যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটিতে সাবেক দুই মেটা নিরাপত্তা গবেষক অভিযোগ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটা তার ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) পণ্যে শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য গোপন করেছে। খবর বিবিসি।
এ দুই গবেষক জেসন স্যাটিজাহন ও কেইসি স্যাভেজ বলেন, মেটা অভ্যন্তরীণ গবেষণার ফলাফলকে লুকানোর চেষ্টা করেছে এবং এমন কোনো গবেষণাও এড়াতে বলেছে, যা শিশুদের জন্য ঝুঁকি চিহ্নিত করতে পারে।
স্যাটিজাহন ২০১৮-২৪ পর্যন্ত মেটায় কাজ করেছেন। তিনি কমিটিতে জানান, মেটা তাদের তৈরি করা সমস্যাগুলো উপেক্ষা করেছে এবং ব্যবহারকারীদের নেতিবাচক অভিজ্ঞতার প্রমাণ গোপন করেছে।
মেটার ভিআর প্লাটফর্মে কিশোর ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা নিয়ে গবেষণা করেন স্যাভেজ। তিনি অভিযোগ করেন, তিনি ভিআর পরিবেশে শিশু নিপীড়নের ঝুঁকি শনাক্ত করেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘সমন্বিত নিপীড়ক চক্রগুলো ভিআর প্লাটফর্ম ব্যবহার করে শিশুদের ভার্চুয়াল মুদ্রা রোবাক্স দিয়ে অনৈতিক কার্যক্রমে নিযুক্ত করছিল।’ স্যাভেজ জানান, এ সমস্যাগুলো মেটাকে জানানো সত্ত্বেও রোবলক্স অ্যাপটি এখনো মেটার ভিআর প্লাটফর্মে রয়েছে। রোবলক্স অভিযোগগুলোকে পুরনো ও ভুল তথ্যের ভিত্তিতে করা বলে জানিয়েছে।
যদিও মেটা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোম্পানির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ দাবি নির্বাচিত অভ্যন্তরীণ নথি লিকের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি কোম্পানির নিরাপত্তা অঙ্গীকারকে প্রতিফলন করে না। মুখপাত্র আরো উল্লেখ করেছেন, সম্প্রতি মেটা প্রায় ১৮০টি রিয়ালিটি ল্যাব-সংক্রান্ত গবেষণা অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে শিশুদের নিরাপত্তা ও সুস্থতার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত।
কিন্তু স্যাটিজাহন কমিটিতে জানান, মেটার এ প্রতিক্রিয়া ‘সত্য লুকিয়ে রাখার কৌশল’। তিনি বলেন, ‘মেটার গবেষণার ফলাফল মুছে ফেলা হচ্ছে বা বিকৃত করা হচ্ছে।’
গবেষকদ্বয়ের বক্তব্যে শিশুদের জন্য মেটার ভিআর প্লাটফর্মে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল কার্যকর কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সিনেটর অ্যাশলে মুডি জানিয়েছেন, তিনি নিজেও মেটার প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। স্যাটিজাহন ও স্যাভেজ উভয়ই জানিয়েছেন, কন্ট্রোল ব্যবহারকারীর জন্য সহজ নয়, এমনকি অভিজ্ঞদের জন্যও।
এ অভিযোগগুলো মেটার বিরুদ্ধে শিশু নিরাপত্তাসংক্রান্ত আগের অভিযোগের সঙ্গে যোগ হচ্ছে। ২০২১ সালে সাবেক কর্মী ফ্রান্সেস হগেন জানিয়েছিলেন, ইনস্টাগ্রামের অভ্যন্তরীণ গবেষণা দেখিয়েছে, প্লাটফর্মটি কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ আগেও দাবি করেছিলেন, কোম্পানি মুনাফার জন্য নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করে না। তবে এ নতুন অভিযোগগুলো আইনপ্রণেতা ও শিশু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
মার্কিন সিনেটের এ তদন্ত চলমান এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে আরো শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলাফল ভিআর প্লাটফর্মগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও শিশুদের সুরক্ষার দায়বদ্ধতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।










