২০২৫-এ ফ্রিজের বাজারের গতিপ্রকৃতি কেমন? দেশে মোট বাজারের আকার এখন কত এবং তাতে আপনাদের হিস্যা কতটা?
বর্তমান সময়ে নানাবিধ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও দেশে রেফ্রিজারেটরসহ ইলেকট্রনিকস হোম অ্যাপ্লায়েন্সের বাজার আশাব্যঞ্জক। শহর কিংবা গ্রাম, উচ্চবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত, এমনকি নিম্ন আয়ের মানুষের ঘরেও স্থান করে নিয়েছে এসব পণ্য। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে রেফ্রিজারেটরের বাজার এখন ১১-১২ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। স্থানীয় শিল্পের বিকাশে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সরকার শিল্পবান্ধব নীতিসহায়তা দিচ্ছে, ফলে দেশে রেফ্রিজারেটরের বাজারের ৮০ শতাংশেরও বেশি মার্কেট শেয়ার এখন যমুনার মতো দেশীয় কোম্পানির দখলে।
ফ্রিজ উৎপাদনে দেশী কোম্পানিগুলোর সাফল্যের পেছনে কী কী বিষয় ভূমিকা রেখেছে?
একটা সময় ফ্রিজসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্যগুলো সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর ছিল। বর্তমানে যমুনার মতো দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। সরকারি শিল্পবান্ধব নীতিসহায়তা এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
যমুনা ইলেকট্রনিকস নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে তৈরি করছে আন্তর্জাতিক মানের ফ্রিজ। আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যমুনার নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে যে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে ফ্রিজ উৎপাদন করা হয় তা আর কোনো দেশীয় কোম্পানির নেই। আমরা নিত্যনতুন ফিচার্স ও ডিজাইনের ফ্রিজ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি।
শহরাঞ্চলের বাইরে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ফ্রিজের চাহিদা কেমন?
অত্যন্ত আশার ও সফলতার কথা হচ্ছে, ২০১০ সালে যেখানে বাংলাদেশে ৮০ শতাংশ মার্কেট শেয়ার ছিল বিদেশী রেফ্রিজারেটর ব্র্যান্ডগুলোর দখলে, এখন চিত্র পুরোপুরি উল্টো। মাত্র ২০ শতাংশ শেয়ার বিদেশী ব্র্যান্ডগুলোর আর ৮০ শতাংশ মার্কেট শেয়ার দেশী ব্র্যান্ডগুলোর। সাশ্রয়ী মূল্য, গুণগত মান বজায় রাখার ফলে শহরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিনে দিনে গ্রাম বা মফস্বলেও ফ্রিজের ব্যবহার বাড়ছে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি-উৎপাদন এ যুগের মানুষের চাহিদা। আপনাদের উৎপাদিত ফ্রিজে এসব শর্ত কতটা পূরণ হচ্ছে?
সিলিকন জেল মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এবং খাদ্যমান নষ্ট করে। অথচ এ সিলিকন জেল দিয়ে আমাদের দেশের বাজারে প্রচলিত রেফ্রিজারেটরগুলো তৈরি হয়। বাংলাদেশে একমাত্র যমুনা রেফ্রিজারেটরই তার উৎপাদন প্রক্রিয়ার কোথাও সিলিকন জেল ব্যবহার করে না। আমাদের ফ্রিজগুলোয় ‘আর সিক্স হান্ড্রেড এ’ গ্যাস ব্যবহার হয়, যা পরিবেশবান্ধব ও মানবদেহের ক্ষতি করে না। অত্যাধুনিক ইনভার্টার ও ফুড গ্রেডেড ম্যাটেরিয়ালস ব্যবহারের ফলে খাবারের মান ঠিক থাকে সঙ্গে বিদ্যুৎ খরচ ৭০ শতাংশেরও কম হয়।
আপনাদের বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কে বলুন।
রেফ্রিজারেটর বাজারজাত করার খুব অল্প সময়ের ভেতরেই মানুষের মুখে এমন কথা প্রচলিত হয়ে গেছে যে একমাত্র যমুনাই ৯৯ শতাংশ গুণগত মানসম্পন্ন রেফ্রিজারেটর সরবরাহ করে। ফলে যমুনার পণ্যের ক্ষেত্রে বিক্রয়-পরবর্তী ভোক্তার অভিযোগের সংখ্যা শূন্যের কাছাকাছি। আমরা রেফ্রিজারেটরে ১০ বছরের ওয়ারেন্টি দিচ্ছি। এর পরও ভোক্তাদের যেকোনো ক্রয়-পরবর্তী সমস্যা সমাধানে দেশব্যাপী আমাদের বিস্তৃত সার্ভিস সেন্টার রয়েছে, যেখান থেকে সহজেই বিক্রয়োত্তর সেবা নিতে পারবেন। তাছাড়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোয় আমাদের বিক্রয়-পরবর্তী সেবা দ্রুত ও সহজলভ্য করার জন্য ডেডিকেটেড কল সেন্টার রয়েছে, যেটির মাধ্যমে ক্রেতা সহজে সেবা পেতে পারেন।
মূল্যস্ফীতির মধ্যে ফ্রিজের দাম ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে রাখতে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?
আমি আগেই বলেছি, ডলার সংকট ও দাম বাড়ার ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন পণ্য উৎপাদনে কাঁচামাল আমদানিতে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাছাড়া সরকারিভাবে বিদ্যৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয়সহ অন্যান্য খাতে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে, ফলে পণ্য উৎপাদনকারীকে মূল্যবৃদ্ধি করতে হচ্ছে। এসব বহুমুখী চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও যমুনা দেশ ও দশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে তাদের ব্যবসা পরিচালিত করে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও আমরা পণ্যের অতিরিক্ত দাম না বাড়িয়ে ক্রেতাদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে দেশসেরা পণ্যটি তুলে দিচ্ছি।
দেশে স্মার্ট ফ্রিজের চাহিদা কেমন?
বাজার চাহিদা ও ভোক্তাদের রুচির সঙ্গে তাল মিলিয়ে যমুনা স্মার্ট রেফ্রিজারেটর উৎপাদন করছে। আমরা প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন ফিচার ও ডিজাইনের স্মার্ট ফ্রিজ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করছি। আমাদের রয়েছে একদল মেধাবী ইঞ্জিনিয়ারদের সমন্বয়ে গঠিত নিজস্ব আরএনডি টিম, যারা পণ্যের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও মানোন্নয়নে সদা তৎপর।
সব ধরনের ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতা অনুযায়ী যমুনা রেফ্রিজারেটর বিভিন্ন সাইজ, ডিজাইন, ক্যাপাসিটি ও দামে পাওয়া যাচ্ছে। রেগুলার রেফ্রিজারেটর মডেল ছাড়াও আমাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার টেকনোলজির স্মার্ট ডাবলডোর, টি ডোর ও ক্রস ডোর রেফ্রিজারেটর যেগুলো এরই মধ্যে মার্কেটে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
যমুনা বাংলাদেশের বেস্ট কুলিং পারফরম্যান্স ও সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী রেফ্রিজারেটর। যমুনা ফ্রিজে আছে মোবাইল অ্যাপস নোটিফিকেশন (ডোর ওপেন নোটিফিকেশন), বিল্ড-ইন ব্লুটুথ মিউজিক সিস্টেম, স্মার্ট ওয়াই-ফাই কন্ট্রোল, ডিজিটাল টাচ ডিসপ্লে, মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে টেম্পারেচার কন্ট্রোল, ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার টেকনোলজিসহ আরো অনেক ফিচার।
সামনেই ঈদুল আজহা। ক্রেতাদের মধ্যে এ সময়ে ফ্রিজ কেনার একটা প্রবণতা থাকে। ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের কোনো বিশেষ সুবিধা দিচ্ছেন কি?
উৎসবের এ সময়ে রেফ্রিজারেটরের চাহিদা ও বিক্রি বেড়ে যায়। সাধারণ প্রয়োজনের পাশাপাশি কোরবানির মাংস সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজ বা ডিপ ফ্রিজ কেনেন ক্রেতারা। আমাদের সম্মানিত ক্রেতাদের এ বর্ধিত চাহিদা পূরণে এরই মধ্যে যমুনা ইলেকট্রনিকস সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সম্প্রতি আমরা বাজারে নতুন ডিজাইনের বেশকিছু ডিপ ফ্রিজ ও গ্লাসডোর রেফ্রিজারেটর দিয়েছি এবং ভোক্তাদের কাছে থেকে আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছি।
ঈদের খুশিকে বেশি বেশি করতে যমুনা ইলেকট্রনিকস নিয়ে এসেছে ডাবল খুশি অফার (সিজন ৩)। এ ঈদে আমাদের যমুনা প্লাজা, ডিলার শপ কিংবা অনলাইনে যমুনা রেফ্রিজারেটর বা অন্যান্য হোম অ্যাপ্লায়েন্স কিনে রেজিস্ট্রেশন করেই ক্রেতারা জিতে নিতে পারবেন ঈদ উপহার আর লটারির মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে একের অধিক ভাগ্যবানরা পেয়ে যেতে পারেন বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ। এছাড়া সব পণ্যে নগদ ডিসকাউন্ট তো থাকছেই।










