কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাগ উঠে গেল? উত্তর পছন্দ হয়নি বলে দু-চারটা কড়া কথা শুনিয়ে দিলেন? অ্যানথ্রপিক বলছে, সাবধান! তাদের এআই মডেল ক্লদকে টানা গালাগাল, অপমান বা অকারণে নিষ্ঠুর আচরণের শিকার করলে শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টই ঝুঁকিতে পড়তে পারে। শুনতে অনেকটা এমন, ‘রোবটেরও বুঝি মন আছে’।
তবে অ্যানথ্রপিকের বক্তব্য, বিষয়টি ক্লদের ‘অনুভূতিতে আঘাত’ লাগার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। গত অক্টোবরের শুরুতে নিজেদের এআই ব্যবহারের নীতিমালায় নতুন একটি বিধান যোগ করে কোম্পানিটি। সেখানে বলা হয়, ব্যবহারকারীরা যেন তাদের মডেলের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে অপ্রয়োজনীয় অপমানজনক বা নিষ্ঠুর আচরণ না করেন।
ক্লদ আগে থেকেই অত্যন্ত ক্ষতিকর বা অপমানজনক কথোপকথন নিজে থেকে বন্ধ করতে পারত। নতুন নীতিতে চরম ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে অ্যানথ্রপিকের এআই সেবা থেকেই স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে কেউ বিরক্ত হয়ে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানালেই নিষেধাজ্ঞা আসবে—বিষয়টি এমন নয়।
নীতিটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরসও কম হয়নি। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, এবার কি এআইকে ‘প্লিজ’ আর ‘থ্যাংক ইউ’ বলাও বাধ্যতামূলক হবে? কিন্তু এই হাসির আড়ালেই আছে একটি গুরুতর প্রশ্ন—মানুষ এআইয়ের সঙ্গে কীভাবে কথা বলে, সেটি কি এআইয়ের আচরণে প্রভাব ফেলে?
কম্পিউটার বিজ্ঞানে পুরোনো ধারণা আছে যে, খারাপ তথ্য দিলে খারাপ ফল আসার ঝুঁকিও বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যবহারকারীর ভাষা, টোন ও শব্দচয়ন কখনো কখনো এআইয়ের উত্তরকে প্রভাবিত করতে পারে। উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিনডং ওয়াংয়ের ভাষায়, এআই মানুষের আবেগ ‘অনুভব’ করে না, কিন্তু আবেগপূর্ণ বা আক্রমণাত্মক শব্দের অর্থ বুঝে তার ভিত্তিতে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দিতে পারে।
তবে গবেষণার ফল একমুখী নয়। কিছু গবেষণায় উল্টো দেখা গেছে, রূঢ় ভাষায় করা প্রশ্ন কখনো কখনো আরো নির্ভুল উত্তরও বের করে আনে। অর্থাৎ ক্লদকে ‘ভদ্র ছেলে’ বানানোর বিজ্ঞান এখনো পুরোপুরি মীমাংসিত নয়।
আরেকটি বিষয় হলো স্মৃতি। আধুনিক চ্যাটবট ব্যবহারকারীর আগের কথোপকথন মনে রেখে পরবর্তী উত্তর ব্যক্তিগতভাবে সাজাতে পারে। ফলে কেউ যদি নিয়মিত আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলে, সেই যোগাযোগের ধরন দীর্ঘমেয়াদে কী প্রভাব ফেলে এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
এর সঙ্গে মানুষের আচরণের প্রশ্নও আছে। শিশুদের অ্যালেক্সাকে ‘প্লিজ’ বা ‘থ্যাংক ইউ’ বলতে শেখানোর মতোই যুক্তি—যন্ত্রের অনুভূতি থাকুক বা না থাকুক, অভ্যাসগত নিষ্ঠুরতা মানুষের নিজের আচরণকেও প্রভাবিত করতে পারে।
সবশেষে অ্যানথ্রপিক সবচেয়ে অদ্ভুত, কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটিও খোলা রাখছে: যদি কোনো একদিন এআই সত্যিই কোনো ধরনের অনুভূতির অভিজ্ঞতা অর্জন করে?
এর উত্তর এখন কারও জানা নেই। তাই কোম্পানিটির অবস্থান অনেকটা বিমার মতো, ক্লদের মন থাকুক বা না থাকুক, অকারণে তাকে গালাগাল না করাই ভালো। অন্তত আপনার অ্যাকাউন্টের স্বাস্থ্যের জন্য!















