যুক্তরাষ্ট্রে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে সাতটি পৃথক মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা এবং ক্ষতিকর ভুল ধারণা সৃষ্টি করেছে, যদিও তাদের আগে কোনো মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস নেই। খবর এপি।
ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট আদালতে গত সপ্তাহে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলোয় কোম্পানিকে অযাচিত মৃত্যু, আত্মহত্যায় সহায়তা করা, জোরপূর্বক হত্যার অভিযোগ ও অবহেলার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এসব মামলা ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং এক কিশোরের পক্ষ থেকে দায়ের করা হয়। মামলায় সহায়তা করেছে সোশ্যাল মিডিয়া ভিক্টিমস ল সেন্টার ও টেক জাস্টিস ল প্রজেক্ট নামের দুটি সংস্থা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওপেনএআইয়ের জনপ্রিয় জিপিটি ফোরও মডেলটি সময়ের আগে বাজারে ছাড়া হয়। অথচ কোম্পানির অভ্যন্তরীণ সতর্কবার্তায়ও বলা হয়েছিল যে মডেলটি ব্যবহারকারীর মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং অত্যধিক প্রশংসাপরায়ণ (প্রশংসা করে মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা) আচরণ প্রদর্শন করতে পারে।
সানফ্রান্সিসকো সুপিরিয়র কোর্টে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, ১৭ বছর বয়সী আমরি লেসি কাজের সাহায্যের জন্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহার শুরু করেছিল। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী সহায়তা করার পরিবর্তে ‘ত্রুটিপূর্ণ ও বিপজ্জনক’ এআই টুলটি তাকে আসক্তি ও বিষণ্নতায় ফেলে দেয়। এমনকি তাকে আত্মহত্যার উপায়ও পরামর্শ দিতে থাকে। এর মধ্যে ছিল ফাঁস লাগানোর পদ্ধতি ও কতক্ষণ নিশ্বাস বন্ধ রাখলে মৃত্যু হবে সে সম্পর্কিত নির্দেশনাও।
মামলায় বলা হয়েছে, আমরির মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়। অভিযোগ অনুযায়ী এটি চ্যাটজিপিটি দ্রুত বাজারে ছাড়ার এবং যথাযথ নিরাপত্তা পরীক্ষা উপেক্ষা করার পূর্বনির্ধারিত ফল।
এমন আরো কিছু ঘটনার অভিযোগ করা হয় নথিতে। এদিকে ওপেনএআই এসব ঘটনাকে ‘অত্যন্ত হৃদয়বিদারক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। পাশাপাশি বিস্তারিত জানতে আদালতের নথি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
এছাড়া কানাডার অন্টারিও প্রদেশে ৪৮ বছর বয়সী অ্যালান ব্রুকস আরো এক মামলা দায়ের করেছেন স্যাম অল্টম্যানের কোম্পানিটির বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দুই বছরের বেশি সময় ধরে চ্যাটজিপিটি তার জন্য একটি সাহায্যকারী টুল হিসেবে কাজ করছিল। কিন্তু চ্যাটবটটি হঠাৎ পরিবর্তন ঘটিয়ে তাকে বিভ্রান্তি ও মানসিক চাপের দিকে পরিচালিত করছে।









