রমজান ও ঈদ আমাদের দেশে কেনাকাটার সবচেয়ে বড় মৌসুম এবং এ সময়ে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার দৃশ্যমানভাবে বাড়ে। তবে বাস্তবতা হলো আমরা এখনো যেমন পুরোপুরি নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীল নই, আবার পুরোপুরি ক্যাশলেসও নই। দেশে এখনো প্রতি ১০টি লেনদেনের প্রায় সাতটিই নগদে হয়। কভিডের সময়ে নিরাপত্তা ও প্রয়োজনের কারণে ডিজিটাল লেনদেন ১৬-৪১ শতাংশে উঠেছিল। পরে প্লাটফর্মের নির্ভরযোগ্যতা ও আস্থার কিছু চ্যালেঞ্জে ২০২৪ সালে তা প্রায় ২৩ শতাংশে নেমে আসে।
এশিয়ার অনেক দেশে কিউআর ব্যবস্থা ও দ্রুত মার্চেন্ট অনবোর্ডিংয়ের মাধ্যমে ছোট দোকান থেকে বড় বিপণিবিতান পর্যন্ত ডিজিটাল পেমেন্ট সহজ হয়েছে। বাংলাদেশেও বড় এমএফএস ব্যবহারকারী ভিত্তি, কনট্যাক্টলেস সুবিধা এবং তরুণ জনগোষ্ঠী আমাদের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। তবে শহরের বাইরে অবকাঠামো বিস্তার ও আস্থার ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
ঈদের কেনাকাটায় ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে কী ধরনের ক্যাম্পেইন বা অফার থাকছে?
ঈদকে সামনে রেখে আমরা দেশজুড়ে বিশেষ রমজান ও ঈদ ক্যাম্পেইন চালু করেছি, যাতে কার্ড ব্যবহার আরো সহজ, নিরাপদ ও আনন্দময় হয়। গ্রোসারি কেনাকাটার জন্য দেশের শীর্ষ কয়েকটি সুপারশপে ‘স্পেন্ড অ্যান্ড উইন’ উদ্যোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেশি লেনদেন করলে গ্রাহকরা হোম অ্যাপ্লায়েন্স ভাউচার, গ্যাজেট কিংবা গ্রোসারি ভাউচার জয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
পাশাপাশি লাইফস্টাইল, ডাইনিং ও ভ্রমণ খাতেও বিশেষ অফার রাখা হয়েছে। প্রায় ৫০টি লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় মিলছে। ডাইনিং খাতে প্রায় ৫০টি পার্টনার রেস্টুরেন্টে ইফতার ও ডিনারে ‘বাই ওয়ান, গেট আপ টু ফোর’ সুবিধা রয়েছে। এছাড়া মার্চের শুরুতে আমরা লাইফস্টাইলের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করছি। আর ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য আন্তর্জাতিক ট্রাভেল প্যাকেজে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় এবং দেশীয় হোটেল ও রিসোর্টে আকর্ষণীয় সাশ্রয়ের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এভাবে উৎসবের কেনাকাটা থেকে শুরু করে বাইরে খাওয়া ও ভ্রমণ সব ক্ষেত্রেই কার্ডহোল্ডাররা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া মার্চের শুরুতে আমরা লাইফস্টাইলের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করছি।
আমাদের লক্ষ্য নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার থেকে শুরু করে ঈদের শপিং ও ভ্রমণ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই কার্ড ব্যবহার করলে গ্রাহক যেন বাড়তি সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্য পান এবং ডিজিটাল পেমেন্টকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিয়মিত ব্যবহারের অভ্যাসে পরিণত করেন সেটি নিশ্চিত করা।
ঈদের মতো উচ্চ লেনদেনের সময়ে ডিজিটাল পেমেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আপনাদের বিশেষ উদ্যোগ কী?
ঈদের সময় স্বাভাবিকভাবেই লেনদেনের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এ সময়ে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার থাকে নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা। মাস্টারকার্ডের গ্লোবাল সাইবার অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স সক্ষমতা এবং এআই-ভিত্তিক ফ্রড মনিটরিং ব্যবস্থা রিয়েল-টাইমে লেনদেন বিশ্লেষণ করে। কোনো অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক আচরণ ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কতা জারি করা হয় এবং প্রয়োজন হলে লেনদেন স্থগিত বা যাচাই করা হয়। টোকেনাইজেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে কার্ডের আসল তথ্য সুরক্ষিত রাখা হয়, ফলে তথ্য চুরির ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি পার্টনার ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়, যাতে উচ্চ লেনদেনের সময়েও সিস্টেম স্থিতিশীল থাকে।
এছাড়া নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি। সম্প্রতি বাংলাদেশে চালু হওয়া বিশ্বের প্রথম বায়োমেট্রিক মেটাল ক্রেডিট কার্ডে ফিঙ্গারপ্রিন্ট-ভিত্তিক অথেন্টিকেশন যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ কার্ডহোল্ডারদের আঙুলের ছাপ যাচাই ছাড়া লেনদেন সম্পন্ন হবে না। এতে পিন নির্ভরতার ঝুঁকি কমে এবং কার্ডের অপব্যবহারের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। একই সঙ্গে মেটাল ডিজাইনের মাধ্যমে প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতাও যুক্ত হয়েছে, যা নিরাপত্তা ও আধুনিকতার সমন্বয় ঘটিয়েছে।
প্রযুক্তির পাশাপাশি গ্রাহক সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। ওটিপি বা পিন কাউকে না দেয়া, অচেনা লিংক এড়িয়ে চলা—এসব বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হয়। আমাদের লক্ষ্য হলো উৎসবের আনন্দ যেন নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ ছাড়াই উপভোগ করা যায়।
ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে নতুন সরকারের কাছে কী ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রত্যাশা করছেন?
ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে প্রথমেই দরকার ফ্যাসিলিটেটিভ রেগুলেশন। অর্থাৎ এমন নীতিমালা, যেখানে ব্যাংক, এমএফএস, পিএসও ও ফিনটেক সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে। একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং কোনো একক প্রতিষ্ঠান বাজারে আধিপত্য তৈরি করতে পারবে না। এতে গ্রাহকদেরও পছন্দের স্বাধীনতা বজায় থাকবে।
গ্রাম ও মফস্বলে ডিজিটাল অবকাঠামো বিস্তারে আলাদা বাজেট ও প্রণোদনা প্রয়োজন। সরকার যদি ডিজিটাল পেমেন্টে ৫ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা করে (৩ শতাংশ গ্রাহক ও ২ শতাংশ মার্চেন্টের জন্য), তাহলে নগদ লেনদেনের ব্যবহার কমে ডিজিটাল লেনদেন বাড়তে পারে। এতে লেনদেন আরো স্বচ্ছ ও সহজে অনুসরণযোগ্য হবে।
এছাড়া প্লাস্টিক কার্ড, পিওএস মেশিন ও স্মার্টফোনের ওপর বর্তমান উচ্চ কর (৩৮-৫৮ শতাংশ) কমিয়ে ১০-১৫ শতাংশ করলে অবকাঠামো দ্রুত বিস্তার লাভ করবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপত্তা। শক্তিশালী সাইবার সুরক্ষা ও দেশব্যাপী ডিজিটাল সচেতনতা কর্মসূচি ছাড়া ক্যাশলেস অর্থনীতি টেকসই হবে না। সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগেই আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
গ্রাম ও মফস্বল পর্যায়ে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণে আপনারা কী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন?
গ্রাম ও মফস্বলে ডিজিটাল পেমেন্ট বিস্তারের ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো প্রযুক্তি পৌঁছে দেয়া, ব্যবহার সহজ করা এবং আস্থা তৈরি করা। শহরের বাইরে এখনো অনেক ছোট দোকান ও স্থানীয় বাজারে ডিজিটাল গ্রহণযোগ্যতা কম। তাই আমরা ব্যাংক ও ফিনটেক পার্টনারদের সঙ্গে কাজ করে কম খরচে কিউআর ও পিওএস বিস্তারে জোর দিচ্ছি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যদি একটি ইউনিয়ন বা কমিউনিটি মার্কেটের অধিকাংশ দোকানে কিউআর চালু হয়, তাহলে ক্রেতারা ধীরে ধীরে ডিজিটাল পেমেন্টে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। পাশাপাশি সিএমএসএমই ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ কার্ড ও ডিজিটাল সমাধান দেয়া হচ্ছে, যাতে তারা লেনদেনের রেকর্ড রাখতে পারেন এবং ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক ঋণ সুবিধা পেতে পারেন।
এক্ষেত্রে ‘সাউন্ড বক্স’ সমাধানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক ছোট দোকানে বা কম শিক্ষিত ব্যবসায়ীর জন্য মোবাইল স্ক্রিন দেখে লেনদেন যাচাই করা কঠিন হয়। সাউন্ড বক্সের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন হলেই সঙ্গে সঙ্গে বাংলা ভাষায় অডিও বার্তা শোনা যায়, যেমন ‘আপনার কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করা হয়েছে’ বা ‘পেমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে।’ এতে দোকানদার তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেন যে টাকা জমা হয়েছে। এ ধরনের সহজ ও ব্যবহারবান্ধব প্রযুক্তি গ্রাম এবং মফস্বলে ডিজিটাল পেমেন্টের প্রতি আস্থা বাড়াতে সহায়ক।
নারী উদ্যোক্তা ও তরুণ ব্যবসায়ীদের জন্য আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির পাশাপাশি সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত হলে ডিজিটাল পেমেন্ট শহরকেন্দ্রিক সীমা ছাড়িয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।
কিস্তিতে (ইএমআই) কেনাকাটা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের অর্থ সাশ্রয়ে ক্রেডিট কার্ড কতটা সহায়ক ভূমিকা রাখছে?
ইএমআই সুবিধা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য একটি বাস্তবসম্মত সমাধান হয়ে উঠেছে। অনেক সময় ঈদ বা বিশেষ উপলক্ষে পরিবার নতুন ফ্রিজ, টিভি, স্মার্টফোন কিংবা প্রয়োজনীয় আসবাব কিনতে চান, কিন্তু একবারে পুরো অর্থ পরিশোধ করা কঠিন হয়। ইএমআই ব্যবস্থায় সে খরচটি কয়েক মাসে ভাগ করে দেয়া যায়, ফলে মাসিক বাজেটের ওপর চাপ কম পড়ে এবং ব্যয় পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
ক্রেডিট কার্ডের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুদমুক্ত সুবিধা ও সহজ কিস্তি কাঠামো পরিবারগুলোকে আর্থিক শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে কেনাকাটা করার সুযোগ দেয়। মাস্টারকার্ডের অধিকাংশ ইস্যুকারী পার্টনার ব্যাংক বর্তমানে স্বল্প খরচে বা সুবিধাজনক শর্তে ইএমআই সুবিধা দিচ্ছে, ফলে গ্রাহকরা সহজেই এ সুবিধা নিতে পারছেন। ফলে ক্রেডিট কার্ড এখন শুধু তাৎক্ষণিক কেনাকাটার মাধ্যম নয়; এটি একটি পরিকল্পিত আর্থিক ব্যবস্থাপনার উপকরণও, যা মধ্যবিত্ত পরিবারকে প্রয়োজন ও স্বপ্ন—দুটোকেই ভারসাম্য রেখে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।
অনেকে ঈদের কেনাকাটা দেশের বাইরে করেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মাস্টারকার্ডের অবস্থান ও পারফরম্যান্স কেমন?
এখন অনেক বাংলাদেশী ঈদের ছুটিতে বিদেশ ভ্রমণ বা আন্তর্জাতিক অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে কেনাকাটা করেন। এক্ষেত্রে একটি বড় বিষয় হলো বিশ্বজুড়ে গ্রহণযোগ্যতা ও নিরাপত্তা। মাস্টারকার্ড ২২০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে গ্রহণযোগ্য এবং ১৫০টির বেশি মুদ্রায় লেনদেন করা যায়। ফলে বিদেশে হোটেল বুকিং, শপিং, রেস্টুরেন্ট বিল বা টিকিট কেনা সব ক্ষেত্রেই একই কার্ড ব্যবহার করা সম্ভব।
আন্তর্জাতিক লেনদেনে নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রিয়েল-টাইম ফ্রড মনিটরিং, টোকেনাইজেশন ও উন্নত ঝুঁকি বিশ্লেষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করা হয়। পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও আমাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া মাস্টারকার্ডের বৈশ্বিক ‘প্রাইসলেস স্পেশালস’ প্লাটফর্মের মাধ্যমে কার্ডহোল্ডাররা বিভিন্ন দেশে বিশেষ অফার ও অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারেন। বিশ্বের বিভিন্ন শহরের মিশেলিন-স্টার রেস্টুরেন্টে বিশেষ সুবিধা, প্রিমিয়াম ডাইনিং অভিজ্ঞতা, হোটেল আপগ্রেড বা ভ্রমণ-সম্পর্কিত অফার পাওয়া যায়।
আমাদের লক্ষ্য হলো গ্রাহক দেশে বা বিদেশে যেখানেই থাকুন না কেন, যেন একইভাবে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল অভিজ্ঞতা পান।
মাস্টারকার্ড বর্তমানে কতটি ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করছে? বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
মাস্টারকার্ড দীর্ঘদিন ধরে দেশের ২৩টি বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে। অধিকাংশ শীর্ষস্থানীয় ইস্যুয়িং ও অ্যাকুয়ারিং ব্যাংক আমাদের নেটওয়ার্কের অংশ। আমাদের লক্ষ্য কেবল কার্ড ইস্যু বাড়ানো নয়, বরং একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা।
ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় অগ্রাধিকার পাচ্ছে। প্রথমত, মার্চেন্ট অ্যাকসেপ্টেন্স বাড়ানো, বিশেষ করে শহরের বাইরে কিউআর ও পিওএস বিস্তার। দ্বিতীয়ত, সিএমএসএমই, এসএমই, তরুণ, নারী উদ্যোক্তা ও পর্যটন খাতের জন্য সেগমেন্টভিত্তিক সমাধান তৈরি করা। তৃতীয়ত, কনট্যাক্টলেস পেমেন্ট, ক্যাশলেস ক্যাম্পাস ও কমিউনিটি মার্কেটের মতো উদ্যোগ সম্প্রসারণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত করা। কারণ ডিজিটাল লেনদেনের টেকসই প্রবৃদ্ধি নির্ভর করে গ্রাহকের বিশ্বাসের ওপর।
বাংলাদেশের পেমেন্ট নেটওয়ার্ক উন্নয়নে প্রযুক্তিগতভাবে মাস্টারকার্ড কীভাবে সহায়তা করতে পারে?
বাংলাদেশের পেমেন্ট নেটওয়ার্ককে আরো শক্তিশালী ও আধুনিক করতে প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং সমন্বয়—এ তিনটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, ইন্টারঅপারেবিলিটি বাড়ানো প্রয়োজন অর্থাৎ ব্যাংক, কার্ড, ওয়ালেট ও কিউআর যেন সহজে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। এতে গ্রাহক যেকোনো মাধ্যমে পেমেন্ট করলেও তা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে।
দ্বিতীয়ত, নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। এআই-ভিত্তিক ফ্রড ডিটেকশন, টোকেনাইজেশন এবং রিয়েল-টাইম ঝুঁকি বিশ্লেষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেনকে আরো সুরক্ষিত করা যায়। উদাহরণ হিসেবে সন্দেহজনক আচরণ শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা দিয়ে ক্ষতি কমানো সম্ভব।
তৃতীয়ত, ডেটা বিশ্লেষণ ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বোঝা যায় কোথায় অবকাঠামো বা গ্রহণযোগ্যতার ঘাটতি রয়েছে। সে অনুযায়ী ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়ন পরিকল্পনা নেয়া যায়।
আমাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে এমন একটি পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা নিরাপদ, সমন্বিত ও সবার জন্য সহজলভ্য। এ উদ্যোগই দেশকে ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী ও আস্থাভিত্তিক ক্যাশলেস মার্কেটের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।





