উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোয় বাজেট ঘাটতি ও সরকারি ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। সুদহার বৃদ্ধির কারণে সরকারি বন্ডের সুদও বেড়েছে, যা অনেক দেশের ঋণের টেকসই অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে বন্ডবাজারের বিনিয়োগকারীরা সুদহার বাড়িয়ে সরকারকে ব্যয় সংকোচন ও কর বাড়াতে বাধ্য করতে পারেন।
ঋণ সংকট মোকাবেলায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঋণের সুদহারের তুলনায় নামমাত্র জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেশি হলে ঋণ-জিডিপি অনুপাত কমতে পারে। তবে কৃত্রিমভাবে ঋণের বোঝা কমানোর চেষ্টা, অতিরিক্ত অর্থ ছাপানো কিংবা আর্থিক খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদে সংকট আরো বাড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো রিজার্ভ মুদ্রার অধিকারী দেশগুলোর ঋণ নেয়ার সুবিধা থাকলেও সেটি অনিয়ন্ত্রিত ঋণের ঝুঁকি দূর করে না।
ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের ঋণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। ঋণ সংকট এড়াতে আগেভাগেই রাজস্ব শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা জরুরি। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় কর সংস্কার এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোই দীর্ঘমেয়াদে ঋণ টেকসই রাখার কার্যকর উপায়।
[প্রজেক্ট সিন্ডিকেটের এক নিবন্ধে]
নুরিয়েল রুবিনি: সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার, হাডসন বে ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট; ইমেরিটাস অধ্যাপক, স্টার্ন স্কুল অব বিজনেস, নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়










