রাজধানীর উত্তরায় ইন্টারন্যাশনাল হোপ স্কুল বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে চতুর্দশ আন্তঃস্কুল বাংলা অলিম্পিয়াড। এতে ইংরেজি মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সন স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১৪৮ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাংলা অলিম্পিয়াডের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, লেখক ও শিক্ষাবিদ ড. মোহাম্মদ আজম।

প্রধান অতিথি আদিলুর রহমান খান বলেন, ভাষার জন্য জীবন দেয়া এই জাতির উচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা ও বৈষম্য দূর করার মনোভাব গড়ে তোলা।

বিশেষ অতিথি ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, বাংলা অলিম্পিয়াড ইতিমধ্যেই বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে। শুধু একটি নির্দিষ্ট মাসে বাংলা নিয়ে আবেগ প্রকাশ যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা করা উচিত।

প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার দেয়া হয়। বাংলা কুইজ প্রতিযোগিতায় চারজন, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় তিনজন, রচনা প্রতিযোগিতায় তিনজন, উপস্থিত বক্তৃতায় একজন, দলীয় নাচে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশ এবং ‘বি’ ক্যাটাগরিতে মাস্টারমাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এছাড়া কবিতা আবৃত্তিতে তিনজন এবং সঙ্গীতে ছয়জন প্রথম পুরস্কার পেয়েছে।

এ বছরও প্রতিযোগিতায় ৮০টি স্কুলের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। দিনব্যাপী আয়োজনে শিক্ষার্থীরা রচনা লেখা, আবৃত্তি, নাচ, গান, চিত্রাঙ্কন, কুইজ ও উপস্থিত বক্তৃতায় অংশ নেয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইন্টারন্যাশনাল হোপ স্কুল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান টিমোথি ডোনাল্ড ফিশার ও প্রিন্সিপাল রোকসানা জারিন।

টিমোথি ডোনাল্ড ফিশার বলেন, বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে এই অলিম্পিয়াড আয়োজন করা হয়।

প্রিন্সিপাল রোকসানা জারিন বলেন, বাংলা অলিম্পিয়াড এখন শুধু জাতীয় নয়। এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়ছে।

প্রতিযোগিতার অনলাইন রেজিস্ট্রেশন গত ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে। এতে প্রতি শিক্ষার্থী দুটি ক্যাটাগরিতে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছে।

এবারের প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে ছিলেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী সুজিত মোস্তফা, শাহীন সামাদ, প্রিয়াঙ্কা গোপ, তানভীর আলম সজীব, আজিজুর রহমান তুহিন, নৃত্যশিল্পী জুয়াইরিয়া মৌলি, শান্তা শাহরিন ও চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মো. আলপ্তগীন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল হোপ স্কুল বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখছে। ভাষার মাসে আয়োজিত এই অলিম্পিয়াড ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় বাংলা ভাষার প্রতিযোগিতা হিসেবে স্বীকৃত।