বিপ্লবী
জনপদ
চট্টগ্রাম।
আবহমান
কাল
ধরে
চট্টগ্রাম
মুক্তি
আন্দোলনের
পথ
দেখিয়েছে,
সাক্ষী
হয়েছে
রক্তাক্ত
ইতিহাসের।
১৯৩০
সালে
ব্রিটিশ
শাসনের
ভিত
কাঁপিয়েছিলেন মাস্টারদা
সূর্যসেনের
নেতৃত্বে
তার
দুঃসাহসী
অকুতোভয়
সৈনিকরা।
উপনিবেশ
থেকে
স্বাধীন
হওয়ার
দীক্ষা
দিয়েছিলেন,
কিন্তু
ইতিহাস
মুছে
দেয়নি
বাঙালির
স্বপ্নসাধনাকে।
বাস্তবে
সেটা
রূপ
নেয়
১৯৭১
সালের
অগ্নিঝরা
মার্চে।
জাতির
পিতা
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমান
গ্রেফতারের
আগে
২৬
মার্চের
প্রথম
প্রহরেই
তিনি
গোপন
তারবার্তায়
স্বাধীনতার
ঘোষণাপত্র
পাঠান
চট্টগ্রামে।
যেখানে
বলা
হলো:
‘ইহাই
হয়তো
আমাদের
শেষ
বার্তা,
আজ
হইতে
বাংলাদেশ
স্বাধীন।
আমি
বাংলাদেশের
জনগণকে
আহ্বান
জানাইতেছি,
যে
যেখানে
আছে,
যাহার
যাহা
কিছু
আছে,
তাই
নিয়ে
রুখে
দাঁড়াও,
সর্বশক্তি
দিয়ে
হানাদার
বাহিনীকে
প্রতিরোধ
করো।
পাকিস্তানি
দখলদার
বাহিনীর
শেষ
সৈন্যটিকে
বাংলার
মাটি
হইতে
বিতাড়িত
না
করা
পর্যন্ত
এবং
চূড়ান্ত
বিজয়
অর্জন
না
করা
পর্যন্ত
লড়াই
চালিয়ে
যাও।
শেখ
মুজিবুর
রহমান।
২৬
মার্চ,
১৯৭১।’
এ ঐতিহাসিক
বার্তাটি
রাতের
মধ্যেই
পৌঁছে
যায়
চট্টগ্রাম
সংগ্রাম
পরিষদের
নেতা
জহুর
আহমদ
চৌধুরীর
বাসায়।
পরে
সেখান
থেকে
বার্তাটি
লিখে
নেন
টেলিফোন
রেডিও
টেকনিশিয়ান
জালাল
আহমেদ।
রাতের
মধ্যেই
বঙ্গবন্ধুর
স্বাধীনতার
ঘোষণার
হাতে
লেখা
কপি
চট্টগ্রাম
শহরের
নেতাকর্মীদের
কাছে
পৌঁছে
যায়।
যাদের
মধ্যে
চট্টগ্রাম
সিটি
আওয়ামী
লীগের
সাধারণ
সম্পাদক
এমএ
হান্নান,
জহুর
আহমেদ
চৌধুরী,
এম
আর
সিদ্দিকী
প্রমুখদের
কাছে।
“জহুর আহমদ
চৌধুরীর
বাসায়
আসা
বার্তাটি
ওই
রাতেই
হাজারি
গলির
বিনোদা
ভবনে
আওয়ামী
লীগ
কার্যালয়ে
নিয়ে
বাংলায়
অনুবাদ
করে
সাইক্লোস্টাইল
মেশিনে
কপি
করে
কর্মীদের
কাছে
পৌঁছানো
হয়
বলেও
তিনি
জানান।
পরে
আওয়ামী
লীগ
নেতা
আখতারুজ্জামান
চৌধুরীর
পাথরঘাটার
বাসার
সাইক্লোস্টাইল
মেশিনেও
বার্তাটি
কপি
করে
বিলিয়ে
দেওয়া
হয়।”
(চট্টগ্রাম খবর,
২৬
মার্চ
২০২২)
আওয়ামী
লীগের
কর্মসূচি
পালন,
অসহযোগ
আন্দোলন,
হরতাল
অবরোধে
চট্টগ্রামে
দিকনির্দেশনা
প্রদানের
জন্য
জহুর
আহমেদ
চৌধুরী,
এমআর
সিদ্দিকী,
এমএ
হান্নান,
এমএ
মান্নান,
সিরাজুল
ইসলাম
চৌধুরী,
মৌলভী
সৈয়দ
আহমেদ,
এবিএম
মহিউদ্দিন
চৌধুরীর
নেতৃত্বে
‘চট্টগ্রাম সংগ্রাম
পরিষদ’
গঠিত
হয়।
কেন্দ্রীয়
কমিটি
থেকে
আসা
যেকোনো
সিদ্ধান্ত
চট্টগ্রামে
বাস্তবায়নের
সংকল্প
জানায়
পরিষদ।
বলা
বাহুল্য
চট্টগ্রাম
সংগ্রাম
পরিষদের
নির্দেশে
ছাত্র
শ্রমিক
জনতা
প্রশিক্ষণ
শুরু
করে।
চট্টগ্রাম
কলেজ,
মেডিকেল
কলেজ
প্রাঙ্গণে
শুরু
হয়
রাজনৈতিক
দীক্ষা
এবং
অস্ত্রের
প্রশিক্ষণ।
চট্টগ্রাম
কলেজের
প্যারেড
মাঠ,
লালদীঘি
মাঠ
চট্টগ্রাম
কলেজের
লিচুতলা
ছিল
উত্তালময়।
মুক্তিযুদ্ধ
শুরু
হলে
ইপিআর,
পুলিশ
ও
সেনাবাহিনীর
বাঙারি
সদস্যরা
চট্টগ্রাম
কলেজ
হোস্টেলকে
একটি
ট্রানজিট
পয়েন্ট
হিসেবে
ব্যবহার
করে।
ওই
সময়কার
চট্টগ্রাম
কলেজের
ছাত্র
সংসদের
ভিপি,
জিএসসহ
ছাত্রনেতারা
এতে
গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা
পালন
করেন।
চট্টগ্রাম
কলেজের
বাইরেও
আগ্রাবাদ
স্কুল
মাঠে,
কলোনি
মাঠে,
জাতিতাত্ত্বিক
জাদুঘর
প্রাঙ্গণেও
স্বেচ্ছাসেবক
বাহিনীর
প্রশিক্ষণ
হতো।
মূলত
এসব
প্রশিক্ষণের
দিকনির্দেশনায়
ছিল
চট্টগ্রাম
সংগ্রাম
পরিষদ।
একাত্তরের
মার্চের
উত্তাল
দিনগুলোয়
ঢাকার
মতো
চট্টগ্রামও
ছিল
উত্তাল।
চট্টগ্রামের
অবস্থান
ছিল
বাংলার
অন্য
শহরের
তুলনায়
ভিন্ন।
এখানে
অবাঙালি
বিহারিঅধ্যুষিত
জনপদ
হিসেবে
খ্যাত
ছিল
পাহাড়তলির
অয়্যারলেস
কলোনি,
শেরশাহ
কলোনি
এবং
ফিরোজশাহ
কলোনি।
এদের
অত্যাচারে
এবং
বাঙালিবিরোধী
মনোভাবের
কারণে
স্থানীয়
বাঙালিদের
মনে
প্রচণ্ড
ক্ষোভ
বিরাজ
করছিল।
অবাঙালি
বিহারিদের
পেছনে
ছিল
পাকিস্তান
সেনাবাহিনীর
প্রত্যক্ষ
সহযোগিতা,
এমনকি
তাদের
অস্ত্র
দিয়েও
সহযোগিতা
করা
হচ্ছিল।
ফলে
অবাঙালি
বিহারিরা
মার্চের
প্রথম
সপ্তাহেই
চট্টগ্রামের
বিভিন্ন
স্থানে
অগ্নিসংযোগ,
লুটতরাজ
এবং
হত্যা,
খুন
চালিয়ে
যেতে
থাকে।
কিন্তু
প্রথম
থেকেই
চট্টগ্রামে
বাঙালিদের
প্রতিবাদ-প্রতিরোধের
সম্মুখীন
হন
পাকিস্তানি
বাহিনী।
প্রতিরোধ
ও
প্রতিবাদের
ইতিহাসে
মার্চের
প্রথমেই
যেটার
নাম
নিতে
হয়
সেটা
হলো
এমভি
সোয়াত
জাহাজ
থেকে
অস্ত্র
নামানোকে
কেন্দ্র
করে।
পাকিস্তানি
বাহিনী
পিছু
হটে।
১৯৭১
সালের
২
মার্চ
থেকে
২৪
মার্চ
পর্যন্ত
সর্বস্তরের
জনতার
সম্মিলিত
প্রতিরোধে
এমভি
সোয়াত
জাহাজ
থেকে
অস্ত্র
খালাস
করা
সম্ভব
হয়নি।
চট্টগ্রাম
বন্দরে
নোঙর
করা
এমভি
সোয়াত
জাহাজ
থেকে
অস্ত্র
খালাসের
বিরুদ্ধে
স্থানীয়
ছাত্র-জনতা
প্রতিরোধ
গড়ে
তোলে।
আগ্রাবাদের চট্টগ্রাম
রেডিও
অফিস
থেকে
দেওয়ানহাট
মোড়সহ
চট্টগ্রাম
বন্দরে
আসা-যাওয়ার
সব
পথেই
স্থানীয়রা
ব্যারিকেড
গড়ে
তুলেছিল।
তবে
অস্ত্র
খালাসের
বিরুদ্ধে
বলিষ্ঠ
ভূমিকা
রেখেছিলেন
চট্টগ্রাম
বন্দরের
শ্রমিক
সংঘের
তৎকালীন
সভাপতি
এম
আর
সিদ্দিকীসহ
জহুর
আহমেদ
চৌধুরী,
এমএ
হান্নান,
আবদুল্লাহ
আল
হারুন,
সিরাজুল
হক
মিয়া,
এমএ
মান্নান,
আতাউর
রহমান
খানসহ
প্রমুখ।
চট্টগ্রাম
বন্দরের
সাবেক
কর্মচারী
বীর
মুক্তিযোদ্ধা
আ
ক
ম
রইসুল
হক
বাহার
সম্পাদিত
‘মুক্তিযুদ্ধ ও
চট্টগ্রাম
বন্দর’
বইয়ে
এ
প্রসঙ্গে
বলা
হয়েছে,
“২৪ মার্চ
বিকালে
বন্দরের
নিউমুরিং
কলোনির
মাঠে
সমাবেশ
আহ্বান
করা
হয়।
আমাদের
দায়িত্ব
ছিল
মাইক
লাগানো
ও
বিভিন্ন
বাসাবাড়ি
থেকে
চেয়ার-টেবিল
এনে
মঞ্চ
সাজানো।
মাইক
আনা
হয়
এজাহার
মিয়ার
কাছ
থেকে।
বিপ্লবী
ছাত্র
ইউনিয়নের
চট্টগ্রাম
কলেজ
শাখার
নেতা
শামসুদ্দিন
আহমদের
নেতৃত্বে
আমরা
এসব
কাজ
করেছিলাম।
বিকাল
৪টায়
শুরু
হওয়া
সেই
সভায়
সভাপতিত্ব
করেন
আওয়ামী
লীগ
নেতা
বাদশা
মিয়া।
বক্তব্য
রাখেন
আওয়ামী
লীগ
নেতা
এমএ
হান্নান
ও
স্থানীয়
এমএ
মজিদ
মিয়া
(এমএ আজিজের
ভাই)।
এমএ
হান্নান
সোয়াত
জাহাজ
প্রতিরোধের
ঘোষণা
দেন
সভায়।”
১৯৭১
সালের
পত্রিকায়
এটি
গুরুত্বপূর্ণ
খবর
হিসেবে
প্রকাশ
করা
হয়।
যেখানে
বলা
হয়:
“এদিকে চট্টগ্রাম
বন্দরে
এদিন
এমভি
সোয়াত
জাহাজ
হতে
সামরিক
বাহিনীর
অস্ত্রশস্ত্র
খালাস
করার
সময়
জনতা
বাধা
দিলে
সেনাবাহিনী
তাদের
উপর
গুলি
চালায়।
শহরে
এ
খবর
ছড়িয়ে
পড়ার
সঙ্গে
সঙ্গে
জনমনে
তীব্র
উত্তেজনা
দেখা
দেয়।
লোকজনকে
স্থানে
স্থানে
জটলা
করে
এবং হাজার
হাজার
লোক
চট্টগ্রাম
বন্দর
ঘেরাও
করে
রাখে।
এছাড়া
সৈন্যরা
যাতে
শহরে
ঢুকতে না
পারে
বা
কোনো
রকম
অস্ত্রশস্ত্র
চালান
করতে
না
পারে
সেজন্য
তারা
ক্যান্টনমেন্টর
সঙ্গে
সংযোগ
রক্ষাকারী
পথের
কয়েকটি
সেতু
নষ্ট
করে দেয়।
পিচভর্তি
ড্রাম,
গাছের
গুঁড়ি,
ইট,
পাথর
ইত্যাদির
দ্বারা
স্থানে
স্থানে
ব্যারিকেডের
সৃষ্টি
করে।”
চট্টগ্রামের
সোয়াত
জাহাজের
অস্ত্র
খালাসের
প্রতিরোধ
সংগ্রামকে
বলা
হয়ে
থাকে
জনযুদ্ধের
সূচনা
হিসেবে।
জনতা
ছুটে
এসেছেন
সাংস্কৃতিক
ময়দান
থেকেও।
চট্টগ্রাম
মুক্তিযুদ্ধের
বিশিষ্ট
গবেষক
ডা.
মাহফুজুর
রহমান
লিখেছেন,
“নাটক চলাকালীন
তাহের
সোবহান
সংবাদ
আনলেন
চট্টগ্রাম
বন্দরে
সোয়াত
জাহাজ
থেকে
সমরাস্ত্র
খালাসে
বাঙালিরা
প্রতিরোধ
গড়ে
তুলেছে।
পাকিস্তানিরা
গুলি
চালিয়েছে,
হতাহতের
সংখ্যা
প্রচুর।
মঞ্চ
থেকে
ঘোষণা
করা
হলো
পরিস্থিতি
এবং
নাটক
বন্ধ
করার।
কিন্তু
জনগণের
দাবি
এ
তো
নাটক
নয়,
এ
আমাদের
কথা-
নাটক
চলবে।
নাটক
শেষে
স্বতঃস্ফূর্তভাবে
প্রায়
৩০
হাজার
জনসাধারণ
সেই
প্যারেড
মাঠ
থেকে
মিছিল
করে
বন্দরের
দিকে
রওনা
হলো
প্রতিরোধে
অংশগ্রহণের
জন্য”
(ডা. মাহফুজুর
রহমান,
‘বাঙালির জাতীয়তাবাদী
সংগ্রাম
মুক্তিযুদ্ধে
চট্টগ্রাম’,
পৃ.২৪০)।
প্রতিরোধ
শুধু
লড়াইয়ের
ময়দানে
নয়।
চট্টগ্রামের
বুদ্ধিজীবীদের
পক্ষ
থেকেও
তাদের
প্রগতিশীল
কর্মকাণ্ডের
মাধ্যমে
লড়াই
সংগ্রাম
অব্যাহত
রাখেন।
এটা
জোরদার
হয়ে
উঠে
মার্চের
উত্তাল
দিনগুলোয়।
চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয়,
চট্টগ্রাম
কলেজের
শিক্ষকরা
এক্ষেত্রে
অগ্রণী
ভূমিকা
পালন
করেন।
বাংলাদেশের
অন্যতম
বরেণ্য
শিক্ষাবিদ
আনিসুজ্জামান,
অধ্যাপক
মমতাজ
উদ্দিন
আহমদ,
অধ্যাপক
আবুল
ফজলসহ
চট্টগ্রামের
সর্বস্তরের
বুদ্ধিজীবী
ও
সাংস্কৃতিক
কর্মীরা
মিলিত
হয়ে
মুক্তিযুদ্ধের
পক্ষে
গঠন
করেন
‘শিল্পী-সাহিত্যিক-সংস্কৃতিসেবী
প্রতিরোধ
সংঘ’।
ড.
আনিসুজ্জামান
তার
আমার
একাত্তর
বইতে
লিখেছেন,
‘৮ মার্চ
১৯৭১
বিশিষ্ট
লেখক
আবুল
ফজলের
বাসভবন
সাহিত্য
নিকেতনে
একসভা
অনুষ্ঠিত
হয়।
সভায়
‘শিল্পী সংস্কৃতিসেবী
প্রতিরোধ
সংঘ’
নামে
একটি
সংগঠন
প্রতিষ্ঠিত
হয়।
চট্টগ্রাম
কলেজের
বাংলা
বিভাগের
অধ্যাপক
মমতাজ
উদ্দিন
আহমদ
সভায়
উপস্থিত
ছিলেন
ও
বক্তব্য
দেন।
চাকসু
জিএস
আবদুর
রব
এ
সংগঠনের
পেছনে
সক্রিয়
ভূমিকা
রেখেছিলেন।
সংগঠনটি
আত্মপ্রকাশের
পরপরই পাকিস্তানি
অপশাসনের
বিরুদ্ধে
চট্টগ্রামের
বিভিন্ন
জায়গায়
প্রতিবাদী
সংগীত
ও
নাটক
পরিবেশন
করে।
মুক্তিসংগ্রামের
উত্তাল
দিনে
সবার
প্রিয়
মমতাজ
উদ্দীন
স্যারের
নাটক
ছিল
ছা-জনতার
কাছে
প্রেরণার
উৎস।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর পাক হানাদার বাহিনীর হামলার পরই পাল্টা জবাব দিতে দেরি হয়নি চট্টগ্রামবাসীর। তবে এক্ষেত্রে চট্টগ্রামবাসী পাশে পেয়েছে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস বা ইপিআর বাহিনীকে। ১৯৭১-এর ২৫ মার্চের কালরাতে সেনানিবাস, ইপিআর, পুলিশ লাইনসহ দেশজুড়ে পাকিস্তানি হানাদাররা শুরু করে নারকীয় গণহত্যা। নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাঙালি সেনা, ইপিআর, পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের মতো চট্টগ্রাম সেনানিবাসেও চালিয়েছিল একই কায়দায় গণহত্যা। বাঙালি সশস্ত্র বাহিনীর প্রথম বিদ্রোহ এবং প্রাথমিক প্রতিরোধযুদ্ধ চট্টগ্রাম প্রসঙ্গে সাইদ হাসান দারা তার অপারেশন সার্চলাইট গ্রন্থে লিখেছেন, “মার্চ মাসের ১ তারিখ থেকে ঢাকার মতো বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সর্বত্রই স্বাধীনতার দাবিতে ভয়ানক উত্তাল-সাগরের মতো ফুঁসে উঠেছিল। যেকোনো সময়ে, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।” (সাইদ হাসান দারা, অপারেশন সার্চ লাইট, পৃ. ৫৫) বাঙালি সেনা কর্মকর্তা মেজর রফিকুল ইসলাম ওই সময় চট্টগ্রামে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস বা ইপিআর বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন। বলা যায়, ২৫ মার্চ রাতেই চট্টগ্রাম শহরের নিয়ন্ত্রণ তারা নিয়ে ফেলেছিল। মেজর রফিকুল ইসলাম ২৫ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে চরম সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেন— হয় স্বাধীনতা অর্জন, নয়তো ফায়ারিং স্কোয়াডে মরণ। (মেজর রফিকুল ইসলাম, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে)
একাত্তরের
মুক্তিযুদ্ধে দেশের সবচেয়ে বেশি গেরিলা যুদ্ধ হয় চট্টগ্রামে। তবে মার্চের শুরুতেই চট্টগ্রামবাসী কুমিরা যুদ্ধের মাধ্যমে হটিয়ে দেয় পাক হানাদার বাহিনীকে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে এক বিশাল বাহিনীকে চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ২৪তম ফ্রন্টিয়ার ফোর্স রেজিমেন্ট এবং ৮৮তম মর্টার ব্যাটারি নিয়ে গঠিত এ বিশাল বাহিনীকে বীর বাঙালি জওয়ানরা রুখে দেন। সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নের প্রতিরোধ যুদ্ধের সফলতম বিজয় চট্টগ্রামের স্থানীয় মুক্তিকামী জনতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসী করে তুলেছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামের আরেকটি সফলতম গেরিলা অপারেশন ছিল অপারেশন জ্যাকপট। চট্টগ্রাম বন্দরে অপারেশন জ্যাকপটের মাধ্যমে দেশী-বিদেশী ২১টি জাহাজ ধ্বংস করে বিশ্ববাসীকে অবাক করে দেয়া হয়। এ অপারেশন বাংলাদেশের যুদ্ধ এবং যোদ্ধাদের সারা বিশ্বে পরিচিতি পাইয়ে দেয়। সারা বিশ্ব বুঝতে পারে বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে পাল্লা দিয়েই লড়ছে। ফলে নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে বাঙালি অর্জন করে বীরত্বগাথা বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের।
ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম: অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়





