ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সামনে প্রায়ই ‘ডিভাইস ভাইরাসমুক্ত করতে এ সফটওয়্যার ডাউনলোড করুন’ এমন পপ-আপ উইন্ডো আসে। এগুলো সাধারণত এক ধরনের অনলাইন প্রতারণা বা স্ক্যাম। এমন প্রতারণা ঠেকাতে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করছে গুগল। খবর সিএনএন।

গত সপ্তাহে গুগল ক্রোম জানায়, স্ক্যাম ঠেকাতে গুগল এখন এআই মডেল জেমিনি ব্যবহার করছে। ক্রোম, সার্চ ও অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা আরো জোরালো করবে। এটি ব্যবহারকারীর ডিভাইসেই টেক সাপোর্ট স্ক্যামগুলোকে শনাক্ত করে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে।

গ্লোবাল অ্যান্টি-স্ক্যাম অ্যালায়েন্স নামের একটি সংস্থা জানায়, ২০২৩ সালে স্ক্যামের কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষ প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তাই গুগলসহ অন্য অনেক প্রতিষ্ঠান স্ক্যাম ঠেকাতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

গুগল সার্চের সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ পারাখ বলেন,"‘স্ক্যামের বিরুদ্ধে লড়াইটা আসলে একটা বিবর্তনের খেলা। যেমন প্রযুক্তি উন্নত হচ্ছে, স্ক্যামাররাও তাদের কৌশল পাল্টাচ্ছে। এখন দুপক্ষের হাতেই এআই নামের নতুন অস্ত্র এসেছে।’"নতুন এ প্রযুক্তির মাধ্যমে গুগল ক্রোমে এনহ্যান্সড প্রটেকশন মোড ক্লিক করে ওয়েবসাইট স্ক্যান করা সম্ভব। স্ক্যামাররা তাদের ওয়েবসাইট গুগল স্ক্যানারকে এক রকম দেখায় আর ব্যবহারকারীদের দেখায় আরেক রকম। একে"ক্লোকিং"বলে এবং এটি এখন বেশি ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু এখন এআই মডেল সে ফাঁকি ধরতে সক্ষম।

এছাড়া অ্যান্ড্রয়েট ব্যবহারকারীদের ক্রোম ব্রাউজার থেকে যদি সন্দেহজনক কোনো সাইটের নোটিফিকেশন আসে, তাহলে গুগল তাদের সতর্ক করবে। সে নোটিফিকেশন থেকে সহজেই আনসাবস্ক্রাইব করার সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি স্ক্যামি ওয়েবসাইট বাদ দিতেও সক্ষম। এআই ব্যবহার করে গুগল গত তিন বছরে ২০ গুণ বেশি স্ক্যাম পেজ ব্লক করেছে।

গুগল ছাড়াও অন্যান্য সংস্থা এআই ব্যবহার করছে। যেমন ব্রিটেনের মোবাইল কোম্পানি ওটু এআই চ্যাটবট ডেইজি ব্যবহার করে এবং মাইক্রোসফট কল বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে স্ক্যাম ধরার টুল ব্যবহার করে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, তারা ২০২৪ সালে এআই ব্যবহার করে ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের চেক জালিয়াতি শনাক্ত ও উদ্ধার করতে পেরেছে।