আমরা সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ আর্থিক সুবিধা, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে এসএমই খাতকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

দেশের অর্থনীতিতে কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের অবদান উল্লেখযোগ্য। তাই এ খাতের বিকাশে অর্থায়নের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করার ওপর সবসময় গুরুত্ব দিয়ে থাকে প্রাইম ব্যাংক। আমাদের এসএমই ঋণ কর্মসূচির আওতায় উৎপাদন, ব্যবসা, সেবা ও বাণিজ্য খাতের উদ্যোক্তারা প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থায়নের সুযোগ পাচ্ছেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য কার্যকর মূলধন, যন্ত্রপাতি ক্রয়, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের ঋণ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।

এ খাতের অর্থায়ন আরো সহজ করতে এসএমই ফাউন্ডেশনের সঙ্গেও একটি পুনঃঅর্থায়ন (রিফাইন্যান্স) চুক্তি করেছে প্রাইম ব্যাংক। সরকারের ৩০০ কোটি টাকার রিভলভিং ফান্ডের আওতায় এ উদ্যোগে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সুদে জামানতবিহীন ঋণ পাবেন। এ কর্মসূচিতে ১-২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ এবং সর্বোচ্চ চার বছর মেয়াদে পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ছয় মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে ক্লাস্টার ফাইন্যান্সিং স্কিম এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়ন তহবিলের (এফএসএফডিএমএসএমই) আওতায় অংশগ্রহণ চুক্তি করেছে প্রাইম ব্যাংক। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ পাবেন, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়নে রাখবে ইতিবাচক ভূমিকা।

বিশ্ব এমএসএমই দিবস উপলক্ষে আমরা প্রতি বছরই দেশের সাত সফল উদ্যোক্তাকে সম্মাননা প্রদান করি। মূলত তাদের উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা দেয়া হয়।

এসএমইদের সম্মাননা জানানো শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির বহিঃপ্রকাশ। আমরা বিশ্বাস করি একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে অপ্রাতিষ্ঠানিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বিকাশ অপরিহার্য। বাংলাদেশের অপ্রাতিষ্ঠানিক বা প্রান্তিক কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত আজ দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাত শুধু জিডিপিতে অবদান রাখছে না, বরং ব্যাপক কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করছে। আমরা প্রাইম ব্যাংক উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াই, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহযাত্রী হই— এ মর্মে বিশ্বাসী। এ মোটো নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র—সব জায়গায় আমরা উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছতে কাজ করে যাচ্ছি। প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, সহজ ঋণ প্রদান এবং গ্রাহককেন্দ্রিক উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা একটি টেকসই উদ্যোক্তা পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা যেসব উদ্যোক্তাকে সম্ভাবনা প্রদান করেছি, তারা আমাদের গর্ব। তাদের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটা দেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রার প্রতিচ্ছবি। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রগতি আমাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরা বিশ্বাস করি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নারী উদ্যোক্তাদের আরো বেশি এগিয়ে আসা জরুরি। আমরা সেই পথে তাদের পাশে আছি।

একটি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য কেবল ব্যবসায়িক মুনাফা নয়, বরং দেশের সামগ্রিক সমৃদ্ধি। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আমাদের এসএমই খাত যেন গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড বা বৈশ্বিক মানে পৌঁছতে পারে, সেজন্য আমরা আমাদের সেবার পরিধি আরো আধুনিক ও সহজতর করছি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এ যুগে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যাতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে ই-কমার্স ও ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন, আমরা সেই পথও সুগম করার চেষ্টা করছি।

এসএমইদের স্বপ্নকে বাস্তবিক রূপ দিতে সহায়তা করা এবং একসঙ্গে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সবাই মিলে এমন একটি অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কোনো স্বপ্নই পুঁজির অভাবে থমকে যাবে না। প্রতিটি উদ্যোগ সফল হবে, এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।