অন্যান্য দেশের তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়ার অধিকাংশ তরুণ কর্মক্ষেত্রে পছন্দের প্রযুক্তি হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করেন। প্রতিদিনকার কাজকে সহজ করতে এবং ক্যারিয়ারে এগিয়ে থাকতে তারা এআইয়ে নির্ভরশীলতার কথা বলেছেন। সম্প্রতি স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের জরিপ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খবর কোরিয়া হেরাল্ড।

জেন-জি সদস্যরা কর্মক্ষেত্রে নিজেদের এগিয়ে রাখতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করছে তা জানতে চালানো জরিপের প্রতিবেদন ‘দ্য ২০২৪ এআই-প্রেনিউর ইফেক্ট’ প্রকাশ করেছে টেক জায়ান্টটি। যেখানে দেখা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার ৮০ শতাংশ তরুণ সহযোগী ও নির্ভরযোগ্য টুল হিসেবে এআই ব্যবহার করছে। যেখানে জার্মানি, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের তরুণদের হিস্যা যথাক্রমে ৬১, ৫৯, ৫৬ ও ৫৫ শতাংশ। জরিপে পাঁচ দেশের মোট ৫ হাজার ৪৮ জন তরুণ অংশ নেন, তাদের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ছিলেন ১ হাজার ২১ জন। 

স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মোবাইল এক্সপেরিয়েন্স বিজনেসের হেড অব মার্কেটিং স্টেফানি চোই বলেন, ‘জরিপটির ফলাফল থেকে অনুধাবন করা যায় যে তরুণ উদ্যোক্তা ও কর্মজীবীদের জন্য এআই দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি প্রযুক্তি নতুন দক্ষতা, প্যাশন ও ক্যারিয়ারের পরিসর সীমাবদ্ধ নয়, বরং আরো বিস্তৃত করছে।

সামগ্রিকভাবে ৭৫ শতাংশ জরিপে অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তাদের কাজ কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে এআই সহায়তা করেছে। একই অভিমত জানান ৮০ শতাংশ তরুণ কোরিয়ান। কর্মপদ্ধতিতে এআই কার্যকর পরিবর্তন আনবে কিনা এমন প্রশ্নে ৮১ শতাংশ তরুণ কোরিয়ান ইতিবাচক উত্তর দিয়েছেন। এক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য ও জার্মানির তরুণদের হিস্যা যথাক্রমে ৬৬ ও ৬৫ শতাংশ। 

তবে মুঠোফোন অ্যাপে এআই ব্যবহারের আধিক্যে ৭৫ শতাংশ তরুণ কোরিয়ান উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই অভিমত জানান যুক্তরাজ্য ও জার্মানি থেকে যথাক্রমে ৬৩ ও ৬২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। 

নিয়মিত কাজের পাশাপাশি যারা খণ্ডকালীন বা ফ্রিল্যান্স কাজে যুক্ত রয়েছেন তাদের মধ্যে কোরিয়ান উত্তরদাতার ৬৯ শতাংশ মনে করেন এআই প্রযুক্তি তাদের কাজে সহায়তা করছে। বাকি উত্তরদাতাদের মধ্যে ৬২ শতাংশ একই কথা জানান। এদের মধ্যে অধিকাংশই নিয়মিত নথি ও গবেষণা সংক্রান্ত কাজে তারা এআই ব্যবহার করে থাকেন। ৪৬ শতাংশ তরুণ কোরিয়ান নথির সারসংক্ষেপ, ৩৭ শতাংশ সৃজনশীল লিখন ও ৩৬ শতাংশ গবেষণার জন্য এআই ব্যবহার করেন বলে জরিপে জানান।