যেমন নগদ লেনদেনের দীর্ঘদিনের অভ্যাস ও এর ওপর মানসিক নির্ভরতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পর্যাপ্ত পয়েন্ট অব সেলস (পস) মেশিন এবং কার্ড গ্রহণে আগ্রহী মার্চেন্টের স্বল্পতা, ইন্টারনেট সেবার অনিশ্চয়তা ও সহজলভ্যতার অভাব এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট সম্প্রসারণের পথে অন্তরায়। পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারে অনাগ্রহ ও ডিজিটাল সেবায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করা, মার্চেন্টদের জন্য উচ্চ এমডিআর (মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট) সংক্রান্ত উদ্বেগ, সাইবার নিরাপত্তা ও প্রতারণা নিয়ে গ্রাহকদের আশঙ্কা এবং কার্ড ব্যবহারে আর্থিক সচেতনতা ও ডিজিটাল শিক্ষার ঘাটতি কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যাংক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও প্রযুক্তি সেবাদাতাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

কোন কোন বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে আপনাদের কার্ড অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্ডের তুলনায় স্বতন্ত্র?

বিভিন্ন কারণে আমাদের ক্রেডিট কার্ড বাজারে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে। প্রথমত, ন্যূনতম কার্ড ইস্যু ফি এবং প্রতিযোগিতামূলক চার্জ কাঠামো। এছাড়া রয়েছে বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা, সহজ ও নমনীয় পেমেন্ট অপশন, দ্রুত ও মানসম্পন্ন গ্রাহকসেবা এবং সময়োপযোগী প্রডাক্ট ফিচার। আমরা সবসময় গ্রাহকের প্রয়োজন ও পরিবর্তিত জীবনধারাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন সুবিধা যুক্ত করে থাকি, যা আমাদের কার্ডকে আরো ব্যবহারবান্ধব ও কার্যকর করে তুলেছে।

গ্রাহকদের জন্য আপনারা কত ধরনের ক্রেডিট কার্ড বাজারে এনেছেন?

আর্থিক সক্ষমতা, জীবনযাপন ধারা ও ব্যয়ের ধরন বিবেচনায় সর্বোচ্চ সংখ্যক সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করে আমাদের ব্যাংক বর্তমানে গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ক্রেডিট কার্ড অফার করছে। যেমন ভিসা সিগনেচার ক্রেডিট কার্ড, ভিসা প্লাটিনাম ক্রেডিট কার্ড, ভিসা গোল্ড ক্রেডিট কার্ড, ভিসা ক্ল্যাসিক ক্রেডিট কার্ড, ভিসা পরমা প্লাটিনাম ক্রেডিট কার্ড এবং মাস্টারকার্ড টাইটানিয়াম ক্রেডিট কার্ড।

এবারের রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কার্ডভিত্তিক কেনাকাটায় গ্রাহকদের জন্য বিশেষ অফার কী কী?

পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গ্রাহকদের নানামুখী চাহিদা বিবেচনায় আমরা আকর্ষণীয় অফার চালু করেছি। লাইফস্টাইল ও ফ্যাশন সেগমেন্টে থাকছে ক্যাশব্যাক সুবিধা। এবারে কার্ডভিত্তিক কেনাকাটায় গ্রাহকদের ওয়াচেস অ্যান্ড জুয়েলারি, লাইফস্টাইল, রেস্ট্রুরেন্ট, কফি অ্যান্ড বেকারি, বিউটি কেয়ার, ট্রাভেল ও শপিং সেগমেন্টে থাকছে বিশেষ মূল্যছাড়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য হোটেল ও রেস্টুরেন্টে ইফতার প্লাস ডিনার বুফেতে থাকছে ‘বাই ওয়ান, গেট ওয়ান/টু/থ্রি’ অফার, যা গ্রাহকদের উৎসবমুখর কেনাকাটা ও আড্ডাকে আরো সাশ্রয়ী ও আনন্দময় করে তুলবে।

বাংলাদেশে কার্ড ব্যবহারকে আরো জনপ্রিয় করতে আপনারা কী উদ্যোগ নিয়েছেন?

বাংলাদেশে কার্ড ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে আমরা বহুমাত্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। যেমন সহজ শর্তে কার্ড ইস্যু ও ন্যূনতম ফি সুবিধা, লাইফস্টাইল, রেস্টুরেন্ট, ট্রাভেল ও শপিং সেগমেন্টে নিয়মিত ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট অফার, বড় অংকের কেনাকাটার জন্য সহজ কিস্তি সুবিধা, কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্ট, ওটিপি ও টোকেনাইজেশনসহ উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং নতুন পার্টনার যুক্তকরণ এবং ডিজিটাল পেমেন্ট বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম ও প্রচারণা চালানো। আমাদের লক্ষ্য হলো নিরাপদ, সহজ ও সুবিধাজনক কার্ডভিত্তিক লেনদেনকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলা।

ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধিতে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

ডিজিটাল লেনদেনের টেকসই সম্প্রসারণে সরকারের নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেসব উদ্যোগ নিতে পারে, তার মধ্যে ব্যাংকিং ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মধ্যে সহজ আন্তঃসংযোগ নিশ্চিত করা এবং এনপিএসবি, বিইএফটিএন ও আরটিজিএসের ট্রানজেকশনাল ট্যারিফ যৌক্তিকীকরণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি দেশব্যাপী ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়; সাইবার নিরাপত্তা জোরদার ও ডেটা সুরক্ষায় কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন, পস মেশিন, কিউআর কোড ও অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্ট প্রযুক্তির সাশ্রয়ী প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা ও আর্থিক শিক্ষার প্রসারে প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম এ ধরনের লেনদেন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করতে হলে সমন্বিত নীতিগত সহায়তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন অপরিহার্য। যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তার দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরো ত্বরান্বিত করবে।