থনৈতিক নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আরো বাড়াচ্ছে। যদি বড় কোনো সংকট দেখা দেয়, তখন আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া সমন্বয় করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়বে।

জাকি লাইদি

২০২৬ সালটি ইউক্রেন যুদ্ধ দ্বারা প্রভাবিত থাকবে। যদিও যুদ্ধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো দৃষ্টিগোচর নয়। লড়াই আদৌ কমবে কিনা তা নির্ভর করবে চারটি বিষয়ের ওপর: যুদ্ধক্ষেত্রে শক্তির ভারসাম্য, যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার মাত্রা, ইউরোপের সমর্থন এবং ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধি।

উভয় পক্ষই ক্ষয়ক্ষতির এ লড়াইয়ের মধ্যে আটকে থাকায় যুদ্ধক্ষেত্রে শক্তির ভারসাম্যে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার চাপের মুখে ইউরোপ এমন এক বছরে প্রবেশ করছে, যা ১৯৪৫ সালের পর সম্ভবত তাদের সবচেয়ে কঠিন সময় হতে পারে। আর ইউক্রেনের ভঙ্গুর ও অনিশ্চিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা একটি টেকসই সমাধানের অনুসন্ধানকে আরো জটিল করে তুলছে।

যেহেতু ইউরোপ একা কোনো সমাধান চাপিয়ে দিতে পারে না, তাই যুদ্ধের গতিপথে যেকোনো পরিবর্তন এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই নির্ভরশীল। ট্রাম্প প্রশাসনের ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি মার্কিন সমর্থনের বিরূপ মনোভাবের কারণে এটি ইউক্রেনের জন্য শুভসংবাদ নয়। এখন প্রশ্ন শুধু একটাই—যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে কী প্রস্তাব দেবেন।

এ প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট যে ২০২৬ সালেও যুদ্ধ শেষ হবে না। সর্বোচ্চ যা হতে পারে তা হলো একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি। এটি যদি হয় তা সমঝোতার ফলে নয়, বরং যুদ্ধে ক্লান্ত হয়ে পড়ার কারণে হবে।

ন্যান্সি কিয়ান

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টিতে প্রকৃত অর্থে গুরুত্বপূর্ণ মাত্র তিনটি দেশ। তা হলো যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া। আসন্ন বছরটি এ পররাষ্ট্রনীতির পদ্ধতিকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক থেকে পরীক্ষা করবে। প্রথমত, বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারী সরকারগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে আরো স্থিতিশীল অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রত্যাশা করবে। তা না হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা কেবল অনুমাননির্ভর জল্পনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। দ্বিতীয়ত, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে যেকোনো চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কতটা বিশ্বাসযোগ্য তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। এটি শুধু ইউরোপ নয়, তাইওয়ান, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও বিষয়টি সেই চোখেই দেখবে।

সবশেষ ইউরোপকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা কি ক্ষমতার মূল্য দিতে প্রস্তুত? ফ্রান্স ও জার্মানি আন্তর্জাতিকভাবে আরো দৃঢ় ভূমিকা রাখার দিকে অগ্রসর হতে চাইছে। কিন্তু তাদের আলোচনার টেবিলে জায়গা পাবে শুধু গুরুতর ও ধারাবাহিক প্রতিরক্ষা ব্যয়, এর বেশি কিছু নয়।

শ্রুতি রাজাগোপালন

ভারতজুড়ে অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন মূলত রাজ্যের রাজধানীগুলোতেই ঠিক হচ্ছে, নয়াদিল্লিতে নয়। অসম উন্নয়ন, আর্থিক সীমাবদ্ধতা, জনমিতিক পরিবর্তন এবং অধৈর্য ভোটারের চাপে রাজ্য সরকারগুলো ক্রমেই সেবাদান ও কল্যাণ কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

এটি ভারতীয় ফেডারেল ব্যবস্থায় প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ থেকে প্রকৃত অর্থনৈতিক সক্ষমতার দিকে এক নীরব কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বিবর্তনের ইঙ্গিত। ভারতের সংবিধানে ভূমি, কৃষি ও জনস্বাস্থ্য রাজ্য সরকারের অধিক্ষেত্রভুক্ত। উচ্চাকাঙ্ক্ষী নেতারা বুঝতে পেরেছেন যে এখন সংস্কারই তাদের তুলনামূলক সুবিধাজনক বিষয়।

১৯৯১ সালের কাঠামোগত সংস্কারগুলো ছিল কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত, কারণ সেগুলোর লক্ষ্য ছিল জাতীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ভেঙে দেয়া। আজকের সীমাবদ্ধতাগুলো ভিন্ন এবং সমাধানও ভিন্ন—যার জন্য প্রয়োজন স্থানীয় জ্ঞান, প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক জবাবদিহিতা, যেখানে নেতারা সরাসরি নাগরিকদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। ১৯৯১ সাল যদি ভারতের বাজারমুখী পথে যাত্রার সূচনা হয়ে থাকে, তবে বর্তমান সময়টি হয়তো ভারতীয় ফেডারেল ব্যবস্থার পরিপক্ব হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সামি মাহরুম

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ একটি বিষয় পরিষ্কার করে দেবে—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো কি অস্থির ২০২৫ সালের পরও একসঙ্গে কাজ করতে পারে? এ বিশাল আয়োজন পরিচালনা করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত ও ভিসা ব্যবস্থাপনা কেমন হয়, তাও দেখা হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নেতাদের কথাবার্তাও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব বিষয় ম্যাচগুলোর মতোই গুরুত্ব পাবে। এই টুর্নামেন্ট আরেকটি প্রশ্নের উত্তর দেবে। খেলাধুলাসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো কি এখনো মানুষকে এক করতে পারে? নাকি এগুলো মানুষকে আরো দূরে সরিয়ে দেবে?

কিংসলে মোগালু

আফ্রিকায় গণতান্ত্রিক শক্তি কমছে। আর যুবনেতৃত্বাধীন বিদ্রোহ বাড়ছে। ফলে গণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের মধ্যে ব্যবধান আরো বড় হবে। নাইজেরিয়ার মতো দেশে, যেখানে আগে থেকেই সন্ত্রাসবাদ আছে, নিরাপত্তা আরো খারাপ হলে রাজনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে। ২০২৬ সালে বিশ্ব বাণিজ্যে সুরক্ষাবাদ কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু এটি পুরোপুরি বন্ধ হবে না। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি দেশের ভেতর বিচারিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। এদিকে এআইয়ের দ্রুত উন্নয়ন নতুন প্রযুক্তির নৈতিকতা ও শ্রমবাজার নিয়ে বিতর্ক তীব্র করবে।

ইয়ান-ভের্নার মুলার

ইউরোপীয় নির্বাচনে একটি ধারা দেখা যাচ্ছে। কট্টর ডানপন্থী জনতাবাদীরা ভোটে প্রথম হয়। কিন্তু অন্য সব দল তাদের সঙ্গে জোট গঠনে রাজি হয় না। ফলে ডানপন্থা ও মূলধারার রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি শক্ত প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। ২০২৬ সালেও এ ধারা পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা আছে, বিশেষ করে জার্মানির প্রাদেশিক নির্বাচনে। কেন্দ্র ও বাম দলগুলোর এ অবস্থান ইউরোপীয় জনতাবাদীদের মিত্রদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এটিকে অগণতান্ত্রিক বলেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিরাপত্তা নীতিতেও একই অভিযোগ দেখা যায়, যেখানে ইউরোপীয় অভিজাতদের বিরুদ্ধে জনগণের ‘সার্বভৌমত্ব’ খর্ব করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। কিন্তু সত্যিই ভোটাররা বঞ্চিত হচ্ছেন কি? সংসদীয় ব্যবস্থায় কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকার গঠনের অধিকার হারায়।

সাম্প্রতিক নির্বাচনের শিক্ষা হলো—জনগণ কট্টর ডানপন্থী শাসন চায় এমন নয়; বরং অধিকাংশ ভোটার সেটিকে প্রত্যাখ্যান করছেন। কট্টর ডানপন্থী জনতাবাদীরা নিজেদের ‘গোপন অভিজাতদের’ হাতে নিপীড়িত ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপনে এবং কেবল তারাই ‘আসল জনগণের’ প্রতিনিধি—এ কথা বোঝাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গণতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ দাবি ভিত্তিহীন।

কার্লা নরলফ

২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমা অতিক্রম করবে। এআইকে পৃথক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় ভাগ করে নেয়ার পাশাপাশি উন্নত সেমিকন্ডাক্টর ও ডাটা খাতে আলাদা ব্যবস্থা রূপ নেবে। বৈশ্বিক বাণিজ্য চলবে, কিন্তু কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো ক্রমে দুটি পৃথক সরবরাহ শৃঙ্খল ও প্রতিদ্বন্দ্বী মানদণ্ডে ভাগ হয়ে যাবে। এর ফলে প্রতিযোগিতা আর বিচ্ছিন্ন ঘটনাভিত্তিক থাকবে না; বরং কাঠামোগত হয়ে উঠবে। কূটনীতি বা শক্তি প্রয়োগের বদলে রফতানি নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা, ভর্তুকি ও নিয়ন্ত্রণনীতির মাধ্যমেই এ লড়াই চলবে। বিশ্ব অর্থনীতি আন্তঃসংযুক্ত থাকলেও তা দুটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় বিভক্ত হবে যা দেশগুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই ভূরাজনৈতিক ব্লকে ঠেলে দেবে।

হান্না ওয়ানজি রাইডার

২০২৬ সালটি আফ্রিকার জন্য সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ—দুটোই হবে। ২০২৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা জি২০ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করে বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সমন্বয়ের ভিত্তি তৈরি করেছে। এতে আফ্রিকা নিজের নীতিনির্ভর সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও দেশীয় ব্যাংক আফ্রিকায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। উদীয়মান অর্থনীতির দেশ যেমন চীন, ভারত ও উপসাগরীয় দেশ আফ্রিকার উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ হিসেবে দেখছে। ফলে আফ্রিকায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়ার আশা করা হচ্ছে। তবে আফ্রিকায় অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনো বড় সমস্যা। বিশেষ করে শিক্ষিত বেকার তরুণরা অস্থিরতা তৈরি করছে। পশ্চিম ও পূর্ব আফ্রিকায় এ সমস্যা সবচেয়ে বেশি।

জি৭ ও জি২০-এর সঙ্গে পুরনো সম্পর্ক অনেক সময় হস্তক্ষেপমূলক এবং অসম্পূর্ণ বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতিতে ভরা। এগুলো আফ্রিকার সমস্যার সমাধান করবে না, বরং কিছু ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো আরো বাড়াতে পারে। তাই আফ্রিকান নেতাদের উচিত সতর্কভাবে পদক্ষেপ নেয়া, বিভাজন বা শাসনের কৌশল প্রতিরোধ এবং বহিরাগত অংশীদারদের, যেমন ব্রেটন উডসের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনায় দৃঢ় থাকা।

ডেনিস জে. স্নোয়ার

রাজনৈতিক মেরুকরণ এখনো গভীর। তবু নতুন বছরটি হয়তো একটি বৃহত্তর সামাজিক-রাজনৈতিক পুনর্গঠনের আভাস দিতে শুরু করবে। সরকারগুলো বুঝতে শুরু করেছে, বিভাজন ও পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি খুব কম সমাধান দেয়। ফলে সক্ষমতা গঠন এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগ বিস্তৃত করার দিকে মনোযোগ বাড়ছে। জাতীয় রাজনীতিতে হতাশ সম্প্রদায়গুলো অংশগ্রহণমূলক শাসনের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যার সমাধান করছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও মুনাফার সঙ্গে উদ্দেশ্যের সামঞ্জস্য আনতে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখোমুখি হচ্ছে।

একই সময়ে নৈতিক বোধ গড়ে তোলার প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ভূমিকা নতুন করে জোরদার করছে। এগুলোর মধ্যে আছে ধর্মীয় সম্প্রদায়, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বাধীন গণমাধ্যম।

ডিজিটাল প্লাটফর্ম এখন জনপরিসরের বিতর্কের কেন্দ্রে। কিছু সরকার নাগরিকদের ডাটার ওপর বেশি নিয়ন্ত্রণ আনছে। এছাড়া তারা নিশ্চিত করছে যে এআই জনস্বার্থে ব্যবহৃত হবে। এ বিষয়ে সরকারগুলো বিভিন্ন সংস্কার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। এসব প্রবণতা টিকে থাকলে বর্তমান প্রযুক্তিগত বিপ্লব রাজনৈতিক ও সামাজিক ভারসাম্য পুনর্গঠনে সহায়ক হবে। দ্বন্দ্ব বা প্রতিযোগিতা পুরোপুরি শেষ হবে না। তবে জলবায়ু সহনশীলতা, আর্থিক স্থিতিশীলতা; পরিবেশ ও পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখার মতো যৌথ চ্যালেঞ্জে বৈশ্বিক সহযোগিতা বাড়তে পারে। ভূরাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মাঝেও এ নীরব রূপান্তর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।

সুসান স্টোকস

২০২৬ সালটি আমেরিকান রাজনীতির জন্য অস্থির হবে। বয়স্ক ও আত্মমগ্ন এক প্রেসিডেন্ট—যিনি নিজেকে সংযত করতে অক্ষম ও অনিচ্ছুক—আইনি ও নির্বাচনী ঝুঁকি থেকে নিজের মিত্র ও দলকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হবেন। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা, বাসস্থান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান খরচের চাপে থাকা এক ক্রুদ্ধ ভোটারগোষ্ঠীর মুখোমুখি হতে হবে তাকে।

মাইকেল আর স্ট্রেইন

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় রিপাবলিকান পার্টি ও বৃহত্তর রক্ষণশীল আন্দোলনের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হচ্ছে। নভেম্বরে ডেমোক্র্যাটদের শক্তিশালী অফ-ইয়ার নির্বাচন বিজয় এ প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করেছে। এর ফলে রিপাবলিকান রাজনীতিকরা ট্রাম্পের বিভিন্ন অবস্থানের বিরোধিতা করছেন, যেমন এপস্টিন নথি প্রকাশে তার অস্বীকৃতি অন্যতম।

২০২৬ সালেও এ ধারা চলবে, কারণ ট্রাম্পের নীতির পরিণতি আরো তীব্র হবে এবং ভোটারদের কাছে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে ভোক্তা মূল্য বেড়েছে। আর প্রশাসনের টিকাবিরোধী অবস্থান হাম রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটিয়েছে যা রিপাবলিকান ভোটারদেরও দূরে সরিয়েছে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে থাকলে ট্রাম্প-পরবর্তী ভবিষ্যৎ নিয়ে ডানপন্থার ভেতর প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হবে।

স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, ২০২৫

ভাষান্তর: বাশার খান