কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে আলোচিত অংশীদারত্বে নতুন ধাপ যোগ হলো মাইক্রোসফট ও ওপেনএআইয়ের মধ্যে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠান দুটি জানায়, ওপেনএআইকে মুনাফাভিত্তিক কোম্পানিতে রূপান্তরের সুযোগ দিতে তারা একটি প্রাথমিক চুক্তি করেছে। খবর সিএনএন।

চুক্তির আর্থিক শর্তাবলি এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে কোম্পানি দুটি জানিয়েছে শিগগিরই চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হবে।

২০১৯ সালে ওপেনএআইয়ে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে মাইক্রোসফট। ২০২৩ সালের শুরুতে তারা আরো ১ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করে। আগের চুক্তি অনুযায়ী, ওপেনএআইয়ের সফটওয়্যার টুলস বিক্রির একচেটিয়া অধিকার ছিল মাইক্রোসফটের। আজুর ক্লাউড প্লাটফর্মের মাধ্যমে তারা এ সুবিধা ভোগ করত। একই সঙ্গে ওপেনএআইয়ের প্রযুক্তি ব্যবহারে অগ্রাধিকার পেত মাইক্রোসফট।

তবে এ বছর ওপেনএআই নিজস্ব ডাটা সেন্টার প্রকল্প স্টারগেট চালু করে। এতে মাইক্রোসফটের প্রভাব কিছুটা কমে যায়। পাশাপাশি ওরাকলের সঙ্গে ৩০ হাজার কোটি ডলারের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করে ওপেনএআই এবং গুগলের সঙ্গেও আলাদা একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে।

ওপেনএআইয়ের আয় এখন কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন করপোরেট কাঠামোয় যেতে চায়। এতে তারা নতুন অংশীদার পাবে এবং আরো কম্পিউটিং সক্ষমতা তৈরি করতে পারবে। বাড়তি চাহিদা মেটানো ও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়াই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য।

অন্যদিকে মাইক্রোসফটও নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে চাইছে। বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী, ওপেনএআই যদি ভবিষ্যতে মানুষের মতো বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এআই তৈরি হয়েছে বলে ঘোষণা দেয়, তবে বর্তমান অংশীদারত্ব বাতিল হয়ে যাবে। মাইক্রোসফট চাইছে এমন পরিস্থিতিতেও ওপেনএআইয়ের প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে।

ওপেনএআই জানিয়েছে, নতুন কাঠামোয় তাদের অলাভজনক ইউনিট ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি পাবে। এটি প্রাইভেট মার্কেটে তাদের ৫০ হাজার কোটি ডলারের সম্ভাব্য মূল্যায়নের প্রায় ২০ শতাংশ। বোর্ড চেয়ারম্যান ব্রেট টেলরের এক স্মারকে বলা হয়েছে, এতে ওপেনএআইয়ের অলাভজনক ইউনিট বিশ্বের অন্যতম বড় তহবিলপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

তবে নতুন কাঠামোয় ওপেনএআইয়ের কতটা মালিকানা মাইক্রোসফটের হাতে থাকবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। সর্বশেষ প্রযুক্তি ও মডেলে তাদের একচেটিয়া প্রবেশাধিকার থাকবে কিনা তাও জানানো হয়নি।

ওপেনএআইয়ের রূপান্তর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ক্যালিফোর্নিয়া ও ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুমোদন প্রয়োজন। এ বছর শেষ হওয়ার আগেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে বলে আশা করছে মাইক্রোসফট। তবে তা ব্যর্থ হলে কয়েক বিলিয়ন ডলারের এ বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে।

চ্যাটবট থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক টুল, সব ক্ষেত্রেই ওপেনএআই ও মাইক্রোসফট এখন প্রতিদ্বন্দ্বী। একই সঙ্গে মাইক্রোসফট নিজস্ব এআই মডেল তৈরির চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে তারা ওপেনএআইয়ের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে।