প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইয়াহু জাপানের সব কর্মীর দৈনন্দিন কাজে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে কর্মদক্ষতা দ্বিগুণ করা এ উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর টেকরাডার।

জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ‘লাইন’ পরিচালনাকারী ইয়াহু জাপান জানিয়েছে, গবেষণা, মিটিংয়ের নোট নেয়া ও খরচ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন কাজে এআই টুল ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম, ধাপ বা মানদণ্ড তৈরি করা হবে, যা হবে সবার জন্য বাধ্যতামূলক ও অভিন্ন।

এআইয়ের হাতে দৈনন্দিন কাজ তুলে দিয়ে প্রায় ১১ হাজার কর্মীর সৃজনশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধান আর উন্নত যোগাযোগে মনোযোগী করতে চায় জাপানে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিনটি। এতে উদ্ভাবন আরো ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করছে কোম্পানিটি।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে অফিসের সাধারণ কাজগুলোয় এআই ব্যবহার করা হবে। যেমন তথ্য খোঁজা, খসড়া লেখা ও নিত্যদিনের নথিপত্র তৈরি। ইয়াহু জাপানের হিসাব অনুযায়ী, এসব কাজে কর্মীদের প্রায় ৩০ শতাংশ সময় ব্যয় হয়। এক্ষেত্রে তথ্য অনুসন্ধানের মতো কাজের জন্য ব্যবহার করা হবে ‘সিকএআই’। মিটিংয়ের এজেন্ডা তৈরি, আলোচনার সারসংক্ষেপ লেখা ও রিপোর্ট প্রুফ রিডিংয়ে সহায়তা করবে প্রযুক্তিটি। ফলে কর্মীরা সিদ্ধান্ত নেয়া ও আলোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দিতে পারবেন বলে আশ্বাস প্রতিষ্ঠানটির।

অনেকের কাছে উদ্যোগটি অস্বাভাবিক বা কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী এখন বেশির ভাগ কোম্পানি শুধু খরচ কমানোর জন্য নয়, বরং কর্মীদের কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়াতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এআই দিয়ে পুরোপুরি মানুষকে প্রতিস্থাপন করা বুদ্ধিমানের কাজ নাও হতে পারে।

অর্গভিউর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বদলে এআই যুক্ত করেছে, তাদের অর্ধেকের বেশি এখন সে সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত। কারণ যেসব কাজের জন্য মানুষের গভীর বোঝাপড়া, আবেগ অনুভব করার ক্ষমতা বা বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, সেসব ক্ষেত্রে এআই অনেকটা পিছিয়ে আছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, কর্মীদের কাজ সহজ করতে সহায়ক হিসেবে এআই ব্যবহার করছে ইয়াহু জাপান। এ পদ্ধতি ভবিষ্যতে আরো টেকসই হতে পারে।