করিম আবদুল্লাহ ১৯৫০ সালে চট্টগ্রাম শহরের শুলকবহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে গেরিলা এ যোদ্ধার বয়স ছিল কুড়ি বছর। সময় ক্ষেপণ না করে তিনি চলে যান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে। সেখানকার হরিণা ও মতিনগরে গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরে আসেন বাংলাদেশে। ১নং সেক্টরের অধীনে চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তরুণ করিম আবদুল্লাহ। তার নেতৃত্বে চারটি বড় অপারেশনসহ মোট ৭টি গেরিলা অপারেশন সম্পন্ন হয় পাক হানাদার বাহিনীর বিপক্ষে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আজীম অনন
কীভাবে
আপনি গেরিলা
যুদ্ধে যুক্ত
হলেন?
আমি
যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি ১৯৭১ সালের জুন মাসের দিকে। ভারত থেকে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে মে মাসে গেরিলারা প্রথম চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করে। তারা অনেকগুলো অপারেশন করে। দশ-বারোটা অপারেশন খুব ভাইব্রেটিং হয়েছিল। তাদের একটি সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অপারেশন। তাকে হিট করা হয়েছিল। কিন্তু তার ড্রাইভার মারা গেলেও সে তেমন আহত হয়নি। অনেক ট্রান্সফরমার অপারেশন হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ট্রান্সফরমার অপারেশন করেছে ডা. মাহফুজুর রহমান গ্রুপ। সে সময় তার নামই হয়েছিল ট্রান্সফরমার মাহফুজ।
আপনাদের
কোথায় প্রশিক্ষণ
দেয়া হয়েছিল?
কারা প্রশিক্ষণ
দিতেন?
আমরা
প্রশিক্ষণ নিই ভারতের আসাম বর্ডারে অম্পিনগরে। ভারতীয়রাই প্রশিক্ষণ দিত। যদিও তিন-চারজন ইপিআরের নন-কমিশন্ড অফিসার ছিলেন। তারা আমাদের যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করতেন। সেখানে গিয়েছিলাম জুন মাসে। আমরা ছিলাম চারজন। আহমাদুর রহমান সিদ্দিকি পরে কাউন্সিলর হয়েছেন। সান্তনু পরে নাট্যকার হয়েছিলেন। মারা গেছেন। অন্যজন আমার পরিচিত বশির। প্রথমে রাউজান থেকে আমাদের গাইড দেয়া হলো। হাশিম ভাই চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। ভারতে দুই ধরনের মানুষ গিয়েছিল। আমরা গিয়েছি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে। কেউ ভারতে গেছে বাস্তুহারা হয়ে। বাস্তুহারাদের বড় অংশই ছিল হিন্দু। তরুণরা ভারতে গিয়েছে মূলত যুদ্ধ করতে। সেখানে গেলাম আর প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে গেল। ভারত যাওয়ার পথে ফটিকছড়িতে থাকতে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হন হাবিব ব্যাংকের এক কর্মচারী। গিয়ে পৌঁছলাম ভারতের রামগড় সীমান্তে ছাদরুনে। সান্তনুরা চলে গেল কলকাতা। তারা যুদ্ধ শেষে ফিরেছিল। কিন্তু আমরা চলে গেলাম হরিণায়। সেখানেই হেডকোয়ার্টার। মেম্বার অব প্রভিন্সিয়াল অ্যাসেম্বলি মি. ওয়াহহাব ওখানেই অবস্থান করছিলেন। তিনি আমাদের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করলেন। আমরা তার সঙ্গে দেখা করলাম। খাওয়াদাওয়া করালেন। বোধ হয় চার বেলা পরে ভাত খেলাম তখন। তার আগে কেবল রাস্তায় চিড়াগুড় খেয়েছি। হরিণায় আমাদের প্রশিক্ষণ শুরু হলো। স্টেনগান, ভারতীয় এসএলআর ও থ্রি নট থ্রির প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। সেখানে দশ-বারো দিনের মতো অবস্থান করেছি আমরা। প্রথমত সেটা ছিল ট্রানজিট ক্যাম্প। অনেক বাংলাদেশী মানুষ সেখানে রয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই থেকে শুরু করে পুরো চট্টগ্রামের মানুষ। হরিণা হচ্ছে এক নম্বর সেক্টরের হেডকোয়ার্টার। সেখানে থাকতেন এক নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার রফিকুল ইসলাম। এমএ হান্নান সাহেবও অবস্থান করতেন সেখানে। একপাশে আর্মি হেড কোয়ার্টারে প্রশিক্ষণ চলছে। অন্যদিকে ট্রানজিট ক্যাম্প। তরুণদের থাকার জন্য তৈরি করা হয়েছিল লম্বা টিনের ঘর। প্রতিটি তিরিশ থেকে চল্লিশ ফুট লম্বা হবে। প্রতিটি শেডের আবার আলাদা আলাদা নাম ছিল। যেমন সার্জেন্ট জহুরুল শেড কিংবা আসাদ শেড। ইনচার্জ ছিলেন হাশেম ভাই। এমএ হাশেম বর্তমানে অ্যাডভোকেট। তখন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। আমি উনার বাড়ি থেকেই উনার সহায়তায় ওখানে গিয়েছি। ব্যক্তিগতভাবে আমার পারিবারিক বাধা ছিল না। পরিবার বলতে তো আমি আর আমার মা। বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। আর তেমন কেউ ছিল না। তাই সেভাবে কোনো প্রতিবন্ধকতাও ছিল না। আমার মা-ই আমাকে বলেছেন যুদ্ধে যেতে। খুব ভালোভাবেই তার সম্মতি ছিল।
হরিণা
থেকে ট্রেনিং দিয়ে দশ-বারোদিন পরে মেডিকেল টেস্ট নেয়া হলো। তারপর আমাদের অম্পিনগর পাঠিয়ে দেয়া হলো। সেখানে এক মাসের ট্রেনিং নিলাম। সেখানকার ট্রেনিং ছিল অনেক উন্নত মানের। ওরিয়েন্টেশনের পর ইপিআরের একজন নন-কমিশন্ড অফিসার আমাদের গাইডলাইন দিলেন। নুরুল ইসলাম নামে একজন এমএনএ ছিলেন। তিনি এসে আমাদের উদ্দেশে বক্তৃতা দিলেন। তারপর এলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী নৃপেন চক্রবর্তী। উনিও বক্তৃতা দিলেন। এগুলো একধরনের ওরিয়েন্টেশন লেকচার ছিল। খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক। মুখ্যমন্ত্রীর একটি বক্তৃতা এখনো আমার মনে আছে। তিনি বলেছিলেন, ‘শত্রুর
অস্ত্র গেরিলার অস্ত্র। শত্রুর খাদ্য গেরিলার খাদ্য।’ মানে গেরিলার কোনো নিজের অস্ত্র থাকবে না। সে শত্রুদের অস্ত্র নিয়েই যুদ্ধ করবে। প্রকৃতপক্ষে গেরিলা যুদ্ধের চিন্তাধারা এ রকম। কিন্তু বাস্তবে এমনটা হয়নি বললেই চলে। ভারতীয় অস্ত্র দিয়ে আমরা যুদ্ধ করেছি। বাংলাদেশে আসার সময় আমাদের প্রত্যেক গ্রুপকে ভারত থেকে এক্সপ্লোসিভ, বোমা বানানোর যাবতীয় উপাদান, ডেটোনেটর, সেফটি ফিউজ ইত্যাদি দেয়া হতো। স্টেনগান, এসএলআর, টু ইঞ্চি মর্টার, এলএমজি অস্ত্রগুলো ভারত থেকে আমাদের দেয়া হয়েছিল। প্রত্যেক গ্রুপই প্রচুর অস্ত্র আনত। তবে একেকটি গ্রুপ যে পরিমাণ অস্ত্র বাংলাদেশে আনত, সে পরিমাণ অস্ত্র কিন্তু এখানে ব্যবহূত হয়নি। প্রচুর অস্ত্র। সেগুলো হয়তো পরে নষ্ট হয়ে গেছে। অথবা, বেহাত হয়ে বিভিন্ন গ্রুপের কাছে চলে গেছে। সে অস্ত্রগুলোর হিসাব-নিকাশ এখানে নেই। যুদ্ধে অ্যাকশনে ছিল অনেক কম লোক। প্রশিক্ষণ নিয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যারা এসেছে, তারাই যুদ্ধ করেছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহরে আনুমানিক একশটি গ্রুপ এসেছে। প্রতিটি গ্রুপে ১১ জন করে মোট ১১০০ জন। কিন্তু তাদের মধ্যে সক্রিয়ভাবে অপারেশনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্য ১০০-১৫০ জনের বেশি হবে না। তাদের অস্ত্রগুলো তো থেকে গেছে। আবার যারা সক্রিয় অপারেশন চালিয়েছে, তারাও তো সব অস্ত্র ব্যবহার করেনি। কেউ হয়তো দুটি গ্রেনেড ছুড়েছে। কেউ হয়তো তিনটি বোমা মেরে তিনটি ট্রান্সফরমার উড়িয়েছে। আরেকজন হয়তো পাঁচটি অপারেশন করেছে। কিন্তু সে তো অনেক অস্ত্র ও বিস্ফোরক এনেছে।
চট্টগ্রামে
আপনার প্রথম
অপারেশন কবে
ছিল? কী
ধরনের অপারেশন
ছিল?
আমার প্রথম অপারেশন ছিল সেপ্টেম্বর মাসে। তখন রমজান মাস শুরু হয়েছে বোধ হয়। আমরা বাগমনিরাম থেকে এসেছিলাম। আমাদের গ্রুপের একজন সদস্য ছিলেন। আপনি জানবেন, দৈনিক পূর্বকোণের সাংবাদিক ছিলেন। নাম মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু। তিনি আমার গ্রুপে ছিলেন। তার বাড়ি ছিল বাগমনিরাম। ওই অপারেশনে তার পুরো পরিবার যেভাবে সহায়তা করেছে, আমাদের সঙ্গে একাত্ম হয়েছে, তা খুবই প্রশংসনীয়। আমি আমার বইতেও এটা লিখেছি। তাদের বাসায় বসে আমরা বোমা বানিয়েছি। পরিবারের সদস্যরা দেখছেন। তারাও তখন কল্পনার জগতে আমাদের সঙ্গে যুদ্ধে চলে যাচ্ছেন। চট্টগ্রাম শহরে আমাদের প্রথম অপারেশনটি ছিল দেবপাহাড়ে। সেখানে একটি পাওয়ার হাউজে আমরা আক্রমণ চালিয়েছিলাম। তারপরে পাথরঘাটায় একটি মোবাইল ট্রান্সফরমার আমরা ধ্বংস করেছি। একমাত্র মোবাইল ট্রান্সফরমার অপারেশন করেছে আমাদের গ্রুপ।
আপনাদের গ্রুপে সদস্য সংখ্যা কত ছিল?
আমাদের
গ্রুপে
সদস্য
ছিলেন
১১
জন।
তাদের মধ্যে
কার কার
নাম আপনার
মনে আছে?
চার-পাঁচজনের
নাম
আমার
মনে
আছে।
মঞ্জুরের
নাম
বলেছি।
তার
পরিবার
থেকে
খুব
সহায়তা
পেয়েছি।
অধিকাংশ
অপারেশনেই
আমার
সঙ্গে
ছিলেন
মোজাফফর।
তাদের
বাড়ির
সবাই
মুক্তিযুদ্ধে
গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা
রেখেছেন।
তারা
মুক্তিযুদ্ধে
না
গেলেও
সবাই
গেরিলা
ছিলেন।
গেরিলার
মতোই
তাদের
আচরণ
ছিল।
তারা
ছিলেন
বেপরোয়া।
তাদের
বাড়িতে
দুটি
অস্ত্রের
মজুদ
ছিল।
মাটির
নিচে।
সেখানে
আমরা
অস্ত্র
ডাম্পিং
করতাম।
মাটির
নিচে
অস্ত্র
থাকত।
ওরা
খুব
সাহসী
ছিলেন।
তাদের
পুরো
এলাকার
মানুষ,
জ্ঞাতি-গোষ্ঠী
সবাই
নির্ভীক
ছিলেন।
তারা
খুবই
আন্তরিকতার
সঙ্গে
আমাদের
আপ্যায়ন
করেছেন।
যেখানেই
গিয়েছি,
থাকা-খাওয়ার
কোনো
সমস্যা
হয়নি।
জায়গাটার
নাম
মাদারবাড়ি।
সেখান
থেকে
আমরা
অপারেশনে
যেতাম।
রফিক
নামে
একজন
ছিলেন।
তার
বাড়ি
ছিল
মঞ্জুরের
বাড়ির
পাশে।
একজনের
নাম
কানু
বাবু।
তিনিই
আমার
সঙ্গে
সবচেয়ে
বেশি
অপারেশনে
অংশ
নিয়েছিলেন।
কানু
বাবুর
বাড়ি
ছিল
রাঙ্গামাটিতে।
তারা
দুই
ভাই
ছিলেন।
কানু
বাবুর
কথা
আমার
বিশেষভাবে
মনে
আছে।
তার
ভাইয়ের
কথা
তেমন
মনে
নেই।
তিনি
তেমন
অপারেশনে
অংশগ্রহণও
করেননি।
কিন্তু
কানু
বাবু
ছিলেন
দুর্দান্ত
সাহসী
মানুষ।
তিনি
রিকশা
চালাতেন।
প্রকৃত
গেরিলা
বলতে
যা
বোঝায়,
কানু
বাবু
ঠিক
তাই
ছিলেন।
উনাকে
ধরা
মুশকিল
ছিল।
তিনি
রিকশা
শ্রমিকদের
সঙ্গে
থাকতেন।
আর
যখনই
আমি
তাকে
ডাকতাম,
তিনি
এমনভাবে
চলে
আসতেন,
যেন
তিনি
প্রস্তুত
হয়েই
ছিলেন।
অনেকে
তো
অনেক
লেইম
এক্সকিউজ
দিতেন।
কিন্তু
কানু
বাবু
কখনো
তা
করেননি।
অপারেশনের
ডাকের
জন্য
তিনি
সর্বদা
প্রস্তুত
থাকতেন।
আমাদের
গ্রুপে
আরেকজন
ছিলেন।
তিনি
স্থানীয়ভাবে
প্রশিক্ষণ
নিয়েছিলেন।
তার
নাম
নুর
আলী।
গ্রুপ কমান্ডার কি আপনি
ছিলেন?
না। আমি
ছিলাম
ডেপুটি
কমান্ডার।
গ্রুপ কমান্ডার কে ছিলেন?
ইলিয়াস
ছিলেন
গ্রুপ
কমান্ডার।
তিনি
অনেকটা
নিষ্ক্রিয়
ছিলেন।
তিনি
বাড়িতে
বসে
ছিলেন।
বাড়িতে
বসে
থাকার
কারণেই
একপর্যায়ে
তিনি
আলবদর
বাহিনীর
হাতে
গ্রেফতার
হয়ে
যান।
যতদূর জানা
যায়, ওই
সময় যুদ্ধে তো দুটি
গ্রুপ ছিল।
একটি ছিল
বিএলএফ...
আচ্ছা।
বিএলএফের
ওপর
তো
আমার
দুটি
লেখা
গেছে
দৈনিক
আজাদীতে।
মুজিব
বাহিনীকে
বিএলএফ
বলা
হতো।
বাংলাদেশ
লিবারেশন
ফোর্স।
আরেকটি
বাহিনীর
নাম
ছিল
বিডিএফ।
বাংলাদেশ
ফোর্স।
এদের
বাংলাদেশ
সেনাবাহিনীর
অধীনে
প্রশিক্ষণ
দেয়া
হয়েছিল।
কর্নেল
ওসমানীর
অধীনে
তারা
প্রশিক্ষণ
নিয়েছে।
আর
বিএলএফকে
প্রশিক্ষণ
দিয়েছে
ভারতীয়
সেনাবাহিনী।
এ
বাহিনী
ছিল
স্বতন্ত্র।
কর্নেল
ওসমানীর
বাহিনীর
সঙ্গে
বিএলএফের
কোনো
সম্পর্ক
ছিল
না।
ভারতীয়
সেনাবাহিনীর
মেজর
জেনারেল
সুজন
সিং
উবানের
তত্ত্বাবধানে
মুজিব
বাহিনীর
সদস্যদের
প্রশিক্ষণ
দেয়া
হয়েছিল।
দুটি
প্রশিক্ষণ
কেন্দ্র
থেকে
তারা
প্রশিক্ষণ
নিয়েছিলেন।
একটি
ছিল
দেরাদুনে।
তবে
যুদ্ধের
সময়
অপারেশনের
ক্ষেত্রে
বিএলএফ-বিডিএফের
কোনো
ভেদাভেদ
ছিল
না।
বিডিএফ
ছিল
দলকেন্দ্রিক।
আর
মুজিব
বাহিনীতে
ছিলেন
ছাত্রলীগের
নেতারা।
আমরা
বিডিএফ
হিসেবে
প্রশিক্ষণ
নিয়েছি।
অপারেশনের ক্ষেত্রে আপনারা কি
কারো কাছ
থেকে নির্দেশনা পেতেন? মৌলভী
সৈয়দের সঙ্গে
আপনাদের সম্পর্ক কেমন ছিল?
চট্টগ্রাম শহরে তখন একটি মুক্তাঞ্চল ছিল। মৌলভী সৈয়দ মুক্তাঞ্চলটি তৈরি করেছিলেন। উত্তরে মনসুরাবাদ থেকে দক্ষিণে গোঁসাইলডাঙ্গা পর্যন্ত ছিল মুক্তাঞ্চল। ভারত থেকে আসা সব অস্ত্র সেখানে ডাম্পিং করা হতো। বিভিন্ন কবরস্থানে, বাড়িতে প্রচুর অস্ত্রাগার ছিল। মুক্তাঞ্চলে অন্তত ৪০-৫০টি অস্ত্রাগার ছিল। সেখান থেকে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্রগুলো বণ্টন করা হতো। অক্টোবর পর্যন্ত মুক্তাঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন মৌলভী সৈয়দ। এরপর ইঞ্জিনিয়ার আফসার উদ্দিনকে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হলো। তা আসলে যৌথ কমান্ডের মতো ছিল। মৌলভী সৈয়দকে বাদ দেয়া হয়নি। কিন্তু অফিশিয়ালি দায়িত্বে ছিলেন আফসার উদ্দিন। কিন্তু মৌলভী সৈয়দের অবদানই ছিল সবচেয়ে বেশি। তিনি সে সময় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তবে অপারেশনগুলো সাধারণত গ্রুপের পরিকল্পনা অনুসারেই হতো।





