ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ (ডিবিএ) এবং ক্লাব অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং (সিএফএ) রোববার (২৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর গ্রিন রোডের ইউএপি মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রা: অর্জন, চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ডিস্টিংগুইশড লেকচার সিরিজের আওতায় এই অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম জাহান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউএপির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন স্থপতি মাহবুবা হক এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএপির উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সমাজ জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে জানিয়ে অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম জাহান বলেন, দেশে ভৌত অবকাঠামোর অগ্রগতি হলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। একটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে নিজস্ব কোষাগারের মতো ব্যবহার করেছে।
দেশের অর্থনীতি একটি ক্রান্তিকালীন সময় পার করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনীতিবিদরা প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে অনেক মাতামাতি করছেন। প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ না ৫ দশমিক ৯ শতাংশ, এই ফারাকে কিছু যায় আসে না। অর্থনীতির অবস্থা যেটা আছে তা মানুষের জীবনে কতখানি উপকার দিচ্ছে? মূল্যস্ফীতির ফলে মানুষের কষ্ট হচ্ছে। রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমেছিল, তা আবারো বেড়েছে।
ইউএনডিপির হিউমান ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট অফিসের সাবেক এ পরিচালক আরো বলেন, অর্থনীতিতে বড় স্লথতা এসেছে। বলা হচ্ছে, আমাদের প্রবৃদ্ধি কমে যাবে। অর্থনীতিতে স্লথতা থাকলে আমাদের যা অর্জন তা নষ্ট হবে।
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের তাৎক্ষনিক কিছু সংস্কার দরকার। কিছু স্বল্পমেয়াদী ও কিছু দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রয়োজন। অবস্থাভেদে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন সংস্কার তাৎক্ষনিক করতে হবে। মানুষের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে গেছে, তখন তাৎক্ষনিক সংস্কার করতে হবে, যাতে মানুষ স্বস্তি পায়।
অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন ইউএপি ট্রাস্টি ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, কাইয়ুম রেজা চৌধুরী, স্কুল অব বিজনেসের ডিন অধ্যাপক ড. এম. এ. বাকি খালিলি, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান সারওয়ার আর. চৌধুরী, অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ডিস্টিংগুইশড লেকচার সিরিজের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. নাজমা বেগম স্বাগত বক্তব্য দেন এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উন্নয়নে এ ধরনের অনুষ্ঠানের তাৎপর্য তুলে ধরেন।
বিজ্ঞপ্তি










