চাহিদার প্রায় পুরোটাই এখন দেশে উৎপাদিত ফ্রিজ পূরণ করছে। নিম্ন আয়ের মানুষ কি এখন দেশী ফ্রিজ কিনতে পারছেন?

বাংলাদেশের ফ্রিজের বাজার এখন বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। একসময় ফ্রিজের বাজারটি পুরোপুরি আমদানিনির্ভর ছিল। স্থানীয় কোম্পানিগুলোর উদ্ভাবন, মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন ও সুলভ মূল্যের মাধ্যমে বাজারটি এখন দেশীয়দের নিয়ন্ত্রণে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সব স্তরের মানুষের কাছে ফ্রিজ একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে গণ্য হচ্ছে। বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজের ব্যবহার বেড়েছে। বিদ্যুতের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন গ্রামীণ পর্যায়েও ফ্রিজের চাহিদা বাড়িয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় বাংলাদেশের ফ্রিজের বাজার দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে এবং দেশীয় কোম্পানিগুলো এ বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফ্রিজ এখন আর শুধু উচ্চবিত্তের জন্য নয়, নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের ঘরেও এটি পৌঁছে গেছে। সাশ্রয়ী মূল্য ও সহজ কিস্তি সুবিধার কারণে ফ্রিজ এখন সবার নাগালের মধ্যে।

আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে ফ্রিজ উৎপাদনে দেশী কোম্পানিগুলোর সাফল্যের পেছনে কী কী বিষয় ভূমিকা রেখেছে?

বাংলাদেশে ফ্রিজ উৎপাদনে দেশীয় কোম্পানিগুলোর অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কাজ করেছে। আমদানিনির্ভরতা থেকে বের হয়ে নিজস্ব উৎপাদন, গবেষণা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে আজ দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু দেশের বাজারে আধিপত্য তৈরি করেনি, বরং বিদেশেও রফতানি শুরু করেছে। স্থানীয় উৎপাদনে শুল্কে কিছুটা ছাড় রয়েছে, অন্যদিকে আমদানীকৃত বিদেশী ব্র্যান্ডের ফ্রিজের ওপর শুল্ক কিছুটা বেশি। ফলে দেশীয় কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতায় সুবিধা পেয়েছে। বাংলাদেশী কোম্পানিগুলো নিজস্ব রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইউনিট গড়ে তুলে ফ্রিজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ নিজেরাই তৈরি করছে। দেশীয় প্রশিক্ষিত জনবল ও তুলনামূলকভাবে কম খরচে শ্রমিক পাওয়ায় উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশের দ্রুত বাড়তে থাকা মধ্যবিত্ত শ্রেণী এবং দেশের বেশির ভাগ জায়গায় বিদ্যুৎ পৌঁছানোর ফলে গ্রামীণ এলাকায় ফ্রিজের চাহিদা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পণ্য তৈরি করায় দেশীয় কোম্পানিগুলো এখন ইউরোপ, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ নানা দেশে রফতানি করছে।

গ্রামাঞ্চলে ফ্রিজের চাহিদা কেমন?

ফ্রিজসহ নানা ধরনের ঘরোয়া ইলেকট্রনিক পণ্যের বিক্রি গ্রামাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গ্রাম বা মফস্বলের ক্রেতারা খোঁজেন দীর্ঘস্থায়ী ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফ্রিজ, যা বৈদ্যুতিক সমস্যায়ও ভালো পারফর্ম করে। আমাদের মোট বিক্রির প্রায় ৫৫-৬০ শতাংশ এখন ঢাকার বাইরে গ্রামাঞ্চলে। বিশেষ করে উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে বিক্রির হার দ্রুত বাড়ছে।

ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের কোনো বিশেষ সুবিধা দিচ্ছেন কি?

ঈদুল আজহা ঘিরে ফ্রিজ ও ডিপ ফ্রিজারের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। মিনিস্টার সম্মানিত গ্রাহকের জন্য পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিয়ে এসেছে ‘ফ্রিজ কিনুন, হাম্বা জিতুন’ অফার, সিজন-২। এ অফারে সম্মানিত গ্রাহকরা ফ্রিজ কিনলেই পাবেন স্ক্র্যাচ কার্ড আর কার্ড ঘষলেই পেতে পারেন ফ্রি গরু অথবা ফ্রিজ কিনে ফ্রিজ ফ্রি, নিশ্চিত বিশাল মূল্যছাড় ও আকর্ষণীয় উপহার। এছাড়া সম্মানিত গ্রাহকদের জন্য আমাদের রয়েছে সহজ কিস্তি এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে ইএমআই সুবিধা।

আপনাদের বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কে বলুন।

ক্রেতা সন্তুষ্টিই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। তাই শুধু পণ্যের মানেই নয়, বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করতেও মিনিস্টার কাজ করছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে। সারা দেশে আমাদের ৩০০টিরও বেশি সার্ভিস পয়েন্ট এবং নিজস্ব কল সেন্টারের মাধ্যমে মিনিস্টার ২৪/৭ গ্রাহক পরিষেবা, ওয়ারেন্টি কভারেজের মাধ্যমে বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করে। যেকোনো যান্ত্রিক ত্রুটিতে গ্রাহককে দ্রুত সার্ভিস দিতে আমাদের অনেক দক্ষ টিম সারা দেশে সার্বক্ষণিক কাজ করে।

মূল্যস্ফীতির মধ্যে ফ্রিজের দাম ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে রাখতে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের এবং ডলারের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে, যা পণ্যের মূল্যও বাড়িয়ে দিচ্ছে। অফিস ও শোরুম পরিচালনার খরচও আগের থেকে বেড়ে গেছে। এ প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলানোর জন্য কিছু কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবসার ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় স্বয়ংক্রিয়তা বাড়িয়ে খরচ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।