‘বিগত কয়েক বছর দেশের সবক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগের নিজস্ব বয়ান তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে সংস্কৃতিকেও আওয়ামীকরণ করা হয়েছিল। সংস্কৃতি কর্মী মানেই তারা ক্ষমতাসীনদের বয়ানে কথা বলবেন, তারা ক্ষমতায় না থাকলে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে এই বয়ান তৈরি করা হয়েছিল।’
শনিবার (২২ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (দায়রা) আয়োজিত ‘রাজনৈতিক সম্প্রদায়ের সংলাপ: বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং ইতিহাসের পুনর্কল্পনা’ শীর্ষক সংলাপ ও ইফতার মাহফিলে বক্তারা এ কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, ‘সংস্কৃতির ধারণাকে দলীয়করণ করা হয়েছিল। সংস্কৃতি বলতে আওয়ামী লীগের বয়ানের সংস্কৃতিকে দেখেছি। বুদ্ধিজীবীতাও ছিল দলীয়। যারা শেখ হাসিনার গুণকীর্তনে মুগ্ধ থেকেছে। গণতন্ত্রের বয়ান তৈরি করা হয়েছিল আওয়ামী ন্যারেটিভে। ফলে মূল ধারা থেকে এ গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো বিচ্যুত হয়ে যায়। এমনটি তো হওয়ার কথা না। আমরা এমন বুদ্ধিজীবী চাই না।’
এ সময় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের অভ্যুত্থানের ফলে দেশে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিভিত্তিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। এটিকে নানাভাবে প্রসারিত করতে হবে। দায়রা বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। এমন একটি-দুটি সংস্থা দিয়ে আমাদের হবে না। আমাদের প্রয়োজন বৃহৎ পরিসরে কাজ করা। সেজন্য প্রয়োজন একটি প্রতিষ্ঠান।’ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এমন বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা চালু করার পরামর্শ দেন তিনি।
সংলাপে বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমগুলোতে পরিবেশের দিকে নজর দেয়া হয় না। টেকসই অর্থনীতি বিনির্মাণের পাশাপাশি টেকসই পরিবেশও প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তারা।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবু সায়েম, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক আসিফ সাহান, বোধিচিত্তের প্রতিষ্ঠাতা অলিউর সান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর অব ইকোনমিকস তানভীর সোবহান, ইউএনডিপির প্রজেক্ট ম্যানেজার ফয়সাল বিন মজিদসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সংলাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আইনজীবী, উন্নয়নকর্মীসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন।










