সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
উপদেষ্টা
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়
প্রকল্পের বেশির ভাগই রাজনৈতিক বিবেচনায় হয়। যারা সংসদ সদস্য হোন তারা রাষ্ট্রের তো সেবা করবেই, কিন্তু একটা পরিমাণ রাখা উচিত যেটা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রাধান্য বুঝে ব্যয় করবে। আগে বলতাম যে বাংলাদেশে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ছাড়া পরিবেশগত সব ধরনের সমস্যা রয়েছে। পানি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নেয়ার পর দেখি, বাংলাদেশের পানি নিয়ে এমন কোনো সমস্যা নেই যেটা আপনি চিন্তা করতে পারেন। আর্সেনিক, লবণাক্ততা, দূষণ, প্লাস্টিক দূষণ সবকিছুই এখানে আছে। আমাদের পানির ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গিটা খুবই ম্যানেজমেন্ট ও ব্যবস্থাপনাকেন্দ্রিক। এ ব্যবস্থাপনাটা শুধু বড় বড় প্রকল্প নিয়ে। যেকোনো একটি খাল পুনরুদ্ধার করতে গেলে তার বাজেট হয় ৭০০ কোটি টাকা। ফলে জনগণের টাকাটা সর্বোত্তম ব্যবহার হচ্ছে কিনা এটা একটা বড় কাজ। তিস্তার মানুষ এখন সর্বস্বান্ত হচ্ছে। এক সর্বস্বান্ত হয় বন্যার সময় অন্যবার হয় বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সময় নদীভাঙনে। আমি যখন কুমিল্লা, ফেনী ও নোয়াখালী অঞ্চলে গেলাম, সেখানে মানুষের একটাই বক্তব্য—বানের পানি নেমে যাচ্ছে না। তার একটাই কারণ সেটা হলো সব খাল দখল হয়ে গেছে। আর নদী তার মুখে মরে গেছে। পানি বঙ্গোপসাগরে নামবে তারও কোনো ব্যবস্থা নেই কারণ সেখানে নানা রকমের প্রতিবন্ধকতা। আমাদের আইন-কানুন আছে আবার নাইও। আইন-কানুনগুলো অনেক মাথাভারী। এ কথা ঠিক নয় যে ওয়াটার পলিসি কেন্দ্র করে ওয়াটার অ্যাক্ট হয়েছে। ওয়াটার অ্যাক্টের সঙ্গে ওয়াটার পলিসির বেশ বড় ফারাক হয়ে গেছে। ঢাকা শহরের নদীগুলোর দূষণকারী কারা এ নিয়েও সম্পূর্ণ কোনো তালিকা নেই। বালি ও পাথর উত্তোলন নদীগুলোর জন্য আরেকটা বড় হুমকি। পরিবেশ বিভাগের তথ্য বিভাগে বলেছি যেন ফিল্ড ওরিয়েন্টেড হয়। যখন কোনো প্রজেক্ট ডিজাইন করি তখন স্থানীয় সরকার, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বললে প্রজেক্ট অনেকটা ব্যয়সাশ্রয়ী হয়ে উঠবে।
ড. ফাহমিদা খাতুন
নির্বাহী পরিচালক
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)
পানির পরিসর বিস্তর। আমরা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত প্রেক্ষিতে পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা উন্নয়ন নিয়ে কথা বলি কিন্তু এর সামাজিক ও পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা করি না। পরিবেশগত বিপর্যয়ের ভুক্তভোগী সব মানুষই হয়। তবে সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশ বেশি ভুক্তভোগী হয়, যার কারণে উন্নয়ন টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় না। বিগত সময়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে গিয়ে পরিবেশ ও সামাজিক খাতসহ অন্যান্য খাতের উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। ফলে একদিকে উন্নয়ন বেড়েছে; অন্যদিকে অসাম্য ও পরিবেশগত দূষণ বেড়েছে। এ পরিবেশগত দূষণ সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে অনেকখানি ক্ষতিগ্রস্ত করে। আমাদের দেশের যে অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটেছে, তা মূলত পানির ওপর ভিত্তি করে হয়েছে। কৃষি, ট্যানারি, টেক্সটাইলের মতো খাতগুলো পানির ওপর বেশ নির্ভরশীল। বাংলাদেশে সুপেয় পানির সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় বেশ অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু তার পরও সবার জন্য সমানভাবে নয়। আমাদের বড় বড় নদীর পানির পিএইচ অনেক বেশি। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্রাউন্ড ওয়াটারের লেভেল অনেক নিচে নেমে যাচ্ছে। ২০১৭-১৮ সালের জরিপ অনুযায়ী, ১০ শতাংশের সামান্য বেশি পরিবার সুপেয় পানি পাচ্ছে। পানি নিয়ে আমাদের অনেক নীতিমালা আছে; অনেকগুলো অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় রয়েছে। সুতরাং একটি মাল্টিডিপার্টমেন্টাল বিষয় হিসেবে ভবিষ্যতে এগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। এটি এমন একটি উন্নয়ন যা তিনটি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবেশ তিনটি শাখাকে এগিয়ে নিতে হলে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় পানি ব্যবস্থাপনাকে হালনাগাদ করতে হবে।
ড. আইনুন নিশাত
ইমেরিটাস অধ্যাপক
সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে পানিসম্পদের ওপর ভিত্তি করে। ’৬০, ’৭০, ’৮০-এর দশকে পানি খাতে প্রচুর বিনিয়োগ হয়েছে। ফলে মূল অবকাঠামো তৈরি হওয়ায় বর্তমানে বিনিয়োগ কমেছে। দেশের ৬০-৭০ ভাগ জমি বন্যা ব্যবস্থাপনার অধীনে। সেচ ব্যবস্থার অধীনে ৮০ শতাংশের অধিক জমি। দুর্ভাগ্যবশত এ উন্নয়ন সরকারি উদ্যোগে নয়, বেসরকারি উদ্যোগে হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার যদি ক্ষমতা থাকত তাহলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভেঙে দিয়ে পানি ব্যবস্থাপনা বোর্ড বানাতাম। কেননা পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধু নতুন প্রকল্প বানানো ছাড়া অন্যকিছু বোঝে না। পানির প্রকল্পগুলো এমন যে তা বাস্তবায়নের পর মূল কাজটি শুরু হয়। কিন্তু বানানোর পর কীভাবে ব্যবহার করব এবং সেটিকে টিকিয়ে রাখব সেদিকে নজর নেই। আমাদের ভূরাজনৈতিক অবস্থানের কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা ভূপৃষ্ঠের জলের ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলি, কিন্তু এর ৯২ শতাংশ আসে দেশের বাইরে থেকে। এর ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। দু-তিন বছরের মধ্যে গঙ্গা চুক্তি শেষ হলে দেশে প্রচুর হইচই পড়ে যাবে। এ চুক্তি নিয়ে যেসব কথাবার্তা হয় তার অধিকাংশই টেকনিক্যালি সঠিক নয়। না বুঝে কথাবার্তা বলে।\আমরা ভূগর্ভস্থ জলের সর্বোচ্চ ব্যবহার করছি এবং আমার মনে হয় এটা আর ব্যবহার করা উচিত নয়। আমাদের পানি ব্যবস্থাপনা কৃষিকেন্দ্রিক; পানির জন্য নয়। কৃষির দিকে নজর দিতে গিয়ে সুপেয় পানি, মৎস্য চাষ, নৌচলাচলসহ অন্যান্য উপখাতকে অবহেলা করেছি।
মো. জিয়াউল হক
পরিচালক
(বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) পরিবেশ অধিদপ্তর
আমরা দুটি বিষয় নিয়ে ঝামেলায় আছি। একটি সিকিউরিটি অব ওয়াটার; অন্যটি সিকিউরিটি ফ্রম ওয়াটার।
শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টিপাত থাকে না এবং উজান থেকে পানি আটকে দেয়া হয়। সে সময় দূষণও বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে আমাদের অভিযোজন করতে হবে। বন্যা, খরা, লবণাক্ততার সঙ্গে আমরা কীভাবে সহাবস্থান করতে পারি সেই চেষ্টা করতে হবে। আমাদের আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ে বড় সমস্যা রয়েছে। আমরা বলি, আমাদের হোল অব গভর্নমেন্ট অ্যাপ্রোচে যেতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে জায়গায় আমরা যেতে পারিনি, পৃথকভাবে কাজ করছি। শহরাঞ্চলের কঠিন ও তরল বর্জ্য ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের ওয়াসার মাত্র ২০ শতাংশ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট সক্ষমতা রয়েছে। ফলে ৮০ শতাংশ আনট্রিটেড সুয়ারেজ ওয়াটার চলে যাচ্ছে ঢাকার আশপাশের নদীতে। হাটবাজারের কঠিন বর্জ্য নদীর পাশে ডাম্পিং হচ্ছে। পরে তা নদীর পানিতে মিশে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে নদীর সীমানা পিলারে কংক্রিটের ওয়াকওয়ে করা যেতে পারে। বড় বড় অনেক শিল্প-কারখানা আন্তরিকভাবে ইটিপি চালায় না। আমাদের দেখলে চালায়, চলে; আসলে বন্ধ রাখে। তাদের ক্ষেত্রে অনলাইন ইটিপি মনিটরিং সিস্টেম বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আমরা অফিসে বসেই রিয়েল টাইমে বুঝতে পারব যে তার ইটিপি চলছে কিনা। এরই মধ্যে আমরা ছয়টি কারখানায় অনলাইন ইটিপি বসিয়েছি।
গওহার নঈম ওয়ারা
সদস্য সচিব
ফাউন্ডেশন ফর ডিজাস্টার ফোরাম
বৃষ্টির পানি যথাযথ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে পানির সংকট অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। এখন জায়গায় জায়গায়, বাড়িতে বাড়িতে মোটর বসিয়ে পানি তোলা হয়। কিন্তু বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা হয় না। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ না করে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করতে থাকলে পানির সংকট বাড়বে। একটি ছোট উদাহরণ দিই, রাজস্থানে বৃষ্টি হয় সাতদিন আর বাংলাদেশে বৃষ্টি হয় সাত মাস। কিন্তু রাজস্থানে পানির সংকট দেখা যায় না। বরং বড় বড় পুকুর রাজস্থানে অবস্থিত। কিন্তু বাংলাদেশের জলাধারগুলো শুকিয়ে যায়। আরেকটা উদাহরণ হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে প্রতি বছর পানি উঠত, কিন্তু এ বছর ওঠেনি। নিচু অঞ্চল হওয়ায় শহীদুল্লাহ হলে পানি ওঠে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এমন ব্যবস্থা করে যার দ্বারা পরবর্তী সময়ে পানি ওঠেনি। আরেকটা বিষয় হলো গড়াই নদী সাগরে পৌঁছতে পারছে না। গোপালগঞ্জ গিয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ নদীর পানি সাগর পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব শুধু বৃষ্টির পানি দিয়ে এবং এটা নিয়ে কাজ করা উচিত, রিসার্চ করা উচিত।
ড. মো. লিয়াকত আলী
পরিচালক
জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি,ব্র্যাক
যখনই আমরা পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলি তখনই কোয়ান্টিটি ও কোয়ালিটি—এ দুটো অ্যাসপেক্ট দেখতে হবে। কোয়ান্টিটি এজন্য গুরুত্বপূর্ণ। কেননা যখন অনেক বেশি পানির প্রয়োজন তখন পানি পাই না; যখন প্রয়োজন নেই তখন অনেক বেশি পানি পাই। এটির সঙ্গে ট্রান্সবাউন্ডারি ইস্যু জড়িত। যদিও এটা আজকের বিষয় নয়। তবুও আমি মনে করি এটা বাদ দিলে হবে না। এদিকে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। কিন্তু আমরা এখন গভীর নলকূপ ব্যবহার করে যাচ্ছি। প্রতি বছর পানির লেয়ার দু-তিন মিটার নিচে নেমে যাচ্ছে, আমরা জানি না এর শেষ কোথায়। কোয়ালিটি অ্যাপ্রোচে দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একটি প্রাকৃতিক আরেকটি কেমিক্যাল। বুড়িগঙ্গার পানিতে বিভিন্ন কেমিক্যাল পাওয়া যাবে, অন্যদিকে উপকূলে লবণাক্ততা পাওয়া যাবে। এগুলো হলো স্লো ওয়ানসেট ডিজাস্টার। আমরা যখন মিলেনিয়াম গোল নিয়ে আলোচনা করি তখন আনন্দিত হয়ে বলি, আমাদের পানির প্রাপ্যতা ৯৮ শতাংশ, আমাদের সমস্যা সমাধান। কিন্তু গুণগত মান যাচাই করে দেখেন ঢাকা ওয়াসার পানি কখনই গুণগত মানসম্পন্ন হবে না। পানির প্রাপ্যতা ৫২-৫৭ শতাংশে গিয়ে পৌঁছবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আকস্মিক বন্যা দেখা গেছে, যা আগে এভাবে দেখা যায়নি। সুতরাং আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় এগুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। যখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার নাম বলি, ওয়ারপোর মতো প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে বলে আমি মনে করি। এখন একটি পানি নিয়ন্ত্রণ কমিশন গঠন করা দরকার। এর মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
ড. শাহরিয়ার হোসেন
মহাসচিব
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন
আমরা প্রতিদিন যে পানি পান করি, তা কিন্তু আসলে পানের যোগ্য নয় এবং আমাদের সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় ঢাকা ও আশপাশের পানিতে বিষাক্ত উপাদান পাওয়া গেছে। এমনকি ওয়াসার পানিতেও। এই যদি আমাদের অবস্থা হয় তাহলে করে কীভাবে দাবি করি যে আমরা বিশুদ্ধ পানি পান করি। এ পানি দূষিত হচ্ছে শিল্প-কারখানার কারণে। এ দূষণ ভূগর্ভে পৌঁছে গেছে। আশুলিয়া ও সাভার অঞ্চলের ১ হাজার ৪০০ পোশাক শিল্প শ্রমিকের ব্লাড টেস্ট করে প্রত্যেকের শরীরে লেডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই হেভি মেটালগুলো তাদের শরীরে শিল্পের কারণে আসছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আরএমজি খাতে বিশুদ্ধ পানি যাচ্ছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। ইটিপি চালাতে পানির পিএইচ মেইনটেইন করতে হয়। এক্ষেত্রে তারা অভিযোগ করছেন যে একটি স্ট্যান্ডার্ড দিয়ে তা মূল্যায়ন না করেই জরিমানা করা হচ্ছে। আমাদের আসলে এ জায়গাগুলোয় ফোকাস করা দরকার। অন্যদিকে কৃষি খাতে নির্বিচারে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে মার্কারি, ক্রোমিয়াম ও আর্সেনিকের মতো পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আর্সেনিক সারা বাংলাদেশের সব জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের এর উৎস অনুসন্ধান করা দরকার। এটা বন্ধ করতে না পারলে পানি দূষণ কমবে না এবং আমাদের পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্য খরচ বেড়ে যাবে। এক্ষেত্রে ইকোনমিক ভ্যালু কমে আসবে। সেক্ষেত্রে আমরা মনে করি, নীতিনির্ধারকদের ভাবতে হবে। গবেষকদেরও অনেক বেশি কাজ করতে হবে।
ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ
অধ্যাপক
ভূতত্ত্ব বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আমাদের সব খাতের পানির প্রধান উৎস ভূগর্ভের পানি। যদিও এটা খুবই অবহেলিত এবং খারাপভাবে ব্যবস্থা করা হয়। তবে এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। কেন আমরা ভূগর্ভের পানির ওপর নির্ভরশীল। কারণ ভূপৃষ্ঠের পানি পর্যাপ্ত নয় এবং গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। আবার আমাদের ভূতাত্ত্বিক কারণে ভূগর্ভের পানি সহজেই পাওয়া যায়। শুধু ঢাকা নয়, সব জায়গায় একই অবস্থা। আমরা মূলত সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহার করছি। এটা করতে পারার কারণ নিয়ন্ত্রণ বা শাসন নেই। আমরা মনে করি, আমার জমিতে আমি যা ইচ্ছা তাই করব। কৃষি খাতে পানির ব্যবহার নিয়ে আইন করা হয়েছে কিন্তু আইনের বাস্তবায়ন নেই। শিল্পের ক্ষেত্রে পানি ব্যবহারের জন্য বলা হয়েছে ওয়ারপো থেকে নিবন্ধন নিতে, কিন্তু কোনো মনিটরিং ব্যবস্থা নেই। এক কথায় ভূগর্ভের পানি ব্যবহারে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে কিন্তু ভূগর্ভের পানি ব্যবহারে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। পানির মূল্য খুব কম, পানি সস্তা। সুতরাং আমাদের পানির মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। যে যত বেশি পানি ব্যবহার করবে তাকে তত বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এটা আমাদের নীতিতে আনতে হবে। পানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে হবে; বিশেষ করে সেচকাজের জন্য৷ ব্যবহৃত অধিকাংশ পানি বাষ্পীভূত হচ্ছে। ফলে বেশি কাজে লাগছে না। শিল্পের ক্ষেত্রে সমস্যাটা দ্বিগুণ, একদিকে অনেক পানি তুলছে, অন্যদিকে দূষণ করছে।
ড. মাসফিকুস সালেহীন
অধ্যাপক
পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট,বুয়েট
আমরা গত ১৫-২০ বছরে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ক্লোজলি কাজ করেছি। এ সময়ে বেশকিছু রিসার্চ করেছি, সেই সায়েন্টিফিক নলেজগুলো কীভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে সেটার জন্য একটা বড় প্রচেষ্টা ছিল। আমরা দেখেছি যে বাংলাদেশে প্রায়োরিটিজের অভাব। ডেল্টা প্ল্যানের একটা ভিশন। ভিশন থাকতেই পারে। কিন্তু আমাদের প্ল্যান যেন একক কোনো খাত নিয়ে না হয়, তা যেন সব খাতকে যুক্ত করতে পারে। আমাদের দেশে বহু খাতভিত্তিক পরিকল্পনা অনুপস্থিত। এখন প্রশ্ন, কে বা কারা লাভবান হচ্ছে সেটা বুঝতে হবে, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আরেকটা বিষয় হলো, সিস্টেম অ্যাপ্রোচ সম্পর্কে কারো কোনো ধারণা নেই। সব পরিকল্পনায় সিস্টেম অ্যাপ্রোচের কথা বলা হলেও দিন শেষে সব আইসোলেটেড প্ল্যান করা হচ্ছে। আমরা উপকূল অঞ্চলকে সোশ্যাল ইকোলজিক্যাল সিস্টেম হিসেবে চিন্তা করতে পারিনি। যদি চিন্তা করতে পারতাম তাহলে বিভিন্ন অবকাঠামোর মধ্যে ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক অংশগ্রহণ বিশ্লেষণ করতে পারতাম। কিন্তু এ বোঝাপড়াটা দেশে অনুপস্থিত। সমন্বিত পরিকল্পনা সম্পর্কে আমাদের ধারণা অনেক কম।
ড. মো. সিরাজুল ইসলাম
অধ্যাপক
সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ,নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
জলাবদ্ধতা নিরসনে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের বিকল্প নেই বাংলাদেশে। জলাবদ্ধতা ও পানির সংকট একটা অন্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আবার পানি দূষণও হচ্ছে। এ অবস্থায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। প্রথমত, পানি সংরক্ষণ ও পরিশোধিত করে পুনরায় ব্যবহার। যেমন প্রত্যেক বাড়িতে যদি বৃষ্টির পানি জমা থাকে তা দুভাবে কাজে আসবে। একটা হলো, বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা হবে না অন্যটা হলো, পানি মজুদ থাকবে। ভূগর্ভস্থ পানির সঙ্গে মজুদ করা পানির যাতে সম্পৃক্ত থাকে সে ব্যবস্থাও করতে হবে। পানি মজুদ থাকলে ওয়াসার পানির ওপর চাপ কমবে। এখন দেখা যায়, মানুষ গাড়ি ধোয়ায় ও অন্যান্য স্বাভাবিক কাজের জন্য বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করে। অথচ বৃষ্টির পানি যদি মজুদ থাকে সে পানি দিয়ে বিভিন্ন কাজ শেষ করা যায়। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে গ্রীষ্মের সময় ব্যবহার করা যায় কিনা সেটা দেখতে হবে।
মোহাম্মদ এজাজ
চেয়ারম্যান
রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার
কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রথমে অনুমতি নিয়ে পরবর্তী সময়ে সে অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করে এবং উপরি ভাগের পানি দূষিত করে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের ক্ষেত্রে আমরা এটা দেখি। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনো গভর্ন্যান্স দেখা যায় না। এছাড়া যেসব অঞ্চলে পানি মজুদ থাকে, যেমন হাওর অঞ্চল ও বিলগুলো ভরাট করা যাবে না। যতগুলো পানি আইন হয়েছে সেসব ক্ষেত্রে কি স্থানীয় মানুষের কথা শোনা হয়েছে? এক ধরনের ফরমায়েশি কথা শোনা হয়েছে, তাদের গুরুত্ব দেয়া হয়নি এবং বাংলাদেশের পানিসম্পদ ও জলাধারগুলোর দখলদারের সংখ্যা ৫৬ হাজারেরও বেশি। শহরায়ণের পাশাপাশি শহরাঞ্চলের পরিবেশ নিয়ে ভাবতে হবে। কারণ পরিবেশ সব বিষয় ঠিকঠাকভাবে কার্যক্রম না করলে শহরায়ণও কাজ করবে না। আর গ্রামাঞ্চলে যেসব পানি কমিটি রয়েছে সেগুলোকে সক্রিয় হতে হবে এবং তার জন্য অবশ্য গুড গভর্ন্যান্স প্রয়োজন।
রাবেয়া বেগম
চেয়ারপারসন
ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক সাউথ এশিয়া
আমার জন্মভূমি শরীয়তপুর। এ জেলায় বেড়ে ওঠার সুবাদে জেলার চরাঞ্চল নিয়ে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়। চরাঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যা দেখেছি। বন্যার সময় নদীভাঙন ও খরার সময় পানি না থাকার কারণে চরমভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হয় এ জেলার চরাঞ্চলের মানুষকে। শুধু তা-ই নয়। নদীর পানিতে বাড়ছে লবণাক্ততা। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রয়োজন সরকারি পদক্ষেপ। অনুষ্ঠানে কয়েকজন বলেছেন, নদীর পানি সংরক্ষণ করার জন্য। এটা গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ হবে। তবে এ কাজ গ্রামের মানুষ কীভাবে প্রয়োগ করবে এবং কোন ডিজাইনে হবে তার জন্য সরকারিভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় দেখা যায়, মানুষ অতিরিক্ত মাত্রায় পানি ব্যবহার করছে। একদিকে ওয়াসার পানি সংগ্রহ করছে, অন্যদিকে ডিপ টিউবওয়েল বসিয়ে পানি সংগ্রহ করছে। এতে ভূগর্ভস্থ পানি ধীরে ধীরে কমে আসবে। এসব বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। আরেকটা বিষয় হলো, বিভিন্ন জেলায় জলাধারগুলো ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। আবার অনেক সরকারি কাজের দোহাই দিয়ে এসব জলাধার ভরাট করা হচ্ছে। এসব বন্ধের জন্য সরকারিভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।
ড. মো. আতাউর রহমান
অধ্যাপক
পানিসম্পদ কৌশল বিভাগ বুয়েট
একটি গামলার তলা বাংলাদেশ, যেটার চারদিকের উঁচু জায়গাটা হলো ভারত ও মিয়ানমার। সাম্প্রতিক বন্যায় আমরা বুঝে না বুঝে ভারতকে গালাগালি করলাম। গালাগালির দরকার আছে কিন্তু সব ক্ষেত্রে নয়। পানি নিয়ে যারা কাজ করবেন তাদের নদী ব্যবস্থা এবং ভূগোল বুঝতে হবে। এখানে এতগুলো নদীর কারণে আমাদের অর্থনীতি, পরিবেশ, জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি—সবকিছু নদীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। গঙ্গা, ব্রহ্মাপুত্র ও মেঘনার বেসিন বাংলাদেশের আয়তনের প্রায় ১২ গুণ। এ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পানি গড়িয়ে বাংলাদেশে আসছে। এ প্রবাহিত পানির ৯০ শতাংশের বেশি পানি বাংলাদেশ জেনারেট করে না। ফলে প্রতি বছর বন্যা হবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের ভাবনা হওয়া উচিত বন্যাকে কীভাবে মোকাবেলা করব। দুঃখের বিষয় হলো বাংলাদেশে অফিশিয়ালি তালিকাভুক্ত নদী দখলদার আছে ৪৯ হাজারের অধিক। আমরা ২০১৩ সালে পানি আইন করেছি। সেখানে ভূপৃষ্ঠের পানি, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার ছাড়াও জেল-জরিমানাসহ অনেক বিষয়ই উল্লেখ আছে। কিন্তু এগুলো বাস্তবায়ন করবে কে? পানির মালিক কে সেটাও বোঝে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড, ওয়াসাসহ বিভিন্ন বিভাগের কার কী দায়িত্ব এবং কে কী করবে এটাও বোঝে না। এখানে সমন্বয় দরকার। পানি ব্যবস্থার জন্য ট্রান্সবাউন্ডারি ইস্যুটি অবশ্যই আলোচনায় রাখতে হবে। আরেকটি বিষয় হলো দূষণ। পৃথিবীর ১০টি নদীর মধ্যে পাঁচ নম্বরে বুড়িগঙ্গা। উপকূলীয় অঞ্চলে একটা সাইক্লোনের পর বাঁধ নির্মাণ করতে দু-তিন বছর লেগে যায়।
মো. তাহ্মিদুল ইসলাম
হেড অব টেকনিক্যাল সার্ভিসেস ওয়াটারএইড বাংলাদেশ
আমরা বেশ কিছুদিন আগে একটা রিসার্চ করেছি, যেখানে দেখেছি কারখানা থেকে ৮০ শতাংশ বর্জ্য এসে সরাসরি পরিবেশের সঙ্গে মিশে যায় এবং পরবর্তী সময়ে পানির সঙ্গে গিয়ে মিশে যায়। কিন্তু এ বিষয়গুলো মানুষের সামনে আসছে না। ইনফরমেশন অ্যাক্টের মাধ্যমে যদি এসব তথ্য সংগ্রহ করে পরিবেশ বিভাগের অনলাইনে দেয়া হয়, মানুষ জানতে পারবে। পরিবেশ বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, ছয়টি ইন্ডাস্ট্রি থেকে ডাটা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এখন এ ডাটাগুলো যদি প্রকাশ করা হয় তাহলে আরো ১০০টি ইন্ডাস্ট্রি এ বিষয়ে সতর্ক হবে।
আবু তাহের খান
সাবেক পরিচালক,বিসিক
বাংলাদেশের পুরো জলক্ষেত্রকে যদি মোটা দাগে দুটি ভাগে ভাগ করি তাহলে দুই ধরনের জলভাগ পাবে। একটি হলো ৫৭ আন্তর্জাতিক নদীর সঙ্গে সম্পর্কিত জল এলাকা, অন্যটি হলো ৫৭ নদী বাদে অভ্যন্তরীণ জলভাগ। আবার এ অভ্যন্তরীণ জলভাগকে দুটি ভাগে ভাগ করতে পারি। একটি নদ-নদীর সঙ্গে সম্পর্কিত, অন্যটি হলো দেশের অন্যান্য জলাধার, যেমন পুকুর, ডোবা, খাল-বিল ইত্যাদি। এ বিশাল জলাধার নদীর সমপরিমাণ। কিন্তু দুর্ভাগ্যভাবে রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি ও একাডেমিক আলোচনায় নদীর পানি নিয়ে যত আলোচনা হয় তার একটুও অন্যান্য জলাধার নিয়ে হয় না। আমরা পানি সংরক্ষণের কথা ভাবলে ওই অঞ্চলে দৃষ্টি দিতে হবে। আমরা টেকসই পানি ব্যবস্থা চাই। কিন্তু এ টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে। কারণ স্থানীয় সরকারের কাছে এলাকার পানি ব্যবস্থা নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা থাকবে। এতদিন কাজ হয়েছে উল্টো। কেন্দ্রীয় সরকার ব্যবস্থা এসব নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে অনেক ব্রিজ ভেঙে কালভার্ট বানিয়ে ফেলেছে। ফলে জলাধারের পানি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
মো. শামছুদ্দোহা
প্রধান নির্বাহী
সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পানির ওপর যে অভিঘাত তা একেক জায়গায় একেক রকম। তাই আমরা ১১টি ভিন্ন ভিন্ন এলাকা চিহ্নিত করতে পেরেছি। এ ১১টি এলাকার জন্য ভিন্ন ভিন্ন পানি ব্যবস্থাপনা তৈরি করা প্রয়োজন। যেমন উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য একটা, বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য একটা এবং হাওর অঞ্চলের জন্য একটা। আমাদের উন্নয়ন হয়েছে, তার জন্য আমরা পানিকে ব্যবহার করেছি। তার মানে পানি একটি পণ্য এবং এ উন্নয়নের ফলে সামাজিক একটি পর্দা সৃষ্টি করেছে।
মাহবুব উল আলম
অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ওয়াশ রিসার্চ গ্রুপ আইসিডিডিআর,বি
আমাদের পানি বিশুদ্ধ ছিল। আমরা জানি, কীভাবে পানি দূষিত হয়েছে। শিল্প স্থাপন করা হয়েছে, তাদের ইটিপি করতে বলা হয়েছে কিন্তু করেনি তারা দূষণ করেছে ইচ্ছামতো এবং সুয়ারেজের পানিটা পুরোপুরি ছেড়ে দেয়া হয়েছে এবং আমরা গত বছর ছোট একটা গবেষণা করেছিলাম যেখানে দেখেছিলাম যে ঢাকা সিটি করপোরেশন যখন ঢাকা শহরের ড্রেন তৈরি করছে তখন সুয়ারেজের যে সংযোগগুলো রয়েছে সেগুলো ড্রেনে দিয়ে দিচ্ছে। যেটা কখনো দেয়া যেতে পারে না। এরপর সে পানিটা যাচ্ছে হাতিরঝিলে। আবার হাতিরঝিল থেকে সে পানি যায় ট্রিটমেন্ট প্লান্টের জন্য! যেটা পুরোপুরি ভুল আইডিয়া। আমাদের উন্নয়ন এভাবে এগোচ্ছে।
সুপারিশ
- অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবেশ—তিন শাখাকে এগিয়ে নিতে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় পানি ব্যবস্থাপনাকে হালনাগাদ করতে হবে
- পানিসম্পদ রক্ষার আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিতের পাশাপাশি সমন্বয় করতে হবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে
- হাটবাজারের কঠিন বর্জ্য যাতে পানিতে না মিশে যায় সেজন্য নদীর সীমানা পিলারে কংক্রিটের ওয়াকওয়ে করা
- জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের পর সেগুলো মেইনটেন্যান্সে গুরুত্ব দিতে হবে
- দেশের কৃষি ও পানিসম্পদ রক্ষায় অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ করতে হবে
- শিল্প-কারখানায় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার
- পানির রিসাইকেল বাড়াতে হবে
- বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে ব্যবহার করতে হবে শুষ্ক মৌসুমে
- গ্রামাঞ্চলে যেসব পানি কমিটি রয়েছে সেগুলো সক্রিয় হতে হবে
- সর্বোপরি টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার জন্য স্থানীয় সম্প্রদায়, বেসরকারি খাত, ভুক্তভোগী, দরিদ্র জনগোষ্ঠী, গণমাধ্যমসহ সব অংশীজনকে যুক্ত করতে হবে





