বিশ্ব নগর দিবস বা ওয়ার্ল্ড সিটিজ ডে ৩১ অক্টোবর। বর্তমান বিশ্বে যে গতিতে শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সে গতিতে নগরে সুযোগ-সুবিধা ও পর্যাপ্ত আবাসন বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে না। নানা কারণে মানুষ এখন শহরমুখী, ক্রমাগত এ শহরমুখী মানুষের জন্য পৃথিবীব্যাপী শহরগুলোতে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। জাতিসংঘের মানববসতি কর্মসূচি ইউএন-হ্যাবিট্যাট ওয়ার্ল্ড সিটিজ রিপোর্ট ২০২৬-এর তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৩৪০ কোটি মানুষ নিরাপদ আবাসনের অধিকার, পর্যাপ্ত আবাসন, মৌলিক পরিষেবা বা সাশ্রয়ী জীবন ব্যবস্থার অভাবে রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের জেনারেল এসেম্বলি কর্তৃক ২০১৪ সাল থেকে বিশ্ব নগর দিবস পালন করে আসছে। নগর এলাকার বিদ্যমান সংকট ব্যবস্থাপনায় শহরের সামগ্রিক উন্নয়ন, সাশ্রয়ী আবাসন এবং স্থানীয়দের অধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাতিসংঘ এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে—‘শহরের পুনরুজ্জীবন: সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ (রিজেনারেটিং দ্য সিটি: এডিকোয়াট হাউজিং ফর অল)। শহরের ওপর ক্রমাগত বিভিন্ন ধরনের চাপের কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাস উপযোগী টেকসই নগর পরিবেশ ও পর্যাপ্ত বাসস্থান এখন সময়ের একান্ত দাবি। শহরে জনসংখ্যা সাধারণত বৃদ্ধি পায় স্বাভাবিক জন্মগ্রহণ এবং অভিগমনের মাধ্যমে; যেখানে বেশকিছু আকর্ষক ও বিকর্ষক নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। শহরের জনসংখ্যার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের টেকসই নগরের জন্য মূলত যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে তা হলো—পর্যাপ্ত আবাসন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নগরীয় দূষণ রোধ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

নগরায়ণ হলো একটি প্রক্রিয়া যার মাধমে গ্রামীণ এলাকাগুলো ধীরে ধীরে নগর এলাকায় রূপান্তর হয় এবং মোট জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান একটি অংশ নগরে বসবাস শুরু করে। নগরায়ণ শুধু জনসংখ্যার ভৌগোলিক পুনর্বিন্যাসই নয়, নগরায়ণের সঙ্গে জড়িত থাকে জীবন ব্যবস্থা, পেশা, পরিবেশ, সামাজিক সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তন। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে নগরায়ণ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ১৯৬০ সালে বাংলাদেশ অংশে নগর জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২৬ লাখ (৫ দশমিক ১৪ শতাংশ), যা ২০২৫ সালে এসে বাংলাদেশে নগর জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি (৪০ দশমিক ৫০ শতাংশ)। স্বাধীনতা-পরবর্তী থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশের নগরায়ণের ধারা পর্যবেক্ষণে লক্ষ করা যায়—বাংলাদেশের নগরায়ণে পরিমাণগত এবং গুণগতভাবে পরিবর্তন এসেছে; দেশে পাঁচ শতাধিক ছোট-বড় নগর-শহর বিদ্যমান রয়েছে, জেলা সদর ছাড়াও উপজেলা পর্যায়ে নগরায়ণ ছড়িয়ে পড়েছে; বাংলাদেশের মোট জিডিপিতে নগর খাতের অবদান প্রায় ৬৫ শতাংশ, এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার অবদান প্রায় ৩৬ শতাংশ এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অবদান প্রায় ১১ শতাংশ; ধারণা করা হয়, ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা নগরে বসবাস করতে পারে। ওয়ার্ল্ড মাইগ্রেশন রিপোর্ট-২০২০ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০৫০ সালে মোট জনসংখ্যা দাঁড়াবে ২০ কোটি, এর মধ্যে শহরের জনসংখ্যা হবে প্রায় ১৩ কোটি। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান (৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ) হারে যদি শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে ২০৩০ সালে জনসংখ্যার দিক থেকে ভারতের দিল্লি হবে বিশ্বের বৃহত্তম শহর এবং বাংলাদেশের ঢাকা হবে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম শহর (জনসংখ্যা হবে ২ কোটি ৮০ লাখ)। বর্তমানে ঢাকা শহর বিশ্বের ২৯টি মেগাসিটির একটি এবং দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টির মধ্যে একটি। সুতরাং টেকসই নগরের কথা চিন্তা করে নতুন প্রকল্প প্রণয়ন করতে হবে, শহর এলাকায় পর্যাপ্ত বাসস্থান নির্মাণ ও বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিকল্পণাগুলো পরিচালিত করতে হবে। এ বিশাল নগর জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশের নগরগুলোকে সমান্তরালভাবে ঢেলে সাজাতে হবে; এজন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষিত নগরবিদ, পরিকল্পনাবিদ এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ।

বিশ্বব্যাংকের মতে, ঢাকা শহরে ২০৫০ সাল নাগাদ আবাসন সংকট নিরসনে ২০ কোটি ইউনিট বাড়ি নির্মাণ প্রয়োজন হবে। এজন্য পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষা করে আবাসিক, শিল্প ও বাণিজ্যের জন্য জমি ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করতে হবে। এ পরিকল্পনা উচ্চ বিত্ত, মধ্য বিত্ত ও বস্তিবাসীর জন্য পৃথক হতে হবে। এছাড়া শিক্ষা, সুপেয় পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও জ্বালানির যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশর প্রেক্ষাপটে নগর দুর্যোগগুলোর মধ্যে ঝুঁকির মাত্রা সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে, কারণ সঠিকভাবে অবকাঠামো নির্মিত না হওয়ায় নগর এলাকায় ভূমিকম্পের ঝুঁকির মাত্রা বেশি। ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বিশ্বের এ রকম শীর্ষ ২০টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অত্যধিক জনসংখ্যার চাপ, বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন করে স্থাপনা নির্মাণ, অপ্রশস্ত সড়ক এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অভাব এ ঝুঁকি তৈরি করেছে। এইচবিআরআইয়ের এক গবেষণায় বলা হয়, ঢাকা শহরের যত কংক্রিটের স্থাপনা বিদ্যমান তার ৫৬ দশমিক ২৬ শতাংশ রয়েছে ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে এবং মাঝারি ঝুঁকিতে ৩৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ ভবন। অন্যদিকে সিডিএর হিসাবে, বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১১১টি ভবনের মধ্যে ৯০ হাজার ৪৪৪টি ভবন দুই থেকে পাঁচতলা, ছয় থেকে ১০ তলা ১৩ হাজার ১৩৫টি এবং ১০ তলার ঊর্ধ্বে ৫৩৭টি ভবন। এসব ভবনের মধ্যে যেগুলো পুরনো ও বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে নির্মাণ হয়নি সেগুলো ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। নগর এলাকায় অধিকাংশ স্থানে দিনের বেলায় গ্যাসের চুলা জ্বালানো থাকে। আশঙ্কা করা হয়, দিনের বেলায় ভূমিকম্প হলে নগর এলাকায় ৩০ শতাংশ এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এবারের বিশ্ব নগর দিবসে বিশেষ দৃষ্টিপাত করা হয়েছে নগর পুনর্জীবন বা নগর রূপান্তরের প্রতি। অর্থাৎ নগর এলাকার জীর্ণ ও অবহেলিত এলাকার উন্নয়ন, আবাসন ব্যবস্থার পর্যাপ্ত সংস্কার, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরাপদ সড়ক ও পরিবহন, পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান ও সবুজের আচ্ছাদন বৃদ্ধি এবং নগরে জলবায়ুজনিত ঝুঁকির পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা করাই হলো নগর পুনর্জীবন বা নগর রূপান্তর। গত ৭ অক্টোবর ‘আবাসন, নির্মাণ ও টেকসই নগরায়ণ’ শীর্ষক ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ-২০২৬’ আয়োজন করে বণিক বার্তা। এ অনুষ্ঠানে আলোচকরা বাংলাদেশের পরিকল্পিত নগর, সুপেয় পানির সরবরাহ, পিপিপির ভিত্তিতে আবাসন, সুষম নগর, স্মার্ট আবাসন, গ্রিন হাউজিং এবং ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে টেকসই ও বাসযোগ্য করতে নাগরিকদের মধ্যে পরিকল্পিত আবাসন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্স-২০২৬ অনুযায়ী, বিশ্বের ১৬৩টি দেশের এক হাজার শহরের মধ্যে রাজধানী ঢাকার অবস্থান ৫১৫তম। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অন্য একটি প্রতিষ্ঠান ইআইইউর তৈরি করা বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা সূচক ২০২৬-এর হিসাবে বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকা শহরের অবস্থান ১৭১তম। স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো—এ পাঁচ সূচকের ভিত্তিতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ১০০-এর মধ্যে ৪২ স্কোর অর্জন করে বিশ্বের কম বাসযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে। জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্সের পপুলেশন ডিভিশন কর্তৃক প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টস ২০২৬-এর রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৮১ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো নগর বা শহর এলাকায় বাস করছে (৪৫ শতাংশ শহরে এবং ৩৬ শতাংশ ছোট মফস্বল শহরে)। ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেশন অর্গানাইজেশনের (আইএমও) হিসাবে, এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিদিন আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ গ্রাম থেকে শহরে আসছে। আর সারা বিশ্বে বিভিন্ন কারণে প্রতি সপ্তাহে ৩০ লাখ মানুষ শহরে অভিগমন করছে। এ অভিগমনের কিছু কারণ হলো শহর এলাকার আকর্ষণজনিত, যেমন চাকরি, উন্নত জীবন, চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি। অন্যদিকে রয়েছে কিছু বিকর্ষণজনিত অসুবিধা, যেমন দুর্যোগ, বেকার জীবন, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব। ফলে শহরে তৈরি হচ্ছে নানা চাপ ও চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে দ্রুত এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে নিরাপদ আবাসন এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা মারাত্মক সংকটের মুখে পড়ছে। ঢাকা বর্তমানে বিশ্বে অন্যতম জনবহুল ও দ্রুত বর্ধমান মেগাসিটি, যেখানে মানুষ প্রতিনিয়ত অপরিকল্পিতভাবে ভিড় করছে। যার ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন পাওয়া অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পাহাড় কেটে অপরিকল্পিতভাবে আবাসন ও বস্তি গড়ে ওঠার প্রবণতার কারণে পাহাড়ধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি করছে। চট্টগ্রামের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নদী-নালা-খাল দখল ও ভরাট করার ফলে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় নাকাল করে তোলে, যা নিরাপদ নগর জীবন ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে প্রতিনিয়ত। সুতরাং বাংলাদেশের নগরগুলোতে জনসংখ্যার উন্নত জীবন ব্যবস্থা ও সুযোগ-সুবিধা কীভাবে নিশ্চিত করা যায় তার পরিকল্পনা এখনই গ্রহণ করতে হবে। গ্রাম থেকে শহরে অভিগমন কমিয়ে নগর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমাতে হবে। অভিগমন হলেও বড় শহরগুলোতে যেন মাত্রা কম হয় সে ব্যবস্থা নিতে হবে। ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো শহরগুলোতে নতুন করে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন নিরুৎসাহিত করতে হবে। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান দেশের অন্যান্য অঞ্চলে স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং সেখানে শিল্প স্থাপনে উপযুক্ত পরিবেশ ও বিনিয়োগে আকর্ষণ সৃষ্টি করতে হবে। নগরের আবাসন সংকট ব্যবস্থাপনায় সহজ শর্তে এবং দীর্ঘমেয়াদি অল্প সুদে লোনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে ব্যাপক আকারে মানুষ নিজস্ব আবাসন পাবেন। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য বিকেন্দ্রীকরণ করা হলে শহরে অভিগমন হার কমে আসবে এবং শহরের ওপর চাপও হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে শহর এলাকার বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা পরিকল্পিতভাবে বৃদ্ধি করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের টেকসই নগর নিশ্চিতে নগর জনসংখ্যার ঘনত্ব কমাতে হবে এবং আবাসন ব্যবস্থার সঠিক পরিকল্পনা করতে হবে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব যাতে নগর পরিবেশের ওপর না পড়ে সেজন্য পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার এবং পুকুর, জলাশয় সংরক্ষণ করতে হবে। নগরায়ণকে যথাযথভাবে পরিচালনার স্বার্থে সমগ্র দেশকে সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনার আওতায় আনা প্রয়োজন। নগর কাঠামোর সঙ্গে মিল রেখে পরিকল্পিত আবাসনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নগরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। নগর দারিদ্র্য হ্রাস করে কর্মক্ষম নগর জনগোষ্ঠী গড়তে যথাযথ পরিকল্পনা ও অর্থসংস্থান করার সঙ্গে সঙ্গে নগর দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য উন্নত প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। নগর এলাকায় আবাসন খাতকে স্মার্ট ও টেকসই করাসহ সবার আবাসন নিশ্চিতে বিদ্যমান নীতিমালার কার্যকর হালনাগাদ, অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগ একান্ত প্রয়োজন।

ড. মো. ইকবাল সরোয়ার: অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।